বন্ড লিটারকে তারটা দিল। লিটার পড়ে বলল, আমার কথা বিশ্বাস হল তো? আমরা ভুল রাস্তায় চলেছি। আমি বরং ওয়াশিংটনে একটা পোস্টকার্ড ছেড়ে দিই, আমার হাতে গোটা দুয়েক WAVES পাঠিয়ে দেবার জন্য। আমাদের হাতে প্রচুর ফাঁকা সময় থাকবে।
.
টোকো মদ
শেষ পর্যন্ত বন্ডের সন্ধ্যাবেলার প্রোগ্রামের প্রথম অর্ধেক ভেস্তে গেল। টেলিফোনে ডোমিনো ভিতালি বলল যে, সেদিন সন্ধ্যাবেলা তারা পামীরার বাড়িটা দেখতে গেলে অসুবিধে হবে। রাতে ক্যাসিনোতে দেখা হতে পারে। কিন্তু ডিস্কো জায়গা বদল করাতে তার প্ল্যানটাকে বদলাতে হল সুবিধার জন্য। এই বন্দরে দাঁড়ালে জাহাজটাকে খুঁটিয়ে পরখ করতে আসা সোজা হবে। বন্ড ঠিক করল জাহাজের খোল সম্পর্কে আরো বেশি, খাঁটি খবর না পাওয়া পর্যন্ত এ ব্যাপারে আর মাথা ঘামাবে না। বন্ড M-এর কাছে একটি রিপোর্ট লিখে ফেলল। বন্ড কল্পনায় দেখতে পেল হোয়াইট হাউস। নানা কথা ভাবতে ভাবতে বন্ড কপালের ঘাম মুছল। সে চটপট তার রিপোর্টটা লন্ডনে পাঠিয়ে দিল। তারপর খোঁজ করল তার কোন খবর বা নির্দেশ আছে কিনা। নেই শুনে বেতার সংযোগ কেটে দিল। বন্ড চলল নিচে কমিশনারের ঘরে। হার্লিং গা থেকে কোট খুলে রেখে তার ডেস্কে বসে ছিলেন। বন্ড তাকে বলল, রেকর্ডস-এর খাতায় লার্গোর দলের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি, আর সে লার্গোর সঙ্গে দেখা করে গাইগার কাউন্টার নিয়ে ডিস্কো র ওপর ঘুরে এসেছে। সেখানেও কিছু পাওয়া যায়নি। সে বলল যে, ডিস্কো কতটা তেল নিতে পারে, তেলের ট্যাংক ঠিক কোথায় থাকে, তা সে জানতে চায়। কমিশনার বললেন, ও জাহাজটা ৫০০ গ্যালন পর্যন্ত ডিজেল নিতে পারে। ঠিক ঐ পরিমাণ তেল নিয়েছে ২রা জুন বিকেলে। বোঝা গেল যে, লার্গোর সেই লম্বা লম্বা ট্যাংক, ব্যালাস্টের ঝামেলা ইত্যাদির গল্প একেবারে বাজে। অবশ্য এমন হতে পারে তিনি গুপ্তধন খোঁজার কোনও গোপনীয় সরঞ্জাম অতিথিদের চোখের আড়ালে রাখতে চেয়েছিলেন। বন্ড মনস্থির করে ফেলল, জাহাজের খোলটা একবার দেখা চাই। সে তার ধারণাটা মোটামুটি জানাল কমিশনারকে।
কমিশনার বললেন, বন্দরের কাছে ডোবা মালপত্র উদ্ধারের জন্য কুড়ি জন লোকের এক আলাদা বাহিনী আছে, সেই বাহিনীর কনস্টেবল্ স্যান্টোসকে দেব আপনার সঙ্গে। চমৎকার ছেলে। আপনার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে সে বরং আপনার সুবিধেমত জায়গায় গিয়ে দেখা করবে। এবার আপনার প্ল্যানের পুরোটা আমাকে বলুন দেখি… ।
হোটেলে ফিরে এসে বন্ড শাওয়ারে গোসল সেরে নিল। এবারে খেয়েদেয়ে একটা লম্বা ঘুম দিতে পারলে তবে তার মাথাটা ঠাণ্ডা হবে।
