বন্ড ড্রেসিং রুমে দাঁড়িয়ে রইল যতক্ষণ না তার উত্তেজিত হৃদপিণ্ড শান্ত হয়। মাথা থেকে মেয়েটার চিন্তা দূর করতে হবে।
বন্ড ভালভাবে ঘরটা ঘুরে দেখতে লাগল, কোথাও কোন লুকানো মাইক্রোফোন বা হাতিয়ার আছে কিনা, কোন পালানোর রাস্তা কিছু পাওয়া গেল না। দেয়ালের উপর একটা বৈদ্যুতিক ঘড়িতে সাড়ে আটটা বাজে। জোড়া খাটের পাশে এক সারি কলিং বেল। সেগুলো ওপর লেখা–রুম সার্ভিস, কেশবিন্যাসকারী ম্যানিকিওরিস্ট, পরিচারিকা। টেলিফোন নেই। দুটো ঘুরেই অনেক ওপরে একটা করে শিক লাগানো ঘুলঘুলি লম্বায় চওড়ায় দু ফুট। কোন সুবিধে হবে না। বন্ড তার শরীরের সমস্ত জোর ও ওজন এক করে একটা দরজায় ধাক্কা মারল কিন্তু দরজা একচুলও নড়ল না। কাঁধে হাত বুলোতে বুলাতে বন্ড ভাবল, এ এক কারাগার বিলাসবহুল কারাগার। তারা ভালভাবে আটকা পড়েছে এই ফাঁদে। সুতরাং হাতের কাছে যেটুকু পাওয়া যায় তার সদ্ব্যবহার করে নেওয়াই ভাল।
বন্ড খাবার টেবিলে বসল। গুড়ো বরফে ভর্তি একটা রূপালি বাটিতে বসানো বড় এক গ্লাস আনারসের রস। সেটা খেয়ে নিয়ে নিজের থালার আবরণ সরাল। টোস্টের ওপর ডিমভাজা, চারফালি শুয়োরের মাংসভাজা, একটা গ্রীলড় কিডনি আর ইংলিশ পর্ক সসেজ এর মত একটা জিনিস। আর আছে দু রকম গরম টোস্ট, ন্যাপকিনে জড়ানো লম্বাটে পাউরুটি, মার্মালেড, মধু ও স্ট্রবেরী জ্যাম। থার্মস ডিক্যান্টারে ফুটন্ত কফি।
বাথরুম থেকে গান শোনা গেল, মেয়েটা গুনগুনিয়ে মারিয়ন গাইছে। বন্ড খাবারে মন দিল।
দশ মিনিট পর বন্ড বাথরুমের দরজা খোলার শব্দ পেল। সঙ্গে সঙ্গে মার্মালেড মাখানো টোস্ট নামিয়ে দু হাতে চোখ ঢাকল। মেয়েটা হেসে বলল, ভীতু কোথাকার। একটা ছোট মেয়েকে দেখে ভয় পায়। বন্ড বুঝতে পারল ও কাপড়ের আলমারি হাতড়াচ্ছে। আপন মনে মেয়েটি বলছে, আচ্ছা, ও ভয় পাচ্ছে কেন? অবশ্য কুস্তি লড়লে আমি অনায়াসে ওকে পটকে দেব। হয়ত ওর গায়ে অত জোর নেই। ওর হাত আর বুক তো খুব বলিষ্ঠ। হয়তো ওর বাকি শরীরটা দুর্বল। হুম তাই হবে নিশ্চয়। ঐ জন্যেই আমার সামনে কাপড় ছাড়তে সাহস পায় না। এটা পরলে আমার গায়ে ভাল দেখাবে? প্রিয় জেমস, সারা গায়ে আকাশী রঙের পাখি উড়ে বেড়ানো একটা সাদা পোশাকে আমাকে ভাল দেখাবে?
