প্রচণ্ড শব্দে বেল বেজে ওঠে; বিদ্যুৎ ঝলকে ওঠে হাওয়ায়। উপস্থিত দর্শকদের চাপা উত্তেজনা ও চাপা গোলমাল। তারপর অনেকগুলো ঘোড়ার খুর যেন বাতাসের আগে ছুটে পেরিয়ে যায় গ্রান্ড স্ট্যান্ড এর দিকে। তাদের পায়ের দাপে মাটি ছিটকে উঠতে থাকে। ১০ নম্বর কালো ঘোড়াটা বাইরের। যে সব চেয়ে এগিয়ে আছে, কিন্তু না, মোড় নেবার সময় ১নং এগিয়ে গেল দশ নম্বর আছে তিন জনের পরে। বাকের মুখে ১ নম্বর তিন নম্বরকে মেরে বেরোলো দশ নম্বর। তার পরেই। খানিকপরে শাই স্মাইল আর এক নম্বর প্রায় সমান সমান। ওরা শেষ পাকের দিকে আসছে। উত্তেজনায় ওদের দম বন্ধ হয়ে আসছে। মোড়ের মাথায় দশ নম্বর এগিয়ে যায়। তিন নম্বর ঠিক দাগ বরাবর ছুটছে। দর্শকরা। তাদের প্রিয় ঘোড়ার জন্য চিৎকার করছে। বেল তারপর একটু একটু করে সেই ধূসর ঘোড়াটার দিকে সরতে থাকে। বেল-এর মাথা ঘোড়ার ঘাড়ে গোঁজা কিন্তু মুখটা ফিরিয়ে আছে বাইরে। যাতে সে বলতে পারে যে, দাগের মধ্যে ধূসর। ঘোড়াটাকে সে ঠাহর করতে পারেনি। দুটো ঘোড়াই কাছাকাছি আসে তারপর হঠাৎ শাই স্মাইল-এর মাথা তিন নম্বরের। মাথাটা ঢেকে দিল। সাথে সাথে প্লে-অ্যাকশন এর জকি রেকাবে পা দিয়ে উঠে দাঁড়ায়। আইন ভঙ্গ করেছে শাই। স্মাইল। সেই অবসরে শাই স্মাইল সোঁ সোঁ করে এগিয়ে যায়।
দর্শকদের মধ্যে থেকে ক্রুদ্ধ চিৎকার ওঠে। বড় হাতের দূরবীন নামিয়ে নেয়। বিরাট বাদমী ঘোড়াটা ওর সামনে দিয়ে ঝড়ের বেগে ছুটে খেলা শেষ করে। জকিটা দারুণ কায়দা করেছে। ফলাফল কি টাঙায় বন্ড তার জন্য অপেক্ষা করে। ১০ নং শাই স্মাইল ফাইভ লেংথস। ৩ নং প্রে-অ্যাকশন আধা লেংথ। ১ নং কাম এগেন, থ্রি লেংথস। ৭ নং পিরানদেলো থ্রি লেংথস।
হঠাৎ জনতা যেন আনন্দে ফেটে পড়ে। শাই-স্মাইলের নামের পাশে সাদা কালোয় আপত্তি কথাটা লেখা হয়েছে। লাউড স্পীকারে ঘোষণা করা হয়, কেউ যেন টিকিট নষ্ট না করে।
বন্ড-এর হাত ঘামছিল। বিচারকরা এবারে ফিলমগুলো চালিয়ে চালিয়ে দেখবে। হঠাৎ করে লাউড স্পীকারে ঘোষণা। করা হয় যে, ১০ নম্বর ঘোড়া শাই-স্মাইলকে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে এবং তিন নম্বর প্লে অ্যাকশনকে বিজয়ী বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
সমবেত দর্শক উল্লাসে ফেটে পড়ে। বন্ড আড়ষ্টভাবে উঠে বার-এর দিকে হাঁটতে থাকে। এরপর টাকা দেওয়া। বুরবো আর তার সাথে পানি খেতে খেতে একটা মতলব বার করা যাবে। কি করে টিংগালিং বেল-কে টাকাটা পৌঁছানো যায়। এ ব্যাপারে তার একটু কিন্তু কিন্তু রয়েই গেছে। তবে সারাটোগায় কেউ তাকে চেনে না। এরপর কিন্তু পিংকারটন-এর হয়ে কাজ করা তাকে বন্ধ করতে হবে। শেডী ব্রীকে জানাবে তার পাওনা পাঁচ হাজার সে পায়নি। টাকার জন্য খুব ব্যস্ত হবে সে। এরপর শুরু হবে বন্ড এর নিজের খেলা।
ভীড়ে ঠেলে বন্ড বার-এর দিকে এগোয়।
.
