কাল তুমি কিংসটনে যাচ্ছ। সেখানে অনেক খেতে পাবে। এখন প্রেমের কথা বল।
বন্ডের চোখ দুটোকে তীব্র নীলরঙে বিবরের মত দেখাল। উঠে গিয়ে মেয়েটার পাশে হাঁটু গেড়ে বসল। হানির একটা হাত টেনে নিল। বুড়ো আঙ্গুলের গোড়ার মাংসপিণ্ডটা চমৎকার ফোলা ফোলা। এ জায়গাটাকেই শুক্ৰক্ষেত্র বলে। বন্ড নরম গরম হাতটার মধ্যে মুখ গুঁজে ফোলা জায়গাটাতে দাঁত বসাল। ক্রমশ জোরে কামড় দিল। হাতটা যন্ত্রণায় কুঁকড়ে গেল। মেয়েটা হাঁপাচ্ছে। আরো জোরে কামড়াল বন্ড। এবার মেয়েটা অস্ফুট চিৎকার করে চুল ধরে হাত টেনে সরিয়ে দিল।
ও কি করছ তুমি? মেয়েটার চোখ বিস্ফারিত। চোখের রং আরো ঘন। মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। বন্ডের মুখের দিকে চোখ নামাল। আস্তে করে টেনে আনল নিজের মুখের ওপর।
বন্ড একহাত বাড়িয়ে তার বাদিকের স্তন চেপে ধরল। আহত, বন্দী হাতটাকে নিজের গলায় বেড় দিয়ে দিল। তারপর তাদের অধরোষ্ট এক হয়ে গেল।
তাদের মাথার ওপর মোমবাতির শিখা নাচতে লাগল। বিরাট এক প্রজাপতি উড়ে এসেছে জানালা বেয়ে। ঝাড়লণ্ঠন ঘিরে পাক খাচ্ছে। হানির দু চোখ খুলে গেল। তাকাল প্রজাপতির দিকে। মুখ সরিয়ে নিল। চুলে একবার হাত বুলিয়ে উঠে দাঁড়াল। কোন কথা না বলে একে একে সবকটা মোমবাতি নামিয়ে এনে নিভিয়ে দিল। প্রজাপতিটা ডানা ঝাঁপটিয়ে জানালা দিয়ে উড়ে বেরিয়ে গেল।
হানি টেবিল থেকে সরে দাঁড়াল। ব্লাউজ খুলে ফেলে দিল মাটিতে। তারপর খসে পড়ল তার স্কার্ট। চাঁদের আলোয় আবছাভাবে তার শরীর দেখা গেল। তারপর সে বন্ডের কাছে এসে হাত ধরে টেনে তুলল। তার শার্টের বোতাম খুলে, সযত্নে সেটা আস্তে খুলে নিল। তার ঘেঁষে আসা দেহ থেকে বন্ড সদ্যকাটা খড় ও গোলমরিচের গন্ধ পেল।
তারপর সে বন্ডের হাত ধরে নিয়ে গেল অন্য একটা দরজার ভেতর দিয়ে। জানালা দিয়ে এক ফালি চাঁদের আলো এসে পড়েছে। খাটের ওপর রাখা একটা স্লীপিং ব্যাগ তার মুখটা ভোলা।
মেয়েটা হাত ছেড়ে ঘুমথলির ভেতরে ঢুকল। বন্ডের দিকে তাকিয়ে সহজভাবে বলল, এটা আজই কিনলাম। দু জনে মিলে ঘুমোবার থলি এটা। অনেক দাম পড়েছে। জামা কাপড় খুলে এসে ঢোকো এর মধ্যে। তুমি প্রতিজ্ঞা করে দাসখৎ দিয়েছিলে আমাকে।
কিন্তু…।
যা বলছি তাই কর।
ডায়মন্ডস আর ফর এভার
ডায়মন্ডস্ আর ফর এভার — জেমস বন্ড
পাপের পঙ্কিল আবর্তে
কাঁটা-ঝোঁপটার গায়ে এক চিলতে চাঁদের আলো এসে পড়েছে। পাথরের নিচের এক আঙুল প্রমাণ গর্ত থেকে প্রকাণ্ড প্যান্ডেনাস বিছেটা খসখসে শব্দ তুলে বের হল। তার চার জোড়া পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে সব রকম সম্ভাবনার জন্যে। শরীর টানটান করে প্রস্তুত রাখল নিজেকে। তার লেজের শেষ প্রান্তে একটা হুল। পেটের নিচে বিষের থলি। সেটার শিরাগুলো আগা করা হল। ভয়ের কাছে লোভেরই জয় হল।
