লীটার বলল, কোনরকমে আমরা যদি লুকানো বোমা দুটোর ধারে কাছে পৌঁছতে পারি, এই সেকেন্ডের কাঁটাটা ববন্ করে ঘুরতে শুরু করবে। আমাদের অত সূক্ষ্ম যন্ত্রের দরকার নেই। এবার চল, একটা বোট ভাড়া করে সামুদ্রিক ডালকুত্তাটিকে দেখে আসা যাক্।
.
আমার নাম লার্গো
যে বোটটি তারা ভাড়া করল সেটা হোটেলেরই লঞ্চ। ভাড়া ঘণ্টায় ২০ ডলার। বন্দর থেকে তারা পশ্চিমমুখে ছুটল, উপকূল বেয়ে আরো পাঁচ মাইল। শেষ পর্যন্ত তারা ওল্ড কোর্ট পয়েন্ট ঘুরে এসে পড়ল যেখানে সাদা আর ঘন নীল রঙের ইয়টটা প্রবাল প্রাচীরের ঠিক বাইরে ঘন পানিতে এক জোড়া নোঙর ফেলে ভাসছিল।
বন্ড বলল, ইয়টটা ইটালিয়ান। এ ধরনের জাহাজকে অ্যালিসকাফোস বলে। এর পাটাতনের নিচে একটা হাইড্রোফেল আছে। বোটম্যান বলে উঠল, বে স্ট্রীটে শোনা যাচ্ছে যে, এরা কয়েকদিনের মধ্যেই গুপ্তধনের অভিযানে বেরিয়ে পড়েছেন। গুপ্তধনের সব অংশীদাররা কয়েকদিন আগে এসে গেছেন।
ইয়টের কালো পার্টহোল থেকে তাদের এগিয়ে আসার ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছিল। বন্ড দেখতে পেল একজন নাবিক হ্যাঁচের ভেতর দিয়ে ব্রিজের ওপর এসে একটা মাউথপীসে কি-সব বলল। বন্ডের বোট এসে লাগাতেই সে বলে উঠল, আপনাদের প্রয়োজনটা দয়া করে জানাবেন, কারোর সাথে দেখা করার কথা আছে কি? বন্ড জবাব দিল, আমরা নিউইয়র্ক থেকে আসছি। লার্গোর সম্পত্তি পামীরা সম্বন্ধে কিছু খোঁজখবর আছে। নাবিকটি ভেতরে অদৃশ্য হয়ে গেল। ফিরে এল, সাদা প্যান্ট আর হাতকাটা জামা পরা এক ভদ্রলোকের সঙ্গে। পুলিশী বিবরণের স্মৃতি থেকে বন্ড এঁকে চিনতে পারল। ইনিই হলেন এমিলি লার্গো। মিঃ লার্কিন, আমার অ্যাটর্নি, নিউইয়র্ক থেকে এসেছেন। আমি আসলে ইংরেজ কিন্তু আমেরিকায় আমার সম্পত্তি আছে। সবাই করমর্দন করল। বন্ড আরো বলল, আপনাকে বিরক্ত করার জন্য দুঃখিত, মিঃ লার্গো, কিন্তু পামীরা সম্বন্ধে আমার কিছু জানবার আছে যে, সম্পত্তিটা আপনি, বোধহয়, মিঃ ব্রাইস-এর কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছেন।
লার্গো হেসে বললেন, ঠিক আছে, আগে আপনারা ভেতরে এসে বসুন। তারপর লার্গো টনিকের কয়েকটা বোতল টেবিলে নামিয়ে রাখার পর তারা এক সাথে জমিয়ে বসল। লাগো বলল, আপনারা পামীর সম্বন্ধে কি যেন বলছিলেন?
