বন্ড এতক্ষণ এই প্রশ্নটার জন্যই শংকিত ছিল। গাইগার কাউন্টার সমেত জাহাজে পাঠিয়ে সে মেয়েটাকে জোড়া বিপদের মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। সে লার্গোর হাতে ধরা পড়তে পারে সেক্ষেত্রে মৃত্যু অবধারিত। বিষয়টা চিন্তা করে নিয়ে বন্ড বলল, তুমি যেখানেই থাক না কেন, আমি তোমাকে খুঁজে বার করব। মেয়েটা হাত ঘড়ি দেখল। বলল, সাড়ে চারটে। এবার আমাকে যেতে হবে। তুমি আমার সঙ্গে এসো না। কয়েক মিনিট পরে বন্ড MG-র ইঞ্জিনের গর্জন শুনতে পেল।
বন্ড রাস্তা ধরে দ্রুত এগিয়ে চলল। তারপর কমিশনারের সঙ্গে বেতার যোগাযোগ করল। কমিশনার তাকে লিটারের কাছ থেকে দুটো খবর দিলেন। লিটারের পামীরা অভিযান ব্যর্থ হয়েছে। মান্টা আর কুড়ি মিনিটের মধ্যে এসে পৌঁছাচ্ছে। বন্ড যেন প্রিন্স জর্জ জেটিতে লিটারের সঙ্গে দেখা করে।
মান্টার কিন্তু সাধারণ সাবমেরিনদের মত চমঙ্কার ছিপছিপে চেহারা নয়, বরং একটা ভোতা কুৎসিত চেহারা। এটা জর্জ ওয়াশিংটন শ্রেণীর ডুবোজাহাজ, ওজন প্রায় ৪০০০ টন, দাম দশ কোটি ডলারের মত।
মিসাইলের গতি এবং লক্ষ্যস্থলের সব তথ্য ওর ভিতরেই অটোমেটিক ভাবে পুরে দেওয়া হয়। তারপর প্রধান গানার। স্রেফ একটা বোম টিপে দেন। এরকম সাবমেরিন এখনই আমাদের ছ টা আছে। আরো তৈরি হচ্ছে।
বন্ড শুকনো মন্তব্য করল, এটাকেও ধ্বংস করবার উপায় বার হবে নিশ্চয়ই। মান্টার সামনে ছ টা টর্পেডোটিউব আছে। তবে কম্যান্ডারকে দিয়ে সেগুলো ছোঁড়াটা শক্ত হবে।
বিশাল সাবৃমেরিনটা এসে জেটির সঙ্গে আস্তে ধাক্কা খেল। পুলিশ কর্ডন দিয়ে আটকে রাখা জনতা হৈ হৈ করে উঠল। লিটার বলল, চল, তাহলে যাওয়া যাক্।
.
সিদ্ধান্ত
সাবমেরিনের ভেতরে আশ্চর্যরকম বেশি জায়গা। কোন ভিড়ভাট্টা নেই। বছর আটাশের এক যুবক রক্ষী অফিসারের পেছন পেছন দু তলা নিচে নেমে এল তারা। চমৎকার ঠাণ্ডা হাওয়া। সিঁড়ির নিচে নেমে এসে তিনি বাদিকে ঘুরে একটা দরজায় টোকা মারলেন। দরজার ওপর লেখা–কম্যান্ডার পি. পেডারসেন, যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনী।
ক্যাপ্টেন ভদ্রলোককে দেখে মনে হয় চল্লিশের কাছাকাছি বয়স। চোখের দৃষ্টি ধূর্ত, কিন্তু সরস। দাঁড়িয়ে উঠে ওদের দুজনের সঙ্গে করমর্দন করলেন এবং সামনের চেয়ার দুটোয় বসতে ইঙ্গিত করলেন। ক্যাপ্টেন লিটারের দিকে তাকালেন–ব্যাপারটা কি বলুন তো? কোরিয়ার যুদ্ধের পর আর এমন টপ সিক্রেট আর অত্যন্ত জরুরী র বন্যা দেখেনি। আপনাদের বলতে বাধা নেই। শেষ বার্তাটা পেয়েছি আমাদের নৌবাহিনীর সর্বাধিনায়কের কাছ থেকে। ব্যক্তিগত নির্দেশ, তাতে বলা হয়েছে, আমি যেন নিজেকে আপনার অথবা আপনি নিহত বা আহত হলে কম্যান্ডার বন্ডের অধীনস্ত বলে মনে করি, যতক্ষণ না আজ সন্ধ্যা সাতটায় অ্যাডমিরাল কার্লসন এসে পড়েন। আমি কেবল জানি যে এইসব বার্তায় অপারেশন থান্ডারবল ছাপ মারা আছে।
