লিটার বন্ডকে বলল, ওদিকে না তাকিয়ে বরং মাঠের পিছন থেকে ওই যে ঘোড়ার সারি আসছে ওইগুলো দেখ। এইগুলো হচ্ছে উডওয়ার্ড-এর ঘোড়া। অনেকগুলো বাজি জিতবে এই খেলায়। আমি এদিক পানে দেখছি, তুমি তাকিয়ে থাক অন্যদিকে। যেন কিছুই হয়নি।
আস্তাবলের এক ছোকরা শাই-ইলকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। ঘোড়াটা এখন আস্তে আস্তে ছুটছে। আস্ত শয়তানগুলো এখন ঘড়ি বার করেছে। শাই আইল এখন ট্র্যাকের একদম শেষে। ওরা চোখে দূরবীন লাগাচ্ছে দৌড়োবার জন্য এবারে তৈরি।
বন্ড বাঁ দিকে ঘুরে দাঁড়ায়। রেলিং এর ওপর দিয়ে দেখে দু জন লোক, হাতে দূরবীন ধরা। বাদামী ঘোড়াটা বিদ্যুৎবেগে ছুটেছে। তার দাঁত বেরিয়ে পড়েছে, চোখ বড় বড়, নাক ফুলে ফুলে উঠছে, পা পড়ছে জোর কদমে। তার পিঠে ছেলেটা রেকাবে কোন মতে পা গলিয়ে বেড়ালের মত গুটিসুটি মেরে রয়েছে। মুখটাকে প্রায় খুঁজে রেখেছে ঘোড়ার কাঁধের কাছে, ঘোড়াটা শব্দে ঝড় তুলে ছুটে যাবার সাথে সাথে তার পায়ে মাটি ছিটকে ওঠে ওপরে। বন্ড এর তখন চোখ পড়ল সেই লোক দুটোর ওপর। ওরা ঘোড়ার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। তারপর ওরা একসাথে এক ঝট্রায় ওদের দুটো হাত নামিয়ে আনল। সেই সাথে হাতের স্টপ ওয়াচ বন্ধ করে দিল।
লিটার বন্ড-এর গায়ে হাত দিয়ে ইশারা করতে ওরা নির্বিকারভাবে হেঁটে গাছের তলায় রাখা গাড়ির দিকে এগোলো।
দারুণ দৌড়োচ্ছে কিন্তু, লিটার যেতে যেতে বলে। আসল শাই স্মাইলের চেয়ে ভাল। সময়টা কত লাগল জানি না কিন্তু দেখে মনে হচ্ছে জ্বালিয়ে দেবে। এখন চল খাবার ধান্ধা করি। লিটারের কি কি মতলব আছে শুনে ওরা এক সাথে প্রাতঃরাশ খেলো। তারপর বাকি সকালটা বন্ড গড়িয়ে গড়িয়ে কাটিয়ে দুপুরে খাবার নিয়ে গিয়ে বসে রেসের মাঠে।
দিনটা ছিল ভারী সুন্দর। বন্ডের বেশ লাগছিল। সারাটোগার মানুষ নিজেদের ভাষায় কথা বলছিল। বন্ড বেশ উপভোগ করছিল। এই রেসের যারা উদ্যোক্তা তাদের সংস্থা হয়তো ইংল্যান্ডের চেয়ে ভাল। ইংল্যান্ডে অনেক বদমায়েসী বীমা এবং অন্যান্য, আইনসংগত উপায়ের ফাঁকে ফাঁকে চলে।
লোকজনদের ভীড়ে হাঁটতে হাঁটতে বন্ড তার হোটেলে ফিরে যায়। তারপর ঘোড়ার যেখানে নিলাম হয় তার কাছাকাছি এক রেস্তোরাঁয় গিয়ে ঘণ্টাখানেক কাটায়। রেসের মহলের জায়গাটার খুব নামডাক। ঘোড়া যেখানে নিলাম হচ্ছে তার প্রবেশপথটা কাঠের। ওপরে সাদা রঙ করা। নিলাম যে ডাকছে সে একটা চৌকির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। যারা দর দিতে চাইছে তারা হাত তুলছে।
রোগা এক মহিলার পাশে গিয়ে বন্ড বসল। সারাটোগায় ৩৪তম বার্ষিক পশু নিলাম অনুষ্ঠানে সেই মহিলা নয়। হাজার ডলারে ২০১ নং বে কোল্ট ঘোড়াটি কিনে নিল।
এই সময় কে যেন ব্যস্ত হয়ে ঢোকে। লিটারের মুখ বন্ড-এর কানের কাছে। বলে, হয়ে গেছে তিন হাজার ডলার লাগবে। কিন্তু লোকটা বে-আইনি করতে রাজী। একেবারে বাজী জেতবার মুখে চার ফার্লং-এর মাথায় ঘোড়া সমেত দেবে ভণ্ডুল করে। চলি, কাল সকালে দেখা করব।
বন্ড ঘুরে দেখে না। একটু পরে উঠে এলম-এর তলা দিয়ে হোটেলে ফিরে যেতে থাকে। যেতে যেতে ওই টিংগালিং বেল নামে জকিটার জন্য তার দুঃখ হয়। লোকটা এক বিপজ্জনক খেলায় মেতে উঠেছে। শাই স্মাইল নামে সেই মস্ত বাদামী ঘোড়াটার জন্য তার দুঃখ হয়। এই বাজির খেলা থেকে হয়তো ওকে বাতিল করা হবে।
.
