মার্কের মুখের রঙ হঠাৎ পাল্টে গেল। এবারে এই নির্মম দস্যুটির চোখ দপ্ করে জ্বলে উঠল। ওঃ, ব্লোফেল্ড, হ্যাঁ বেঁচেই তো আছে। এই তো কিছু দিন আগে আমার তিনজন লোককে ঘুস দিয়ে ভাগিয়ে নিয়ে গেছে। আমারই ইউনিয়নের লোক। দেখা যাক কি করতে পারি। টেবিলে একটা কালো টেলিফোন ছিল। মার্ক রিসিভার তুলে নিল।
বন্ড অপারেটরের অস্পষ্ট শব্দ শুনতে পেল। মার্ক রিসিভার রেখে বলল, পাঁচ মিনিট লাগবে লাইন পেতে। খুব দ্রুত কথা শেষ করবে, পুলিশ হয়ত বুঝে যেতে পারে। কর্সিকান ভাষা সেটুকুই যা সুবিধা।
ফোনটা পাঁচ মিনিট আগেই বেজে উঠল। মার্ক ফোন তুলে কথা বলল, কর্তৃত্বের স্বরে। ফোন আবার রেখে দিল, বন্ডের মুখের দিকে দেখে নিয়ে বলল, ওর সম্পর্কে এইটুকু বলা যায় যে ও সুইজারল্যান্ডে থাকে। ওর ঠিকানা কারো জানা নেই। এতে হয়ত তোমার কোন কাজ হতে পারে। অবশ্যই তোমাদের লোক ওকে বার করতে পারবে। যদি সুইস পুলিশ সামান্য সাহায্য করে। কিন্তু ওরা গোঁয়ার টাইপের। অর্থাৎ যারা বড়লোক তাদের সম্পর্কে ওরা মুখ খোলে না। বন্ডের বুক দ্রুত চলতে লাগল। যেন মনে হল এত দিনের পর কোন কাজে সফল হয়েছে। এবার শয়তান, তোর সন্ধান পেয়ে গেছি। সুইজারল্যান্ডে আমার লোকজন আছে।
মার্কের মুখে আনন্দের হাসি দেখা গেল। সে গম্ভীর ভাবে বলল, যদি দেখ তোমার কোন অসুবিধা হচ্ছে বা অন্য কোন ব্যাপার হচ্ছে তবে সাথে সাথে আমার কাছে চলে আসবে। আমার লোক তখনি নির্দিষ্ট জায়গায় তোমার সাথে দেখা করে নেবে। আর তোমারও তো একটা আন্তর্জাতিক আচ্ছা আছেইউনিভার্সাল এক্সপোর্ট, তাই না?
বন্ড হেসে বলল, আশ্চর্য এই লোকটি সবই তো জানে? সে কি তবে নিরাপত্তা বিভাগকে জানাবে, না। ওর সাথে বন্ধুত্ব সম্পর্ক হয়ে গেছে। এমন ভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করতে সে পারবে না।
আচ্ছা, এবার টেরেসাকে খবর দেওয়া যাক। সে অবশ্য জানে না আমাদের কি কথাবার্তা হল। আর জানাবার দরকার নেই। আমরা দক্ষিণ ফ্রান্সের ডাকাতের গল্প করছিলাম। আর তাছাড়া তোমার সাথে অন্য কথাবার্তাও হয়েছে। পারবে তো করতে ঠিকমত। তা বেশ, সে চেয়ার থেকে বন্ডের পাশে এসে দাঁড়াল। তার কাঁধে হাত রেখে বলে উঠল– ধন্যবাদ। সব কিছুর জন্যই তোমাকে ধন্যবাদ জানালাম।
সে দরজা খুলে বাইরে চলে গেল।
.
