রিসিভার নামিয়ে রেখে বন্ড মাথায় একরাশ চিন্তা নিয়ে হাঁটতে শুরু করল। বাড়ি ফিরে বিছানায় শুয়ে কড়িকাঠের দিকে তাকিয়ে থাকে। হঠাৎ লিটারের পায়ের আওয়াজ পায়। ওরা লন পেরিয়ে একসাথে স্টুডিল্যাকে গিয়ে ওঠে। খানিক গিয়ে লিটার ওকে সব কিছু জানায়। বলে, হেড অফিসে ফোন করে সে জেনেছে যে, ভেগাসে গিয়ে যেভাবেই হোক আসল শাই-স্মাইল-কে ওরা কোথায় পুঁতে রেখেছে, সেটা খুঁজে বের করতে হবে।
তুমিও তাহলে লা-ভেগাসে যাচ্ছ? অদ্ভুত সব যোগাযোগ বলতে হবে। শেডী ট্রীর সাথে বন্ডের যে সব কথা হয়েছিল সব কিছু সে লিটারকে খুলে বলে। লিটার জানায়, ওখানে একটা জানাশোনা লোক আছে তাকে বলে দেব যে তুমি যাচ্ছ। সে তোমার মদত করবে। আর কোথায় কি ফাঁদ পাতা আছে, সে সবই বলে দিতে পারবে। সে তার হুইস্কিতে চুমুক দেয়। এবং আরো বলে, শোন বন্ড, ভেগাসে গিয়ে যেন যা-তা কাণ্ড করে বোসো না! ওরা অতি ভয়ংকর জীব। ভীষণ ওদের কার্যকলাপ। এরা প্রত্যেকটি তাস ভোলা, দান দেওয়া একেবারে নিখুঁত করে ক্যামেরায়। ধরে রাখে। ডিলার জানে এসব ক্যাসিনোয় প্রত্যেকটা খুঁটিনাটি জিনিস যন্ত্রে আর ইলেকট্রিকে চলে। এক গন্ধ ছাড়া। সুতরাং একটু এধার-ওধার মানেই বিপদ।
বন্ড হেসে বলে, তোমার এই উপদেশ আমার মনে থাকবে। কিন্তু আমি যাচ্ছি ওদের চোরাপথে আরেক ধাপ নামব। বলে। দরকার হলে একেবারে সেরাফিখো স্প্যাঙ্গ-এর মুখোমুখি হতে হবে। লিটার আরো বলে, একটা জিনিস মনে রেখো, দুবৃত্তদের খপ্পরে পড়লে তুমি কোন উকিল বা তোমার ব্রিটিশ কনসাল-এর সাহায্য কিছুই পাবে না। আইনের ব্যাপার বলতে ওখানে স্রেফ বন্দুকের আইন।
হুইস্কি পেলে বন্ডের মন ভাল হয়ে যায়। লিডার উঠতে উঠতে বলে, চল, আমরা ফিরি। গিয়ে তুমি শুয়ে পড়। তোমার চোখের বিশ্রাম দরকার। ওই চোখেই তো লক্ষ্য ভেদ করতে হবে।
.
