বন্ড হা-হা করে হাসতে হাসতে বলে, আমি কিন্তু এখনো ডিনারের অর্ডার দিইনি। টিফানী বলে, দেখ বন্ড, কোন লম্বা-চওড়া খাবার খাইয়ে আমাকে তুমি বিছানার কাছে নিয়ে যেতে পারবে না। কিন্তু তুমি যখন পয়সা ওড়াতে চাইছ তখন আমি কাটলেট খেতে চাই, সাথে শ্যাম্পেন। হঠাৎ টিফানী একটু ঝুঁকে বডের হাতে হাত রাখে। তারপর বলে, কিছু মনে কর না। পয়সা ওড়াবার কথা আমি ঠিক বলিনি। আজকে আমিই তোমাকে খাওয়াচ্ছি। বউ ওর চোখের দিকে তাকিয়ে হাসে, বোকামি কোরো না, টিফানী। এই প্রথম সে ওর নাম ধরে ডাকে, আমি এই সন্ধ্যেটুকুর জন্য আশা করে বসে আছি। তুমি যা খাবে আমিও তাই খাব। আমার টাকা যথেষ্ট আছে। আজ সকালে আমি মিঃ দ্রীর কাছে বাজি জিতেছি।
বেয়ারা মার্টিনি নিয়ে আসে। আলাদা একটা পাত্রে লেবুর টুকরো। বন্ড দুটো লেবু নিংড়োয়। রসটা আস্তে আস্তে মদের সাথে মেশে। তখন গ্লাসটা সে তুলে নেয় এবং মুখের কাছে ধরে বলে, আমরা কিন্তু আমাদের এই অভিযানের সাফল্য কামনা করিনি।
মেয়েটি ঠোঁট বাঁকায়। একবারেই অর্ধেক পানীয় শেষ করে দেয়। এখনই আমি একটা বুকের ব্যথা সামলালাম। এর জন্য ধন্যবাদ দিই। কথায় শ্লেষের ভাব। একটু পরে বলে, যেমন তুমি তেমনি তোমার গলফ। আমি তো ভেবেছিলাম ইমিগ্রেশনের ছোক্রাকে তুমি কি কি মার মেরেছ সেই সব গল্প করবে। মার্টিনিটুকু নিঃশেষ করে ফেলে। আমি এই আর একটা চাই সবে আমার মৌজ লাগছে। কিন্তু তোমার পয়সা খরচ করাতে চাই না। বন্ড হোটেলের ম্যানেজারকে ডেকে খাবারের অর্ডার দেয় আর পানীয়ের জন্যও বয়কে বলে দেয়। আমার যদি ছেলেপুলে থাকত, বয়স হলে তাকে আমি আর একটু উপদেশ দিতাম। টাকা-পয়সা ওড়াও ক্ষতি নেই কিন্তু এমন জিনিস কিনো না, যা তোমাকে খায়।
মেয়েটি বলে, গোল্লায় যাও। এই জীবন কবে ফুস করে ফুরিয়ে যাবে। তুমি অন্য কিছু ভাবতে পার না? এই আমার জামা-কাপড় নিয়ে বা আর কিছু। জান তো সেই কথাটা, আমার ফল যদি তোমার মনে না ধরে তবে আমার গাছ ধরে নাড়ানাড়ি কর কেন?
আমি তো এখনো গাছ নাড়াতেই পারিনি। গাছের গায়ে আমার হাত তুমি রাখতে দিচ্ছ কই?
