বন্ড খানিক চিন্তা করে বলল, একটা কথা আমেরিকায় প্রথম চোটেই না আমি কুপোকাত হই। আইডল ওয়াইল্ড এর কাস্টমস অফিসে সব ব্যাপারটা যদি আমার চোখের সামনে গুবলেট হয়ে যায়–তাহলেই তো গেছি। এখন প্রথমেই বল পিটার ফ্র্যাংকস-এর জায়গায় আমাকে চালাবে কেমন করে?
ভ্যালান্স পায়চারী করতে করতে বলল, আমরা আজ বিকেলে ফ্র্যাংকসকে পাকড়াচ্ছি–কাস্টমস্ ফাঁকি দেবার চক্রান্তে লিপ্ত আছে বলে এবারে তোমার কাজ হচ্ছে সেই মিস কেস মহিলার সাথে দেখা করা ইত্যাদি। এই মেয়েটির সম্বন্ধে কিছু জান?
পাসপোর্ট-এর খবর বলতে পারি। মার্কিন নাগরিক। বয়স সাতাশ। সানফ্রানসিস্কোতে জন্ম। নীল চোখ। গত তিন। বছরে বারবার এখানে এসেছে। মনে রেখো, মহিলার সাথে দেখা করে একটা গল্প সাজিয়ে নিতে হবে কেন তুমি এ কাজ নিয়েছ।
বন্ড ভাবে এরপর সব তার হাতে। চোরাপথে একবার প্রবেশ করলে তারপর যেমন যেমন ঘটবে সেই মত কাজ করতে হবে। হঠাৎ সেই জহুরীর বাড়ির কথা তার মনে পড়ে। আচ্ছা ট্রেজারী কি কারণে হাউস অফ ডায়মন্ডস-কে টানছে এর মধ্যে? একটু আগ বাড়িয়ে ভাবা হচ্ছে না! তোমার মত কি?
সত্যি বলতে কি আমি ও-ব্যাপারে মাথা ঘামাইনি। ভ্যালানুসের গলায় যেন কুণ্ঠা প্রকাশ পায়। তুমি এক কাজ কর লোকটাকে আর জায়গাটাকে একবার দেখে এসো গিয়ে।
বন্ড জানতে চাইলো, আমি সেখানে কি করে যাব?
ভ্যালান্স সে কথার জবাব না দিয়ে ইন্টারকম-এর সুইট টিপলো।
বলুন স্যার! একটা ধাতব গলা ভেসে এল, ভ্যাংকওয়ের্টস ও লবিনিয়ের-কে একবার পাঠিয়ে দিন। তারপর লাইনটা একবার হাউস অব ডায়মন্ডস্-এ দিন। হ্যাটন গার্ডেন-এর জহুরী। সেখানে মিঃ সেয়-কে চাইবেন।
কিছুক্ষণ পরে সাদা পোশাকের এক অদ্ভুত ধরনের লোক এসে ঢোকে। তার মাথার চুল পাতলা, চোখে চশমা। অত্যন্ত মনোযোগী বলে মনে হল, এই যে সার্জেন্ট, ইনি হচ্ছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কম্যান্ডার বন্ড। আপনি কম্যান্ডার বন্ডকে নিয়ে হ্যাটন গার্ডেন-এ হাউস অব ডায়মন্ডস্-এ একবার যাবেন। ও যেন আপনার স্টাফের লোক, ওর নাম সার্জেন্ট জেমস্-এইভাবে চালাবেন ওকে। আপনি যেন শুনেছেন যে, সেই অ্যাসকট-এর হীরের ব্যাপারটা আমেরিকা হয়ে আর্জেনটিন-এ পাচার হয়ে যাচ্ছে। ওখানকার কর্তা হচ্ছে মিঃ সেয় বলে একটা লোক। আপনি তাকেই কথাগুলো বলবেন। কথাগুলো বলবেন খুব নম্রভাবে। চাপ দেবেন কিন্তু দেখবেন যেন বিগড়ে না যায়। শেষে ভুল হয়ে গেছে বলে ক্ষমা চাইবেন।
একটু পরে সুটকেশ হাতে আর একজন লোক ঢোকে। ঢুকে সে দরজার সামনে অপেক্ষা করতে থাকে।
এই যে সার্জেন্ট, আসুন। আমার এই বন্ধুটিকে ভাল করে দেখুন তো!
