.
প্রস্তুত হও
দিন দশেক আগে শ্রাবল্যান্ড থেকে ফেরার পর বন্ডের মন মেজাজ দারুণ ভাল আছে। তার শক্তি ও কর্মক্ষমতা দ্বিগুণ হয়ে গেছে। বন্ড অফিসে আসছে তাড়াতাড়ি আর বাড়ি ফিরছে দেরি করে। এতে মুশকিল হয়েছে বন্ডের সেক্রেটারী লোলিয়া পসনবি র। সুন্দরী মেয়েটির ব্যক্তিগত দেখা-সাক্ষাৎ, ঘোরাঘুরি সব বন্ধ হবার জোগাড়। শেষ পর্যন্ত লোলিয়া হতাশ হয়ে প্রিয় বান্ধবী মিস্ মানিপেনীর কাছে পরামর্শ চাইল। মিস্ মানিপেনী লোলিয়ার সৌভাগ্যকে বিলক্ষণ হিংসে করত। কিন্তু তবু তাকে যথেষ্ট সান্ত্বনা দিল।
সকাল বেলায় বড়সাহেবের ফোন পেয়ে বন্ড নিজের গাড়িতে চেপে সদরদপ্তরে পৌঁছে গেল। কার্পেট ঢাকা করিডর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বন্ড অনুভব করল সমস্ত অফিসে একটা থমথমে ভাব। M-এর ঘরের দরজার ওপরে একটা লাল রঙের বাতি জ্বলে উঠল। বন্ড গিয়ে ঢুকল সেই ঘরে । M ঘাড় ফিরিয়ে বন্ডকে দেখলেন। বললেন, বসে পড় 007। তারপর কয়েকটি ফুলস্ক্যাপ সাইজ ফটোস্ট্যাটু বন্ডের সামনে টেবিলের ওপর রেখে দিয়ে সেগুলো পড়ে দেখতে বললেন।
খামের ওপর লেখা ব্যক্তিগত এবং অত্যন্ত জরুরী। তার নিচে প্রধানমন্ত্রীর নাম ও ঠিকানা। ডাকঘরের ছাপ রয়েছে ব্রাইটনের। খামের উল্টোদিকের ছবিতে একগাদা আঙুলের ছাপছাড়া আর কিছুই দেখতে পেল না। খামের ভেতরের চিঠির সেই ফটোস্ট্যাটটা তুলে নিল বন্ড।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহাশয়, আপনি বোধহয় জানেন গতকাল অর্থাৎ ২রা জুন রাত ১০টা নাগাদ দুটি পারমাণবিক অস্ত্র বহনকারী একটি ব্রিটিশ বিমানের ট্রেনিং ফ্লাইট শেষ করে ফিরে আসার কথা ছিল, কিন্তু সে বিমানটি এখনও ফেরেনি। বসকোম্ব ডাউন বিমান ক্ষেত্রে অবস্থিত ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর (RAF) ৫নং পরীক্ষামূলক স্কোয়াড্রনের একটি ভিলিয়া, ভিকেটার বিমান এটি। বিমানটি এক NATO ট্রেনিং ফ্লাইট-এ ছিল। আরোহী ছিলেন পাঁচজন কর্মী এবং একজন পর্যবেক্ষক। মোটামুটি ৪০,০০০ ফুট উঁচু দিয়ে দশ ঘণ্টা ওড়বার পক্ষে যথেষ্ট তেল এই বিমানে ছিল। কর্মী পাঁচজন এবং পর্যবেক্ষক সকলেই মারা গেছেন। আপনি তাদের আত্মীয়দের সেই মত জানিয়ে দিতে পারেন।
বিমান এবং বোমাদুটির অবস্থানের বিস্তৃত সংবাদ, যার সাহায্যে আপনারা সেগুলি উদ্ধার করতে পারবেন, আমরা। আপনাকে জানাতে পারি। এর বিনিময়ে আমাদের চাই দশ কোটি পাউন্ড। কি করে টাকা আমাদের কাছে পৌঁছতে হবে তার বিস্তৃত নির্দেশ সাথের কাগজটিতে দেওয়া হয়েছে। সমস্ত টাকাটা সমমূল্যের সোনার বাট-এ দিতে হবে। সোনার বাটগুলোর সংখ্যা হবে ঠিক এক হাজার। এছাড়াও আরো দুটি শর্ত আছে। প্রথমত, এই সোনা আপনাদের যেখানে পৌঁছতে বলা হয়েছে সেখান থেকে সেগুলো উদ্ধার করা এবং যথাস্থানে চালান দেওয়ার ব্যাপারে আপনারা আমাদের কোন রকম বাধা দেবেন না। দ্বিতীয়ত, আপনার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরিত