ওরা বিরাট বাড়িটার প্রবেশদ্বারে এসে পৌঁছল। গরম হলঘরটার ভেতর ঢুকে মেয়েটি বলল, এবার আমি দৌড় লাগাচ্ছি। আপনাকে আর একবার ধন্যবাদ। আশা করি এখানে থাকতে আপনার ভালোই লাগবে। হাসতে হাসতে সে চিকিৎসকের কামরাগুলোর দিকে এগিয়ে গেল। যতক্ষণ দেখা গেল বন্ড একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল তার গুরু নিতম্বের আন্দোলনের দিকে।
এই বাড়ির নিচেও একটা তলা আছে যেখানে নানারকম চিকিত্সা হয়। বন্ড সেখানেই নেমে গেল। চারদিকে শুধু সাদা রঙ আর জীবাণুনাশক ঔষধের হালকা গন্ধ। একটা দরজার ওপর লেখা পুরুষদের চিকিৎসা কক্ষ। দরজাটা ঠেলে ভেতরে ঢুকতে একজন মালিশওয়ালা অন্তরঙ্গভাবে অভ্যর্থনা জানাল বউকে। বন্ড জামাকাপড় খুলে ফেলে কোমরে তোয়ালে জড়িয়ে মালিশওয়ালার পেছন পেছন একটা লম্বা ঘরে এসে ঢুকলো।
লম্বা ঘরটা প্ল্যাস্টিকের পর্দার সাহায্যে অনেকগুলো কামরায় বিভক্ত। কোনরকমে তোয়ালেটা খুলে অন্য টেবিলটার ওপর উপুড় হয়ে শুয়ে মালিশওয়ালার কাছে আত্মসমর্পণ করল। মালিশ শুরু হল। বন্ড এবারে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়লেন। এবারে সে মাথা নাড়াতে পারে। সে খুব সহজভাবে ডানদিকে তাকালো। কাউন্টের মুখ বন্ডের বিপরীত দিকে ফেরানো। যে জায়গায় ঘড়িটা থাকে, সেখানে চামড়ার ওপর লাল উল্কিতে আঁকা একটা চিহ্ন। বন্ড ঠিক করল যে তার গুপ্তচর বিভাগের নথিপত্র ঘেঁটে একটু খোঁজ নিতে হবে। দেখা যাক এই যারা হাতঘড়ির আড়ালে গুপ্ত পরিচয় চিহ্ন বয়ে বেড়ায় তাদের সম্বন্ধে কিছু জানা যায় কি না।
.
বন্ডের চিকিত্সা
বন্ডের শরীর নিয়ে চিকিৎসা শুরু হল। এক ঘণ্টা দলাইমলাই করার পর তার মনে হল যেন শরীরটাকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। কোন রকমে সে কাপড়-চোপড় পরে নিল, M-কে অভিশাপ দিল এই অত্যাচারের জন্য। তারপরে উঠে এল অত্যন্ত দুর্বল ভাবে। সামনের বড় বসবার ঘরটায় ঢোকবার মুখে দুটো টেলিফোনের খুপরি রয়েছে। সেখান থেকে ও সেই নম্বরে ডাক দিল, ওর সরকারী অফিসে বাইরে থেকে একমাত্র যে নম্বরে ডাকা যায়। সে জানে যে, এরকম সমস্ত ডাক সদর দপ্তরে আড়ি পেতে শোনা হয়। সে যখন রেকর্ডস-এর দপ্তর চাইল তখন টেলিফোনের আওয়াজ শুনেই বুঝল, লোকে আড়ি পেতেছে। সে নিজের নম্বরটা (007) দিয়ে প্রশ্ন করল, তার জিজ্ঞাস্য ব্যক্তি হচ্ছে খুব সুন্দর, প্রাচ্য জাতীয় এবং ওর দেহে পর্তুগীজ রক্ত থাকতে পারে, বলে তার খবরটা সে দিল। দশ মিনিট বাদে Records Section-এর বড়কর্তা তাকে ফোনে ডেকে কথা বললেন।
উনি বললেন, ঐ চিহ্নটা হচ্ছে একটা Tong চিহ্ন। এর নাম হচ্ছে, লাল বজ্রের Tong। চীনেম্যান ছাড়া এই দলের সভ্য সাধারণত দেখা যায় না। এটা সম্পূর্ণ অপরাধীদের দল। আমাদের Station H একবার এদের সাথে লড়তে বাধ্য হয়েছিল। এদেরকে হংকং-এ পাওয়া যায় কিন্তু এদের আসল মাটি হচ্ছে ম্যাকাও। গোড়ায় ব্যাপারটা ভালোই চলছিল। কিন্তু তার পরে ব্যাপরটা কেঁচে গেল।
