ব্লোফেল্ড আবার বলতে শুরু করলেন–আপনারা জানেন, আমাদের আগের বড় কাজটি মাসখানেক আগে শেষ হয়েছে। এর থেকে পুরো ১০ লক্ষ ডলার লাভ হয়েছে। এটি সম্বন্ধে আমার কিছু বলবার আছে। তিনি নরম গলায় বললেন ৭ নং আপনি একবার উঠে দাঁড়ান। কিন্তু আসলে তার নজর ছিল ৭ নং এর পাশে বসা ১২ নং অর্থাৎ পিয়ের বোরদ-এর প্রতিক্রিয়ার ওপর। আপনাদের বোধহয় মনে আছে ঐ কাজটি ছিল লাস ভেগাস-এর এক হোটেলওয়ালার সপ্তদশী কন্যাকে অপহরণ করা। মেয়েটিকে নিখুঁত ভাবে চুরি করে কর্সিকায় নিয়ে যাওয়া যায়। আমরা দশ লক্ষ ডলার মুক্তিপণ দাবী করি, মেয়েটির বাবা এতে রাজী হন। প্রেতাত্মা সংঘ মেয়েটিকে পুরো অক্ষত দেহে তার বাবা মার কাছে ফিরিয়ে দেবার ভার নিয়েছিল কিন্তু জানা গেছে যে কর্সিকায় বন্দী থাকাকালীন মেয়েটির ওপর বলাৎকার করা হয়েছিল। সুতরাং মেয়েটিকে আমরা অক্ষত অবস্থায় তার বাবা মার কাছে ফিরিয়ে দিতে পারিনি। তিনি আরো বললেন–আমাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ সব সময় থাকা দরকার। একজন সদস্যের দুর্বলতাকে প্রশ্রয় দেওয়ার অর্থ গোটা কাঠামোকে দুর্বল করে দেওয়া। এসব ক্ষেত্রে আমি কি ব্যবস্থা অবলম্বন করি আপনারা ভালোভাবেই জানেন। আমি ইতিমধ্যেই মেয়েটির বাবার কাছে একটি চিঠি মারফত ক্ষমা প্রার্থনা করে পাঁচ লক্ষ ডলার ক্ষতিপূরণস্বরূপ ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছি। এ ব্যাপারে আসল অপরাধীকে আমি খুঁজে বার করেছি। তার উপযুক্ত শাস্তি ও স্থির হয়ে গেছে।
ব্লোফেল্ড-এর ডান হাত টেবিলের নিচে চলে গেল। বোতামটা খুঁজে নিয়ে তিনি সুইচ টেনে দিলেন। ১২ নং-এর সমস্ত মুখ ঘেমে উঠেছে। নীল আকাশ থেকে যেন সহসা নেমে এল মৃত্যু, ভয়ঙ্কর মৃত্যু। ৩,০০০ ভোল্ট বিদ্যুতের লৌহ মুটি পিয়ের বোরদ-এর সমস্ত দেহকে টেনে ধনুকের মত বাঁকিয়ে দিল। চোখ দুটো একবার জ্বলজ্বল করে উঠে নিভে গেল। ব্লোফেল্ড সুইচ টেনে ১২ নং চেয়ারের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত বিদ্যুৎস্রোত বন্ধ করলেন। সব শেষ।
ব্লোফেল্ড তাকালেন ৭নং-এর দিকে। বললেন, আপনি বসতে পারেন। আপনার আচরণে আমি সন্তুষ্ট হয়েছি। ১২ নং-এর মনোযোগ বিভ্রান্ত করার দরকার ছিল। কারণ তিনি জানতেন তার ওপরে সন্দেহ পড়েছে। তার দৃষ্টি এইভাবে না সরালে হয়ত অবাঞ্ছিত গোলযোগের সৃষ্টি হত। উপবিষ্ট সকলে মাথা নেড়ে সম্মতি জানালেন। বিচারের ক্ষেত্রে ব্লোফেল্ড নিজের ক্ষমতার পূর্ণ প্রয়োগ করতে দ্বিধা করেন না।
