সে দুনিয়ার লোকের সাথে দহরম মহরম করে বেড়াচ্ছে। আর লেখাপড়া শিখে কি করবে? কখনো সে দক্ষিণ আমেরিকার লক্ষপতি কখনো বা কোন রাজপুত্র–সব সময় কোন না কোন ঘটনার সাথে নিজেকে জড়িয়ে কাগজের খবরের স্থান পেয়ে যাচ্ছে। আর যদি তার হাত খরচা বন্ধ করে দিই বা শাসন করি তবে এমন সব কাণ্ড করে যাতে আমি জব্দ হয়ে যাই।
সব কিছু করার পরও যতই সে মুখে হাসি রাখুক তার ভিতর একটা কষ্ট লুকিয়ে আছে। তার অহংকার, মায়ের রক্ত ও দুরন্ত স্বভাব সব কিছুই তাকে আস্তে আস্তে নষ্ট করে দিচ্ছে। ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে নিজেকে ঘৃণা করা। আমি স্পষ্টই বুঝতে পারছি সে নিজেকে ধ্বংস করার ব্রত নিয়েছে। সে বন্ডের দিকে তাকিয়ে থাকল। তুমি ভাল করে জান যে সব নারী পুরুষে জীবনেই এমন দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। ভয়ানক লোভীর মত জীবনকে ভোগ করতে গিয়ে নিজেকে নিঃশেষ করে ফেলে। এক সময় সে দেখতে পায় তার জীবন সম্পূর্ণ ভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।
আমাকে না জানিয়েই হঠাৎ সে একদিন বিয়ে করল, হয়ত ভেবেছিল সে একজন সুখী সংসারী হবে। কিন্তু যাকে বিয়ে করেছিল সে একজন অপদার্থ। একজন ইটালীয়ন কাউন্ট। যতই পেয়ে গেছে ততই টেরেসার কাছ থেকে সে নিয়ে নিয়েছে। শেষমেষ একদিন পালিয়ে গেল। আমি তার ডিভোর্সের বন্দোবস্ত করে দিলাম। ওকে একটা বাড়িই কিনে দিলাম। কাউন্ট পালিয়ে যাবার পূর্বে তাকে একটা বাচ্চা দিয়ে গেল। বাচ্চা আর বাগানের দেখা শোনা করে, ভাবলাম, সে নিশ্চয় এবার শান্তিতে থাকবে। কিন্তু ছয় মাস হল বাচ্চাটি ম্যানিনজাইটিস-এ মারা গেল।
মার্ক চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। আবার দুইটি গ্লাসে হুইস্কি নিল। ক্ষমা কর, কারণ তোমাকে সেবা করার মত কোন জিনিষই এখানে নেই। কিন্তু যে সব কথা নিজের মনে গোপনে ছিল তা আর একজনকে বলতে পেরে একটু শান্তি পাচ্ছি। তুমি এবার বুঝলে তো?
হ্যাঁ, আমি বুঝেছি।
কিন্তু চমৎকার সুন্দর মেয়ে আমার টেরেসা। এখনো তার সামনে সমস্ত জীবনই পড়ে আছে। তুমি কি এখন মনের বিশ্লেষণ-এর কথা ভাবছ? বা কোন গীর্জায় আশ্রয় নেবার কথা? ওকি ক্যাথলিক তবে?