সমস্ত ব্যাপারটা হল লুকোচুরির ব্যাপার। পরে বোঝা গেল রেডল্যান্ডের সাথে এদের একটা যোগাযোগ আছে। তারপর থেকে এরা মাঝে মাঝে বে-আইনী মাদকদ্রব্য চালান করে শোনা গেছে এবং প্রথম শ্রেণীর দাসব্যবসায় চালিয়ে যাচ্ছে তাও জানা গেছে। এদের সম্পর্কে যদি কোন খবর যোগাড় করতে পার–পরে কাজে আসবে।
বন্ড ধন্যবাদ জানিয়ে বলল আমি এই প্রথম এই সব লাল বজ্বের Tong -দের নাম শুনলাম। যদি কিছু ঘটে আমি সংবাদ দেব।
বউ খুব চিন্তিত মনে ফোনটা নামিয়ে রাখল। সে টেলিফোনের খুপরী থেকে বেরিয়ে এল। পাশের খুপরীর একটু আওয়াজ পেয়ে ঘুরে দেখল তার দিকে পেছন করে কাউন্ট লি তক্ষুনি ফোন তুলে ধরেছেন। কতক্ষণ সে সেখানে ছিল? সে কি বভের সব কথাগুলো শুনেছে।
বউ নিজের ঘড়ির দিকে তাকালো। এখন সাড়ে সাতটা। হেঁটে চলে গেল খাবার ঘরে যেখানে এখন খাবার দেওয়া হচ্ছে। সেখানে একজন বয়স্ক মহিলাকে দেখে সে নিজের নাম বলল। সেই মহিলা সব শুনে মনে করে শাক-সজির ঝোল এনে দিলেন এবং কঠোরভাবে বললেন, পরে এইটুকুও পাবেন না। যখন চিকিৎসা শুরু হবে তখন আপনাকে নিয়মের মধ্য থাকতে হবে।
বন্ড একটা তিক্ত হাসি হেসে টেবিলের এক কোণে বসে খেতে লাগল। তারপর একটু পরে নিজের ঘরের দিকে রওনা হল।
এই ভাবে দু দিন খাবার পর বন্ড অসহ্য বোধ করতে লাগল। সব সময় খানিকটা মাথা ধরা চোখ হলদে হয়ে এসেছে। তাকে যে মালিশ করে সে বলল, চিন্তার কোন কারণ নেই। শরীর থেকে বিষগুলি বেরিয়ে যাচ্ছে। বন্ড এখন এত অবসন্ন যে আর কোন তর্ক করল না।
তৃতীয় দিনে বন্ডকে হাড় মালিশ করার জন্য ঘরে পাঠানো হল। এটা হাসপাতালের একটা নতুন দিক। সে যখন ঘরে ঢুকল তখন দেখল কোন পুরুষ মানুষ নেই। তার বদলে দাঁড়িয়ে আছে সেদিনের দেখা সেই মেয়েটি, প্যাট্রিশিয়া।
বন্ড অবাক হয়ে বলল, আরে তুমি কি এ কাজ করো নাকি? মেয়েটি কিছু না বলে শুধু একটু হেসে জানাল যে, এই ধরনের কাজ যারা করে তাদের শতকরা কুড়ি ভাগই মেয়ে। কাপড় খুলুন। শুধু প্যান্ট পরে থাকবেন। তারপর বলল মুখ নিচু করে খাটে শুয়ে পড়তে। তারপর মেয়েটি দুটো শক্ত হাতে পরিষ্কারভাবে সে বন্ডের গ্রন্থিগুলো মুচড়ে মুচড়ে ঠিক করতে শুরু করল।
বন্ড শিগগীর বুঝতে পারল যে মেয়েটি যথেষ্ট শক্তিশালী। বন্ড একটা সুন্দর মেয়ে এবং একজন অর্ধ উলঙ্গ পুরুষের মধ্যে এইরকম নৈর্ব্যক্তিক সম্পর্কে খানিকটা বিরক্তই হয়ে উঠল। কাজকর্ম হয়ে যাবার পরে প্যাট্রিশিয়া ওকে দাঁড়াতে বলল এবং বন্ডের দুই হাত নিজের গলার পেছনে মুঠি করে ধরতে বলল। সামান্য দূরত্ব থেকেও তার চোখ খালি নিজের কাজের কথা ভাবছে। হঠাৎ সে একটা ঝাঁকুনি দিল, বোধহয় বডের শিরদাঁড়াটাকে ঠিক করার জন্য। এবার বন্ড সত্যি সত্যিই চটে গেল। যখন বন্ড এক ঝটকায় তাকে সামনে টেনে এনে জড়িয়ে চুমু খেল, প্যাট্রিশিয়ার চোখ আগুনের মত জ্বলে উঠল, গাল লাল হয়ে গেল। বন্ড হেসে বলল, ঠিক আছে, আমাকে এটা করতেই হত। তুমি যদি ডাক্তার হতে চাও তাহলে এত সুন্দর ঠোঁট তোমার থাকা উচিত নয়।
