মেয়েটি বিচিত্র দৃষ্টিতে তার দিকে তাকাল–আপনি বড় চটপট এগোচ্ছেন মিঃ…বন্ড। ঠিক আছে, চলুন! তবে শহরের বাইরে কোথাও। চলুন আমার গাড়িতেই যাওয়া যাক্।
বন্ড মেয়েটি সম্বন্ধে অনেক কিছুই জানে। আজ সকালে যে শ খানেক ইমিগ্রেশন ফর্ম সে উল্টেপাল্টে দেখেছে তার মধ্যে একটি হল এই মেয়েটির নাম–ডোমিনেটা ভিতালি। ছ মাস আগে ডিস্কো ভোলান্তে চেপে তার আবির্ভাব হয়েছিল নামাউ-এ। মেয়েটি যে লাগোর রক্ষিতা সেটা বুঝতে কারোর বাকি ছিল না।
পুলিশ কমিশনার হার্লিং এবং ইমিগ্রেশন ও কাস্টম্স-এর অধিকর্তা পিটম্যান এই মেয়েটিকে এক কথায় ইটালিয়ান বেশ্যা বলে অভিহিত করেছিলেন। বন্ড বুঝল মেয়েটি অবশ্যই স্বেচ্ছাচারী তবে তার ব্যক্তিত্ব আছে। আর একটা নির্দিষ্ট চরিত্রও আছে। বন্ড দেখল মেয়েটি গাড়ি চালাচ্ছে একেবারে পুরুষ মানুষের মত।
MG গাড়িটা শার্লি স্ট্রীট থেকে ইস্টার্ন রোডে চলতে লাগল উপকূল বেয়ে। একটা তীব্র গতি মোটর বোট সশব্দে উপকূলের কাছে এসে পড়ল। তার পেছনে একটা মেয়ে ওয়াটার স্কী-তে চড়ে ঢেউগুলোর ওপর দিয়ে অদ্ভুত কায়দায় এঁকেবেঁকে উড়ে আসছে। একটা চমৎকার উজ্জ্বল দিন। বন্ডের মন ক্ষণেকের জন্য উধাও হয়ে যেতে চাইল।
বাঁ দিকে একটা রাস্তা ধরে এগিয়ে গিয়ে মেয়েটি এক ঝোঁপ ক্যাসুয়ারিনার ছায়ায় গাড়ি পার্ক করে রাখল। তারপর দুজনে গাড়ি থেকে বেরিয়ে রেস্তোরাঁয় দরজা আর এক ডাইনিং হল পার হয়ে এসে পৌঁছল ভাঙা পাথরের জেটির ওপর তৈরি এক ছোট্ট বারান্দায়। তারা ঠিক পানির ধারে একটা ঠাণ্ডা টেবিল বেছে নিয়ে বসল।
বন্ড ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল, ঠিক মধ্যাহ্ন। আপনি কড়া পানীয় নেবেন না হালকা?
মেয়েটি বলল, হালকা। তারপর একটা চেয়ার টেনে নিয়ে আরাম করে বসে বন্ডকে জিজ্ঞাসা করল, আপনি কবে এসেছেন? আপনাকে তো দেখিনি এদিকে। আজ সকালেই পৌঁছেছি আমি। নিউইয়র্ক থেকে এসেছি। একটা সম্পত্তির খোঁজে এসেছি। আপনি এখানে কতদিন আছেন?
প্রায় ছ মাস। আমি একটা ইয়টে চড়ে এসেছি। ডিস্কো ভোলান্তে। পানীয় এসে পড়ল। মেয়েটি আঙুল দিয়ে থিতিয়ে পড়া খয়েরী উরস্টার সস্টাকে মিশিয়ে নিয়ে আধ গেলাস খেয়ে ফেলল। মেয়েটি বন্ডকে বলল, আপনাকে কিন্তু একবার এসে ইয়েটটা দেখে যেতে হবে। ওঁর নাম লার্গো, উনি এখানে এসেছেন কি-সব গুপ্তধনের খোঁজে। এবার বন্ডের আগ্রহ দেখাবার পালা। নিশ্চয়ই দেখা করব তার সাথে। ব্যাপার কি, বলুন তো? সত্যি সত্যি কিছু আছে নাকি?