একটি ঘোষণাপত্র আমাদের কাছে পাঠাতে হবে। ঘোষণাপত্রে লেখা থাকবে, আপনারা এই SPECTRE সংস্থা এবং এর প্রতিটি সদস্যকে এ ব্যাপারে সবরকম দায়িত্ব থেকে রেহাই দিচ্ছেন। শর্তগুলো মেনে নেওয়ার শেষ সময় হচ্ছে ৩রা জুন থেকে ১০ই জুন। সতর্কিকরণের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আপনাদের সম্মতি না পেলে আমরা যে কোন একটি বড় পাশ্চাত্য শহরের ওপর এটম বোমা ফেলব এবং এই বিরাট প্রাণহানির দায়িত্ব পড়বে পুরো আপনাদের ওপর।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহাশয়, এটাই আমাদের প্রথম ও শেষ চিঠি। ইতি– SPECTRE ।
(The Special Executive for Counter Intelligence, Terrorism, Revenge and Extortion)
বন্ড চিঠিটা ভাল করে পড়ে ফটোস্ট্যাটটি অন্যগুলোর উপর নামিয়ে রাখল। পকেট থেকে সিগারেট কেস বের করে, সিগারেট ধরাল। বুক ভর্তি ধোঁয়া টেনে আবার বের করে দিল।
.
বাঘের শত্রু মোষে খায়
বন্ড বলল, কোন সূত্র পাওয়া গেছে স্যার?
অতি অল্প কিছুই পাওয়া যায়নি বলতে গেলে। এই SPECTRE দলের নাম জীবনেও শুনিনি। তবে এটা আমরা জানতাম যে, ইউরোপে একটা স্বাধীন গুপ্তচক্র বেশ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যাই হোক, প্লেনটি আয়ারল্যান্ডের পশ্চিম উপকূল পর্যন্ত একেবারে ঠিকঠাক উড়ছিল। হঠাৎ নিয়মভঙ্গ করে ৪০,০০০ ফুট উচ্চতা থেকে নেমে আসে ৩০,০০০ ফুট এবং আটলান্টিকের ওপর দিয়ে চলাচলকারী অজস্ত্র এরোপ্লেনের ভীড়ে হারিয়ে যায়।
বন্ড বলল, আমেরিকায় DEW লাইনে কিছু ধরা পড়েনি?
খোঁজ চলছে তবে একটা ছোট সূত্র পাওয়া গেছে।
বন্ড জানতে চাইল। SPECTRE-এর লোকেরা কি করে বোমা ফাটাবে?
M দুই হাত প্রসারিত করে বললেন, একটা এটম বোমা এর ডগাটা সাধারণত TNT বিস্ফোরকে ভর্তি আর ল্যাজে থাকে পুটোনিয়াম। এই দুই এর মাঝখানে অনেকটা ফাঁকা জায়গা। বোমা ফাটাতে এই ফাঁকা জায়গায় এক ধরনের Detonator লাগিয়ে দিতে হয়। বোমার ডগাটার প্যাঁচ খুলে যথাস্থানে একটা Detonator লাগিয়ে ডগার TNT-র সাথে একটা টাইম ফিউজ লাগানো দরকার, যাতে কোন প্লেন থেকে না ফেলেই TNT-কে বিস্ফোরিত করা যায়। এই করলেই বোমা তৈরি।
বন্ড একটা সিগারেট ধরিয়ে ভাবল পুরো ব্যাপারটা অবিশ্বাস্য, কিন্তু তবু তা ঘটতে চলেছে। পৃথিবীর প্রতিটি দেশের গুপ্তচর বিভাগ এরকম একটা ঘটনা আশংকা করছেন। বিশেষজ্ঞদের অনুমান যদি ঠিক হয় তবে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আমরা হয়ে পড়বো আরো অসহায়। এটম বোমা তৈরির কোন রহস্যই বুঝি তার বাকি নেই। SPECTRE-কে যদি থামানো না যায় তবে এ সংবাদ নিশ্চয়ই বেরিয়ে পড়বে। আর প্রতিটি অপরাধী বৈজ্ঞানিক চেষ্টা শুরু করবে কি করে কয়েকটা এটম বোমা তৈরি করা যায়। তাদের সময় মত থামানো যদি সম্ভব না হয় তাহলে প্রত্যেকের টাকার দাবী মিটিয়ে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। বন্ড এম কে তার মতামত জানাল।
