কিন্তু সুবাসিত হাতখানা দ্রুতভাবে সে বন্ডের মুখের কাছে তুলে দিয়ে বলল, না। আজ কোন কথা হবে না। পোশাকটা খুলে নাও। আমার সাথে প্রেম কর। তুমি শক্তিশালী পুরুষ। আমি এই রাতটা ভুলতে চাই না জীবনে। যা তোমার মনে হয় প্রাণ খুলে করতে পার। বল, আমাকে তোমার কি পছন্দ, আরো বলতে পার তুমি আমার কাছেই বা কি আশা কর। পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্টতম খারাপ মেয়েদের মত আমাকে ব্যবহার করতে পার। সব কিছু ভুলে যাও। আমাকে গ্রহণ কর। আর কোন প্রশ্ন করো না।
ঠিক এক ঘণ্টা পরে ঘর থেকে বন্ড বেরিয়ে এল। ট্রেসী গভীর ঘুমে ডুবে আছে।
নিজের ঘরে এসে গোসল করে শুয়ে পড়ল। না আর ট্রেসী নয়। এবার ঘুমানোর প্রয়োজন। মনে পড়ে গেল ট্রেসীর কথা–স্বর্গ, তুমি আমাকে স্বর্গের আস্বাদ দিলে জেমস্। তুমি ঘুম থেকে উঠে কি আবার আমার কাছে আসতে পারছ না। আমার আবার পেতে ইচ্ছে করছে আবার এই স্বাদ। ট্রেসী পাশ ফিরে আবার শুয়ে পড়ল। কিন্তু বন্ড কিছু আগেও তার কান্নার আওয়াজ পেয়েছে। বন্ড ঘুমিয়ে পড়ল।
সকাল আটটার সময় সে পুনরায় গেল। ট্রেসীর ঘরে গিয়ে তার ঘুম ভাঙ্গাল। আবার সেই আশ্চর্য অভিজ্ঞতা। কিন্তু এবার যেন বন্ডের মনে হল ট্রেসীর বাহুর মধ্যে একটা সহানুভূতির আকর্ষণ আছে, চুম্বনেও আগ্রহ ও আবেগ।
কিন্তু তারপরে যখন বন্ড ভাবছে সারাদিন কি ভাবে কাটাবে, কোথায় গোসল করবে, কোথায় লাঞ্চ করবে তখন ট্রেসী এই সব কথার কোন পাত্তাই দিল না। বন্ড যখন খুব পীড়াপিড়ি করল, তখন অসহিষ্ণু গলায় সে বলল, যাও তো এবার আমার কাছ থেকে। যা চাইছিলে তা তো পেয়ে গেছ এবার চলে যাও।
তুমি কি চাওনি? শুধু কি আমি চেয়েছি।
না, তুমি একটি হতভাগা বোকা প্রেমিক। এবার যাও।
উন্মত্ত-এর মত তার গলার শব্দ শোনা গেল। বন্ড তখন ধীরে ধীরে তার পোশাক পরতে থাকল। এবার নিশ্চয় কেঁদে ফেলবে আর কেঁপে কেঁপে উঠবে শরীরটা। কিন্তু না চোখে আর পানি দেখা গেল না। তার লক্ষণ খুব একটা ভাল মনে হল না। বন্ডের মনটা স্নেহের আনন্দে ভরে গেল কেননা সে কি পারে না তার সদস্যার সমাধান করতে? ওকে সুখী করতে। দরজার হাতলে হাত দিয়ে বলল, ট্রেসী আমাকে সাহায্য করতে দাও। কষ্ট পাচ্ছ তুমি কত ভাবে।
ট্রেসী জবাব দিল, উচ্ছন্নে যাও।
দরজাটা জোরে বন্ধ করবে কিনা একটা মুহূর্ত ভেবে নিল বন্ড, কেননা কোন জোর করলে যদি ট্রেসীর ঘোরটা কেটে যায়। কিন্তু দরজাটা সে আস্তেই বন্ধ করে দিল। কর্কশ কোন ব্যবহারে ওর মনের পরিবর্তন মনে হয় হবে না। করিডোর দিয়ে তার ঘরে যাবার সময় নিজের অক্ষমতাই তার বার বার মনে পড়ে গেল।
সাধারণতঃ প্রাতঃরাশের সময় বন্ড খুব মনোযোগ দেয়। কিন্তু আজ যা খাচ্ছে সে দিকে তার কোন মন নেই বললেই চলে। অতিদ্রুত খাওয়া শেষ করে সে জানালা দিয়ে বাইরের ফাঁকা জায়গার দিকে তাকিয়ে সিগারেট খেতে লাগল, আর ভাবতে লাগল মেয়েটির কথা। ওর সম্পর্কে কোন কথাই জানা যায় না, এমন কি কোন দেশের মেয়ে তাও না। তবে নামের মধ্যে এক ভূমধ্য সাগরীয় ছোঁয়াচ লেগে আছে। তবু সে যে ইটালীয় বা স্প্যানিশ নয় এটা জোরের সাথে বলা যেতে পারে। চমৎকার শুদ্ধ ইংরেজি বলে। পোশাকেও রুচির পরিচয় পাওয়া যায়।
মদ কখনো কখনো খায় কিন্তু সিগারেট একদম খায় না। বয়স কত হতে পারে? হয়ত পঁচিশের বেশি নয়। তবু প্রেমের ব্যাপারে তার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা আছে, তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। কিন্তু বন্ড তাকে একদমই হাসতে দেখেনি, মনে হয় সে খুবই মনদুঃখে কষ্ট পাচ্ছে। তবু সে এতেও ভেঙ্গে পড়েনি। যথেষ্ট কঠোরতার পরিচয় দিয়েছে। সে ভাল করে তার করণীয় কি বা কোথায় তার স্থান হবে জেনে গেছে।
কিন্তু সে কোথায় যেতে চায়?
