খুব ভদ্র, নিরুত্তাপ কণ্ঠে কথা বললেন কার্গো, আপনার প্রস্তাবের একটা সংক্ষিপ্ত ও সোজা উত্তর আমার জানা আছে, ১০ নম্বর। তার বিশাল থাবা থেকে বেরিয়ে আসা রিভলবারের ছোট্ট নলটার ওপর একবার লাল আলো খেলে গেল। পরপর তিনটা গুলি করলেন তিনি। ১০ নং দুর্বলভারে দু হাত সামনে তুলে ধরলেন তারপর চেয়ার শুদ্ধ হুড়মুড় করে উল্টে পড়লেন পেছন দিকে। চারদিক নিস্তব্ধ।
সবাই চলে যাবার পর পার্গো উঠে দাঁড়ালেন। বরফের টুকরো ভর্তি একটা লাল রঙের রবারের থলি হাতে নিলেন। তারপর দরজা খুলে হেঁটে গিয়ে ঢুকলেন ডোৱিলো ভিতালির কেবিন। দরজায় খিল লাগিয়ে দিলেন। এ ঘরেও ছাদ থেকে ঝুলছে একটা লাল রঙের বাতি। তার তলায় বড় বাংক্টার ওপর মেয়েটি শুয়ে, তার গোড়ালি আর কব্জি লোহার খাটের চারকোণে দড়ি দিয়ে বাঁধা। মেয়েটা তাকে লক্ষ্য করছিল।
লার্গো বললেন, প্রিয়ে, তোমার শরীরকে আমি অনেক উপভোগ করেছি, আনন্দও পেয়েছি প্রচুর। পরিবর্তে, তুমি যদি না বল তোমাকে ঐ যন্ত্রটা দিয়েছে তাহলে আমি তোমাকে ভীষণ যন্ত্রণা দিতে বাধ্য হব। কাজটা আমি করব এই সামান্য দুই অস্ত্রের সাহায্যে। উত্তাপের জন্য এই সিগার আর ঠাণ্ডার জন্য বরফের টুকরো। বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে এই দুটো ব্যবহার করলে তখন চীৎকার করা ছাড়া তোমার আর কোন পথ থাকবে না। এখন বল কোনটা তুমি চাও?
মেয়েটির গলা ঘৃণার আগুনে ভয়ঙ্কর শোনা, আমার ভাইকে তুমি খুন করেছ, এখন আমাকে খুন করতে চলেছ। তোমাকে সময় ঘনিয়ে এসেছে। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি, তুমি আমার চেয়ে লক্ষ গুণ বেশি কষ্ট পেয়ে মর।
লার্গো ঝুঁকে পড়ে মেয়েটির কাঁধের শার্ট ও ব্রেসিয়ারের ফিতে একসঙ্গে চেপে ধরলেন। তারপর খুব আস্তে কিন্তু ভীষণ জোরের সঙ্গে হাত নিচের দিকে টেনে আনতে লাগলেন শরীরের সমস্ত দৈর্ঘ্য বেয়ে। শেষে দু হাতের দুটুকরো ছেঁড়া কাপড় ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দিলেন মেয়েটির দেহ। কি যেন ভাবতে ভাবতে সেটাকে ভাল করে দেখলেন, তারপর চেস্ট অফ ডুয়ার্সের ওপর থেকে সিগার আর বরফের পাত্রটা নিয়ে এলেন। লার্গো সিগারটায় একটা টান দিলেন, ছাই ঝেড়ে ফেললেন। তারপর ঝুঁকে পড়লেন সামনের দিকে।
.