মেয়েটি খিলখিল করে হেসে ওঠে। মার্টিনির গ্লাস তুলে নিয়ে একটু তাকিয়ে থাকে। এই নিয়ে তিন দফা হল। তারপর আস্তে আস্তে তিন ঢোকে গ্লাস খালি করে ফেলে। তারপর পার্লামেন্ট বের করে ঠোঁটে লাগায়। বন্ডের জ্বলন্ত লাইটারে সিগারেট ধরাতে সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। তার বুকের মাঝখানে উন্মুক্ত প্রান্তর টুকু বন্ডের চোখের সামনে উন্মোচিত হয়। একরাশ ধোয়ার ভিতর দিয়ে টিফানী তার দিকে তাকায়। যেন সে বলতে চাইছে আমারও তোমাকে ভাল লাগে, শুধু একটু ধৈর্য ধর।
বেয়ারা কেভিয়ার নিয়ে আসে বেয়ারা চলে যাবার পরে ওরা দুজনে কথা না বলে চুপচাপ কেভিয়ার খেতে থাকে। বন্ডের হঠাৎ মনে হয় জগতের যাবতীয় সময় যেন তাদের হাতে। ছোট ছোট উত্তরের জন্য অত তাড়াহুড়ো না করলেও চলবে। বন্ড ঠেস দিয়ে চেয়ারে বসে। বেয়ারা শ্যাম্পেন নিয়ে আসে। চমৎকার খেতে, স্ট্রবেরীর মৃদু গন্ধ মেশানো তাতে এবং বরফ শীতল।
আমি যাচ্ছি সারাটোগায়, সে জানায়, আমাকে একটা ঘোড়ার বাজি ধরতে হবে। ঘোড়াটা আমাকে কিছু টাকা পাইয়ে দেবে।
টিফানী কেস গোমড়া মুখে জানায়, ওটা একটা বিরাট ধাপ্পা। বন্ড গেলাসের গোলাপি শ্যাম্পেনের তরলতার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে ভাবে, তার এবং সেই মেয়েটির মধ্যে ছলনার কুয়াশা ধীরে ধীরে ঘনিয়ে উঠছে। এই মেয়েটি যাকে তার ভাল লেগেছে কিন্তু এ প্রসঙ্গে মনে সে খিল তুলে দেয়। না, এর সাথে তার ছলচাতুরী করতেই হবে। বন্ডের মধ্যে গুপ্তচর ফের ব্যাপ্ত হয়ে ওঠে। অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় সে নতুন সূত্রের সন্ধান করে। মিথ্যা এবং ছলনার আশ্রয় খোঁজে। তার চোখ দেখে কিছু বোঝার উপায় নেই। মেয়েটি তাতে সন্তুষ্ট হয়। এদের বলে স্প্যাঙ্গল মব। স্প্যান্স নামে দুই ভাই আছে। আমি ওদের একজনের হয়ে লা ভেগাসে কাজ করি। আর এক জন কোথায় আছে কেউ জানে না। আমি যখন হীরের কারচুপিতে থাকি তখন সব আদেশ আসে তার কাছ থেকে। আর সেরা ফিশে, যার হয়ে আমি কাজ করি সে ওই দুই ভাইয়ের এক ভাই। জুয়া আর ঘোড়ায় তার আসল আগ্রহ। তারপর রয়েছে ওই শেডী। মেয়েদের আশ্রম, যাবতীয় নেশা-ভাঙের ব্যাপার এবং দলে আর যারা কাজ করে তাদের খবরদারির ভার ওর ওপর। তাছাড়াও আরো গুণ্ডা মাস্তান ধরনের লোক আছে তারা সব কঠিন মাল।
টিফানী বাঁকা হেসে বলে, তবে এটা জেনে রেখো, স্প্যাঙ্গলদের সাথে হাত মেলানো মানে বিরাট এক চক্রে জড়িয়ে পড়া। আমি যদি তুমি হতাম তাহলে আগে ভাল করে ভাবতাম। এদের সাথে বোস যেন কিছু করে বসোনা।
ওদের কথায় বাধা পড়ে। বেয়ারা কাটলেট নিয়ে আসে। সাথে মুসেলাইন সস-দেওয়া অ্যাসপারাগাস। একই সাথে উদয় হয় বিখ্যাত ক্রীডলার ভাইদের একজন। নিউইয়র্কের সেরা আড়ার জায়গা এই টোয়েন্টিওয়ান ক্লাবের সে মালিক। টিফানী ওকে দেখে হাসে। খেতে খেতে বন্ড টিফানী-কে বলে, আচ্ছা, এই হীরের কারবারটা তো আমরা দুজনে মিলে করতে পারি? টিফানী বলে, এই কথাগুলো তুমি এ-বি-সি-কে বলো। আমি তোমাকে বারবার বলছি যে, এরা আহাম্মক নয়। এত লোক নিয়ে এই মস্ত কারবার তারা অমনি ফেঁদে বসেনি। মাল পাচার করার এক লোককে দু বার দেখিনি আমি। সাথে পাহারা দিয়ে আনবার লোকও আমার মত আরো আছে। সবচেয়ে বড় কথা, প্লেন-এ আমরা একলা ছিলাম না। এ কথা আমি জোর দিয়ে বলতে পারি। নিশ্চয়ই আর কেউ ছিল। যে আবার আমাদের ওপর নজর রাখছিল। যাই করুন না কেন, সব কিছু ওরা বাজিয়ে নেয়। তার মালিকদের সম্পর্কে বন্ডের সমীহ নেই, টিফানী যেন তাতে একটু বিরক্ত হয়। আমি তোমাকে বলছি, এসব তোমার কাজ নয়। তোমার মাথায় আর কিছু গজালো না?
