কোন রকমে উঠে দাঁড়াল বন্ড। তার মুখের অক্সিজেনের টিউব আলগা হয়ে মুখে পানি ঢুকতে লাগল। একটা হাত তার হাত চেপে ধরল। সে দেখতে পেল মেয়েটার সাঁতারের পোশাকের ফাঁকে ফাঁকে অজস্র রক্তের ছোপ। ক্রমশ তার সীসের মত ভারী পা দুটো আবার পাখনা নাড়তে লাগল। তারা দুজন ওপর দিকে উঠেছে। দুটো দেহ একসঙ্গে পানির ওপর ভেসে উঠল। তারপর উপুড় হয়ে ভাসতে লাগল ছোট ছোট ঢেউয়ের মধ্যে। ভোরের হালকা রঙ ক্রমশ গোলাপি হয়ে এল। একটা সুন্দর দিনের প্রতিশ্রুতি!
.
শান্ত হোন, মিঃ বন্ড!
ফেলিক্স লিটার সাদা, অ্যান্টিসেপটিকের গন্ধে ভরা ঘরটায় ঢুকে পড়ে খুব সতর্কভাবে ভেতর থেকে দরজাটা ভেজিয়ে দিল। বন্ডকে ওষুধ খাইয়ে প্রায় ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে। লিটার বন্ডকে জিজ্ঞেস করল, সে কেমন আছে। তারপর কিছু দরকারী কথা তাকে শোনাল–মনে হচ্ছে প্রেতাত্মা সংঘ সত্যিই এক ভীষণ ডাকাতের দল SMERSH, মাফিয়া, গেস্টাপো, ইত্যাদি সব দলের লোক আছে এতে। দুটো বোমাই উদ্ধার করা গেছে। ওদের যে নেতা ব্লোফেল্ড সে পালিয়েছে। তোর জন্য M-এর কাছে থেকে একতাড়া সংকেত এসে পড়ে আছে। আজ সন্ধ্যায় CIA আর তোদের দপ্তর থেকে কয়েকজন বড়কর্তা এসে কাজের ভার নিচ্ছেন। তাদের আমরা সব কাজ বুঝিয়ে দেব, তারপর আমাদের দুই গভর্নমেন্ট মারামারি করে ঠিক করুক–প্রেতাত্মা সংঘের লোকদের কি শাস্তি দেবে। তোকে লর্ড করবে না ডিউক উপাধি দেবে, আমাকে প্রেসিডেন্ট পদের প্রার্থী হিসাবে দাঁড়াতে রাজি করাবে কি না–এইসব ছোটখাটো ব্যাপারগুলো। আমরা স্রেফ পালিয়ে গিয়ে ছুটি উপভোগ করব। মেয়েটাকে সঙ্গে নিবি নাকি? আসলে ঐ মেয়েটারই। একটা মেডেল পাওয়া উচিত। ওরা মেয়েটাকে গাইগার কাউন্টার সমেত ধরে ফেলেছিল। মেয়েটা কিছুই ফাঁস করেনি। তারপর কিভাবে যেন সে পোর্টহোল দিয়ে বেরিয়ে পড়েছিল লাগোকে খতম করার জন্য। করলও তাই। আর সেই সঙ্গে তোর প্রাণ বাঁচাল! লিটার কান খাড়া করে কি যেন শুনল। তারপর এক লাফে দরজার কাছে সরে গেল। বলল, এই রে, ডাক্তারটা করিডোর দিয়ে আসছে। তারপর চটপট সরে পড়ল।
বন্ড শুয়ে শুয়ে কড়িকাঠের দিকে তাকিয়ে রইল। ভেতরে ক্রমশ ভীষণ রাগ আর ভয় মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। কেন তাকে কেউ মেয়েটার কথা বলছে না? বন্ড এক ঝটকায় সোজা হয়ে উঠে বসল। তারপর চিৎকার করে বলে উঠল, মেয়েটা কোথায় আছে কেমন আছে?
ডাঃ স্ট্রেঞ্জেল নাসাউ-এর একজন উঁচুদরের ডাক্তার। তিনি বন্ডের দিকে ফিরে বললেন, মিস্ ভিতালি অবিলম্বে সুস্থ হয়ে উঠবেন। তিনি জোর শক্ পেয়েছিলেন। এখন তাঁর বিশ্রামের প্রয়োজন। ডাক্তার আবার বললেন, আপনারও এখন বিশ্রামের দরকার। ছ ঘণ্টা অন্তর একটা করে ঘুমের ওষুধ খাবেন। আর ভাল করে ঘুমোবেন। অল্প দিনের মধ্যেই ভাল হয়ে উঠবেন। কিন্তু অবশ্যই আপনাকে শান্ত হয়ে থাকতে হবে, মিঃ বন্ড!
