বেশিক্ষণ লাগল না। পরিচয় চাতিটা আর সেই বীভৎস কব্জি থেকে হাতঘড়ি খুলে নিল সে। চাকতির ওপর টর্চ ফেলে দেখল, সেখানে লেখা আছে–জোসেফ পেটাশী। নং ১৫৩২। তারপর এগিয়ে গেল সে প্লেনটার দিকে। খোলা সেফটি হ্যাঁ বেয়ে প্লেনের ভেতর ঢুকল বন্ড। ভেতরে টর্চের আলোয় পদ্মরাগ মণির মত ঝকঝক করে উঠল চারদিকের অজস্র লাল লাল চোখ। সর্বত্র ছড়িয়ে রয়েছে অক্টোপাস আর অক্টোপাস। সংখ্যায় প্রায় একশো। বন্ড টর্চের আলোয় তার অনুসন্ধান শুরু করল। খুঁজে পেল লাল ডোরাকাটা। সায়ানাইডের…হাতল নাগালের মধ্যে।
.
নারী খাদক
ফেরার পথে নাসাউ-এর কাছে এসে বন্ড লিটারকে বলল যে, পামীরের পাশে ডিস্কোকে একবার দেখে যাওয়া যাক। বন্ড ভাবছিল কি সুন্দরই না দেখাচ্ছে ইয়টটাকে।
বন্ড তার দূরবীন ফোকাস করল। দেখল কিসের যেন দাগ এবং দাগগুলো সমান্তরাল। কোন একটা জিনিস, ভারী জিনিস চালান আর সমুদ্রের মধ্যে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ভীষণ উত্তেজিত হয়ে সে বলল, শিগগীর পালাও ফেলিক্স। প্লেনটা তীর বেগে অনেকটা এগিয়ে যেতে সে আবার বলল, ঠিক বুঝতে পারছি না কিসের দাগ ওগুলো। কিন্তু আমি যা ভাবছি, তাই যদি হয়, তাহলে ওরা নিশ্চয়ই অনেকক্ষণ ও দাগ মুছে ফেলত।
উইন্ডসর ফিল্ড পৌঁছতে পৌঁছতে একটা বেগে গেল। গত আধঘন্টা ধরে এখানকার কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে বেতারে তাদের খোঁজা হচ্ছিল। সুতরাং প্লেন থেকে নেমেই এয়ার পোর্টের কম্যান্ডান্ট এর রুদ্রমূর্তির সম্মুখীন হতে হল তাদের। সৌভাগ্যবশত তক্ষুনি রাজ্যপালের ADC ভদ্রলোক এসে পড়ে দুজনকে উদ্ধার করলেন। তারপর বন্ডের হাতে একটা খাম দিলেন, যার মধ্যে ওদের দুজনের জন্য আসা সংকেতবার্তা আছে।
তারা যেমনটি আশা করেছিল, বার্তার প্রথমেই যোগাযোগ কেটে দেওয়ার জন্য তাদেরকে যাচ্ছেতাই করা হয়েছে। এবং নতুন খবর পাঠাতে বলা হয়েছে। ইন্টারপোল এবং ইটালিয়ান পুলিশ মারফত খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জোসেফ পেটাশী সত্যিই ডোমিনেটা ভিতারীর ভাই। ডোমিনেটার আত্মকাহিনীর বাকি অংশও অক্ষরে অক্ষরে সত্যি। একই সূত্র থেকে জানা গেছে এমিলিও লার্গো একজন পুরোদস্তুর অ্যাভেঞ্চারার। তাঁর প্রতি সন্দেহের অবকাশ থাকলেও খাতা কলমে তার নামে কোন কলংকের ছাপ এ পর্যন্ত পড়েনি। তার টাকা কোথা থেকে আসে তা সম্পূর্ণ অজানা। ডিস্কোর দাম মেটানো হয়েছে সুইস ফ্রা-তে। ডিস্কোর খোলের ভেতরে একটা বিশেষ ঘরের অস্তিত্ব আছে। অংশীদারদের সম্পর্কে আরো খোঁজ নিয়েও কিছু জানা যায়নি। তবে প্রেতাত্মা সংঘে এঁদের সদস্য হওয়ার সম্ভাবনাও বেশ মিলে যাচ্ছে। থান্ডারবল