সত্যিই তাই হল। দুদিন আগে দেখা গেল সেই শেয়ার হোল্ডারটা একে একে নাসাউ এসে পৌঁছচ্ছেন নানান দিক। থেকে। তাদের মোট সংখ্যা উনিশ। আর সেই দিন সন্ধ্যাবেলা সব ক জন অতিথি ওঠবার পর ডিস্কো র ইঞ্জিনের মৃদু গর্জন শুরু হল। ঠিক যখন রাত্রি নামবো নামবো করছে, চমৎকার ঘন নীল আর সাদা রঙের ইয়েটটা পানি কেটে বন্দর থেকে রওনা হল। খোলা সমুদ্রে পড়বার পর ইঞ্জিনের আওয়াজ গভীর গর্জনের রূপ নিল। সেই আওয়াজ দক্ষিণ-পূর্ব দিকে সরতে সরতে শেষে আর শোনা গেল না। সত্যিই ঐ দিকটাকে গুপ্তধনের আড়ৎ বলা চলে। স্থানীয় বিখ্যাত কয়েকটা গুপ্তধন ও-এলাকায় লুকানো আছে বলে সকলে ধারণা। প্রতিবছর এইসব বা ডোবা জাহাজের ধনরত্নের অনুসন্ধান চলে। ১৯৫০ সালে নাসাউ-এর দুই ব্যবসায়ীর পাওয়া ৭২ পাউন্ড ওজনের সোনার বাটের কথা সকলেই। জানে। ওটা নাসাউ ডেভেলপমেন্ট বোর্ডকে উপহার দেওয়া হয়।
দক্ষিণ দিকে অনেকটা চলবার পর সমস্ত আলো নিভিয়ে ডিস্কো একটা বিরাট চক্র কেটে পশ্চিম দিকে ঘুরে গেল। এসে পৌঁছল এই প্লেন নামবার জায়গাটাতে, যেখান থেকে এখন সে রওনা হচ্ছে। এখান থেকে নাসাউ ১০০ মাইল।
ডিস্কো বেশ জোরে আসছিল। শেষে গতি কমিয়ে আস্তে এই দ্বীপের কাছাকাছি এসে থামল, এই ছোট প্রবাল দ্বীপটির নাম ডগ আইল্যান্ড। ডিস্কো র খোলের মধ্যে লার্গো এবং আরো চারজন ডুবুরি পানির তলার দরজাটা খোলবার অপেক্ষায় বসেছিল। সমুদ্রের পানি যেন ফেটে পড়ে ঢুকল খোলের ভেতর। ডুবে গেল পাঁচজন লোক। তারপর তারা সীট ছেড়ে ভোলা পানির দরজা দিয়ে নিচে ডুব দিল । চাঁদের আলোর কুয়াশাভরা সমুদ্রের ভেতর দিয়ে তারা সাঁতার কেটে চলল। একটু পরেই প্রবাল দ্বীপের গা দেখা দিল। সমুদ্রের ভেতরের দ্বীপের তলার দিকটা পানির ঢেউয়ে এমন ক্ষয়ে গেছে যে পুরো দ্বীপটাকে নিচ থেকে একটা বিশাল ব্যাঙের ছাতার মত দেখাচ্ছে। লার্গো তার পায়ে আটকানো সাঁতার কাটবার পাখনা জোড়া নামিয়ে একটা ধাপের ওপরে ব্যালেন্স রেখে দাঁড়ালেন। দাঁড়িয়ে তার আশেপাশের জায়গায় টর্চ ফেলতে লাগলেন। তারপর একটি ফাটলের মধ্যে ঢুকে পড়লেন। পানির তলার এই গুহা প্রায় দশ গজ লম্বা। লার্গো দলের সবাইকে পথ দেখিয়ে ভেতরে নিয়ে গেলেন। এখান থেকে একটা সরু ফাটল সোজা ওপরে দ্বীপের মাটি পর্যন্ত উঠে গেছে। গুহার দেওয়ালে, পানির আয়ত্তের ঊর্ধ্বে, লার্গোর লোকেরা হাতুড়ি মেরে খোটা বসিয়ে বসিয়ে চটপট দুটো দোলনা বানিয়ে ফেলল এটম বোমা দুটোর জন্য। এবার বোমা দুটোকে লোহার বারে তৈরি দোলনায় রেখে স্ট্র্যাপ এটে দিল। লার্গো ফলাফল পরীক্ষা করে খুশি হলেন। পানিকেটে শান্তভাবে ইয়টে ফিরে এল পাঁচজন। অপরূপ সুন্দর ইয়টটা মসৃণভাবে পানি কেটে উড়ে চলল।
লার্গো ডুবুরির সাজসরঞ্জাম খুলে রেখে নিজের সিংহ কটিতে তোয়ালে জড়িয়ে বেতার কক্ষের দিকে এগিয়ে গেলেন। তারপর কিছুক্ষণের মধ্যে ব্লোফেল্ডকে তৃতীয় পর্যায়ের সফলতার খবরটি পৌঁছে দিলেন। লাগো মনে মনে। ভাবলেন কাজের বার আনা ভাগ মেরে এনেছি। স্বয়ং শয়তান ছাড়া কেউ আমাদের থামাতে পারবে না। এবার লার্গো নিজের ঘরে ঢুকে তাঁর প্রিয় পানীয়ের গ্লাসটি খুব আরামের সাথে শেষ করে ফেললেন।
.
