তুমি যে ভালোয় ভালোয় ফিরে আসতে পেরেছো এতে আমি খুব আনন্দিত।
ধন্যবাদ স্যার।
সন্ধ্যের কাগজে কুইন এলিজাবেথে জোড়া খুনের কথা লিখেছে। সেটা কি ব্যাপার? এম.-এর গলায় সন্দেহ কিংবা সন্দেহের চেয়ে বেশি কিছু যেন। ওরা হচ্ছে দলের মার্কা মারা খুনে। উইন্টার আর কিটারিজ নাম নিয়ে আসছিল। আমায় স্টুয়ার্ড তো বলল, তাস খেলা নিয়ে বোধহয় ওদের কিছু হয়েছিল।
বন্ড বলে, ও জানে এই হচ্ছে এম.-এর কথা বলার ধারা। যদি বন্ড লোকগুলোকে মেরে থাকে তাহলে তার কিংবা গুপ্তচর বাহিনীর নাম যাতে ময়না তদন্তে কোনরকমে উত্থাপন করা না হয়। সে বিষয়ে এম, আগে ভাগে পরিষ্কার হয়ে নিতে চান। এম, বলেছিলেন, এরা হচ্ছে চুনোপুঁটি। আমি চাই সেই লোকটাকে, সেই জ্যাক স্প্যাঙ্গ না রুফাস সেয় নাকি এ-বি-সি কিংবা আর যে নামেই নিজেকে সে পরিচয় দি। আমি চাই তুমি আগে পাকড়াও কর। চোরাপথের শেষে আছে সেই দাঁতের লোকটা। দুজনকেই পেতে চেষ্টা কর। হীরে খনির কাছাকাছি ২৮৪০-কে লাগিয়ে রেখেছি আমি, দাঁতের ওখানে। গোড়া থেকেই কাজটা আমি পছন্দ করিনি।
এই কেস মেয়েটির কি ব্যাপার?
জিজ্ঞাসা করেছিলেন এম., যদি তুমি জোর করে কিছু না বল, তাহলে ও মেয়েটিকে অভিযুক্ত করতে চায় না। ভ্যালান্স-এর সাথে কথা হয়েছে।
বন্ড জবাবটা এড়িয়ে যেতে চেয়েছিল, সহজভাবেই বলতে পেরেছিল, মেয়েটি স্যার খুব সাহায্য করেছিল।
এখন সে কোথায়?
কারো রিসিভারটা বন্ডের হাতে খালি পিছলে যাচ্ছিল। উইমলার হায়ার-এ করে সে এখন লন্ডনের পথে। আমার ফ্ল্যাটেই উপস্থিত রাখছি স্যার। আমার যে বাড়তি ঘরটা আছে, সেখানে। আমি ফিরে না-যাওয়া পর্যন্ত সব দেখাশোনা করবে। আমি নিশ্চত জানি স্যার সে ঠিক থাকবে।
ওপাশ থেকে এম. বলেছিল, ঠিক আছে আশা করি তুমি সফল হবে। একটু থেমে নিজের প্রতি খেয়াল রেখো, আর যেভাবে এখন পর্যন্ত সব ব্যাপারটা চলছে, তাতে মনে কর না যে আমি তোমার ওপর খুশি হইনি। তোমার হয়তো কাজের ওপর কাজ বেড়েছে কিন্তু তুমি ওই লোকগুলোকে ঠিক এঁটে উঠতে পেরেছ। আচ্ছা, বিদায় জেমস।
এম.-এর কথা ভাবতে ভাবতে বন্ড উজ্জ্বল আকাশের দিকে তাকায়। টিফানীর কথাও মনে হয় তার।
খনির সেই স্মাগলার লোকটির হাতে চতুর্থ টর্চ। সেটা ধরে দাঁড়িয়ে সে অপেক্ষা করে। চাঁদের ঠিক ওপর দিয়ে আসছে। তার মাথার ত্রিশ ফিট ওপরে ঠিক ঘুরপাক খাচ্ছে। হাত বেরিয়ে এলো। আলো দিয়ে এ লিখলো। মাটিতে দাঁড়িয়ে লোকটি হাতের টর্চে বি আর সি লিখল। রোটর ব্লেড নিস্তেজ, নিষ্ক্রিয় হল। তারপর সেই বিশাল পোকাটা মাটিতে নামল। হীরে স্মাগলার চোখ থেকে হাত সরিয়ে দেখল পাইলট তার ছোট্ট সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসছে। লোকটার চকচকে কালো চামড়ার হেলমেটের ঠিক মাঝখানে তখন দুটো সাদা বৃত্ত যেন ঝলসে উঠছে। হ্যাঁ। হীরে খনির লোকটি জবাব দেয়। কিন্তু সেই জামার্ন লোকটি কোথায়? সে আর আসবে না সাদা বৃত্ত দুটো স্মাগলারের দিকে অপলক তাকিয়ে থাকে। আর্মি এ-বি-সি। আমি এই চোরা পথ বন্ধ করে দিচ্ছি।