হ্যাঁ, ইয়ে কোথাকার। হাতের আড়াল থেকে বন্ড বলল, এবার বকবকানি থামিয়ে খাবারটা খাও। আমার ঘুম পাচ্ছে।
ও শুতে যাবার সময় হয়েছে বুঝি? এক্ষুনি আমি আসছি।
বন্ড বুঝতে পারল মেয়েটা সামনের চেয়ারে বসল। বন্ড হাত নামাল। মেয়েটা হাসছে। সাংঘাতিক দেখাচ্ছে। তার চুলগুলো আঁচড়ানো হয়েছে। গায়ের চামড়া ঝকঝকে তকতকে। তার বড় বড় নীল চোখে আনন্দের আলো।
হঠাৎ বন্ডের তার ঐ ভাঙা নাকটাকে বড় ভাল লাগল। মনে হল এই নাকটাকে সারিয়ে নিলে আর সব নিখুঁত সুন্দরীদের একজন হবে। মোটেই ভাল হবে না সেটা। কিমানোর সামনের দিকটা ফাঁক হয়ে দেখা যাচ্ছে তার অনাবৃত স্তন আর গভীর নাভি।
বন্ড ক্ষেপে গিয়ে বলল, দেখ হানি, তোমাকে চমৎকার দেখাচ্ছে কিন্তু কিমানোটা ওভাবে পরে না। দুদিক থেকে টেনে শক্ত করে বাঁধো আর রূপোপজীবিনীর মত সাজগোজ করার চেষ্টা করো না। খাবার সময় ও রকম করাটা অসভ্যতা।
বেয়াক্কেলে বুড়ো জানোয়ার কোথাকার। খেলা করতে ভাল লাগে না তোমার? আমি বিয়ে বিয়ে খেলছি।
বন্ড বড়া গলায় বলল, খাবার সময় নয়। এসো খাওয়া সেরে নাও। চমৎকার রান্না। আর আমি দাড়ি কামিয়ে গোসল করতে যাচ্ছি। আর যে খেলাটার কথা বলছিলে, তা অন্য যে কোন মেয়ের চেয়ে তোমার সঙ্গে খেলাটাই বেশি ভাল লাগবে। কিন্তু এখন নয়। বন্ড দাড়ি কামালো, সাবান মাখল, শাওয়ারে গোসল করল, ভীষণ ঘুম পাচ্ছে। কিন্তু যখন তার দাঁত মাজবার পালা এল, তখন তার আর হাত নাড়বার ক্ষমতা নেই। এবার সে বুঝতে পারল, তাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেওয়া হয়েছে। কফিতে না আনারসের রসে? কেবল একবার এই মার্বেলের মেঝেতে মাথা রেখে চোখ বুজতে পারলে হয়।
মাতালের মত টলতে টলতে বন্ড দরজার দিকে গেল। ভুলে গেল যে তার পরনে কিছু নেই। অবশ্য মেয়েটা খেয়ে দেয়ে শুয়ে পড়েছে। কিমানোটা পাশে পড়ে আছে। সর্বাঙ্গে চাদর ঢাকা দিয়ে মেয়েটা গভীর ঘুমে নিমগ্ন।
বন্ড ঘোলাটে চোখে সুইচ খুঁজে এ ঘরের আলোটা নিভিয়ে দিল। এবার তাকে হামাগুড়ি দিয়ে এগুতে হল। শরীরটাকে টেনে ফেলল নিজের ঘরে, নিজের বিছানায়। সুইচটা টিপতে গেল কিন্তু উটে পড়ে গেল বাতিটা, বাল ফেটে চুরমার হয়ে গেল। শরীরটা গভীর নিদ্রায় ডুবে গেল।
ঘরের বৈদ্যুতিক ঘড়িতে তখন সাড়ে নটা বাজে।
ঠিক দশটার সময় জোড়া ঘরের দরজাটা আস্তে খুলে গেল। আলোকিত করিডোরের পটভূমিকায় দেখা গেল এক সুদীর্ঘ কৃশকায় মূর্তি। একজন পুরুষ, লম্বায় অন্তত সাড়ে ছ ফুট। বুকের ওপর দু হাত ভাঁজ করে দরজায় দাঁড়িয়ে রইলেন। কি যেন শুনছেন। তারপর নিশ্চিন্ত হয়ে ঘরে ঢুকলেন। ধীরপায়ে এগিয়ে গেলেন বিছানার দিকে। একটু ঝুঁকে পড়ে মেয়েটির শান্ত নিঃশ্বাসের শব্দ শুনলেন। নিজের বুকের ওপর একটা সুইচে চাপ দিলেন। একটা বৈদ্যুতিক আলো জ্বললো। আলোটা তার বুকে। পাজরের ওপর বাঁধা। তারপর তিনি মেয়েটির মুখের দিকে ঝুঁকে পড়লেন। চওড়া নরম আলোর রশ্মি গিয়ে পড়ল মেয়েটার মুখে।