না, তার মার বাধা ছিল, সে ছিল প্রেম বিটেরিয়ান। কিন্তু তোমাকে আর একটু অপেক্ষা করতে হবে কারণ গল্পের আরো কিছুটা বাকি আছে। সে তার চেয়ারে আবার গিয়ে বসল। বাচ্চাটা মরে যাবার পর সে তার গাড়ি ও গয়না নিয়ে চলে গেল বাড়িটা থেকে। মাঝে মধ্যে খবর পেতাম সে সারা ইউরোপ ঘুরে বেড়াচ্ছে। কখনো খবর পেয়ে গিয়েছি তার কাছে কিন্তু সে আমাকে তেমন পাত্তা দিত না। তারপর একদিন আমার একটা লোক খবর দিল যে সে আমার এখানে এসেছে। সপ্লেনভিড় হোটেলে সে ঘর ভাড়া করে আছে। চিরকালই সে ভাল সাতারু ছিল। সে সমুদ্রকে ভালবাসতো। মনে পড়ে যায় একদিনের কথা, তার মাকে টেরেসা বলছে তুমি আমাকে ঘরের মধ্যে বন্দী করে রেখেছ। কেন? আমি তো সমুদ্রে যেতে পারছি না। তোমাকে বলে দিচ্ছি যদি কোন সময় আমার মনখারাপ হয়ে যায় তবে সমুদ্রে সাঁতার দিয়ে আমি অনেক দূরে চলে যাব। আর কোন দিন আসব না। একদম সমুদ্রের নিচে চলে যাব।
সে খুব দুষ্টুমি করছিল বলে ঘরে তার মা আটকে রেখেছিল। ছেলেবেলার অনেক ঘটনা কিন্তু মনে দৃঢ় ভাবে গেঁথে থাকে। খামখেয়ালীর জন্য সে কোন ঘটনা ঘটিয়ে ফেলবে কিনা তা কে বলতে পারে?
তাই আমি ওর পিছনে চব্বিশ ঘণ্টা লোক দিয়ে পাহারা রেখেছিলাম। ক্যাসিনোতে তুমি যে নিদর্শন দিয়েছ তা আমার কানে এসেছে। এর জন্য আমি তোমাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। অবশ্য এরপরের কথাগুলিও আমি জানি। মার্ক হাত নেড়ে বলল, না, না, তুমি লজ্জা করো না। পুরুষ মানুষের মত তুমি কাজ করবে। তাছাড়া কে বলবে–কিন্তু সে কথা পরে তোমাকে বলব। তুমি ট্রেসীর সাথে যাই করেছ তা হয়ত তার মনের চিকিৎসাই করে থাকবে।
বন্ডের তখন মনে পড়ে গেল ও কি ভাবে তার গায়ে গা ঘেষে বসেছিল। তারা নিজেদের ঐ টুকু সঁপে দেওয়ার মধ্যে ছিল স্নেহ, উষ্ণতা–যা রাত্রির উল্লাসের চেয়েও গভীর। হঠাৎ তার মনে একটা আবছা একটা একটা ধারণা জন্মল–কেন তাকে আনা হল এখানে। তার আসাটা হয়ত কোন রহস্যের সূত্রপাত। তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শরীরটা কেঁপে উঠল। মনে হল কেউ যেন তার কবরে হেঁটে চলে বেড়াচ্ছে।
তোমার বিষয়ে একটা খবর জানতে চেয়েছিলাম সকাল ছ টায়, অবশ্য ন টার মধ্যে সব খবর আমি পেয়ে গেছি। আমার লোকের মারফত। আর এই গাড়িতেই একটা শক্তিশালী স্টেশন আছে যার সাহায্যে সব সময়েই সবার খবর পেয়ে যাই আমি। অনেক গোপন কথা বলে দিলাম। এর মধ্যে এটাও একটা। সেটা খেয়াল রাখবে। আমি তোমার সম্বন্ধে অনেক কিছু শুনেছি অবশ্য সবই তোমার স্বপক্ষে। তোমার কাজে তুমি একজন উপযুক্ত লোক। মানুষ হিসাবেও সেইরূপ, অবশ্য মানুষ বলতে যা বোঝায়। তারপর আমি যা ভেবেছি পুরো সকালটাই আমি চিন্তা করে দেখলাম তোমাদের এখানে আনা খুবই প্রয়োজন। আমার আদেশেই তোমাদের দুজনকে এখানে এনেছি।
আমি বুঝতে পারছি তোমার অনেক অসুবিধা হচ্ছে। তার জন্য আমাকে মাপ করে দাও। আশা করি আমার লোকেরা তোমার সাথে ভাল ব্যবহারই করেছে।
হাসল একটু বন্ড। তোমার সাথে মোলাকাত করে আমি খুশিই হয়েছি। দু টি উদ্যত অটোম্যাটিক যন্ত্রের সাহায্যে আলাপ হওয়াতে আরো বেশি করে মনে থাকবে।
