প্যাটিশিয়া বলল, গতবার এ কাণ্ড যখন ঘটেছিল, তখন সেই ব্যক্তিটিকে পরের ট্রেনেই রওনা হতে হয়েছিল। বন্ড তার দিকে ফিরে বলল, যদি তাই হয় তবে এদিকে এসো, আর একবার তোমাকে চুমু খেয়ে নিই। প্যাট্রিশিয়া বন্ডকে জানাল কোন কথা না বলে চুপ করে থাকতে। কেননা আধঘন্টার মত তাকে ট্রাকশন দেওয়া হবে। বন্ডও মেয়েটিকে জানালো ছুটির দিনে একসাথে বেড়াতে যাওয়ার কথা।
প্যাট্রিসিয়া দরজা খুলে ধরতে বন্ড বেরিয়ে গেল। সাথে সাথে কাউন্টলি-এর সাথে ধাক্কা খেল। লি তো তাকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে প্যাট্রিশিয়ার কাছে হেসে বললেন, মার খেতে এলাম। আশা করি আজকে তোমার গায়ের জোর খুব বেশি নেই। প্যাট্রিশিয়া গম্ভীর মুখে বলল, তৈরি হয়ে নিন। আমি বন্ড সাহেবকে অন্য চিকিৎসার ঘরে পৌঁছে দিয়ে এখুনি আসছি। সে বন্ডকে সাথে নিয়ে বারান্দা দিয়ে হনহন করে এগিয়ে গিয়ে একটা ছোট ঘরের দরজা খুলল সেখানে নানারকম ডাক্তারী যন্ত্রপাতি এবং একটি বিছানা রয়েছে। ঘরের চেহারা দেখে বন্ড ঘাবড়ে গেল। একটা বৈদ্যুতিক মোটর লাগানো আছে বিছানার তলায়। কতগুলি দন্ড খাড়া করা আছে আর তাদের সাথে মোটা মোটা চামড়ার বেল্ট লাগানো।
প্যাট্রিশিয়া বলল, এটা শিরদাঁড়া সোজা করার যন্ত্র। আপনার শিরদাঁড়াটায় একটু গণ্ডগোল আছে সেটা সোজা করতে এটার সাহায্য নেব। আপনি শুয়ে পড় ন।
বন্ড অনিচ্ছা সত্ত্বেও শুয়ে পড়ল। বন্ডের বুকে চামড়ার বেল্টগুলো প্যাট্রিশিয়া লাগিয়ে দিল। তারপর কি সব যন্ত্রের মধ্যে কতগুলি সুইচ টিপে দিল। বৈদ্যুতিক মোচড় চলতে শুরু করল। বন্ড অনুভব করল অনুভূতিটা বিচিত্র হলেও কষ্টকর নয়। বন্ড এ যন্ত্রের টানা ছাড়ার ছলে আস্তে আস্তে শান্ত হয়ে এলো।
বোধহয় পাঁচ মিনিট পরে সামান্য হাওয়ার ঝাঁপটায় বন্ড চোখ খুলল। তার চোখের সামনে একটা পুরুষের হাত। হাত দিয়ে যত্রর গতিবেগ বাড়িয়ে দিচ্ছে। বন্ড প্রথমে ঘটনাটা বুঝতে পারেনি তারপর বুঝে চিৎকার করল কিন্তু ততক্ষণে যন্ত্র তার দেহ নিয়ে তাণ্ডব শুরু করে দিয়েছে। বন্ড-এর সমস্ত শরীর ব্যথায় ভরে গেছে। একটা ধোয়ার পর্দার আড়াল থেকে সে দেখতে পেল সেই লোকটির হাত আস্তে যন্ত্রের সুইচ থেকে নেমে এল। হাতটা তার চোখের সামনে দিয়ে সরে গেল। হাতের কব্জিতে সেই মারাত্মক লাল সাঙ্কেতিক উল্কি আঁকা আছে।
তার কানের কাছে একটা গলা শুনতে পেল। সেই গলা বলল, বন্ধুবর, আর আমাকে ঘাটাতে এসো না। কথাটা মনে রেখো।
লোকটা বোধহয় চলে গেল। ভীষণ যন্ত্রণায় বন্ড চিৎকার করার চেষ্টা করল। তার সারা দেহ দিয়ে ঘাম বের হচ্ছে। সে ছটফট করার চেষ্টা করল। তারপর হঠাৎ সব অন্ধকার হয়ে গেল।
.
