ছেলেটি বন্ডকে বলল, শ্রাবল্যান্ডে খাবার দেয় অল্প কিন্তু সেই সাথে থাকে প্রচুর বিশ্রাম। ওখানে মদ একেবারেই বারণ। এতে রোগীর রক্তস্রোত একেবারে পরিষ্কার করে। মানব দেহের বিভিন্ন যন্ত্রগুলোকে মেজেঘষে ততকে করে দেয়।
বন্ড হাসতে হাসতে বলল, যাক জায়গাটাতে ভালো কিছু আছে তাহলে।
গাড়িটা ডান দিকে ঘুরে কিছু দূর চলার পর একটা ভারী ঝুলবারান্দার তলায় গাড়ি থামাল। সামনেই নোটিশ টাঙ্গানো ভিতরে ধূমপান নিষিদ্ধ। আপনার সিগারেট এখানে জমা দিয়ে যান।
বন্ড ট্যাক্সী থেকে নেমে ভাড়া ঢুকিয়ে দিয়ে দশ শিলিং বকশিশ দিল ছেলেটিকে। ছেলেটি যাবার আগে বলে গেল, যদি কোন দিন এখান থেকে পালাতে চান তাহলে আমাকে খবর দেবেন।
বন্ড একটা ভারী দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল। বাড়ির ভেতরটা বেশ গরম ও শান্ত। রিসেপশন ডেস্ক-এ বসে ছিল ধবধবে সাদা পোশাক পরা একটি ফুটফুটে মেয়ে। সে বন্ডকে সাদর অভ্যর্থনা জানাল। সে বন্ডকে একটা ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে বলে গেল যে, এক ঘণ্টার মধ্যে বড় সাহেব দেখা করবেন।
ঘরটা খুব সুন্দর আসবাবপত্রে ভর্তি। বিছানার পাশে খুব সুন্দর ফুলদানী মেরি গোল্ড ফুল। আর একটা বই– প্রাকৃতিক চিকিৎসার ব্যাখ্যা। জানালার নিচে ফলমূলের বাগানের সারি সারি অচেনা গাছ আর মাঝখানের একটা সূর্যঘড়ি ঝলমল করে উঠল। হঠাৎ ফোন বেজে উঠল। এক নারীকণ্ঠ শোনা গেল, পাঁচ মিনিটের মধ্যে বন্ড পরামর্শ কক্ষ নং A-তে মিঃ ওয়েনের সাথে দেখা করলে তিনি খুশি হবেন।
পরামর্শকক্ষে ঢুকলে শ্রাবল্যান্ডস -এর বড় সাহেব মিঃ জোশুয়া ওয়েন বন্ডের সাথে করমর্দন করলেন। ভদ্রলোকের হাসিটুকু খুব আন্তরিক। প্রথমে বন্ডের প্যান্ট ছাড়া সব জামা-কাপড় খুলতে বললেন। তারপর তার ওজন রক্তের চাপ ইত্যাদি পরীক্ষা করলেন। তারপর বললেন, মিঃ বন্ড আপনার দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই। রক্তের চাপ একটু বেশি। মেরুদণ্ডের ওপরদিকের জোড়গুলোতে একটা চোট লেগেছে। আপনার মাথাব্যথার কারণ বোধহয় এইটাই। আর কোমরের নিচের একটা হাড় ধাক্কা লেগে অল্প সরে গেছে। মিঃ ওয়েন একটা ছাপানো ফর্ম টেনে নিয়ে চিন্তান্বিতভাবে ফর্মে লেখা বিভিন্ন আইটেম্ -এ একে একে দাগ দিতে লাগলেন। এক সপ্তাহ ধরে নির্দিষ্ট অল্প খাদ্য। ঠাণ্ডা আর গরম পানিতে গোসল। আর এছাড়াও সম্পূর্ণ বিশ্রাম। মিঃ ওয়েন বন্ডকে বললেন যে আধঘন্টার মধ্যেই তার চিকিৎসা শুরু হয়ে যাবে।
বন্ড সাদা রঙের করিডোর দিয়ে হেঁটে বেরিয়ে এল। আশেপাশের ঘরে অনেকে বসে ছিল। বেশির ভাগই মহিলা। তারা বিশ্রী ঢোলা ড্রেসিং গাউন পরে বসে ছিলেন। বন্ড মনে মনে ভাবছিল এই যমের অরুচি জায়গাটা থেকে নিজের চাকরিটা না খুইয়ে কিভাবে পালানো যায়। অন্যমনস্কভাবে চলতে চলতে একটি সাদা পোশাক পরা মেয়ের সাথে বন্ডের প্রায় ধাক্কা লেগে গেল। এবং হঠাৎ ম রঙের বেল্টলি গাড়ি তীব্রবেগে ঘুরে এসে পড়ল মেয়েটির ওপর। সাথে সাথেই বন্ড মেয়েটিকে ধরে নিল। বন্ডের ডান হাতে তখনও এক সুপুষ্ট স্তনের স্পর্শ লেগে আছে।
মেয়েটি বন্ডকে ধন্যবাদ জানাল, ততক্ষণে গাড়ির ড্রাইভারের আসন থেকে একজন ভদ্রলোক খুব নির্বিকারভাবে বেরিয়ে এসে বললেন, আমি অত্যন্ত দুঃখিত। আশা করি আপনি ঠিক আছেন। বলেই তিনি মেয়েটিকে চিনতে পারলেন, কেমন আছ প্যাট্রিশিয়া?