বারো ইঞ্চি দূরে একটা গুবরে পোকার ওপর বিছেটা দ্রুত লাফিয়ে পড়ল। বিছের তীক্ষ্ণ থাবা তার শরীরকে পেঁচিয়ে ধরল। বিষাক্ত হুলে পোকাটি সাথে সাথে মারা গেল। তারপর প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে তারিয়ে তারিয়ে তার শিকার করা খাবারটি খেল।
এই জায়গাটা হল ফ্রেঞ্চগিনীর দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে, কিসিডোর প্রায় মাইল চল্লিশেক দূরে। চারদিকে পাহাড় আর জঙ্গলে ঘেরা এই জায়গাটির বিশ স্কোয়্যার মাইল জুড়ে অনেকটা পাথুরে জমি। তারই মাঝখানে ওই একটি মাত্র কাঁটা ঝোঁপ। আসলে ঝোঁপটি আফ্রিকার তিনটি রাজ্যের মাঝামাঝি জায়গায় পড়ে। সিয়েরা লিয়োন-এর সীমান্ত অঞ্চলের ওপারেই সোফাদুর প্রকাণ্ড হীরের খনি। যার মাস মালিকানা সিয়েরা ইন্টারন্যাশনাল-এর এবং সেটা আবার আফ্রিকা ইন্টারন্যাশনাল-এর অংশ। এই আফ্রিকা ইন্টারন্যাশনাল হচ্ছে বিশাল খনির সাম্রাজ্য।
বিছেটা এতক্ষণে তার খাওয়া শেষ করল কিন্তু সে জানে না যে দূর দিগন্তে তার মৃত্যুর খবর এসে পৌঁচেছে। একটি লোক তা শুনতে পেয়েছিল। খানিক দূরে একটা ভারি শক্ত হাত একটা এবড়োখেবড়ো পাথর তুলে ধরে সজোরে বিছেটার ওপর ছুঁড়ে মারে। তেলে-যাওয়া বিছেটাকে যন্ত্রণায় ছটফট করে মরতে দেখে লোকটি চাঁদের আলোর দিকে মুখ করে দেখে একটা কালো আবছা জিনিস তার দিকে এগিয়ে আসছে। সে তাড়াতাড়ি ছুটে যায় ঝোঁপের কাছে। ঝোঁপের আড়ালে লুকানো ছিল একটি পুরানো মোটর সাইকেল। তার পেছনের চাকার দু ধারে ঝুলছিল দুটো বাক্স। তার একটা থেকে ছোট ভারি একটি মোড়ক তুলে নিয়ে লোকটি তার জামার ভেতরের বুকের কাছাকাছি রাখে। আর একটি থেকে চারটি ইলেকট্রিক টর্চ বের করে কাঁটা ঝোঁপ থেকে পঞ্চাশ গজ দূরে তিনটি কোণে তিনটি টর্চ বসিয়ে জ্বেলে দেয়। শেষ টর্চটি নিয়ে জ্বেলে অপেক্ষা করতে থাকে। একটি হেলিকপ্টার চার টর্চের আলোর মাঝখানে ধীরে ধীরে এসে নামল। কাঁটাঝোঁপ থেকে একটা ঝিঁঝি পোকার কান্না ভেসে আসে। একটু পরে পাইলটটি কপিটের দরজা খোলে। হীরের খনির লোকটি নিজের জামার ভেতর থেকে ভারি মোড়কটা বের করে পাইলটের হাতে তুলে দেয়। পাইলট চলে যেতে উদ্যোগী হলে স্মাগলার লোকটি বলে, আমি খুব ভাল বুঝছি না, লন্ডন থেকে এক জাদরেল টিটিকি এসেছে। অনেক নতুন নিয়ম-কানুন হয়েছে, শাস্তি বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এতে আমার দলের লোকেরা বেদম ভয় পায়। বাৎসরিক রিপোর্টে আমাদের চেয়ারম্যান বলছেন, এক চোরাই চালানের জন্য আমাদের খনিগুলো বছরে বিশ লক্ষ পাউন্ড গচ্চা দিচ্ছে। সরকারের উচিত এসব কড়া হাতে দমন করা। আমাকে ভাগে আরো কুড়ি পারসেন্ট বেশি না দিলে আমাকে এ রাস্তা ছাড়তে হবে।