টাকা কামাবার রাস্তা
ঘন নীল প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে প্লেনটা হলিউড পেরিয়ে ছুটে চলল ক্যাডনে পাশ-এর দিকে। বন্ডের চোখের সামনে দিয়ে ছবির মত সরে সরে যাচ্ছিল সারি সারি অসংখ্য পাম গাছ ঢাকা পথ। সুন্দর সুন্দর বাড়ির সামনে পান্না রঙের ছড়ানো লন।
বারোস্টো হল জংশন। ওরা তার ওপর দিয়ে উঠে গেল। এখান থেকে সরু বেণীর মত সান্টা ফে-র একটা লাইন কলোরেডো মালভূমি পেরিয়ে ক্যালিকো পাহাড়গুলোকে ডানদিকে রেখে মরুভূমিতে গিয়ে মিশেছে। প্লেন আস্তে আস্তে নিচের দিকে নামতে থাকে। প্লেন থেকে বিমান বন্দরের টারমিনাল বিল্ডিং প্রায় পঞ্চাশ গজ। দুটো জায়গাই ঠাণ্ডা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। কাঁচের দরজাটা লোক দেখে এমনই খোলে আবার বন্ধ হয়। ফটো ইলেকট্রিক সেল-এ চলে। বন্ড যেতে দরজাটা এমনিই খুলে যায় আবার বন্ধ হয়। হঠাৎ বন্ডের চোখে পড়ে একটা বড় মেশিন, তার ওপরে লেখা রয়েছে অক্সিজেন বার।
বন্ড গুটিগুটি গিয়ে শুটে একটা কোয়ার্টার ফেলে। তারপর কুঁজো হয়ে দাঁড়ায়। চওড়া একটা কালো রবারের পটি তার নাক ঢেকে ফেলে। নির্দেশানুযায়ী একটা বোম টিপে ধরে পুরো এক মিনিট নিঃশ্বাস নেয় আর ছাড়ে। এক মিনিট পরে ক্লিক শব্দ হয় মেশিনে। বন্ড খাড়া হয়ে দাঁড়ায়। শুধু মাথাটা একটু যেন ঘুরে ওঠে। বন্ড তার স্যুটকেস তুলে নিয়ে সুইং ডোর ঠেলে বেরিয়ে পড়ে। বাইরে গনগনে গরম।
পাশ থেকে একটা গলা : আপনি টায়ারার যাচ্ছেন? ভারী চেহারার একটা লোক।
বন্ড উত্তর দেয়, হ্যাঁ।
বেশ তাহলে চলুন। তার পিছু পিছু বন্ড এগিয়ে চলল। দারুণ দেখতে একটা শেভ্রলে। বন্ড হাতের স্যুটকেস পিছনের সিটে ছুঁড়ে দিল। গাড়ি বিমান বন্দরের হাতা ছেড়ে রাস্তায় গিয়ে পড়ে। তারপর বাঁ দিকে বাঁক নেয়। বন্ড বুঝতে পারছিল যে, লোকটি গাড়ির আয়নার ভিতর দিয়ে তাকে দেখছে। বন্ড লোকটির পথ আর গাড়ির নম্বর লাইসেন্স দেখে নেয়। আর্নস্ট কিউরিও নং ২৫৮৪। সাথে একটা ছবি। তার দিকে তাকিয়ে আছে।
বন্ড জিজ্ঞেস করে, তুমি বোধহয় ফোলিকস্ লিটারের বন্ধু? ড্রাইভার ঘাড় কাৎ করে বলে, হ্যাঁ।
আপনি কি বেশিদিন থাকবেন?
বন্ড জানায়, বলতে পারছি না, তবে কয়েকদিন তো বটেই।
আপনাকে বলি, শুনুন। কিছু মনে করবেন না। আমি বাগে পেয়ে দাও কষছি। আমদের একসাথে কাজ করতে গেলে আমার সাথে ফুরানে আগে রফা করতে হবে। ধরুন দিন পিছু পঞ্চাশ ডলার, হোটেলের বেয়ারারাও বুঝবে আপনি আমার গাড়ি ভাড়া করেছেন। নইলে ওরা সন্দেহ করবে। এ ছাড়া আর কিভাবে করা যায়, বুঝতে পারছি না। লোকটিকে দেখে বন্ডের পছন্দ হয়েছিল। সে বলল, ঠিক আছে, ওই পাকা কথাই রইল।– ড্রাইভারটি আবার বলে, টার্মিনালে একটা লোককে ছোঁক ছোঁক করতে দেখছিলেন? বগলে একটা বাক্স ছিল চামড়ার।
বন্ডের তখনই মনে পড়ে গেল, অক্সিজেন বারের কাছে লোকটি তাকে লক্ষ্য করছিল। হ্যাঁ দেখেছিলাম। তখন বুঝতে পারে সেই অক্সিজেন তাকে মুহূর্তের জন্য বেশ করেছিল।
ড্রাইভারটি বলে, তাহলে দেখুন গিয়ে লোকটি এতক্ষণ আপনার ছবির দিকে তাকিয়ে বসে আছে। মোল মিলিমিটারের ক্যামেরা ভরা থাকে ওই বাক্সে। শুধু মুখের চেনটা ফাঁক করে বগলে চাপ দিলেই হল। পঞ্চাশ ফুট দূর থেকে ছবি তোলা যায়। আজ সন্ধ্যের মধ্যে ছবি চলে যাবে হেড কোয়ার্টারে। সহজ ফাঁদে যারা পা দেয় তাদের সনাক্ত করার সেখানে ব্যবস্থা আছে। কোটপরা কাউকে দেখলে তার ওপর বিশেষ নজর রাখবেন।