ভদ্রলোক অসামান্য পুরুষ। তার সুগঠিত দেহ দেখে মনে হয় যে তার গায়ে দক্ষিণ আমেরিকান রক্ত আছে। সব মিলিয়ে বন্ড আন্দাজ করল, ইনি একটি অনিক্যকান্তি লম্পট। জীবনে যে কটি মেয়েকে ইনি কামনা করেছেন, বোধহয় তাদের প্রত্যেককেই করায়ত্ত করতে পেরেছেন। এটাই সম্ভবত তার জীবিকা, আর জীবিকার উপার্জনটাও প্রচুর।
মেয়েটি নিজেকে সামলে নিয়েছে। খুব রাগের সাথে সে বলল, আপনার সত্যিই সাবধান হওয়া উচিত, কাউন্ট লি। এই ভদ্রলোক না থাকলে, মেয়েটি বন্ডের দিকে তাকিয়ে একটু হাসল, আমি খুবই দুঃখিত। আমার একটা তাড়া ছিল। ওয়েন সাহেবের সাথে দেখা করার কথা ছিল আমার। কিন্তু আমি দেরি করে ফেলেছি। প্যারিসে দু সপ্তাহ কাটবার পর আমার একটু চিকিৎসার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
মেয়েটি বলল, এবার আমাকে পালাতে হচ্ছে। ভীষণ দেরি হয়ে গেছে। গাড়িটা যে রাস্তা দিয়ে গেল, সেটা ধরেই দুজনে এগোতে লাগল। বন্ড মেয়েটিকে খুঁটিয়ে দেখতে দেখতে প্রশ্ন করল, তুমি কি কাজ কর? মেয়েটি জানাল যে সে তিন বছর যাবত শ্রাবল্যান্ডস্-এ কাজ করছে। বউ এখানে কি কাজ করছে, কবে এসেছে–সব কিছুই সে জেনে নিল। মেয়েটির চেহারা অ্যাথলেটের মত। বন্ড ভাবলো মেয়েটি নিশ্চয় টেনিস খেলে বা স্কেটিং করে। ঠিক এই ধরনের স্বচ্ছন্দ, আটসাট চেহারার উপর বন্ডের চিরকালের লোভ। পোশাকের ভেতর দিয়ে তার স্তন ও নিতম্বের চড়াই উত্রাই এত প্রকট হয়ে উঠেছে যে, স্পষ্ট বোঝা যায় এই সাদা সাজের তলায় অল্পই জামা-কাপড় পরেছে সে।
বন্ড প্রশ্ন করল, এখানে তার একঘেয়ে লাগে কিনা। কাজ-কর্ম না থাকলে সে কি করে? মেয়েটি বুঝল যে বন্ড আরেকটু অগ্রসর হতে চাইছে। সে একটু মুচকি হাসি ও একঝলক আনন্দিত দৃষ্টির সাথে তা মেনে নিল। বলল, আমার একটা ছোট্ট গাড়ি আছে। গাঁয়ের রাস্তায় গাড়ি চড়ে প্রায়ই ঘুরে বেড়াই। আর হেঁটে বেড়াবার জন্যও কয়েকটা চমৎকার রাস্তা আছে। তাছাড়া এখানে হরদম নতুন নতুন রোগী আসে। তাদের অনেকেই খুব মজার লোক। এই যে গাড়িওয়ালা ভদ্রলোককে দেখলেন এর নাম কাউন্ট লি। ইনি প্রতি বছর এখানে আসেন। ম্যাকাও নামে একটা জায়গায় ওঁর কি যেন ব্যবসা আছে। ওটা তো হংকং-এর কাছে তাই না?