পিছু পিছু আসে
আকার আক্রমণ কেন্দ্রে সম্পূর্ণ নিস্তব্ধতা বিরাজ করছিল। কম্যান্ডার পেডারসন ইকোসাউন্ডার পরিচালকের পেছনে দাঁড়িয়েছিলেন, এবং মাঝে মাঝে পেছন দিকে বসা বন্ড ও লিটারের প্রতি কথা বলছিলেন। তারা দুজনে বসেছিল যন্ত্রপাতি থেকে অনেক দূরে দুটো ক্যানভাসের চেয়ারে। ক্যাপ্টেন আনন্দের হাসি হেসে বললেন, আর চার ঘণ্টার পথ। ভোরের আলো ফোঁটার আগেই আমরা গ্র্যান্ড বাহামার কাছে পৌঁছে যাব। যদি পর্দায় দেখা যায় ছোট্ট একটা দ্বীপ দল ছেড়ে বেরিয়ে এসে জোরে উত্তর দিকে ছুটেছে আমাদের সমান্তরাল পথে, তবেই বুঝবো সেটা আমাদের। ডিস্কো। যতক্ষণ না বেরী দ্বীপপুঞ্জের এলাকা থেকে বেরিয়ে পড়তে পারছি সেই দ্বীপগুলোই সমস্ত পর্দা জুড়ে থাকবে। যতক্ষণ না জাহাজটা লক্ষ্যস্থলের কাছাকাছি পৌঁছচ্ছে, বিশেষ কিছু করার নেই। বন্ড এবং লিটার ক্যাপ্টেনের পিছন পিছন একটা প্যাসেজ বেয়ে গিয়ে মেস হলে পৌঁছল। একটা আলোকিত খাবারঘর, ক্রীম রঙের দেওয়াল আর গোলাপী ও সবুজ প্যানেল। তারা একটা ফমিকা ঢাকা টেবিল ঘিরে বসল। একজন স্টুয়ার্ড মেনু নিয়ে এল। বন্ড পোচ করা ডিম, কড়া টোস্ট আর কফির সুর্ডার দিল। এখন তার মাথার মধ্যে শুধু চিন্তা আর চাপা উত্তেজনা। খেতে খেতে তারা আলোচনা করতে থাকল গ্রান্ড বাহামার কাছে ডিস্কোকে ধরতে পারলে তাদের কি করা উচিত। বন্ড বলল, লোকগুলোকে ঘায়েল করবার একটাই সুযোগ আছে। যদি আমরা তাড়াহুড়ো করি ডিস্কো চটপট কয়েকশ গজ সরে গিয়ে ৰােমা দুটোকে কোন গভীর গহ্বরের ভিতর ফেলে দিতে পারে। তাদের এবং বোমা দুটোকে বাগে আনবার সবচেয়ে উপযুক্ত ক্ষণ হবে যখন তারা জাহাজ থেকে লক্ষ্যস্থলের দিকে পানির তলায় সাঁতার কেটে এগিয়ে যাবে। তাদের ডররির দল দিয়ে ঘায়েল করতে হবে। দ্বিতীয় বোমাটি যদি জাহাজেও থাকে, কিছু এসে যাবে না। সেই শুদ্ধ। ডিস্কো কে ডুবিয়ে দিতে পারি আমরা। ক্যাপ্টেন মাইক্রোফোনে তার লোকজনদের সঙ্গে কিছু কথা বলার জন্য উঠে গেলেন।
বন্ড এক ডিউটি অফিসারের বাংকে ঘুমিয়ে ছিল। আলার্ম বেল-এর গর্জনে তার ঘুম ভেঙে গেল। সে আক্রমণ কেন্দ্রের দিকে চলল। লিটার আগেই পৌঁছে গিয়েছিল সেখানে। ক্যাপ্টেন তাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, মনে হচ্ছে আপনারা ঠিকই অনুমান করেছিলেন। সে জাহাজটাকে পেয়েছি। পাঁচ মাইলের সামনে আর একটু ডান দিকে ঘেঁষে। প্রায় ত্রিশ নট বেগে চলেছে।
বন্ড পেরিস্কোপে চোখ লাগাল। এক মিনিট পরেই দেখতে পেল দিক চক্ৰবালে একটা ছোট সাদা ছোপ। গ্রান্ড বাহামার পশ্চিম প্রান্তের দিকে চলেছে, হারিয়ে যাবার সম্ভাবনা নেই।
ক্যাপ্টেন একটু হেসে বললেন, অস্ত্রশস্ত্র বিভাগে সার্জেন্টটি হাতিয়ার জোগাড়ের চেষ্টায় আছেন। তিনি এক ডজন ছোরা সংগ্রহ করেছেন নাবিকদের কাছ থেকে, অবশ্য সহজে তারা তাদের সম্পত্তি ছাড়েনি। তারপর সেগুলোকে শান দিয়ে তীরের ফলার মত সূচ্যগ্র করে তুলেছেন। সেগুলোকে আঁটার মত জুড়ে তৈরি হয়েছে বারটা বর্শা।…ঠিক আছে তাহলে। আবার দেখা হবে। যা দরকার হয় জানাবেন। তিনি আবার প্লটের দিকে ঘুরে দাঁড়ালেন। বন্ড ও লিটার চলল ইঞ্জিন মেরামতের ঘরটাতে। পথে তাদের রি-অ্যাকটর রুমের ভেতর দিয়ে যেতে হল। রি-অ্যাক্টর আসলে একটা নিয়ন্ত্রিত অ্যাটমিক বোমার মত। মেরামতের ঘরটাতে, অজস্র যন্ত্রপাতির মধ্যে লেদ মেশিনের সাহায্যে বর্শার ফলা তৈরির কাজ চলছে। কয়েকজন সাঁতারু ইতিমধ্যেই বর্শা হাতে পেয়ে গেছে। বন্ড একটা বর্শা পরীক্ষা করে দেখল মারাত্মক অস্ত্র।