স্মাগলারের হাত আপনা আপনি তার শার্টের ভিতর চলে যায়। ভিজে ভিজে মোড়কটি বের করে সে বাড়িয়ে ধরে, যেন সেটা এক ধরনের সন্ধি। লোকটি হুকুম করে। আমার সাথে একটু হাত লাগাও। কোন কথা না বলে ওরা কাজ করে। তারপর কাজ শেষ হলে ওরা ফের মুখোমুখি হয়। স্মাগলার প্রাণপণে ভাবছিল ওরা যেন সমান-সমান।
পাইলট মইয়ে হাত দিয়ে যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল, সেখানে একটুকরো নীল অন্ধকার। লোকটি সেই দিকে তাকিয়ে বলে, আমি সব ব্যাপারটা খতিয়ে দেখছিলাম এবং আমার মনে হয়… এইটুকু বলেই লোকটি থামে, হাঁ হয়ে যায়। সে, ঠোঁট ঝুলে আসে। মুখ দিয়ে একটা গোঁ গোঁ শব্দ হয়। পাইলটের হাতে পিস্তল তিনবার ধমকে ওঠে। স্মাগলারটা ছিটকে পড়ে যায়। আর নড়ে না। অ্যাপ্লিফায়ারের একটা শব্দ তারপর কথাটা ভেসে আসে, তোমাকে ঘিরে ফেলা হয়েছে। একদম নড়ো না। গলা শুনে পাইলট কিন্তু থেমে থাকল না। ককপিটের দরজা বন্ধ করে বাতাসে ভর করে ওপরে উঠতে লাগল।
এবারে নিচে একটা ঝোঁপের তলায় ট্রাকটা খ্যাচ করে থামে। বন্ড লাফিয়ে উঠে বোফর-এর লোহার জিন ধরতে যায়। বন্ড নিচু হয়ে জালের ভিতর দিয়ে চোখ চালায়। বোফর এর মুখ চাঁদের দিকে। আমি ঠিক যুগিয়ে যাব। বন্ডের পাশে দাঁড়ানো অফিসারটি বলে। তার হাতে দুটো ব্যাগ। তাতে পাঁচটা হলুদ রঙের গোলা। ট্রিগার টেপার জায়গায় বন্ডের পা স্থির। হেলিকপ্টারটা পৌঁছায় জালের মাঝামাঝি তার চোখ বরাবর।
করপোরাল খুব সাবধানে দুটো লিভারকে ঘোরায়। বুমপা।
বন্ড এগিয়ে অটো-ফায়ার-এর লিভারটা ধরে টান মারল। এর মানে নিশ্চিত মৃত্যু। আবার তাকে বাধ্য হয়ে সেই কাজই করতে হচ্ছে।
আকাশে লাল আগুনের পিচকিরি। তবু হেলিকপ্টারটা চাঁদের দিকে সোজা হয়ে উত্তর দিকে যোরে। রোটোর-এর ল্যাজের কাছে শুধু একবার হলদে আলোর ঝলক। তারপর দূরে এক প্রচণ্ড বিস্ফোরণের আওয়াজ। অফিসারটি দূরবীন নিয়ে দেখল গোটা কেবিনটাই জ্বলে যাচ্ছে। পাইলটের অবস্থা নিশ্চয়ই শোচনীয়।
প্রচণ্ড ডিগবাজি খেতে খেতে নেমে আসছে, নিশ্চয়ই প্রধান রোটর রেডে কিছু গড়বড় হয়েছে। বন্ড জালের ভিতর থেকে মাথা তোলে। এখন হাজার খানেক ফিট ওপরে হবে। ইঞ্জিন তখনো গর্জন করছে। পুঞ্জ পুঞ্জ ধাতু খসে খসে প্রচণ্ড বাতাসের মত আকাশ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে।