‘রাগ–সারানোর কাদা এবং গন্ধক অবগাহন’
ছোট একটি লাল বাস, ড্রাইভার ছাড়া বাসে আর একজন নিগ্রো স্ত্রীলোক। বাসের গায়ে লেখা–রোগ-উপশমের কাদা এবং গন্ধক গোসল। সামনের কাঁচের ওপর লেখা–ঘণ্টায় ঘণ্টায় ছাড়ে। বাসটা শহরের রাস্তা দিয়ে ঘুরে ঘুরে এক কাঁকড়ে রাস্তায় পড়ে। রাস্তার দুই ধারে ফার গাছ। বাসটা যেখানে গিয়ে থামে সেখানটা কাঁকর আর আগাছায় ভর্তি। সামনেই কুণ্ডের প্রবেশ পথ। সারা জায়গাটায় গন্ধকের তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে আছে। বন্ড ঢোকবার মুখে থেকে সরে এসে কতকগুলো শুনো ফার গাছের তলায় গিয়ে এক বেঞ্চিতে বসে। বডের ভাবতে খারাপ লাগছে যে টিকিট কেটে নিজের পরিষ্কার শরীরটাকে ছেড়ে দিতে হবে ওদের হাতে। এই এঁদোপড়া ভয়ংকর জায়গায় তার শরীরটাকে নিয়ে ওরা কি করবে কে জানে।
বাসটা মর্মর শব্দ করে চলে যায়। বন্ড এখন একা। কাঠের সিঁড়ি বেয়ে সে ওপরে উঠে যায়। অন্ধকার স্যাঁতসেঁতে একটা রিসেপশন রুম। লোহার খাঁচার ওপরে কাউন্টার। বিশ্রী হাতের লেখায় সস্তা দাওয়াইয়ের একটা বিজ্ঞাপন।
জীর্ণশীর্ণ এক মহিলা বন্ডকে জিজ্ঞেস করল, বলুন, আপনাকে কি সাহায্য করতে পারি? কি গোসল করবেন? কাদা না গন্ধক?
বন্ড বলে সে কাদা গোসল করতে চায়। তারপর তার সাথের জিনিসপত্র জমা রেখে ৫০ ডলার দিয়ে একটা টিকিট কেটে গোসলের জন্য প্রস্তুত হয়। বন্ড একটা ছোট দরজা দিয়ে ঢুকে ডান দিকে ঘোরে। সিমেন্ট বাঁধানো একটা স্যাঁতসেঁতে দালানের মত। দালানের শেষ প্রান্তে সুইং-ডোর। ছাদের কাছে স্কাইলাইট। দেওয়ালের সাথে কতকগুলো সুপারি। দুজন ছোকরা ঢোকবার মুখে বসে তাস পিটছে। তাদের কোমরে স্রেফ দুটো তোয়ালে জড়ানো। শরীরে আর কিছু নেই। বন্ডকে ঢুকতে দেখে ছোকরা দুজন উঠে তার হাতে একটা চাবি দিয়ে একটা খুপরি দেখিয়ে দেয়। এই ঘরে ঢোকার আগে বন্ডের কোন ধারণাই ছিল না, এখন প্রথমেই তার মনে হল সে যেন একটা মর্গে ঢুকে পড়েছে। এক নিগ্রো বন্ডকে সাথে নিয়ে গোসলের জায়গায় হাজির হয়। সারা গায়ে মাটি মেখে উলঙ্গ হয়ে একটি লোক পড়ে আছে। আর একজন তাকে ধুচ্ছে। তার ওই হোঁতকা, রবারের মত শরীর দেখে বন্ড ভেতরে ভেতরে শিউরে ওঠে। তার বিশাল হাতে নিজেকে সঁপে দিতে হবে ভেবে সে আতঙ্কিত হয়।