বন্ডের ক্যাপ্টেন পেডারসেনকে বড় ভাল লাগল। দশ মিনিট পর কম্যান্ডার পেডারসেন আবার হেলান দিয়ে বসলেন। পাইপটা নিয়ে তাতে তামাক ভরতে লাগলেন অন্যমনস্কভাবে। তারপর বললেন, আমাদের সামনে একটা বিরাট সমস্যা, আপনারা সম্ভবত অনুমান করছেন যে, লার্গো প্লেন নিয়ে গুপ্তস্থান থেকে বোমা দুটো নিয়ে আসতে গেছে। যদি তার কাছে বোমা থাকে, সেক্ষেত্রে ঐ মেয়েটি আপনাদের খবর দেবে। তখন আমরা এগিয়ে গিয়ে জাহাজটাকে আটক করব। বা ডুবিয়ে দেব। কিন্তু কোন কারণে মেয়েটি যদি আমাদের জানাতে না পারে তখন আমরা কি করব?
বন্ড শান্ত কণ্ঠে বলল, তখন আমরা ওর পিছু নেব, যতক্ষণ না প্রেতাত্মা সংঘের দেওয়া সময় শেষ হয়। সময় শেষ হলে আমরা সমস্ত সমস্যাটাকে আমাদের গভর্নমেন্টের হাতে তুলে দিতে পারি। এখন আমাদের কাজ হবে একজন গোয়েন্দার মত, যে একজন সন্দেহজনক লোকের ওপর নজর রাখছে। সে অনুমান করছে যে, লোকটি খুনের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছে।
আসলে ব্যাপারটা দাঁড়াচ্ছে লার্গোই আসল শয়তান, এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই ওরা রওনা হয়ে পড়বে অকুস্থলের দিকে। সেইজন্যই আপনাকে তড়িঘড়ি করে ডেকে এনেছি। এটা শতকরা একশো ভাগ ঠিক যে, এটম বোমা যথাস্থানে বসাতে হলে রাত্রিবেলাই সবচেয়ে সুবিধে আর এটাই হচ্ছে লার্গোর হাতে শেষ রাত্রি। বন্ড বলল, রাতে ডিস্কোয় আলো জ্বলবে না। প্লেন থেকে তাকে খুঁজে বার করা শক্ত কাজ হবে। আমরা প্লেনগুলোকে আমেরিকার উপকূলের ওপর নজর রাখতেও বলতে পারি।
কড়িকাঠের PA সিস্টেমের ভিতর থেকে আওয়াজ শোনা গেল–রক্ষী অফিসার বলছি ক্যাপ্টেনের প্রতি। একজন পুলিশ অফিসার কম্যান্ডার বন্ডের জন্য জরুরী সংবাদ নিয়ে এসেছেন। সংবাদটা হল–প্লেন ৫-৩০-এ ফিরে এসেছে। তাকে জাহাজে তুলে নেওয়া হয়েছে। ৫-৫৫-তে ডিস্কো রওনা হয়ে পড়েছে, পুরোদমে উত্তর-পশ্চিম দিকে। মেয়েটা জাহাজে ওঠবার পর আর ডেকে বেরিয়ে আসেনি। বন্ড বার্তাটা সই করল, তারপর ক্যাপ্টেনের দিকে এগিয়ে দিল। তিনি সই করলেন, লিটারও করল। চিঠিটা খামে পুরে বন্ড কর্পোরালের হাতে দিল। তিনি চটপট মুখে পুরে ভারী বুটজোড়ার আওয়াজ তুলে বেরিয়ে গেলেন।
দরজা বন্ধ হয়ে যেতেই ক্যাপ্টেন ইন্টারকমের সুইচ টিপে আদেশ দিলেন পানির ওপর ভেসে উঠে উত্তরদিকে রওনা হতে, দশ নট বেগে। তারপর সুইচ অফ করে দিলেন।