বন্ড বলল, আমি জানি আপনি একটা সম্পত্তির লীজ নিয়েছেন আর অল্পদিনের মধ্যে বাড়িটা ছেড়ে দিচ্ছেন। যতদূর শুনেছি, তাতে মনে হয় এই ইংরেজ মিঃ ব্রাইস। ভদ্রলোক, ঠিক দরে পেলে বিক্রি করতে পারে। বন্ড বেশ লজ্জিত মুখে বলল, আমি আপনার কাছ থেকে অনুমতি চাইছি যদি আমরা নৌকায় চড়ে ঐ জায়গাটা একবার দেখে আসতে পারি। অবশ্য যখন আপনি সেখানে থাকবেন না। আপনার যেমন সুবিধা হবে।
লার্গোর দাঁতগুলো প্রীতির আলোয় ঝলমল করে উঠল। তিনি বললেন, আরে নিশ্চয়ই, নিশ্চয়ই। যখন আপনার খুশি। লার্গোকে ধন্যবাদ জানিয়ে বন্ড ও লিটার সঙ্গে সঙ্গে উঠে পড়ল। বন্ড বলে উঠল, আপনার হাতে যদি সময় থাকে মিঃ লার্গো, আমার খুব ইচ্ছা এই ইয়টটা একবার ঘুরে দেখি।
লার্গো বললেন, আসুন। মিনিট কয়েকের বেশি লাগবে না। স্বচ্ছন্দে ও এক্সপার্টের মত কথা বলতে বলতে লার্গো তাদের ডানদিকের প্যাসেজে নিয়ে গেলেন। তারা ব্রীজের ঢাকা জায়গাটাতে উঠে এল। সেখানে সংক্ষেপে ইয়ট পরিচালনা ব্যাখ্যা করে তাদের সরু ডেকের উপর নিয়ে এলেন। তারপর বললেন, আশা করি একদিন আপনি আর মিঃ লার্কিন এটায় চড়ে একটু বেড়াবার জন্য আসবেন। আরো কিছু সৌজন্য বিনিময়ের পর তারা সিঁড়ি বেয়ে অপেক্ষমান লঞ্চে নেমে এল এবং রওনা হল। মিঃ লার্গো শেষবার হাত নেড়ে হ্যাঁচের ভেতর দিয়ে ব্রীজের দিকে অদৃশ্য হয়ে গেলেন।
তারা বসল লঞ্চের পেছনদিকে, বোটম্যান থেকে অনেকটা দূরে। লিটার মাথা নেড়ে বলল, একেবারে কিছুই নেই। ইঞ্জিনঘর আর বেতার ঘরের আশেপাশে যৎসামান্য তেজস্ক্রিয়তা ধরা পড়ল, কিন্তু সেটা খুবই স্বাভাবিক। তারপর একজন অংশীদারকে দেখতে না-পাওয়াটা বিচিত্র। আর একটা জিনিস, লার্গো ধূমপান করলেন না, আর সারা জাহাজে এতটুকু তামাকের গন্ধ ছিল না। এটা খুব অদ্ভুত। ডিস্কো প্রায় চল্লিশ ফিট গভীর পানিতে নোঙর করা ছিল। ধরা যাক তার ঠিক তলায়, বালির মধ্যে বোমা দুটো পোঁতা আছে। লার্গো এক শক্তিশালী চেহারার জলদস্যুর মত লোক, হয়ত মেয়েদের সঙ্গে শয়তানীও করে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কি ছাই প্রমাণ আছে? তবে ওদের সবাইকার জন্য একটা জরুরী তার করেছি গভর্নমেন্ট হাউসে। আজ সন্ধ্যাতেই জবাব এসে যাওয়া উচিত। বন্ড বলল, আমাদের বেতার যন্ত্র চালু কর, আর আমি তেলের জেটির খোঁজটা নিয়ে আসি। তারপর সেই ডোমিনা মেয়েটার সঙ্গে ফোনে কথাবার্তা ঠিক করে নিয়ে লার্গোর তীরবর্তী ঘাটি ঐ পামীরাটা একঝলক দেখে আসি, চল। তারপর ক্যাসিনোতে গিয়ে লার্গোর পুরো দলটা একবার পরিদর্শন করতে হবে।
হোটেলের গভর্নমেন্ট হাউসের এক পত্রবাহক বন্ডের জন্য অপেক্ষা করছিল। বন্ডের সই-করা রসিদ নিল। এটা রাজ্যপালের ব্যক্তিগত একটা তার, আসছে কলোনিয়াল অফিস থেকে। তারের প্রথমে লেখা Profound, এবং তারপর, তোমার ১১টা ৭ মিঃ সময়ের রিপোর্টে উল্লিখিত ব্যক্তিদের সম্পর্কে রেকর্ডস-এ কিছুই নেই। সব কটা স্টেশন থেকে অপারেশন থান্ডারবল সম্বন্ধে নেতিমূলক রিপোর্ট আসছে। তুমি কিছু পেয়েছ কি? চিঠির তলায় প্রেরকের নাম PRISM অর্থাৎ M এ চিঠির অনুমোদন করেছেন।
