বন্ড নিজের কানকে যেন বিশ্বাস করতে পারল না। শুধু কোন রকমে স্যারকে বলল, যাওয়াটা কি খুব জরুরী! M একটুকরো হাসি হেসে বললেন, দরকার নয়, অবশ্যম্ভাবী। অবশ্য যদি তুমি ডাব ও (০০) বিভাগে থাকতে চাও। যে অফিসার সম্পূর্ণ সুস্থ নয় তাকে এতবড়ো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে থাকতে দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। বললেন, এই পর্যন্তই 007, তারপর বেরিয়ে গেলেন।
দরজার ঠিক পাশে একটা ডেস্কের ওদিকে বসে ছিল M-এর প্রাইভেট সেক্রেটারী মিস মানিপেনী। সে খুব মিষ্টি করে বন্ডের দিকে তাকাল। তারপর হেসে বলল, তোমার জন্য চিকিৎসালয়ে চমৎকার একটা ঘর পাওয়া গেছে, ম্যানেজার লোকটি খুবই ভাল। তিনি বলেছেন, তোমার ঘরটা ভারী সুন্দর ঠিক তরকারী বাগানের ওপরে। মিস মানিপেনীর যথেষ্ট দুর্বলতা আছে বন্ডের ওপর। প্রায় সে বন্ডের স্বপ্ন দেখে। লোকটার অবস্থা দেখে তার দয়া হল। ফিসফিস করে বলল, সত্যি বলতে কি, কর্তার এ একটা নতুন হুজুগ। বেশিদিন টিকবে বলে মনে হয় না। তোমার ভাগ্য খারাপ যে এর মধ্যেই তুমি ফেঁসে গেলে। কর্তার মাথায় এক একবার এক একরকম পোকা ঢোকে। গত মাসে কর্তা কোমরের বাতে কাবু হয়ে পড়েছিলেন। তার এক বন্ধু দেখে শুনে জ্ঞান দিল যে মানুষের শরীর মোটর গাড়ির মত। মাঝে মাঝে মেরামত করতে হয়। তিনি নাকি এক প্রাকৃতিক চিকিৎসালয়ে মাঝে মাঝে যান আর একেবারে ঝরঝরে হয়ে বেরিয়ে আসেন। সেখানের খরচ সপ্তাহে কুড়ি পাউন্ড। সেখানে দশ দিন থাকার পর জায়গাটা সম্বন্ধে দারুণ গদাদ হয়ে ফিরে এলেন। এই গতকাল আমাকে ডেকে নিয়ে প্রাকৃতিক চিকিৎসা সম্বন্ধে প্রচুর উপদেশ দিলেন। এই হল ব্যাপার। তবে এটাও মানতে হবে যে কর্তার এমন চমৎকার স্বাস্থ্য আমি জীবনে দেখিনি। বন্ড বলল, সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু এত লোক থাকতে আমাকেই কেন ঠেলে পাঠানো হচ্ছে পাগলা গারদে।
মিস মানিপেনী এবার বন্ড-এর কাছে জানতে চাইল যে, সত্যিই সে অতো মদ আর সিগারেট খায় কিনা। কেননা এটা সত্যিই স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। বন্ড অতিকষ্টে নিজেকে সামলাল, তারপর বলল, আমার মতে তেষ্টায় মরার চেয়ে মদ খেয়ে মরা অনেক ভাল। আর সিগারেটের কথা যদি বল তবে বলতে হয় যে হাত দুটো নিয়ে কি-ই বা করব।
বন্ড ঘুরে দাঁড়িয়ে দরজার দিকে হাঁটতে শুরু করল। মিস মানিপেনী মধুর হেসে বলল, দু সপ্তাহ পরে শুধুমাত্র লেবুর রস আর বাদাম খেয়ে তোমার শক্তি কোথায় থাকে দেখা যাবে।
বন্ড কোন কথা না বলে দুম করে দরজা বন্ধ করে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
.
শ্রাবল্যান্ডস
জেমস্ বন্ড তার স্যুটকেসটাকে ট্যাক্সির পেছনে ঢুকিয়ে ড্রাইভারের পাশে গিয়ে বসল। ড্রাইভারটি এক চালাকচতুর তরুণ, মুখে ব্রনের দাগ। বন্ড আসার পর সে গাড়ির সেলফ স্টার্টারে চাপ দিল।
বন্ড প্রশ্ন করল, শ্রাবল্যান্ডস্ কতদূর হবে?
