বন্ড তার গ্লাসে বুর্বো ঢেলে নিয়ে পানিতে মিশিয়ে তার মধ্যে প্রচুর বরফ নিল। মার্ক-অ্যানজে নিয়ে নিল হেইগ এর বোতলটা। বলল, এবারে আমার চেষ্টা করতে হবে যাতে তোমার বিশ্বাস পাওয়া যায়। আমি আমার জীবনটা পুনরায় তোমার হাতে তুলে দিলাম।
.
দি ক্যাপু
কোর্সটা হল ইউনিয়ন। এতক্ষণ পরে যাহোক তবু একটা রহস্যের কিনারা পাওয়া গেল। বন্ড তখন দেরাজের এক জোড়া তামাটে ধূর্ত চোখের দিকে চেয়ে থাকল। তার মনের মধ্যে একটা ছবি ভেসে এল। ফাইলের ওপর লেখা কয়েকটি সাধারণ লেখা–দি ইউনিয়ন কোর্স। কিন্তু এই ইউনিয়ন সংঘ সিসিলিয়ানোর চাইতেও ভয়ঙ্কর, হয়ত বা মাফিয়ার চাইতেও। বন্ড এটাও জানে যে ফ্রান্সের সমস্ত সংঘবদ্ধ পাপকর্মের নায়কই হচ্ছে এই দলটি, এমন কি ফ্রান্সের বহু উপনিবেশগুলি পর্যন্ত এই রকম। মাত্র কয়েক মাস পূর্বে নাইস-এর একটি বার-এ এরা রসি নামে একজন লোককে গুলি করে হত্যা করেছে। তাছাড়া বছর এক পূর্বে জীন পিউদিচেল্পীকে বহুবার চেষ্টা করে শেষমেষ মেরে ফেলেছে।
মনে করা হত ক্যাপুর (দলপতি) তারা সিংহাসনের মালিক। কিন্তু স্বয়ং মালিকই দেরাজের পাশে বসে আছে। মনে হচ্ছে উত্তপ্ত বারুদের স্কুপে আছে। তাই আপাততঃ প্রচুর খুশি। আর এদের সাথে মিশে আছে রোমেলের সেই রহস্যময় ধন ভাণ্ডার, যা লুকানো আছে বাসটিয়ারের কাছে সমুদ্রের মধ্যে। ১৯৪৮ সালে ফ্লাই নামে একটি চেক ডুবুরি চেষ্টা করেছিল কেমন করে সন্ধান করলে সেই গুপ্তধনের উদ্ধার করা যাবে। তখন ইউনিয়নে সাবধান করে দিল–বাছা তুমি দূরে থাক। কিন্তু ফ্লাই কোন কথা শোনেনি, ফলে সে একদিন গুম হয়ে গেল। অতি সম্প্রতি বাসটিয়ার কাছে আঁদ্রে ম্যাট্রি নামে একটি নবীন ডুবুরির মৃতদেহ নর্দমার পাশে পাওয়া গিয়েছে। বুলেটের আঘাতের জন্য দেহটা ঝাঁঝরা হয়ে গেছে।
একটি লোক মদের দোকানে বসে খুব বড় বড় কথা বলছিল যে সে ধনরত্নের খোঁজ পেয়ে গেছে। আর খুব তাড়াতাড়ি সে সমুদ্রের নিচ থেকে তুলে আনবে। বন্ড কিন্তু এসব ঘটনার সব কিছুই জানে। তাছাড়া এদের অনেক কু কীর্তির কথাও সে অনেক জেনেছে। তার দুই একটি কথাও সে বলতে পারে মার্ক অ্যানজেকে, কিন্তু সে তার আজ অতিথি তাকে সে ভয় দেখাতে চায় না। তবে এই বিরাট ট্রাকে যে তার চলমান হেডঅফিস, এটা কিন্তু তার জানার বাইরে। একটা জিজ্ঞাসা কিন্তু তার জিবের ডগা থেকে বারে বারে ফিরে যাচ্ছে। সেটা হল, তাকে ও মেয়েটিকে কেন ধরে আনছে না এরা? কি এদের আসল উদ্দেশ্য? বন্ড খুব আস্তে করে তার গ্লাসে চুমুক দিল আর অতি মন দিয়ে তার মুখটা লক্ষ্য করছে।
