বন্ড বুঝতে পারল, M পরের ব্যাপারে বিশ্রীভাবে জড়িয়ে পড়তে যাচ্ছেন।
M বললেন, এখনই লোকটাকে পাকড়াও করলেও চোরা কারবার বন্ধ করা যাবে না। এ ব্যাপারে সঠিক তথ্য পেতে হলে আমেরিকায় এদের চোরাপথটিকে খুঁজে বের করতে হবে।
বন্ড বলে, আমাদের হাতে আর কিছু আছে–যা ধরে আমরা এগুতে পারি?
হাউস অব ডায়মন্ডের নাম শুনেছ?
বন্ড বলে, হ্যাঁ, শুনেছি। মস্ত বড় মার্কিন জহুরী, নিউইয়র্ক-এর ওয়েস্ট ফরটি- সিথ স্ট্রীট আর প্যারিসের রু দ্য রিভলীতে ওদের অফিস।
M জানান, ওরাই হচ্ছে সেই লোক। ডায়মন্ড কর্পোরেশন-এর কাছ থেকে মাসে মাসে ওরা অনেক টাকার মাল কিনত। প্রতি বছর ওরা প্রচুর হীরে-জহরত বিক্রি করেছে। ট্রেজারী থেকেই ওদের কথা সেদিন আমাদের মিটিং-এ তুলেছিল। এখানকার দায়িত্বে আছে ওদেরই এক জব্বর লোক। লোকটার নাম রাফাস বি. সেয়। বিশেষ কিছু জানা যায় না ওর সম্বন্ধে। M আরো বললেন, হীরের কারবারটা অনেকটা বংশগত।
বন্ড বুঝতে পারছিল এবারে আসল কথাটি জেনে নিতে হবে, সে M-এর দিকে চেয়ে জিজ্ঞেস করল, কিন্তু এর মধ্যে আমি কি করে আসছি?
ভ্যালেন্সের সাথে তুমি দেখা করবে ইয়ার্ড ইন-এ। এই ধর, ঘণ্টাখানেকের কিছু পরে। ও তোমাকে রওনা করিয়ে দেবে। যে লোকটার মাল পাচার করার কথা আছে, ওরা তার জায়গায় তোমাকে চোরাপথে পাচার করে দেবে।
বন্ড অবাক হয়ে বলে, তারপর?
তারপর– M অত্যন্ত নির্বিকারভাবে বলেন, তুমিই হীরেগুলো আমেরিকায় স্মাগল করবে।–এরকমই কথা আছে। তোমার কি মনে হচ্ছে?
.
ব্লো হট ব্লো কোল্ড
বড়সাহেবের ঘরের পাশেই মিস মানিপেনির ঘর। M-এর অফিস থেকে বেরিয়ে বন্ড মানিপেনির দিকে একবার হাসিমুখে তাকিয়ে বড়সাহেবের ঘরে গিয়ে ঢোকে।
বড়সাহেবের পাতলা এলানো চেহারা। তাকে দেখে হাতের কলম নামিয়ে চেয়ারে ঠেস দিয়ে বসে। জিজ্ঞেস করল, তাহলে তুমি মজেছ শেষ পর্যন্ত!
বন্ড বড়সাহেবের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, কিন্তু বিল, বল দেখি বড়সাহেব আমাদের এই কাজটা নিয়ে এত চিন্তিত কেন? আমাকে দেবার আগে সাত-পাঁচ ভাবছেন।
M-এর মনে মনে কি যে চলে সেটা বড়সাহেব জানে; বড়সাহেব বলল, দেখ এই বাহিনীর সবাই জানে, M খুব বেশি জিনিস নিয়ে মাথা ঘামান না। এক তো SMERSH তারপর জর্মন সাইফার-ব্রেকার বা সাংকেতিক বার্তার গুপ্ত প্রণালীতে যারা কারবার চালায় তারা, চীনের আফিম চক্র অথবা তাদের ক্ষমতাশালী দলবল যারা নাকি পৃথিবীর নানা জায়গায় ছড়িয়ে আছে, কুখ্যাত মাফিয়াদের কার্যকলাপ আর এই মার্কিনী দুবৃত্ত বাহিনী। অন্তত M চান না আমরা তাদের সাথে জড়িয়ে পড়ি। শুধু এই জন্যই M-কে আর সাত-পাঁচ ভাবতে দেখছ।
বড়সাহেব বলে গেল, তুমি হয়তো এ-বছরের এফ.বি.আই রিপোর্টটা পড়ে দেখনি। আমেরিকার অপরাধ-সংক্রান্ত রিপোর্ট। অদ্ভুত ব্যাপার। দিনে চৌত্রিশটা করে খুন। গত বিশ বছরে এক লাখ পঞ্চাশ হাজারের কাছাকাছি আমেরিকান অপরাধীদের হাতে কেবল খুনই হয়েছে।