আত্মহত্যাই বলে মনে হল, আর গতরাতের অভিসারটি মনে হল তার শেষ প্রমত্ত রাত।
বন্ড টেলিফোন করে একটা গাড়ির জন্য বলে দিল। হ্যাঁ, এখুনি যেন প্রস্তুত হয়। হ্যাঁ, তার আন্তর্জাতিক লাইসেন্স আছে যেখানে সেখানে গাড়ি চালাবার জন্য। সে এখনি আসবে। সই সাবুদের যা দরকার করে দেবে।
বন্ড তার দাড়ি কেটে পোশাক বদল করে নিল। তার ঘর থেকে হোটেলে যাবার পথটা দেখা যাচ্ছে। আর দেখা গেল ছোট গাড়িটা। সব সময়েই তার চোখ থাকে গাড়িটার দিকে। অবশেষে মেয়েটি একটা সাদা কালো ডোরাকাটা কসটুম পরে এল। মনে হয়, সমুদ্রে গোসল করতে যাবে, নইলে সাঁতারের পোশাক পরে আর কোথায় যাবে? বন্ড। লিফটের দিকে কড়িডোর দিয়ে ছুটে গেল।
মেয়েটি তখন গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ল। বন্ডের কোন অসুবিধা হল না তাকে অনুসরণ করতে। আর বন্ডকে আবার পিছু নিল আর একটি সাধারণ সিত্রোয়া গাড়ি।
আর তারপর সমুদ্রতীরে থেকে এই বম্বার্ড-রাত্রির অন্ধকারে হয়েল নদীর ঢেউ ভেঙ্গে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ব্যাপারটা তো কিছুই বোঝা গেল না। আচ্ছা মেয়েটি কি কোন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে? না তারই মত বন্দী আছে? ব্ল্যাকমেল। স্বামীর প্রতিশোধ, বা দ্বিতীয় কোন প্রণয়ীর? নাকি তাদের দুজনকে হত্যা করতে হবে?
নৌকাটা নদীর পানিতে তোড়ে ধাক্কা দিয়ে এগিয়ে চলেছে। দু জন গুপ্তার চোখ দুটি বন্ডের উপর স্থির হয়ে আছে। শরীরের কোন নড়া-চড়া নেই। মেয়েটি পাথরের মূর্তির মত মুখ উঁচু করে এই বাতাসে নৌকাতে বসে আছে। মাঝে মাঝে ওর পিঠের স্পর্শ বন্ডের গায়ে লেগে যাচ্ছিল। কিছুক্ষণের উত্তাপ বন্ডের দুটি হাত দুই হাঁটুর মাঝখানে আছে। হাতের মধ্যে ছুরির বাট। মেয়েটির সাথে থেকে এক অদ্ভুত আনন্দ বোধ করল বন্ড গভীর এক অন্তরঙ্গতা। মনে হল সেও তার বন্ধুদের মধ্যে একজন। সে মনে হচ্ছে তার মত বন্দী আছে। কিন্তু কেন? দূরে একটা বন্দরের আলো দেখা যাচ্ছে। হাতে ছুরির ফলা, নিশ্বাসে সেন্টের সুগন্ধ, যে সুগন্ধ ছড়িয়ে উঠেছিল। নদীতীরের মাটি আর পচা আগাছার দুর্গন্ধ লাগছে। এই প্রথম হঠাৎ একটা কাঁপুনি দেখা গেল তার শরীরে। সে কাঁপুনি থামিয়ে দিল, তার পূর্বের কথা মনে পড়ে গেল।
