লিটার তাকে সটান ওপরে নিয়ে যায়। বন্ড লক্ষ্য করল লিটার একটু খুঁড়িয়ে হাঁটছে। ওপরে উঠতে তার খুব কষ্ট হচ্ছে। বন্ড আরো লক্ষ্য করল যে, ডান চোখের উপর তার একটা গভীর কাটা দাগ। চুলে একটাও পাক ধরেনি। চোখে পরাজয়ের কোন চিহ্ন নেই। দুজনে ড্রাই মাটিনি খেতে খেতে গল্প করতে লাগল। বন্ড তার বন্ধুর কাছে জানতে। চাইল–সে কি এখনো সি.আই.এ. তে আছে। আজকাল সে কার হয়ে কাজ করছে।
লিটার বলে, না, যে হাতে বন্দুক ধরতাম সে হাতটা তো নেই তাই ওরা আমাকে বসে কাজ করতে দিয়েছিল। আমি যখন বাইরে স্বাধীনভাবে কাজ করতে চাইলাম তখন ওরা একটা মোটা টাকা আমাকে দিয়েছিল। তারপর পিংকারটনরা আমাকে এক লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে ডাকে। তুমি জান বোধহয়, সেই নিদ নাহি আঁখি পাতে ওয়ালারা। সুতরাং আমি এখন শখের টিকটিকি ছাড়া কিছুই নই।
লোকগুলো ভাল। ওদের সাথে কাজ করে আনন্দ আছে। যখন অবসর নেব, তখন পেনশনও পাওয়া যাবে। আসলে আমি ওদের ঘোড়দৌড়ের দিকটা সব দেখাশোনা করি। ঘোড়ার সাথে আমার কোন কারবার নেই। আমার কাজ হচ্ছে, মানুষ নিয়ে। বন্ড বলল, আমি কেন শেডের পেছন পেছন ঘুরছি তা আমি নিশ্চয়ই তোমাকে বলব। হয়তো আমরা পরস্পরের সাহায্যে আসতে পারি। যদি দেখি যে, আমাদের দুজনের লক্ষ্য এক–তাহলে আমাদের মধ্যে মাথা ঠোকাঠুকি করে কোন লাভ নেই। ঘোড়া যদি এক হয় তবে আমি তোমার সাথে তার পেছনে দৌড়াতে রাজী। লিটার জানায় তার ঘোড়ার নামও শাই স্মাইল। বন্ড বলে, এক হাজার ডলার বাজি মারতে হবে। অন্য একটা কাজের জন্য এভাবে পাওনা উশুল হচ্ছে।
লিটারের চোখ ছোট হয়ে যায় একথা শুনে। সে বলে যে, তুমি আমার থেকে অনেক বড় মাছ গাথার তালে আছ। আমার আগ্রহের কারণ–শাই আইল ঘোড়াটির পা হচ্ছে খুরো-পা। মঙ্গলবার সে মোটেই জিতবে না, জিতবে অন্য ঘোড়া। ২৫,০০০ ডলারের ব্যাপার। বাজারি আগে তুমি জেনে রেখো। ওরা দেশে টাকা ছড়িয়ে ফাটিয়ে দেবে। পিকে পেপারের মুখে ওরা নতুন চামড়া গ্রাফট করিয়েছে। শাই স্মাইলের দাগটাগ সব নকল করেছে। এই উল্কির ব্যাপারটা এখনো পুরানো এবং অচল। বন্ড জানতে চাইল, শাই স্মাইল সম্বন্ধে এত খবর সে কিভাবে জানল। লিটার বলল, স্প্যাঙ্গ-এর আস্তাবলের এক ছোকরাকে আমি নেশায় বশ করেছি। এই ঘোড়ার যাবতীয় খবর সে এনে দেয় এবং তার বদলে ওকে নেশা জোগাতে হয়। সে বন্ডকে বলল, তুমি তো আমার সাথে যেতে পার? গাড়িতে নিয়ে আমি তোমাকে আমার এক চেনা আস্তানায় পুরে দেব। সাগামার। শোবার ব্যবস্থা তোমাকে করে নিতে হবে। এক