বন্ড চিৎকার করে বলল, শান্ত হব! চুলোয় যান আপনি! কি জানেন আপনি শান্ত হবার? আমাকে বলুন মেয়েটার কি হয়েছে! কোথায় আছে সে? কত নম্বর ঘরে?
ডাঃ স্ট্রেঞ্জেল সদয় কণ্ঠে বললেন, দ্রমহিলার ওপর অত্যাচার করা হয়েছে। তার সর্বাঙ্গে অজস্র পোড়ার দাগ। তিনি এখনো খুব যন্ত্রণায় আছেন। তাঁকে রাখা হয়েছে পাশের ঘরটাতে ৪ নং কামরায়। আপনি তাঁকে দেখতে পারেন কিন্তু মিনিট খানেকের বেশি নয়।
ডাক্তার দরজাটা খুলে ধরলেন।
ছোট্ট একটা ঘর। জানালার খড়খড়ির ফাঁক দিয়ে ঢুকে পড়া আলো বিছানাটার ওপর লম্বা লম্বা ডোরার মত ছায়া ফেলেছে। বন্ড টলতে টলতে বিছানা পর্যন্ত এসে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল তার পাশে। বালিশের ওপর ছোট মাথাটা তার দিকে ফিরল। একটা হাত বেরিয়ে তার চুল মুঠো করে ধরে কাছে টেনে আনার চেষ্টা করল। ভাঙা ভাঙা গলায় মেয়েটি বলল, তুমি এখানেই থাকবে। তুমি আমার কাছ ছেড়ে কোথাও যাবে না!
কিন্তু কোন জবাব এল না। মেয়েটি বুঝতে পারল বন্ডের দেহটা ক্রমশঃ পড়ে যাচ্ছে। চুল ছেড়ে দিতেই ধুপ করে বিছানার পাশে কার্পেটের ওপর পড়ে গেল। পরমুহূর্তেই বন্ড ঘুমিয়ে পড়ল নিজের বাহুর ওপর মাথা রেখে।
মেয়েটি কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল সেই মুখটার দিকে। তারপর নিজের বালিশটাকে টেনে আনল বিছানার ধারে, ঘুমন্ত মানুষটার ঠিক ওপরে, মাথা রাখল তার ওপর, যাতে যখন ইচ্ছে চোখ খুললেই বন্ডকে দেখতে পায়। তারপর চোখ বন্ধ করল।
দি প্রপার্টি অফ এ লেডি
দি প্রপার্টি অফ এ লেডি — জেমস বন্ড
জুন মাসের আইঢাই করা গরমে 00 বিভাগেরও কাজকর্ম না থাকায় 007-কে অর্থাৎ জেমস বন্ডকেও অফিসের কাজকর্ম কয়েক সময় কাটাতে হয়।
কিন্তু সে কাজে অল্প দিনের মধ্যেই জেমস্ বন্ড অতিষ্ট হয়ে ওঠে, তার কাজে মন বসে না, তখন সে পৃথিবীর সমস্ত প্রানে শান্তি বজায় থাকায় সৃষ্টিকর্তার উপর রেগে যায়।
সেই সময় মিঃ M-এর সেক্রেটারি মিস মানিপেনি ফোন করে জেমস্ বন্ডকে জানায়, মিঃ M-তাকে ডাকছে। খেলনার পিস্তলের ভেতর রাখা সায়নাইড গ্যাস দিয়ে কি করে মানুষ খুন করা যায়, জেমস বন্ড তাই মনোযোগ দিয়ে পড়ছিল। ঠিক যেমন রং বেরোয় খেলনা পিস্তল দিয়ে, ঠিক তার বদলে গ্যাস বেরুলেই সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মৃত্যু হয়।
জেমস বন্ড নিজেকে ফিটফাট করে নিয়েই বেরিয়ে পড়ে M-এর উদ্দেশ্যে। খুব সাবধানে বড়কর্তা M-এর ঘরে ঢোকে এবং ড ফর্স কার্পেটের ওপর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে তার টেবিলের সামনে এসে দাঁড়ায়। তার পাশে একজন মাঝবয়সী অচেনা লোক বসেছিল। M দুজনের পরিচয় করিয়ে দিল। একজন ছিল বিখ্যাত মণিমুক্তা সম্বন্ধে বিশিষ্ট পণ্ডিত আর একজন ছিল 07 অর্থাৎ জেমস বন্ড। মণিমুক্তা জ্ঞানী ডঃ ফ্যাসকে M-এর বন্ধুরা পাঠিয়েছিল যোগাযোগ বিভাগের মিস্ ফ্রয়েডেন স্টাইনের জন্য।
