সেটা নির্ভর করছে কাজের ওপর। বন্ডের কথা শুনে লোকটি হাসে। তারপর সহসা ড্রাইভারের দিকে ঘুরে বলে, রকি, বলগুলো ব্যাগ থেকে বের কর, তারপর আমার সামনে কাট। তার হাতে একটা দুফলা ছুরি ধরা। ড্রাইভার ব্যাগ খুলে ছ টা নতুন বল টেবিলের ওপর সাজিয়ে দেয়। ছ নম্বর বলটায় সে ছুরির ফলা ঢুকিয়ে চাপ দেয়। গোল হয়ে মুখটা কেটে বেরিয়ে আসে। লোকটা তার থেকে না-কাটা দামী পাথর নিয়ে টেবিলে রাখে। পাথরগুলোর ওজন দশ থেকে পনেরো ক্যারাট। আঙুল দিয়ে অদ্ভুতভাবে নাড়াচাড়া করতে থাকে সেগুলো। বন্ড এক-এক করে গুনে দেখে টেবিলে মোট আঠারোটা হীরের টুকরো জমেছে। এই পাথরগুলোর দাম হবে ১,০০,০০০ পাউন্ড। কুঁজো লোকটি ড্রাইভারকে বলল, ঠিক আছে, তুমি এখন গলফ স্টিকগুলো এখান থেকে নিয়ে যাও; ওগুলো শ্রীমানের সাথে অ্যাস্টরে যাবে। ওই হোটেলে এর জন্য ঘর নেওয়া আছে। তুমি সব সমেত ওখানে পাঠিয়ে দাও।
ড্রাইভার ঘর থেকে বেরিয়ে এল। বন্ড দেওয়ালের ধারে একটা চেয়ারে গিয়ে বসে। একটা সিগারেট ধরায়। লোকটার দিকে তাকিয়ে বলে, এখন যদি আপনারা সন্তুষ্ট হয়ে থাকেন তাহলে আমার পাওনা ৫,০০০ ডলার পেলে আমি খুশি হব। লোকটি হীরেগুলোকে নাড়াচাড়া করতে করতে বলল, মিঃ বন্ড, আপনাকে পুরো টাকাটাই দেওয়া হবে। আপনি যাতে কোন বিপদে না পড়েন, তাই পাওনা টাকা আপনার হাতে হাতে দেওয়া হবে না। আমি এবং আমার বন্ধুরা কোন কাজের জন্য কদাচিৎ টাকা-পয়সা দিই; দিলেও খুব কম করে দিই। তার বদলে আমরা এমন ব্যবস্থা করে দিই, যাতে লোকটি নিজেই সেই টাকা বানাতে পারে। আপনার কথা ধরুন। আপনার পকেটে এখন কত টাকা আছে?
তিন পাউন্ডের মত এবং কিছু খুচরো।
বন্ড জানায়, আজ আপনি আমার বন্ধু ব্রীর দেখা পেয়েছেন। লোকটি নিজেকে দেখিয়ে বলে, আমিই সেই ট্রী। অত্যন্ত সম্মানিত নাগরিক। ১৯৪৫ সালে আপনি তাকে চিনতেন। আজ যখন আমাদের দেখা হয়েছে তখন আমরা ডবল বাজি লড়েছি। তাতে হয় জিত না হলে পুরানো টাকা কাটাকুটি এবং বাজি আপনি জিতলেন। ঠিক আছে? সুতরাং এতে করে আপনার ১,০০০ ডলার হল। আপনার এই ঘটনাকে আমি সমর্থন করব। কুঁজো লোকটি তার হিপ পকেট থেকে দশখানা ১০০ ডলারের নোট নিয়ে টেবিলের ওপরে দিয়ে বন্ডের দিকে ঠেলে দেয়।
বন্ড বিনা বাক্যব্যয়ে সেগুলো তুলে নিয়ে নিজের পকেটে রাখে। তারপর কুঁজো লোকটি বলতে থাকে, আপনি বলবেন যে এখানে আপনি ঘোড়দৌড় দেখতে চান। আমি আপনাকে বলব, সারাটোগায় গিয়ে দেখে আসুন। সেখানে। গিয়ে আপনি একটা ঘোড়ার পিছনে বাজি ধরবেন। সেটা আপনাকে পাঁচগুণ ফিরিয়ে দেবে। ব্যাস, এই করে আপনার ৫,০০০ ডলার পাওয়া হয়ে গেল।
বন্ড ঘোড়দৌড়ের আবছা আভাস পাচ্ছে। বন্ড বলে, আমি ইংল্যান্ড থেকে কিছুদিনের জন্য সরে থাকতে চাই। ঘরে কোন সাড়াশব্দ নেই। কুঁজো লোকটি বন্ডকে বলে, যেভাবে বলে দিলাম, এইভাবে চলুন। রেস হয়ে গেলে আমাকে খবর দেবেন। তখন বলে দেব কি করতে হবে। বন্ড নিশ্চিন্ত হয়ে বলে, আমি তো কাজ চাই। আপনি আপনার দলকে বলতে পারেন, আমার তেমন কোন অসুবিধা নেই। তবে টাকা-পয়সা একটু বেশি পেলেই হল।
লোকটি বন্ডকে বলে, এটা হল আমার নম্বর লিখে নিন : উইসকলসিন ৭-৩৫৯৭। আর এটাও লিখে নিন, তবে এটা গোপন রাখার চেষ্টা করবেন, না হলে আপনার জিবই উড়ে যাবে। চার নম্বর রেস হচ্ছে মঙ্গলবার। স্টেক হচ্ছে দি পারপিচুইটিস। তিন বছরের ঘোড়া, সওয়া মাইল দৌড়াবে। ঠিক বুকিং বন্ধ হবার আগে টাকাটা দেবেন। এতেই আপনার ভাগ্য ফিরে যাবে।
বন্ড অতি বাধ্যের মত খাতা-পেনসিল বের করে। শাই-ইল কুঁজো লোকটি জানায়। খুব বড় ঘোড়া, মুখের ওপর সাদা ছোপ। চার পা মোজার মত সাদা। ওই ঘোড়া খেলবেন।
.