সাথে ঘোরাফেরা নাকরাই ভাল। সন্ধ্যাবেলা আমাদের দেখা হবে। বন্ড রাজি হয়ে গিয়ে বলে, এরচেয়ে আর ভাল ব্যবস্থা হতে পারে না। বন্ডের সব কথা শুনে লিটার বলে, জ্যাক স্প্যাঙ্গই যদি সেই হয় তাহলে আমি এই প্রথম তার কথা শুনছি। এমন কি টিফানী কেস-কেও আমি জানি। মেয়েটি এই পাপচক্রে কয়েক বছর আছে। ছেলেবেলা থেকেই ওর ভাগ্যটা। খারাপ। সাফ্রানসিসকোতে ওর মা এক বাড়িওয়ালী খালা সেজে ছিল। জোর চলছিল কিন্তু একটা ভুলের জন্য ব্যবসাটা চলে যায়। পাড়ার মাস্তানদের সে মালকড়ি কিছুই ঠেকায়নি। এক রাতে মাস্তানদের দল বাড়ি লণ্ডভণ্ড করে দেয়। অন্য মেয়েগুলোকে কিছু করেনি কিন্তু টিফানীর ওপর তারা হামলা চালায়। তখন ওর বয়স মোটে ষোলো। সেই থেকে পুরুষদের প্রতি ওর মোটেই বিশ্বাস নেই। ওই ঘটনার পর টিফানী তার মায়ের বাক্স ভেঙে পয়সাকড়ি হাতিয়ে একদম পাহাড়ে পালিয়ে যায়। তারপর কুড়ি বছর পর্যন্ত নানারকম পেশায় ঘোরে।
একবার এক বাচ্চা ছেলেকে পানিতে ডুবে যাওয়া থেকে বাঁচাবার জন্য তার নাম কাগজে বেরোয়। টিফানী এক জায়গায় থাকে না। ওখান থেকে সে যায় রেনো-য়। সেখানে হারল্ড ক্লাবে কিছুদিন কাজ করে। যাই হোক, আমার মনে হয় মেয়েটা ভাল।
বন্ডের চোখের সামনে ভেসে ওঠে একটা আয়না; একজোড়া চোখ, আয়নার ভেতর দিয়ে তাকে দেখছে। বন্ড বলল, আমারও মেয়েটিকে খুব ভাল লাগে। বন্ড সংক্ষেপে জানায় ফেলি লিটার তাকে লক্ষ্য করে, কি যেন আঁচ করতে চেষ্টা করে। বন্ড ঘড়ি দেখে।
তাহলে ফেলিক্স, দেখা যাচ্ছে আমরা দুজনে একই বাঘকে শায়েস্তা করতে চাই। দুদিক থেকে। যা আমি এখন উঠি। অ্যাস্টর-এ আমার জন্য একটা ঘর নেওয়া আছে। রোববার তাহলে কোথায় দেখা হচ্ছে।
লিটার জানাল, প্লাজার বাইরে তোমার সাথে দেখা করব। এ তল্লাট থেকে দূরে যাওয়াই ভাল। ঘোড়ার গাড়ির আড়ার সামনে ঠিক ন টা নাগাদ। লিটার হোটেলের বিল মিটিয়ে দেয়। বন্ড একটা ট্যাক্সি ধরে, লিটারকে সে পৌঁছে দিতে চায় কিন্তু লিটার বাধা দেয়। সস্নেহে বন্ডের হাত ধরে বলে, একটা কথা কিন্তু জেমস। এই স্প্যাং-এর দল দুর্দান্ত। ওদের ও মদত জোগাবার লোক আছে। আমেরিকায় আজকাল এই সবই চলছে। তুমি আমাকে ভুল বুঝে না। এরা সত্যি সত্যিই খুব সাংঘাতিক। বন্ডের হাত ছেড়ে দিয়ে লিটার এগিয়ে চলে। আর বন্ড ট্যাক্সিতে উঠে পড়ে।
.
শ্যাম্পেনের স্বাদ তেতো
তুমি কি ভাবছ, তোমার সাথে এক বিছানায় রাত কাটাবো, তা হবে না। টিফানী কেস সাফ জানায়। গলায় নিরুত্তাপ। আমার নেশার পেছনে তোমার পয়সা পানিতে দিও না।
