বন্ড ভাল করে গোসলের জায়গাটা দেখতে থাকে। চৌকো ধরনের পাকা ঘর। প্রায় বিশটার মত কফিন রয়েছে। প্রায় প্রত্যেকটাকে লোক শুয়ে আছে। তবে একটা কফিন খালি রয়েছে। বন্ড বুঝতে পারে এইটিই তার কপালে নাচছে। ঘরের মাঝামাঝি অনেকগুলো বালতিতে ছাপাছাপি কাদা মাটি। গরম ধোয়া উঠছে তা থেকে। নিগ্রোটি দুটি বালতি নিয়ে কফিনের মধ্যে ঢেলে দেয়, নাড়াচাড়া করতে থাকে। ঘরে শুধু হোসপাইপে পানির শব্দ।
এবার নিগ্রোটি কফিন বাক্সের কাছে গিয়ে হাত দিয়ে মাটি পরখ করে দেখে তারপর বন্ডের দিকে ফিরে বলে, আসুন আপনি।
বন্ড তার সামনে পরিপূর্ণ উলঙ্গ হয়ে দাঁড়ায়। লোকটি এবার বন্ডকে শুয়ে পড়তে বলে।
বন্ড বিরসমুখে বাক্সের মধ্যে ঢুকে শোয়। গরম কাদার প্রথম স্পর্শ পায় সে। তারপর আস্তে আস্তে শরীরটা টানটান করে।
চকলেটে-বাদামীতে মেশানো পুরু থকথকে আঠালো মাটি। গরম ভাপ এসে নাকে লাগে। নিগ্রোটির চকচকে পিছল হাত তার শরীরের ওপর দ্রুত কাজ করে চলে। তার সাদা গায়ে কাদা আর মাটির পুরু প্রলেপ। শুধু মুখে আর বুকটা তখনো সাদা। নিগ্রোটি তখন ঝুঁকে পড়ে চাদরের খুঁটগুলো জড়ো করে বন্ডের শরীরে হাতে ভাল করে জড়িয়ে দেয়। বন্ডের মাথার কাছে দেওয়ালে একটি প্লেট ঝুলছিল, সেটাকে নামিয়ে তাতে সময় লেখে কুড়ি মিনিট। নিগ্রোটি এবার অন্য কাজে চলে যায়। ঘড়ির কাঁটাটি একটু একটু করে ঘোরে। জকিটা অত্যন্ত অশ্লীল অবস্থায় বন্ডের সামনে দিয়েই কফিনে গিয়ে ঢোকে। নিগ্রোটি হেলেদুলে কতকগুলো ভিজে ঠাণ্ডা তোয়ালে হাতে ঝুলিয়ে তার কাছে এসে দাঁড়ায়। একটা তোয়ালে বন্ডের কপালে ও চুলে পটির মত লাগিয়ে দেয়। কি আরাম! সেই মুহূর্তে বন্ডের মনে হয় সমস্ত ব্যাপারটাকে একেবারে উড়িয়ে না দিলেও চলে। বন্ড চোখ বুজে ভাবতে থাকে জকির কাছে টাকাটা সে কিভাবে চালান করবে। বাইরে ওর সাথে দেখা না করাই ভাল।
হঠাৎ সেখানে এক কাণ্ড ঘটে যায়। কঠিন গলায় এক ভয়ংকর আদেশ আসে, যে যেখানে আছ, দাঁড়াও। কেউ নড়বে না। বাইরের দরজাটা খোলা। একজন লোক বন্দুক হাতে দরজা আগলে দাঁড়িয়ে। আর একজন লোক ভেতরে এগিয়ে আসে। তাদের দুজনের হাতেই বন্দুক। ঘরে কোন সাড়াশব্দ নেই। কেবল গোসলখানায় কলের পানির শব্দ হচ্ছে আর গোসলরত কয়েকজন উলঙ্গ লোক।
বন্দুক হাতে লোকটি নিগ্রোটির সামনে এসে বন্দুকের কুঁদো দিয়ে পেটের মধ্যে সজোরে মারল। তারপর বলল, জকিটা কোথায়? তার মনে রাগ এবং ঘৃণা। নিগ্রোটি মুখে গোঁ-গোঁ আওয়াজ করতে করতে ডান হাতটা তুলে দেখিয়ে দেয়। লোকটি ঘুরে যেখানে বন্ড শুয়েছিল সেখানে এসে দাঁড়ায়। তার পাশেই টিংগালিং বেল। তারপর একলাফে টিংগালিং-এর বাক্সের ডালায় চড়ে বসে। ঝুঁকে পড়ে ওর মুখের ওপর লোকটি বলল, এই যে টিংগালিং বেল, সবাই বলেছে তুমি বিশ্বাসঘাতকতা করেছ। ওরা তোমার ঘর খানাতল্লাশি করেছিল। সেখানে আলোর সুইচের ভেতর টাকা পেয়েছে। কোত্থেকে এল সে টাকা? সাথে সাথে এক প্রবল চড়। বাক্সের ভেতর থেকে চাপা কান্না এবং ভয়ার্ত চিৎকার শুনতে পায়। জকিটা ডুকরে কেঁদে ওঠে। সে বলে, ও টাকাটা আমার টাকা। তাছাড়া আমার কোন দোষ নেই। আল্লাহর দোহাই, আমার কথা বিশ্বাস করুন।