রাত কেন তন্দ্রাহারা
বন্ড যখন লিফটে করে নিচে নামল তখন সাড়ে বারোটা বাজে। পথ-ঘাট তখন ভাঙা ভাঙা। ডান হাতে সে টাইম স্কোয়ারের দিকে যায়। একটু আড়ালে দুটো শো উইন্ডো। গাঢ় নীল ভেলভেটে মোড়া। প্রত্যেকটার মাঝে একটা করে গয়না। একটা করে কানের দুল। তার সাথে একটা করে বড় হীরে ঝুলছে। প্রত্যেকটি দুলের নিচে সোনালি-হলদে মেশানো পাতলা একটা করে প্লেট সাজানো। প্রত্যেকটি প্লেটে এই কথাটি খোদাই করা আছে যে, হীরে চিরদিনের।
বন্ড এসব দেখে হাসি হাসি মুখ করে এদিক-ওদিক একটা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বারের খোঁজ করে। এবং সেখানে বসে সে একটু মাথা খেলাতে পারবে।
আর একটু হাঁটতে হাঁটতে বস্তের মনে হল যেন কেউ তার পিছু নিয়েছে। নিজের ইন্দ্রিয়ের প্রতি তার বিশ্বাস অগাধ। সে চট করে একটা দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে পড়ে। তারপর ভাল করে লক্ষ্য করে দেখল কেউ নেই। বন্ড হাঁটতে হাঁটতে একটা জামা কাপড়ের দোকানের সামনে এসে থামে।
হঠাৎ যেন তার মনে হল, যে হাতে তার পিস্তল লুকানো সেই হাতটা কেউ চেপে ধরেছে। পেছনে ঠিক পেটের কাছে তার শক্তি কি যেন ঠেকে। তারপর তার কানের কাছে একটা গলা খেঁকিয়ে উঠল, এই যে ইংরেজ ভূত। গলাটা খুব চেনা-চেনা ঠেকছে তার। বন্ড বিদ্যুৎবেগে একপাশে ঘোরে, তারপর নিচু হয়ে বাঁ হাতটা সজোরে চালিয়ে দেয়।
লোকটা তার সেই প্রবল ঘুষি বাঁ হাত দিয়ে আটকায়। বন্ড বুঝতে পারে যে, লোকটার হাতে কোন রকম বন্দুক নেই। বন্ড নিজেকে সামলে নিয়ে একটা হাসিমুখ দেখতে পেল। দেখল তার এক পুরানো বন্ধু ফেলি লিটার। যাক, সব রকম উত্তেজনার অবসান। এই বন্ধুটিকে বন্ড শেষ দেখেছিল ফ্লোরিডার এক হোটেলে। বিছানা রক্তে মাখামাখি। তার কত শিহরণ, কত রোমাঞ্চের অংশীদার এই মার্কিন গুপ্তচর। বন্ড মুখের ঘাম মুছতে মুছতে বলে, যা ঘাবড়ে দিয়েছিলে! ফেলিক্স লিটার হেসে ওঠে, তুমি বোধহয় ভেবেছিলে পুলিশ বা অন্য কেউ? বন্ড হাসতে হাসতে বলে, খেতে খেতে সব শোনা যাবে। চল্ আগে খাওয়া যাক। সামনেই মার্ডি চল, ওখানেই যাওয়া যাক্। বিখ্যাত সব অভিনেতা এবং লেখকদের খাবার জায়গা এই মার্ডি।