সঙ্গে সঙ্গেই ঘুম এসে গেল। হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠল। লিটার ফোন করছে। সে সেই জলপাই দেওয়া মার্টিনিটা খেতে চায়। এখন ন টা বাজে।
পাইন-অ্যাপল রুম বার-এর একটা কোণের টেবিলে লিটারের সঙ্গে দেখা হল বন্ড-এর, ওরা দুজনেই সাদা ডিনার জ্যাকেট পরে ছিল। বন্ড যে সত্যিই একজন অর্থবান সম্পত্তি সন্ধানী, সেটা সকলকে জানাবার জন্য একটা গাঢ় লাল কোমর বন্ধ লাগিয়েছে। দুটো ড্রাই মার্টিনির অর্ডার দিল লিটার, তারপর তেতো গলায় বন্ডকে বলল, এবার শুধু দেখে যা।
মার্টিনি দুটো এল। তাদের দিকে তাকিয়ে লিটার ওয়েটারকে বলল বারম্যানকে ডেকে দিতে। একমুখ বিরক্তি নিয়ে বারম্যান এসে দাঁড়াল। লিটার বলল তাকে, বন্ধুবর আমি মার্টিনি চেয়েছিলাম, মদে ভেজানো জলপাই চাইনি। বলে ককটেল স্টিক দিয়ে গেলাস থেকে জলপাইটা তুলে নিল। বারো আনা মদ ভর্তি গেলাস সঙ্গে সঙ্গে খালি হয়ে গেল।
এখানে এক বোতল জিনের দাম দু ডলার। ধরা যাক পাইকারী দর এক ডলার ষাট সেন্ট। তুমি এক গ্লাস মার্টিনির দাম নিচ্ছ আশি সেন্ট, দু গেলাসের এক ডলার ষাট। পুরো এক বোতল জিনের দাম। আর তোমার হাতে থাকছে আটাশ মাত্রার চব্বিশ মাত্রা। মানে এক বোতল জিনে তুমি পরিষ্কার একুশ ডলার লাভ করছ। বারম্যানের মুখে ধারাবাহিকভাবে ফুটে উঠেছিল প্রথমে রাগ তারপর ভয়ের থমথমে ভাব।
লীটার বলল, যেদিন আমি সরকারি চাকরি ছেড়ে পিংকার্টন গোয়েন্দা সংস্থায় ঢুকি সে দিন থেকেই আমার চোখ খুলে গেছে। এইসব হোটেল-রেস্তোরাঁয় যে পরিমাণ জোচ্চুরি চলে, পৃথিবীর অন্য সমস্ত অপরাধ এক করলেও তার ধারে-কাছে পৌঁছবে না। এ নিয়ে ভাবলেই ইচ্ছে করে এক-একটাকে ধরে কিলাই। ড্রিংক দুটো এল। স্বাদে ও পরিমাণে চমৎকার। লিটার ঠাণ্ডা হল এবং আরেক রাউন্ডের অর্ডার দিল। বন্ড বলে উঠল, কোথায় যেন ষড়যন্ত্র পেকে উঠেছে। আমি সেই তেলের কথাটা পরখ করতে গিয়ে দেখি লার্গো নির্জলা মিথ্যে কথা বলেছিল। বন্ড পুলিশ হেডকোয়ার্টারের সব কথা খুলে বলল। মনে হচ্ছে আজ রাতে আমি লাগো সম্বন্ধে নিশ্চিত হতে পারব। সত্যিই যদি কিছু পাই তবে কাল একটা প্লেনে চেপে আমরা সমুদ্রের যতটা এলাকা পারি সার্চ করে আসব। পানির নিচে বেমালুম লুকিয়ে রাখার পক্ষে সেই ভিন্ডিকেটর বিমানটা বড় বড়। তোর পাইলটের লাইসেন্সটা এখন আছে তো?
নিশ্চয়ই, কাঁধ ঝাঁকালো লিটার। তোর সঙ্গে যাব। তবে আমার মত এসব আমাদের পেন্টাগনের বড় কর্তাদের আর একটু কাপ্তেনি ছাড়া কিছু নয়। তবে আমি যে সংকেতের কথা বলছিলাম সেটা এই অপারেশন থান্ডারবল -এ লিপ্ত প্রতিটি লোকের জন্য এক বিজ্ঞপ্তি । তবে যতটা বোকামি মনে হচ্ছে ততটা নয়। স্যাবার প্লেনগুলো সাবমেরিন ধ্বংসের মহড়া দিতে এদিকে আসছে সঙ্গে আমার ডেপৃথু চার্জ আছে। ওদের সর্বদাই তৈরি থাকতেই হয়।