বন্ড-এর চোখে অবিশ্বাসের ছায়া। আরে সত্যি ঘটনা! তুমি বিশ্বাস করছ না? আচ্ছা, তুমি নিজে রিপোর্ট জোগাড় করে দেখ। চোরাপথে তোমাকে চালান করার আগে এম তাই তো বুঝে নিতে চাইছিলেন তুমি চাঙ্গা আছ কিনা। ওইসব দুরন্ত দুবৃর্তগুলোর মোকাবিলা তোমাকেই করতে হবে। এ কলাই করতে হবে। এবার বুঝেছ।
বন্ডের মুখ থেকে দুর্ভাবনার সব ছায়া সরে গেল। সে বলল, ওঃ, আমার মন থেকে তুমি একটা ভারি বোঝা সরিয়ে দিলে। আমি তো ভাবছিলাম, এর ভেতর কি না কি ভয়ংকর ব্যাপার রয়েছে।
বন্ডের যাবতীয় আশংকা দূর করতে পেরে বড়সাহেব খুবই খুশি। খানিক পরে ঠিক দুটোর সময় বন্ড এক চটপটে ভদ্রলোকের সাথে করমর্দন করছিল। এই ঘরে যত গোপন সংবাদ দেওয়া-নেওয়া হয়, স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড-এর আর কোন ঘরে তা হয় না। সহকারী কমিশনার ভ্যালান্সকে সে আগে থেকেই চিনত। ভ্যালানস্ কতকগুলো ছবি টেবিলের ওপর ফেলে দিল। ছবিটা যার তার নাম পিটার ফ্র্যাংকস। ভাল পরিবারের ছেলে, স্কুলে কিছুটা লেখাপড়া করার পর আর লেখাপড়া হয়নি। শহরের বাইরে বাড়ি বাড়ি সিঁদ দেওয়া ওর কাজ। সোথো-তে আমার দু তিনজন গুপ্ত ছায়াচরী আছে, এই ছোকরার তাদের একজনের ওপর একটু টান আছে। সবচেয়ে মজার কথা, মেয়েটারও এই ছোকরার প্রতি আকর্ষণ আছে। সে একে ধর্মপথে আনতে চায়। কিন্তু মেয়েটার তো চাকরির মায়া আছে। তাই যখন ওই ছোকরা কথা প্রসঙ্গে হঠাৎ এই কাজটার কথা বলে ফেলে তখন মেয়েটা আমাদের কাছে ফাঁস করে দেয়। যাই হোক আমেরিকায় চোরাচালানের কাজে ছোকরা রাজী হয়। মালটা পৌঁছে দিলে পাবে পাঁচ হাজার ডলার। এরপর ওর কাজ হচ্ছে পাহারাঅলা লোকটির সাথে যোগাযোগ করা। কাল সন্ধ্যায় ট্রাফালগার প্যালেসে ও যাবে। কেস নামে একটি মেয়ের সাথে দেখা করলে সেই বলে দেবে কি করতে হবে। ভ্যালান্স উঠে পড়ে পায়চারী করতে থাকে। তার সামনে দেওয়ালে থাক্ থাক্ করে সাজানো সব জাল পাঁচ পাউন্ডের নোট। ভ্যালাসের চোখ চৰ্চ করতে থাকে।
বুঝতেই পারছ হীরেগুলো আসছে আফ্রিকা থেকে। আসছে সিয়েরা লিয়োন-এর খনি থেকে, সেখানে আমাদের মিলিটো রয়েছে। ইউনিয়ন মাইন থেকে খুব সম্ভবত হয় লাইবেরিয়া কিংবা ধর ফ্রেঞ্চ গিনীর ভেতর দিয়ে সেই পাথর পৌঁছাচ্ছে ফ্রান্সে। যেহেতু প্যাকেটটার হদিশ পাওয়া গেছে লন্ডনে সুতরাং ধরে নেওয়া যেতে পারে লন্ডনও ওদের বিরাট চোরাপথের একটি। ভ্যালান্স বলতে থাকে, এই ধরনের কারবারে সবচেয়ে কাঁচা জায়গা হল টাকা দেওয়ার ব্যাপার। কে টাকাটা দিচ্ছে সেটা খেয়াল রেখো। তাহলেই চোরাপথে যেতে যেতে আসল ঘুঘুদের সন্ধান পেতে পারবে। যদি তোমাকে ওদের মনে ধরে তাহলে কাজটা তেমন শক্ত হবে না।