এখন যা চাই
বন্ড ধার করা দূরবীন হাতে নিয়ে স্ট্যান্ডের ওপর বসে ছিল। চোখে লাগিয়ে সে দেখতে পাচ্ছিল, শাই স্মাইল-এর মালিক খুব নরম নরম কাঁকড়া খাচ্ছে। বন্ড যেখানে বসেছিল তার চার সারি নিচে একটা রেস্তোরাঁয় দুবৃত্তটা বসেছিল। তার সামনে রোজী বাড। সেও খাচ্ছে। পিসারোকে একই সাথে বিভীষিকা আর প্রহসনের নায়কের মত দেখাচ্ছে। পয়লা রেসের যে প্রস্তুতি চলছে তার সম্বন্ধে তার বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই। রোজা বাড খেতে খেতে রেসের একটা প্রোগ্রাম তুলে নিয়ে দেখতে লাগল।
তিন নম্বর রেসেরে ফল টাঙ্গিয়ে দিল। আর আধঘণ্টা বাকি দি পারপিটুইটিজ স্টেকের খেলা শুরু হতে। দূরবীন নামিয়ে বন্ড প্রোগ্রামটা তুলে নেয়। প্রোগ্রামে লেখা আছে–দ্বিতীয় দিন। আগস্ট ৪। দি পারপিটুইটিজ স্টেক। ২৫ হাজার ডলারের বাজি। পাঁচ হাজার ডলার পাবে দ্বিতীয়, আড়াই হাজার তৃতীয় এবং ১২৫০ ডলার পাবে চতুর্থ স্থানাধিকারী। যে ঘোড়া জিতবে তার মালিককে একটা ট্রফি দেওয়া হবে।
আর পনেরো মিনিট। বন্ড ঠেস দিয়ে বসে একটা সিগারেট ধরায়। লিটার যা যা বলেছিল ঠিক সেই মত কাজ হবে। তো! লিটার জকিটার বাড়ি গিয়েছিল। নিজের লাইসেন্স দেখিয়েছিল। তারপর ওকে বাগে পেয়ে ভয় দেখিয়ে নিজের কাজ উদ্ধার করেছে। এখন শাই স্মাইল জিতলে লিটার স্টুয়ার্ডদের কাছে সব ফাঁস করে দেবে। শাই স্মাইল জিতবে। কিন্তু তাকে দৌড়ের একেবারে শেষ মুখে বাতিল করে দেওয়া হবে। বেল-এর পক্ষে কাজটা করা সোজা। মালিকদের ও বলবে একদম জেতার মুখে পাশ থেকে একটা ঘোড়া হঠাৎ তাকে রুখে দেবার চেষ্টা করেছিল। রেসে এই রকম দুর্ঘটনা হয়েই থাকে। লিটার ওকে ১০০০ ডলার এখন দিচ্ছে আর বাকি ২০০০ কাজ উদ্ধার হলে দেবে। বন্ড আবার দূরবীনটা চোখে দিয়ে সারা মাঠটা দেখতে থাকে। সিকি মাইলের মোটা মোটা মুটিগুলোতে অটোমেটিক ক্যামেরা। বসানো। সাথে সাথে সমস্ত রেসের ছবি তোলা হয়ে যাচ্ছে। বোর্ডটা আর একবার দেখে নিল বন্ড। না, অবস্থার কোন। তারতম্য হয়নি। প্রথমে আসে ১ নং ঘোড়া কাম এগেন। বড় কালো ঘোড়া বাজির দ্বিতীয় পছন্দ। আর মাঠের ও মুড়োয় সেই বড় বাদামী ঘোড়া, মুখে সাদা ছোপ এবং সোজা পা। জকির গায়ে ক্যাভেন্ডার সিল্ক এবং বুকে ও পিঠে দুটো বড় বড় কালো হীরে।