একটা ট্রাফিক আইল্যান্ড ঘুরে বাঁক নিতে গিয়ে ছেলেটি পাকা হাতে দ্রুতগতির মধ্যেই গীয়ার বদলালো, আবার বাক শেষ হতে আবার গীয়ার যথাস্থানে নিয়ে এল। বন্ড মনে মনে ভাবল ছোকরা তেমন খারাপ নয়। ছেলেটির আচরণে এবার আগ্রহের ছোঁয়া লাগল। ছেলেটি বলল, ব্রাইটনে রেসের দিন অনেক জনকে নিয়েই গাড়ি করে যাওয়া যাবে। ব্রাইটনের রাস্তায় অনেক টাকা পাওয়া যাবে।
বন্ড বলে, তবে ব্রাইটনে অন্য ধরনের লোকও যায়। তোমাকে যাতে বোকা বানিয়ে ঠকিয়ে নিতে না পারে তার জন্য যথেষ্ট সাবধান থেকো। ব্রাইটনে পাকা বদমাইসের ক টা দল আছে।
ছেলেটা হঠাৎ বুঝতে পারল যে বক্ত তার সাথে খুব অন্তরঙ্গভাবে কথা বলছে। সে নতুন আগ্রহের সাথে পাশে বসা বন্ডের আপাদমস্তক ভাল করে চোখ বুলিয়ে নিল। ছেলেটি জানতে চাইল যে, বন্ড ঐরকম একটা বাজে জায়গায় যাচ্ছে কেন? রন্ড হেসে বলল, উপায় নেই। আমার ডাক্তার মনে করে যে ওখানে আমার উপকার হবে। তাই আগামী চৌদ্দটা দিন ওখানেই কাটাতে হবে।
গাড়ি ব্রাইটন রোড ছেড়ে পশ্চিম দিকের রাস্তা ধরল। গায়ের শান্ত রাস্তা ধরে এগিয়ে চলল। ছেলেটি বলতে লাগল, এদিকে লোকদের মতে ওটা পাগলের আড্ডা, ও-নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না। কারণ ওখানে যারা আসে সবাই বড়লোক অথচ পয়সা খরচ করতে নারাজ। অবশ্য চায়ের দোকানগুলোর রোজগার বেশ ভালই বেড়েছে। আর একটা ব্যাপার আছে, ছেলেটা বেশ রাগের সাথেই বলল, শ্রাবল্যান্ড-এ থাকা খাওয়ার খরচা নিয়ে সপ্তাহে কুড়ি পাউন্ড। এর বদলে যদি তিন বেলা পেট পুরে খেতে দিত তাহলে আমার কিছু বলার ছিল না। ছেলেটি আরো বলল, চিকিৎসার শেষে যখন আমি বুড়োগুলোকে ফেরত নিয়ে যাই তখন কারো কারো চেহারা অনেক বদলে যায়। ভাবছি আমি ভর্তি হয়ে দেখব একবার।
ছেলেটি বন্ড-এর দিকে একবার তাকিয়ে আবার বলতে শুরু করল, হয়েছে কি আমাদের ওয়াশিংটনে একটা খুব চালাকচতুর মেয়ে থাকে। হানি বী নামে একটা চায়ের দোকানে কাজ করে। আমাদের সকলের মাথা একেবারে ঘুরিয়ে দিয়েছিল। এক এক বারের জন্য নিত এক পাউন্ড। নানারকম ফ্রেঞ্চ কায়দা জানত। বেশ ভালই চলছিল বৃন্দাবন। তারপর শ্রাবল্যান্ডস পর্যন্ত মেয়েটার নাম ছড়িয়ে পড়ল। মেয়েটির নাম পলিগ্রেস। কাছাকাছি একটা পুরোনো খনি আছে, সেখানেই পলির সাথে আমাদের কাজকারবার চলতো। কয়েকটা বুড়ো বজ্জাত পলিকে একবার গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় ঐ খনিতে। কিন্তু আসল মুশকিল হল তারা পলিকে পাঁচ দশ পাউন্ড ভাড়া দিতে লাগল। ফলে পলির দর বেড়ে গেল। একমাস আগে চায়ের দোকানের চাকরিটা ছেড়ে দিল। তারপর দুশো পাউন্ড দিয়ে একটা গাড়ি কিনে। ঘুরে বেড়াতে লাগল। বন্ড শুনে বলল, সত্যিই খুব বাজে ব্যাপার।