সার্জেন্ট বন্ড-এর মুখোমুখি এসে দাঁড়ায়, মুখটাকে আলোর দিকে ঘুরিয়ে ধরে। দীর্ঘক্ষণ ধরে তাকে পরীক্ষা করার পর বলে, ওই কাটা দাগটা ছয়ঘণ্টার আগে মেরামত হবে বলে মনে হয় না। একে কি সাজাতে হবে বলুন?
উনি হবেন সার্জেন্ট জেমস। ভ্যালান্স ঘড়ি দেখে বলে, তিন ঘণ্টার মধ্যেই কিন্তু সারতে হবে। লোকটি বন্ডকে জানালার ধারে একটা চেয়ারে নিয়ে গিয়ে বসায়। তারপর কাজ শুরু করে দেয়। ভ্যালান্স বন্ডকে জানাল, তুমি ৩ ১৫ নাগাদ ওখানে গিয়ে পৌঁছাও। সব সময় চেষ্টা করবে প্রতিপক্ষকে একটু হকচকিয়ে দিতে। তাই একটু আগে যাওয়াই ভাল। এদিকে বন্ডকে চেনাই যায় না একেবারে মনোযোগী জেমস্ বন্ড।
.
অজানার সন্ধানে
পুলিশের গাড়িটা চ্যান্সারি লেন হয়ে হবর্ন-এ গিয়ে পড়ল। এক সময় গাড়িটা গিয়ে থামল লন্ডন ডায়মন্ড ক্লাবের সাদা থাম দেওয়া জমকালো গাড়ি বারান্দার নিচে।
সার্জেন্ট ভ্যাংকওয়ের্টস-এর পিছু পিছু বন্ড সিঁড়ি দিয়ে উঠে একটা সুন্দর দরজার সামনে দাঁড়ায়। সার্জেন্ট বেল টিপতে এক ঝকঝকে ইহুদী মেয়ে এসে দরজা খুলে দেয়। কার্পেট মোড়া একটা প্রকাণ্ড হলঘর পেরিয়ে সে ওদের একটি ঘরে এনে বসায়। ঘরটি খুব সুন্দর করে সাজানো মাঝখানে লাল কার্পেট পাতা। চার দেওয়ালে আঁকা চারটি প্রকাণ্ড ফুলের ছবি। সেগুলো সোনালি ফ্রেমে বাঁধানো। ওপাশে ঢোকার মুখে বন্ধ দরজার আড়াল থেকে কিছু ফিসফিস গলার আওয়াজ শোনা গেল।
হঠাৎ সাজানো-গোছানো ঘরের নিস্তব্ধতা ভেঙে দেওয়াল ঘড়িতে ঠিক সাড়ে তিনটা বাজল। এক দশাসই চেহারার লোক দ্রুতপায়ে ঘরের মধ্যে ঢোকে। এই লোকটাই হল সেয় । কর্কশ গলায় বলে ওঠে, এখানে কি হচ্ছে সব?
আমি হচ্ছি সার্জেন্ট ভ্যাংকওয়েটস। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের স্পেশাল ব্রাঞ্চের লোক। আর ইনি সার্জেন্ট জেমস। আমি এসেছি কতকগুলো চুরি-যাওয়া হীরের খবর নিতে। এ ব্যাপারে আপনি যদি একটু সাহায্য করেন। সার্জেন্ট-এর গলায় যেন মিছরি গলে পড়ছে।
দুজনের মুখের দিকে ভাল করে চোখ বুলিয়ে নিয়ে তারপর বলে, বেশ তো! সেয়র গলায় স্পষ্ট অবজ্ঞা। কি বলার আছে, বলুন।
সার্জেন্ট ভ্যাংকওয়ের্টস একটা নোটবই খুলে বলতে লাগল, গত ১৬ তারিখে আমরা জানতে পারি কিছু পাথর যেমন একটা বিশ ক্যারেটের ওয়েসেলটন, দশ ক্যারাটের দুটো শ্বেত কমল, একটা ত্রিশ ক্যারাটের হলদে প্রিমিয়ার, একটা পনেরো ক্যারাটের টপকেপ আর দুটো পনেরো ক্যারাট করে কেপ ইউনিয়ন, চুরি যায়। এই মামলগুলো কি আপনার হাত দিয়ে কিংবা নিউইয়র্কে আপনাদের ফার্ম এর হাত দিয়ে গেছে?