লোকটি রাগে চাপা গর্জন করে। সে জকিটার মুখে জ্বলন্ত চোখ বসিয়ে দিয়ে বলে, ইদানীং তোমার বড় বড় বেড়েছে। তারপর পিছু হটে ফুটন্ত এক বালতি কাদা তুলে নিয়ে জকির সামনে এসে দাঁড়ায়। খানিকটা থত্থকে জিনিস বালতি থেকে গড়িয়ে পড়ে। লোকটি ঢেলেই সরে যায়। বন্ড এই দৃশ্য দেখে শিউরে ওঠে। দরজার কাছে গিয়ে লোকটা ঘুরে দাঁড়ায়, কোন চালাকি নয়। ফোন কেটে দেওয়া আছে। তার হাসিও ভয়ংকর।
দড়াম করে দরজা বন্ধ হয়ে যায়। শুধু পানির শব্দ ছাড়া আর কোন শব্দ নেই।
.
ত্রুটি–বিচ্যুতির অন্তরালে
বন্ড ঘরময় পায়চারী করছে। লিটার হোটেলের ঘরে বন্ডের চেয়ার বসে। বন্ড বলছে, জঘন্য ব্যাপার! সকলে এক সাথে চিৎকার করছে। নিগ্রোটি তখন মেঝেতে পড়ে কাতরাচ্ছে। দুটো ছোকরা ছুটে এসে টিংগালিং-এর বাক্সের ডালা। খুলে গায়ের জড়ানো কাপড় খুলে তাকে নিয়ে যায় কলের তলায়। সমস্ত মুখ জ্বলে গিয়ে ফুলে উঠেছে। সে এক বীভৎস ব্যাপার। নিগ্লোটার চোখেমুখে পানি দিতে তার জ্ঞান ফিরে আসে। বেশি আগ্রহ না দেখিয়ে আমি বন্দুকধারী লোক। দুটোর খোঁজখবর করার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু কেউ কিছুই জানে না। লিটার জানতে চায় ঐ লোক দুটোর বিশেষ কিছু নজরে পড়েছে কি-না।
বন্ড যেটুকু লোক দুটোকে দেখেছে তাতে যা বর্ণনা দিল, তাতে লিটার বলল, বুঝেছি ওরা দুজন হল স্প্যাঙ্গদের প্রধান চাই। একজন হল উইল্ট আর একজন হল কিড। লিটার আরও বলল যে, পুলিশকে ব্যাপারটা জানিয়ে রাখবে। সে উঠে দরজার কাছে যায়, বন্ডকে বলে যায় যে, ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই সে ফিরে আসবে। বন্ড গায়ের জামা খুলে কলঘরে ঝরণার তলায় গিয়ে বসে। তারপর গোসল সেরে রিসেপশন রুমে গিয়ে শেডী ট্রীর লাইন বুক করে। কিছুক্ষণ পরে ফোনে শেডীকে জানিয়ে দেয় যে, সে শাই-স্মাইলেন টাকা পায়নি। অন্যদিক থেকে কণ্ঠস্বর ভেসে আসে, জানি, জকিটা ডুবিয়েছে। তারপর, ঠিক আছে, আমরা আবার রামসে শুরু করি। আমি ১,০০০ টেলিগ্রাম মানিঅর্ডার করছি, যে ১,০০০ তুমি আমার কাছ থেকে জিতেছ। লা-ভেগাসে তুমি বাকিটা পেয়ে যাবে। নিউইয়র্কে এসে তুমি একটা। প্লেন নেবে। টিকিটের টাকা তুমি আমার নামে চালান করে দেবে। আমি সেটা দিয়ে দেব। টায়ারায় তোমার থাকার ব্যবস্থা থাকবে। বৃহস্পতিবার রাত ১০-০৫-এ টায়ারার যেখানে বার আছে তার পাশের ঘরটায় যাবে। সেখানে দেখবে। তিনটা জুয়ার টেবিল। তুমি মাঝেরটায় বসে এক হাজার পাঁচ গুণ খেলবে। তারপর আর খেলবে না, টেবিল ছেড়ে উঠে যাবে। কাছাকাছি থাকবে এবং কি করতে হবে পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।
