বন্ড ওকে কাছে টেনে নেয়। টিফানী জানলা দিয়ে তাকিয়ে দেখে সীমাহীন নীল পানি, কয়েকটি সমুদ্র চিল, বন্ড ওর ঠোঁট দুটোতে প্রগাঢ় এক চুম্বন এঁকে দেয়। টিফানী কোন সাড়া দেয় না, ছড়িয়ে দেয় নিজেকে। বন্ডের কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে বলে, যাকে তোমরা বল কোন পুরুষের সাথে রাত কাটানো তা আমি কখনো করিনি। এখন চল, তোমার গোসলের সময় হয়েছে।
বন্ড ওকে কেবিনে পৌঁছে দেয়। তারপর হট সল্টে বাথ আর কোড ডোমেস্টিক শাওয়ার নেয়। তারপর বিছানায় চিৎ হয়ে শুয়ে শুয়ে ও টিফানীর কথাগুলো মনে করে হাসে। বন্ড গ্লাসে শ্যাম্পেন ঢালে। তারপর টেলিফোন তুলে নেয়।
টিফানী?
খুশির নরম হাসি ওর কানে ভেসে আসে।
.
কাজ পরে
প্রেমে একটি বিশেষ মুহূর্ত ভারি রোমাঞ্চকর। যখন কোন রেস্টুরেন্ট বা থিয়েটারে ছেলেটি প্রথম মেয়েটির জয় হাত রাখে, মেয়েটি যখন ছেলেটির হাতের ওপর নিজের হাতে চেপে ধরে তাতেই যেন বলা হয়ে যায়, সব যা মেনে নেবার মেনে নেয় দুজনে, অলিখিত শর্তে সই করে দেয়।
রাত ১১টা। জাহাজ আটলান্টিকের কালো বুক চিরে চলেছে। গোলাপী আলোর আড়ালে দুটি নরনারী বসে আছে। ওয়েটার বিল নিয়ে আসে। দরজার দিকে এগিয়ে যেতে যেতে টিফানী বন্ডের মুখের দিকে চোখ তুলে সুখের হাসি হাসে। প্রোমেনেড ডেকে যাবার জন্য ওরা লিফটে চড়ে। তারপর ওরা স্মোকিং রুমে গিয়ে ঢোকে। বন্ড বলে, আমায় কিন্তু এ অকশানে নম্বর লেখা কাগজ কিনতে বলো না। এটা স্রেফ জুয়া। প্রায় লা ভেগাসের মতই ব্যাপারটা। স্মোকিং রুম বলতে গেলে খালি। ওরা কোণের একটা টেবিলে বসে। একটু দূরে প্ল্যাটফর্ম। তার ওপর চিফ স্টুয়ার্ড নিলামওয়ালার সাজসরঞ্জাম–নম্বর লেখা কাগজের বাক্স, হাতুড়ি, পানির জগ, সব সাজিয়ে রাখে। বন্ড স্টুয়ার্ডকে অর্ডার দিতে না দিতেই সিনেমা হলের দরজা খুলে যায় আর কম করে একশ লোক ঢুকে পড়ে স্মোকিং রুমে।
নিলামদার লোকটি মিডল্যান্ড-এর এক ব্যবসায়ী। টেবিলে হাতুড়ি ঠুকে সবাইকে চুপ করতে বলে ও ঘোষণা করে, ক্যাপ্টেন মনে করেন পরদিন জাহাজ ৭২০ থেকে ৭৩৯ মাইল চলবে। এই নিয়মে বাজি ফেলে নিলাম ডাকা হবে। জাহাজ ৭২০ মাইলের চেয়ে কম গেলে তাকে বলা হবে নো ফিল্ড। ৭৩৯ চেয়ে বেশি গেলে সেটা হবে হাইফিল্ড।
খেলা শুরু করার নম্বরটি হল ৭৩৮। একেবারে টপ নম্বর। ৫০ পাউন্ডে ৭৩৮ নম্বর টিকিটটা নিলাম হয়ে গেল। বন্ড বলে লোকটা পাকা নিলামওয়ালা। হাই ফিল্ডে আজ প্রচুর টাকা খসবে। সবাই আশা করবে আবহাওয়া যখন ভাল, তখন ৭৩৯ মাইলের বেশি জাহাজ যাবে। পরের টিকিটটা ৯০ পাউন্ডে একটি সুন্দর মেয়ে পেয়ে যায়। টিফানী বন্ডকে একটা কিনে দেবার জন্য বলে। বন্ড স্টুয়ার্ডকে ডাকে। স্টুয়ার্ড নিয়ে চলে যায়। নিলামদার গলা তোলে সবাই নিশ্চুপ। হাই ফিল্ড না লো ফিল্ড, এর ওপর ১০০ পাউন্ডের বাজি ধরা আছে তারপর থেকে ডাক শুরু করতে হবে।
বন্ডের টেবিলের কাছাকাছি এক পুরুষকণ্ঠ শোনা গেল ১৫০। বন্ডের মনে হল লোকটাকে যেন চেনা চেনা লাগছে। মনে হচ্ছে ব্রুকলিনের বাসিন্দা। নিলামদার ৫০০ পর্যন্ত দর পেয়ে গেল। স্মোকিং রুমের ভিড়ে মুহূর্তে নীরবতা নেমে আসে, লো ফিল্ড শোনার পরে। নিলামদার হাতুড়ি ঠোকে গোলমাল থামাবার জন্য।
টিফানী বন্ডের মুখের কাছে মুখটা এনে বলে, আর ভাল লাগছে না, এখান থেকে চল। কোন কথা না বলে ওরা উঠে পড়ে। ওরা টিফানীর কেবিনের দরজার সামনে পৌঁছায় কিন্তু টিফানী বলে এখানে নয় তোমার ঘরে…। বন্ড নিজের কেবিনে ঢুকে দরজাটা বন্ধ করে দেয়। তারপর দুজনে দুজনের বাহুতে মিশে যায়। বন্ড একহাতে ওর মুখটা তুলে ধরে আর এক হাতে টিফানীর পোশাকের পেছনের ডিপ ফাসনার ধরে টান দেয়। টিফানী পোশাকটা খুলে ফেলে। ঘন ঘন চুমোর ফাঁকে ফাঁকেই বলে আমি সব চাই জেমস…। বন্ড নিচু হয়ে উরুর নিচে হাত দিয়ে টিফানীকে তুলে নেয়।
.