ডোমিনো
স্যাফায়ার ব্লুরঙের MG টু-সীটারটির আরোহিণী পার্লামেন্ট স্ট্রীটের ঢাল দিয়ে বন্দুকের গুলির মত নেমে এসে বে স্টীটের সংযোগস্থলে প্রশংসনীয়ভাবে গাড়ির গীয়ার তৃতীয় থেকে দ্বিতীয়ে টেনে আনল। তারপর সেকেন্ড গীয়ারে রাস্তা ধরে খানিকটা এগিয়ে থামল নাসাউ-এর বিরাট দোকান দি পাইপ অফ পীস -এর সামনে। প্রায় কুড়ি গজ দুরে দাঁড়িয়ে বন্ড মেয়েটিকে লক্ষ্য করছিল। মেয়েটি দোকানের মধ্যে ঢুকে যেতেই বন্ডও পা চালিয়ে দোকানে ঢুকে পড়ল। মেয়েটি ততক্ষণে কাউন্টারে দাঁড়িয়ে দোকানদারের এক সহকারীর সাথে তর্ক জুড়ে দিয়েছে। আরে আমি তো আপনাকে বলছিই যে আমার সিনিয়র সার্ভিস সিগারেট চাই না। সিগারেটের নেশা কাটানোর মত কোন সিগারেট থাকলে দিন আমাকে। সহকারীটির ছিটগ্রস্ত টুরিস্ট সামলানোর অভ্যেস ছিল।
পাশ থেকে বন্ড স্থির ভাবে মেয়েটিকে বলল, ধূমপান কমাবার ইচ্ছা থাকলে আপনি দুরকম সিগারেটের মধ্যে থেকে বেছে নিতে পারেন।
মেয়েটি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল, আপনি কে?
আমার নাম জেমস বন্ড। সিগারেটের নেশা ছাড়ার ব্যাপারে আমি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিশেষজ্ঞ। আমি প্রায়ই এ কাজ করে থাকি।
মেয়েটি বন্ডের আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করল। এ লোকটিকে এর আগে নাসাউ-এ দেখেনি। এই গরমের মধ্যেও ভদ্রলোককে বেশ ঠাণ্ডা আর পরিচ্ছন্ন দেখাচ্ছে। মেয়েটি বুঝতে পারল বন্ড আলাপ জমাবার চেষ্টা করছে। ভদ্রলোকের চেহারা বেশ উত্তেজক ও ব্যক্তিত্বপূর্ণ। খুব ঠাণ্ডা গলায় বলল, ঠিক আছে বলে যান।
সিগারেট ছাড়বার একমাত্র উপায় হচ্ছে ছেড়ে দেওয়া এবং আবার না ধরা। আর যদি আপনি দু এক সপ্তাহের জন্য অভ্যেসটা ছেড়ে দেওয়ার ভান করতে চান তাহলে কম সিগারেট খেয়ে লাভ নেই। বন্ড সহকারীটাকে বলল, এক কার্টন। ফিল্টারওয়ালা কিং সাইজ ডিউক সিগারেট। কার্টনটা হাতে পেয়ে মেয়েটির দিকে এগিয়ে দিল।
কিন্তু আপনি–মানে, আপনি কেন আবার– কিন্তু বন্ড ইতিমধ্যেই কার্টনটার এবং নিজের জন্যে এক প্যাকেট চেস্টার ফিল্ডের দাম চুকিয়ে দিয়েছে। ওরা বাইরে বেরিয়ে এল। সাংঘাতিক গরম বাইরে। বন্ড বলল, সিগারেটের কথা উঠলেই পানীয়ের কথা এসে পড়ে। আপনি ড্রিংক করাটা ছাড়বার চেষ্টা করছেন না কি?