মার্ক-অ্যানজে বলল, চমৎকার সুন্দর ইংরেজি, তবু কিন্তু মাঝে সাজে গণ্ডগোল হয়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে কে যেন বেশ করে শিখিয়ে দিয়েছে কিন্তু তেমন ভাবে অভ্যস্ত হয়ে যায়নি। মাইডিয়ার কমান্ডার। যা কিন্তু আমি তোমার সাথে সমালোচনা করব, তার সবটাই থাকবে তোমার। হারকোস ওডনটনের ঠিক পেছনে। তুমি ঠিক মত বুঝতে পারলে না, তাই না? তবে তো আমাকে মুখ খুলতেই হবে, কারণ তোমার শিক্ষা সম্পূর্ণ হয়নি। ক্লাসিক গ্রীক মানে দাঁতের বেড়া–এটা তোমাদের অতি গোপনীয় গ্রীক ভাষা। কি এবার বুঝলে তো? আমি কয়েকটি অতি একান্ত ভাবে ব্যক্তিগত বিষয় সম্বন্ধে কিছু বলতে চাই–সেটা হল টেরেসার কথা, যে আমার মেয়ে।
হা সৃষ্টিকর্তা। ব্যাপার স্যাপার ক্রমশই জটিল হয়ে উঠছে। বন্ড তার অবাক হয়ে যাওয়াটা লুকিয়ে ফেলে বলল, তাহলে তো অবশ্যই দাঁতের বেড়া। ধন্যবাদ, তবে তো তোমার সব কথা এবং তোমাকেও বিশ্বাস করতে পারি। যদি ও তোমার কাজটাই হচ্ছে বিশ্বাস রক্ষা আর তোমার মুখেও স্পষ্টই দেখা যাচ্ছে। একবার মাত্র আমি বিয়ে করেছিলাম একটি ইংরেজ গভরনেসকে। ভাবালু মেয়ে। কাণিকা এসেছে ডাকাতের গল্প শুনে নিজে ডাকাত দেখবে বলে। মার্ক একটু সামান্য হাসল। পরে আমাকে সে বলেছে যে তার অচেতন মনের ইচ্ছে তাকে পেয়ে বসেছে যে তাকে কেউ এসে ধর্ষণ করুক। আর এক পাহাড়ের তার সাথে আমার প্রথম দেখা হয়। আর ধর্ষণটা আমিই করে ফেললাম। আর সেই সময় পুলিশ আমার পিছেন ধাওয়া করেছিল। প্রায় সারাটা জীবনই আমাকে খুঁজে বেরিয়েছে। তার উপর মেয়েটিও আমার কাছে একটা কঠিন সমস্যা হয়ে দাঁড়াল, কেন না বুঝতে পারলাম সে আমাকে ছেড়ে দেবে না। ছটফটে মেয়ে, কোন সংস্কার ও বিধি-নিয়ম মানত না, আর ভালভাসত সে গুহা থেকে গুহার মধ্যে বেড়াতে আমার সাথে। ভেড়ার চামড়া ছাড়ানো, রান্না করা সব কিছুই শিখে নিয়েছিল। আর ঐ সামান্য কয়েকটা মাসের দুর্যোগের সময় সমস্ত কাজের মাঝে ওর সাথে থেকে ওকে ভালবেসে ফেললাম। সেই দ্বীপ থেকে পালিয়ে এসে আমরা মার্সাই চলে এলাম। আর সেখানেই আমি ওকে বিয়ে করলাম। বন্ডের দিকে তাকিয়ে তার কথা থামাল। ভালবাসার পরিণতি হল টেরেসা। আমার একমাত্র সন্তান।
আমার স্ত্রী আজ দশ বছর হল মারা গেছে।
সুইজারল্যান্ডে টেরেসা লেখাপড়া শিখেছে। আর ততদিনে আমি একজন নামকরা বড়লোক। ওরা আমাকেই ক্যাপু নির্বাচন করল, এই ইউনিয়নের কর্তা। আমি বিশাল অর্থের মালিক হলাম। আর টেরেসা, কি আর বলব। টেরেসা আমার চোখের মণি। সে যা আমার কাছে চেয়েছে আমি সবই দিয়েছি। কিন্তু স্বভাবটা তার বন্য পাখির মতই রয়ে গেছে। আর সংসার বলতে কিছুই নেই। আমিও সর্বদা ঘুরে বেড়াচ্ছি, তাই দেখাশোনার কোন ব্যাপার নেই।