অবিনশ্বর মৃত্যুর সন্ধানে
টিফানীর কণ্ঠস্বর : আটলান্টিকের নিঃশ্বাস আর জাহাজের দোলানি, বন্ডকে ঘুমের মধ্যে দোলা দিতে থাকে। তারপর অন্ধকারে কেবিনে বেজে ওঠে সেই জরুরী টেলিফোন। বন্ড রিসিভারটা তুলে নেয়। ভালবাসার সবটুকু আকুল উত্তেজনা, সবটুকু সৌরভ যেন মিলিয়ে যায় রূঢ় এক ধাক্কায়। সে আলো জ্বালে, বিছানা থেকে নেমে সোজা বাথরুমে গিয়ে শাওয়ার খুলে দেয়, দরজায় টোকা পড়ে। ও তারটা নিয়ে টেবিলে বসে সিগারেট ধরায়, ধীরে ধীরে কথাগুলোর মানে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গায়ে কাঁটা দেয়।
তারটা পাঠিয়েছে চিফ অফ স্টাফ ও মেযে-র অফিসে গোপন তল্লাসি চালিয়ে এ-বি-সি-র নামে কুইন এলিজাবেথ থেকে উইন্টের পাঠানো একটা তার পাওয়া গেছে। তাতে জাহাজে তোমার ও কেসের উপস্থিতির কথা জানিয়ে নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। উত্তরে এ-বি-সি উইন্টকে, কেসকে হত্যা করতে নির্দেশ দিয়েছে। পারিশ্রমিক বিশ হাজার ডলার। সম্ভবত তল্লাশীর ফলে সতর্ক হয়ে গিয়ে সেও কাল প্যারিস চলে গেছে। বসকম ডাউনে আর.এ.এফ ক্যানবেরা তোমাকে আগামীকাল রাতে সিয়েরা লিয়ান নিয়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করবে। তবে স্প্যাঙ্গলড মবের কেউ এই জাহাজে আছে। ছোঁ মেরে তুলে নেয় টেলিফোনটা, মিস কেস, প্লীজ!
টিফানীর বিছানার পাশে টেলিফোনটা বেজেই যায়। বন্ড ফোনের রিসিভার নামিয়ে ঘর থেকে ছুটে বেরিয়ে যায়। কেবিন খালি, কেউ নেই। টিফানীর ব্যাগটা দরজার কাছে কার্পেটে পড়ে আছে, ব্যাগের জিনিসপত্র সব চারদিকে ছড়ানো। টিফানী ঘরে ঢুকেছিল, লোকটা হয়তো দরজার আড়ালে অপেক্ষা করছিল, ঢোকার সাথে সাথে ঘা বসিয়েছে। বাথরুমেও কেউ নেই। কেবিনের ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকে বন্ড। হিম হয়ে যায় ওর। করিডোর দিয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে বন্ড ঘড়ি দেখে, রাত তিনটে। ক্যাপ্টেনকে খবর দিলে এখনই বন্ডকে সন্দেহ করবে সবাই। দরজাটা বন্ধ করে প্যাসেঞ্জার লিস্টটা টেনে নিয়ে দেখে, এ-ফর্টি নাইন। ঠিক নিচের ডেকে উইন্টার। এখন হঠাৎ বন্ড-এর মন কম্পটোমিটার যন্ত্রের মত কাজ করতে শুরু করে দেয়। উইন্ট এবং কিড। লন্ডন থেকে যে বি-ও-এ-সি প্লেনটা ছেড়েছিল তার সেই দুজন যাত্রী। টিফানীর সেই গুপ্ত সঙ্গী দুজন। ডেট্রয়েটের দুই মাস্তান।