চা এবং অবসাদ
কোন সুন্দর স্মৃতি আমরা অনেক দিন ধরে মনে রাখতে পারি। কিন্তু যন্ত্রণাটা ঠিক কি রকম লেগেছিল তা পরে আর মনে করা যায় না। বন্ড শুয়ে শুয়ে নিজের দেহের অনুভূতিগুলো বিশ্লেষণ করে দেখছিল।
কতকগুলো গলার মৃদু আওয়াজ শোনা গেল।
প্যাট্রিশিয়ার গলা, ঐ ট্রাকশন যন্ত্রের আওয়াজটা শুনে আমি অন্য একটা কাজে ব্যস্ত ছিলাম। আওয়াজ শুনে গিয়ে দেখি সাংঘাতিক ব্যাপার ইন্ডিকেটর ২০০-র দাগ পর্যন্ত চলে গেছে। আমি কোনরকমে হাতল টেনে নামিয়ে ওর গায়ের বাঁধন খুলে দিই। আর চটপট কোরামিন এনে ভদ্রলোকের শিরায় একটা ইনজেকশন দিয়ে দিলাম। ওর নাড়ী তখন ভীষণ দুর্বল। এরপর আমি আপনাকে ফোন করি। মিঃ ওয়েনের গলা–ব্যাপারটা সত্যি দুর্ভাগ্যজনক। আমার মনে হয় এই ভদ্রলোক নিশ্চয়ই যন্ত্রের হাতলটা নেড়েচেড়ে কোন কায়দা করতে গিয়েছিলেন। ভদ্রলোকের মারা যাওয়াটা অসভব ছিল না।
একটা হাত বন্ডের কব্জিতে চাপ দিয়ে নাড়ী দেখছিল। বন্ডের মাথার ভিতর কেমন এলোমেলো লাগছিল। তার হঠাৎ ভীষণ রাগ হল M-এর ওপর। তার দোষেই এই পুরো বাজে ব্যাপারটা হল। মিঃ ওয়ানের গলা আবার শোনা গেল–হাড়টাড় কিছু ভাঙেনি, তবে অনেক জায়গা ছড়ে গেছে, আর জোর শক পেয়েছেন। প্যাট্রিশিয়া তোমাকে এর সম্পূর্ণ ভার দেওয়া হল। এর এখন দরকার বিশ্রাম, উত্তাপ এবং এফ্লুয়েজ। তুমি বুঝতে…?
বন্ডের যখন আবার জ্ঞান ফিরে এল সে দেখল বিছানার ওপর উপুড় হয়ে পড়ে আছে, আর সমস্ত শরীরে এক অদ্ভুত অনুভূতি। দেহের নিচে উষ্ণ বৈদ্যুতিক চাদর, আর তার পিঠ দু দুটো Sun Lamp-এর আলোয় ক্রমশঃ গরম হয়ে উঠছে। এবং দুটি নরম হাত তার ঘাড় থেকে হাঁটু পর্যন্ত এক বিচিত্র কায়দায় মালিশ করছে। বন্ডের এত আরাম লাগছিল যে বলার নয়।
প্যাট্রিশিয়া তার সামনে এসে ভর্তি গ্লাসটা এগিয়ে ধরল। বরফের টুংটাং শব্দের সাথে চুমুক দিতে দিতে মনে মনে বিবেচনা করল, এই মেয়েটি সত্যিই চমৎকার। একে বিয়ে করলে মন্দ হয় না। ও আমাকে সারাদিন ধরে এফ্লয়েজ দেবে আর মাঝে মাঝে এই রকম করে কড়া এক গ্লাস করে মদ। দিনগুলো ভালই কাটবে।
বন্ড ভাল হয়ে ওঠাতে প্যাট্রিশিয়া অনেকটা নিশ্চিন্ত বোধ করছিল। সে বন্ডকে জিজ্ঞেস করল, আপনি কি হাতলটা টেনে ফেলেছিলেন আমাদের এখানে এমনটি হয়নি। আপনি আমাদের খুব ভয় পাইয়ে দিয়েছিলেন। বন্ড তার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, ঠিকই ধরেছ। আমি নড়েচড়ে একটু ভালোভাবে শোবার চেষ্টা করছিলাম হাতটা সরাতে গিয়ে হঠাৎ মনে হল শক্ত কিছুর সাথে জোরে ধাক্কা লাগল। তারপর আমার আর কিছু মনে নেই। প্যাট্রিশিয়া আর