ব্লোফেন্ড এবার কাজের কথায় এলেন, আমাদের জার্মান বিভাগের কর্মী সাব অপারেটর G একটি মারাত্মক ভুল কাজ করে ফেলেছে। যার ফলে আমাদের প্ল্যানের পুরো সময় ব্যবস্থাকে আমি বদলে ফেলতে বাধ্য হচ্ছি। লোকটি রক্ত ব দলের সদস্য। ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে তার যথেষ্ট দক্ষতা আছে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এই গোঁয়ার লোকটি অন্তত আমাদের কোন কাজে আসবে না। প্ল্যান ওমেগা কে এই কারণে সাত দিনের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই পরিবর্তন একটু বিরক্তিকর হলেও বিপজ্জনক নয়। নতুন নির্দেশ ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়ে গেছে। পাইলট পেটাশীকে এক শিশি ইনফ্লুয়েঞ্জার জীবাণু দেওয়া হয়েছে। এটা খেলে সে অন্তত এক সপ্তাহের জন্য শয্যাশায়ী হয়ে পড়বে। সুতরাং তার আগামী পরশু যে আকাশে ওঠার কথা ছিল সেটা এক সপ্তাহ পিছিয়ে যাবে। এর মধ্যে ও সুস্থ হয়ে উঠবে এবং পেটাশীর ফ্লাইটের সঠিক তারিখ ও সময় আমাদের জানাবে। ব্লোফেল্ড বলে চললেন, অন্যান্য সব কাজ ঠিক ঠিক এগিয়ে চলেছে। ১ নং গর্ভগৃহ এলাকায় গুপ্তধন অনুসন্ধানের নাম করে বেশ জমিয়ে বসেছেন। আপনারা প্ল্যানমাফিক গর্ভগৃহ এলাকায় গিয়ে পৌঁছবেন। সকলে মিলে ১ নম্বরকে এই গুপ্তধন খোঁজার ব্যাপারে টাকা জোগাচ্ছেন–এই পরিচয়েই আপনারা ১ নং-এর জাহাজে গিয়ে উঠবেন। পানির নিচে সাঁতার কাটার জন্য আপনাদের ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে। পানির তলায় কাজ করবার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুব কড়া হওয়া চাই।
সিসিলীয় বিভাগের ফিডেলিও সিয়াক্কা শান্ত ও সতর্ক গলায় বললেন, বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে যে টাকা দাবী করা। করা হয়েছে তার সমমূল্যের সোনার বার প্যাকেটে করে প্লেন থেকে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলে দেওয়া হবে। প্যারাসুটের সাহায্যে সোনার প্যাকেটগুলোর ওপর ফসফরাসের প্রলেপ লাগিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাতের বেলায় প্যাকেটগুলো উদ্ধার করা সহজ হবে।
ব্লোফেন্ড কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, আমাদের পরবর্তী কাজ হবে ঐ সোনা ঠিকমত পাচার করা। সাব অপারেটর ২০১-কে এ কাজের ভার দেওয়া হয়েছে। মারকিউরিয়াল জাহাজ এই সোনা বোঝাই করে ক্যাটানিয়া থেকে রওনা হবে এবং সুয়েজ খাল পেরিয়ে গোয়া অভিমুখে চলতে থাকবে। সুইস ফ্রাঁ ডলার এবং বলিভার–এই তিন রকম মুদ্রায় ব্যবহৃত নোটে টাকা গুনে নিয়ে মারকিউরিয়্যাল রওনা হবে গোঁয়ার দিকে। পথে এই টাকা আমাদের অংশ অনুযায়ী যথানিয়মে ভাগ করা হবে। পৌঁছবার পরে টাকাটা চার্টার্ড প্লেনে করে চলে আসবে জুরিখে। সেখানে বাইশটি বিভিন্ন সুইস ব্যাংকের ডিপোজিট ভল্টে এই অর্থের এক এক অংশ জমা করা হবে। ঐ ভল্টগুলোর চাবি এই মিটিং-এর শেষে সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। সকলে একে একে সমর্থন জানালেন। ব্লোফেল্ড বললেন, কর্মক্ষেত্রে ১ নম্বর-ই হবেন সর্বাধিনায়ক। তাঁর প্রতিটি আদেশ আপনারা আমার নিজের আদেশ বলে পালন করবেন। সকলেই একবাক্যে তাঁকে সমর্থন জানালেন।