মন্ত্রণালয় আরো প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত লার্গোকে নির্দোষ মনে করতে বাধ্য। বর্তমান প্ল্যান হচ্ছে পৃথিবীব্যাপী অনুসন্ধান যথারীতি চালিয়ে যাওয়া। শুধু বাহামাকে একটু বেশি গুরুত্ব দেওয়া। এই গুরুত্বের খাতিরে ব্রিগেডিয়ার ফেয়ারচাইল্ড CB, DSO, রীয়ার অ্যাডমিরাল কার্লসন কে সঙ্গে নিয়ে সন্ধ্যা সাতটায় রাষ্ট্রপতির বোয়িং 707, কলাম্বাইন বিমানে নাসাউ পৌঁছেছেন, ভবিষ্যতে কর্মপন্থার যুক্ত কর্তৃত্বভার গ্রহণ করার জন্য। মিঃ বন্ড ও মিঃ লিটারের পূর্ণ সহযোগিতার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে, আর উক্ত অফিসাররা যতক্ষণ না এসে পড়েন, তারা যেন ঘন্টায় ঘন্টায় বেতারযোগে পূর্ণ রিপোর্ট পাঠায় লন্ডনে এবং ওয়াশিংটনে তার একটা করে কপি। রিপোর্টে উভয়ের সই থাকা চাই।
বার্তা পড়া শেষ হলে লিটার বলল, আমি কোন রকমে ওদের সর্বশেষ খবরটুকু জানিয়ে বলে দিচ্ছি যে, এই জরুরী অবস্থার উদ্ভবের জন্য আমরা আপাততঃ যোগাযোগ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছি। তারপর আমি তোর তরফ থেকে একবার পামীরা ঘুরে আসব। গিয়ে দেখব ঐ দাগগুলো কিসের।
বন্ড ভেবে দেখল তারা তখন নাসাউ-এর শহরতলীতে পৌঁছে গেছে। সমুদ্রের ধারে লক্ষ্যপতিদের অট্টালিকার পেছনে লুকানো বস্তির কুঁড়েঘরগুলোর ভেতর দিয়ে চলেছে তারা। বন্ড বলল, আমি রাজি ফেলিক্স। মাল্টার সাহায্যে আমরাই ব্যাপারটা ম্যানেজ করে নিতে পারব। আসল কাজ হল জেনে নেওয়া যে, কখন বোমাদুটো ডিস্কো তে ওঠে। ভিতালি মেয়েটার পক্ষে কাজটা বিপজ্জনক কিন্তু আমি তাকে রাজি করাতে চেষ্টা করব। আমাকে হোটেলে নামিয়ে দে কাজ শুরু করি। সাড়ে চারটের সময় আবার দেখা হবে। বন্ড প্রায় দৌড়ে হোটেলের লবি পেরিয়ে গেল। ঘরে এসে সে পুলিশ কমিশনারকে ফোন করল। শুনল যে, ভোরের প্রথম আলোয় ডিস্কো তেল ভরবার জেটিতে এসে সবকটি তেলের ট্যাংক ভরে নিয়েছে। তারপর আবার পামীরার পাশে যথাস্থানে গিয়ে নোঙর করেছে। কমিশনার প্লেনটার ওপর নজর রাখতে বলেন কিন্তু প্লেনটা উড়ে গেল খুব নিচু দিয়ে প্রায় ৩০০ ফিট উচ্চতায়। দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ৫০ মাইল যাবার পর দ্বীপের জটলার মধ্যে প্লেনটা হারিয়ে যায়। এছাড়া আর কোন বড় খবর নেই।
বন্ড পামীরায় ডোমিনোকে ফোন করল। মেয়েটি জানাল, আজ সন্ধ্যায় সব মালপত্র প্যাক করে জাহাজে উঠে পড়তে বলা হয়েছে আমাকে। এমিলিও বলল আজ রাতেই গুপ্তধন অভিযান। তোমার সঙ্গে ভাল করে আলাপই হল না। আমার ইচ্ছা তুমি আজ দুপুরে সাঁতার কাটতে এসো। মেয়েটি বন্ডকে জায়গার নিখুঁত বর্ণনা দিল।
