বন্ড মেয়েটার সম্বন্ধে উত্তেজিত বোধ করলেও তার মনে পড়ছিল আজ বিকালে মেয়েটাকে কি বিপদের মধ্যেই না পাঠাচ্ছে। বন্ড তার সাঁতার কাটার ছোট প্যান্টটা একটা তোয়ালেতে জড়িয়ে নিল। তারপর ঘর থেকে বেরিয়ে এসে লিফটে চড়ে নেমে এল নিচে।
বন্ড যখন ক্যাসুয়ারিনার ফাঁক দিয়ে চলে যাওয়া বালির রাস্তাটা খুঁজে পেয়ে সমুদ্রতটের কাছে গাড়ি পার্ক করে রাখল, তখন তার মনে হচ্ছে কোনরকমে একবার পানিতে গিয়ে পড়লে হয়–আর সহজে উঠবে না। বন্ড জামাকাপড় ছেড়ে আবার রোদ্দুরে বেরিয়ে এল। মেয়েটার কোন চিহ্ন পাওয়া গেল না। বন্ড এগিয়ে গিয়ে ঠাণ্ডা পানির মধ্যে ঝাঁপ দিল। কয়েক মিনিট পর কেন যেন একবার চোখ খুলল বন্ড। দেখল শান্ত উপসাগরের মাঝ দিয়ে ছোট ছোট বুদ্বুদের একটি সারি তার দিকে এগিয়ে আসছে সেটা নীল থেকে সবুজ পানিতে এসে পড়বার পর বন্ড দেখতে পেল জাপানী পাখার মত ছড়িয়ে পড়া একরাশ কালো চুল। মেয়েটি কম পানিতে এসে থামল। তারপর বলে উঠল, ওখানে শুয়ে শুয়ে স্বপ্ন দেখতে হবে না। এসে আমাকে বাঁচাও।
বন্ড উঠে পড়ে কয়েক পা হেঁটে মেয়েটির কাছে দাঁড়াল। মেয়েটি বলল, আমার পায়ে সী-এগ-এর কাঁটা ফুটে গেছে। যেমন করে পার বের কর। আগে অ্যাকোয়ালাংটা খুলে নাও। এত ওজন নিয়ে দাঁড়াতে পারছি না। মেয়েটি হাঁটতে পারছিল না। বন্ড দু হাত বাড়িয়ে দিল। নিচু হয়ে একটা হাত হাঁটুর নিচে, অন্যটা বগলের তলায় গিয়ে তাকে ধরে নিল। ডোমিনো দু হাতে বন্ডের গলা জড়িয়ে ধরল। কিছুক্ষণ সে পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে মেয়েটির মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। উজ্জ্বল চোখ দুটো আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। বন্ড মাথা নিচু করে আধখোলা অপেক্ষমান ঠোঁট দুটো জোরে চুমু খেল।
নরম ঠোঁট দুটো তার দুটো ঠোঁট চেপে ধরল, তারপর আস্তে আস্তে ছাড়িয়ে নিল। বন্ড মেয়েটির ডান যুকে হাতটা চেপে রেখে তট বেয়ে উঠে গেল ক্যাসুরিনার ছায়ার মধ্যে। সেখানে তাকে নরম বালির মধ্যে নামিয়ে রাখল। বিকিনির উদ্ধত অর্ধচন্দ্রাকতি অধোবাস যেন বন্ডের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। আঁটোসাঁটো কাঁচুলিতে আবদ্ধ গর্বিত স্তন দুটি যেন আরো একজোড়া চোখ। বন্ড দেখল তার সংযমের বাঁধ ভেঙ্গে পড়েছে। বন্ড মেয়েটির পায়ের তলাটা তুলে নিয়ে যেখানে কাঁটা ফুটেছে সেই জায়গাটা মুখের মধ্যে নিয়ে চুষে চুষে কাঁটাটা বের করে ফেলল। ছোট দুটো ফুটোতে বিন্দু বিন্দু রক্ত জমে উঠেছে। মেয়েটি ঘুরে চিৎ হয়ে শুলো। মেয়েটি একহাতে চোখের পানি মুছে বন্ডের দিকে সোজা তাকিয়ে বলল, জানো, তুমিই প্রথম মানুষ যে আমাকে কাঁদাতে পেরেছে। দু হাত বাড়িয়ে দিল সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের ভঙ্গিতে।
বন্ড নিচু হয়ে তুলে নিল তাকে। বয়ে নিয়ে গেল চালাঘরের দরজা পর্যন্ত। বন্ড পুরুষদের ঘরেই ঢুকল। ডোমিনো দু হাতে বন্ডের গলা জড়িয়ে রইল, যতক্ষণ না বন্ড তার কাঁচুলির একমাত্র বোতাম খুলে দিল আর আলগা করে দিল তার অধোবাসের দড়িটা।
.