বন্ড স্ট্রিটের বন্ড
প্রায় দু-মাস পরে বন্ড চেলসীর ফ্ল্যাট থেকে একদিন গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছে হেড অফিসের দিকে। তখন সকাল নটা হবে। সুন্দর উজ্জ্বল দিন, শুকনো পাতা পোড়ানো হচ্ছে হাইড পার্কে। তার মানে হল শীত আসতে আর দেরি নেই। স্টেশন z-এর সাথে যতক্ষণ যোগাযোগ না হবে, সুইস সিকিউরিটি অফিস থেকে ব্লোফেল্ড-এর সন্ধান জানতে পারছে ততক্ষণ ওর মনে কোন স্বস্তি নেই।
দুই মাস ধরে সমানে খোঁজ করে তবে সে জানতে পেরেছে সে সুইজারল্যান্ডে ব্লোফেন্ড নামে কোন নাম ধারী। লোক নেই। প্রেতাত্মা সংঘ যে আবার মাথা তুলে আছে তারও কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবুও আজও ন্যাটো (Nato) চুক্তির শক্তিশালী দেশগুলি তাকে হন্যে হয়ে অনুসন্ধান করছে। সীমান্ত এলাকায় কড়া নজর রাখছে। স্টেশন হু আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলির কর্মকর্তাকে একটা অনুরোধ করেছে বেনামী কোন অ্যাকাউন্ট কেউ চালিয়েছে কিনা, তার খোঁজ খবর রাখতে। কেউ রাজি হয়নি। সবাই জানিয়ে দিয়েছেন যে অপরাধীদের মধ্যে ব্লোফেন্ড নামে কোন ব্যক্তির নাম নেই। তবে এটাও তারা শুনেছে ব্লোফেল্ড কিছু আনবিক অস্ত্রশস্ত্র হাতের মধ্যে নিয়ে ব্রিটেন এবং আমেরিকাকে রীতিমত অসুবিধাতে ফেলেছিল। কিন্তু সুইজারল্যান্ডের আইনে এটা অপরাধের পর্যায়ে পড়ছে না। বিশেষ করে ব্যাংকিং নিয়মাবলীর ৪৭ বি ধারার আওতায় পড়ে না।
হেডকোয়ার্টার্সে সে যে খবর পাঠায় সেখানে শুধু ইউনিয়ন কোর্সের নামটা উল্লেখ করা দরকার, যেখানে থেকে সে সুইজারল্যান্ডে ব্লোফেন্ডের এক বাসের খোঁজ মিলেছে। মার্ক বা ট্রেসীর কথা কিছু উল্লেখ করেনি। আপাততঃ এ কাহিনী এখানেই স্থগিত থাক। সে দিনের সন্ধ্যাটা তার খুব ভালই কেটেছে, যেন মনে হল কত দিনের পুরানো বন্ধু বা প্রেমিকা। বন্ড বলে দিয়েছে ইউনিভার্য্যাল এক্সপোর্ট তাকে বিশেষ কাজে কিছু দিনের জন্য পাটানো হবে বাইরে। ইউরোপ থেকে ফিরে এলে তাদের আবার অতি অবশ্যই দেখা হবে। ট্রেসীও ভেবেছে সে কিছু দিনের জন্য বাইরে যাবে। সে নার্ভাস ব্রেক ডাউনের কাছাকাছি চলে গেছে। বন্ডের জন্য সে অপেক্ষা করবে। বড়দিনে স্কীইং করতে যাবে তারা, বন্ডও এতে উৎসাহ দেখিয়েছে।
ঠিক এই সময়ে তার ট্রাউজার্সের পকেটে সিংক্রোফোন বেজে উঠল। বন্ড জোরে গাড়ি চালিয়ে একটি পাবলিক টেলিফোনের কাছে এল। হেডকোয়ার্টার্সের অফিসাররাই শুধু সিংক্রোফোন ব্যবহার করতে পারে। হাল্কা এক রকম প্ল্যাসটিক রেডিও রিসিভারের কাজটি করে যন্ত্রটি। এর আকৃতি ঠিক পকেট ঘড়ির মত। যখন কোন অফিসার লন্ডনে থাকে দশ মাইলের মধ্যে তাকেই এই রিসিভারে কথা বলা যায়। সংকেত পাওয়া মাত্র যে কোন জায়গা থেকে তাকে ফোন করে হেডকোয়ার্টার্সের সাথে যোগাযোগ করা যাবে। বন্ড রিসিভার তুলে নিয়ে নম্বর নিল, বলল, রিপোর্ট 007 করছি।
অন্য দিক থেকে কথা ভেসে এল। এখুনি তোমাকে কলেজ অফ আরমস্-এ যেতে হবে। সেখানে গ্রীন অর-এর খোঁজ করবে।