এ বিষয়ে উনি ভীষণ চাপা। সম্ভবত একটা ম্যাপ পাওয়া গেছে। কিন্তু আমাকে সেটা দেখতে দেওয়া হয় না। আর যখনই উনি নৌকো চেপে খোঁজাখুঁজি বা অন্য কিছু করতে যান, আমাকে তীরেই থেকে যেতে হয়। এই অভিযানে অনেকে টাকা যোগাচ্ছেন, শেয়ার হোল্ডারের মত। তারা সম্প্রতি এসে পৌঁছেছেন। আমাদের যখন সপ্তাহখানেকের মধ্যেই চলে যাওয়ার কথা, আমি আন্দাজ করছি যে সব কিছু ঠিকঠাক হয়ে গেছে। আর আসল অভিযান যে কোন মুহূর্তে শুরু হবে।
মেয়েটি মনোযোগের সাথে হাতঘড়ি দেখল। ধন্যবাদ জানিয়ে উঠে দাঁড়াল। বন্ড রেস্তোরাঁ থেকে বেরিয়ে গাড়ি পর্যন্ত সাথে এল। বন্ড সাহস করে আর একটু এগোবার চেষ্টা করল। বলল, আজ রাতে ক্যাসিনোতে বোধহয় তোমার সাথে দেখা হবে ডোমিনেটা?
বোধহয়। মেয়েটি বন্ডের দিকে তাকিয়ে ছোট্ট করে হাসল, তারপর হাত নাড়ল। বন্ড লক্ষ্য করল মোড়ের মাথায় পৌঁছে গাড়িটা একটু থামল তারপর সোজা ডানদিকে নাসাউ এর দিকে ঘুরে গেল।
.
CIA-এর লোকটি
ট্যাক্সিতে চেপে ইস্টারফিল্ড রোড ধরে দ্বীপের উল্টোদিকে বিমান ঘাঁটির দিকে রওনা হল বন্ড। CIA-এর লোকটির পৌঁছার কথা ১-১৫-তে, প্যান অ্যামেরিকান বিমানে। নাম, লার্কিন, এফ. লার্কিন। লন্ডনে CIA-র সাথে যোগাযোগ রক্ষাকারী সেকশন A মারফত পাঠানো নির্দেশ অনুযায়ী এই যন্ত্রগুলো লোকটা নিয়ে আসবে। CIA র লোকদের জন্য তৈরি সর্বাধুনিক একটি বেতার প্রেরক ও গ্রাহক যন্ত্র, যার সাহায্যে তারা লন্ডন এবং ওয়াশিংটনের অফিসের সাথে টেলিগ্রাফ অফিসের সাহায্য ছাড়াই চটপট যোগাযোগ করতে পারবে, এবং কয়েকটি নতুন ধরনের পোর্টেবল, গাইগার কাউন্টার, যা পানির তলায়ও ব্যবহার করা চলে। বন্ডের মতে, CIA-র একটা খুব বড় গুণ হচ্ছে তাদের আশ্চর্য যন্ত্রপাতিগুলো।
নিউ প্রভিডেন্স নামক যে দ্বীপটিতে নাসাউ শহর অবস্থিত, তা একটি বৃক্ষ বালিয়াড়ি বিশেষ এবং তার পাড় বেয়ে আছে পৃথিবীর কয়েকটি শ্রেষ্ঠ সমুদ্রসৈকত। সমুদ্রতটের ওপর ইতস্তত আছে লক্ষপতিদের সুন্দর বাগান। পশ্চিম কোণে একটা লোনা পানির হ্রদ আছে। বিমান ঘাঁটির পথে যেতে যেতে বন্ড এই সকাল বেলাটাকে পর্যবেক্ষণ করছিল।
আজ সকাল সাতটায় বন্ড নাসাউ পৌঁছলে এখানকার রাজ্যপাল ADC তার সাথে দেখা করেন। এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হল রয়্যাল বাহামিয়ান হোটেলে। হোটেলটা বিরাট এবং সেকেলে। শাওয়ারের তলায় গোসল সেরে নিয়ে চমৎকার সমুদ্রতটের দিকে ভোলা ব্যালকনিতে বসে প্রাতঃরাশ শেষ করল বন্ড। তারপর নটার সময় গিয়ে পৌঁছল গভর্নমেন্ট হাউসে,–যেখানে পুলিশ কমিশনার ইমিগ্রেশন ও কাস্টম্স্-এর বড়কর্তা এবং সহকারী রাজ্যপালের সাথে তার একটা বৈঠক হবার কথা। এখানকার অবস্থাটা বন্ড যা অনুমান করেছিল ঠিক তাই।