চুম্বনের শেষে
বন্ড একটা কনুইয়ের ওপর ভর দিয়ে সেই অপরূপ ঘুমন্ত মুখটার দিকে তাকিয়ে রইল। মেয়েটির মুখের ব্যক্তিত্বের রেখাগুলো প্রেমের স্পর্শে মুছে গেছে। মুখটাকে কেমন কোমল, মিষ্টি আর বিক্ষত দেখাচ্ছে।
বন্ড বলল, আমি দুঃখিত। এটা করা উচিত হয়নি।
শুনে মেয়েটা খুব মজা পেল। দু গালের টোল দুটো আরো গম্ভীর হল। বন্ড ঝুঁকে পড়ে তাকে চুমু খেল। তাকে টেনে তুলে জড়িয়ে ধরল। বন্ড বলল, এবার পানিতে নামা যাক। তারপর হঠাৎ ঘুরে দাঁড়িয়ে সমুদ্রের দিকে ছুটল। তারপর পানিতে ঝাঁপ দিল। আবার তীরে ফিরে এসে দেখল মেয়েটা ইতিমধ্যেই বেরিয়ে এসে জামা-কাপড় পরছে। বাইরে এসে বন্ড দুঃখের সঙ্গে মেয়েটিকে জানাল তার ভাইয়ের খবর। বন্ড পকেট থেকে পেটাশীর পরিচয় চাকতিটা বের করে নিঃশব্দে ডোমিনোর হাতে তুলে দিল। মেয়েটি চাকতিটা হাতে নিয়ে শুধু তাকিয়ে রইল। জানতে চাইল কি হয়েছিল। বস্তু বলল, সে এক বিশ্রী গল্প। তোমার বন্ধু লার্গো এর সঙ্গে জড়িত আছে। আমি আসলে এক ধরনের পুলিশম্যান। আমি এসেছি আমার সরকারের তরফ থেকে এই ষড়যন্ত্রের রহস্য ভেদ করতে। এ কথাটা আমি তোমাকে জানালাম। আর বাকিটুকু বলব, কারণ এতে তোমার সাহায্য না পেলে শত শত সম্ভবত হাজার হাজার লোক মারা পড়বে। বন্ড ডোমিনোকে প্রথম থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে সমস্ত কেসটার বিস্তৃতভাবে বর্ণনা করে গেল। তারপর বলল, সুতরাং বুঝতে পারছ যতক্ষণ না বোমা দুটো ডিস্কোতে তোলা হচ্ছে আমাদের কিছুই করার নেই। যতক্ষণ বোমা দুটো হাতের বাইরে আছে, আমাদের শংকা দূর হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
বন্ড তার কাছে যে গাইগার কাউন্টারটা ছিল সেটা মেয়েটির হাতে দিয়ে বলল এটাই তোমাকে বলে দেবে জাহাজে বোমা আছে কিনা। যদি বোঝ যে সত্যিই বোমা আছে তবে তোমার কেবিনের পোর্টহোল দিয়ে একটা আলো দেখিয়ো। আমাদের লোকেরা কড়া নজর রাখছে জাহাজটার ওপর। বন্ড তাকে যন্ত্রটার ব্যবহার দেখিয়ে দিল। তেজস্ক্রিয়তা ধরা পড়লে একটা ক্লিক ক্লিক্ আওয়াজ করতে থাকবে।
জাহাজের যে কোন জায়গা থেকে তুমি বোমার উপস্থিতি বুঝতে পারবে। মেয়েটা এতক্ষণ ধরে শুনছিল সব। এবার তাকে একটু অন্যমনস্ক মনে হল। হাত বাড়িয়ে এবারে সে বন্ডের বাহু স্পর্শ করল, জানতে চাইল আবার কবে তাদের দেখা হবে।
