হ্যাঁ, বলল বন্ড, দয়া করে জানিয়ে দেবেন যে নৈশভোজে তার সঙ্গে যোগ দিতে পারলে আমরাও আনন্দিত হব।
একথা শুনে তিনি সত্যিই খুশি হবেন। একথা বলে তারা বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে চলে গেল।
বন্ড হানিচাইলকে ভারি বিব্রত দেখল। বন্ডের মনে পড়ল যে মেয়েটা কখনও এত মার্জিত ব্যবহার আর এত আড়ম্বর দেখেনি। তাই তার কাছে এ ব্যাপারটা বাইরের ঘটনাগুলোর চাইতে বিচিত্র ও ভীতিপ্রদ লাগছে। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তার ম্যান ফ্রাইডে মার্কা স্কার্টের সেলাই খুঁটছে। মুখে এখনো ঘাম, লবণাক্ত পানি আর বালির দাগ লেগে আছে। খালি পা দুটো এখনো নোংরা। বন্ড দেখল মেয়েটার পায়ের আঙুলগুলো আস্তে আস্তে নড়ছে, অসংলগ্ন ভঙ্গিতে অত্যন্ত পুরু নরম কার্পেটটা আঁকড়ে ধরতে চেষ্টা করছে।
বন্ড প্রকৃত আনন্দের হাসি হাসল। পোশাক সম্পর্কে লজ্জা আর কি রকম ব্যবহার করে সেই চিন্তায় মেয়েটার সব ভয় ডুবে গেছে। তাদের দুজনের মূর্তি দেখে বন্ড আরো হাসল–মেয়েটার শতছিন্ন পোশাক আর বন্ডের পরনে নোংরা নীল শার্ট, কালো প্যান্ট আর কাদামাখা ক্যানভাসের জুতো।
মেয়েটার কাছে গিয়ে বন্ড তার হাত তুলে বলল, হানি, আমাদের সামনে মাত্র একটা সমস্যা–এই গরম খাবারগুলো খেয়ে নেব, না এই ন্যাকড়াগুলো ছেড়ে গোসল করে ঠাণ্ডা খাবার খাব? আমরা দুজনে এই চমৎকার ছোট বাড়িটাতে বাসা বেঁধেছি, ব্যস। এবার বল কোনটা করবে?
হানি অনিশ্চিতভাবে হেসে বলল, তোমার কি ভয় হচ্ছে না যে আমাদের কি হবে? তোমার কি মনে হয় না যে এ একটা ফাঁদ।
সত্যিই যদি ফাঁদ হবে তবে আমরা আটকা পড়ে গেছি। সুতরাং যতটা খাবার হাতের সামনে পাওয়া যায় তা খেতে ক্ষতি কি? একমাত্র প্রশ্ন যে, খাবারটা গরম না ঠাণ্ডা খাব? মেয়েটার হাতে চাপ দিয়ে, সত্যি বলছি, হানি। ভাবনা চিন্তার ব্যাপারটা আমার ওপরেই ছেড়ে দাও। একবার ভেবে দেখ একঘণ্টা আগে আমরা কি অবস্থায় ছিলাম। এটা কি তার চেয়ে ভাল নয়? এবার এস ঠিক করি–গোসল না খাওয়া?
মেয়েটা নিস্পৃহভাবে বলল, তা তুমি যদি…মানে আগে পরিষ্কার হয়ে নিলে ভাল হয়। তোমাকে কিন্তু সাহায্য করতে হবে। বাথরুমে কিভাবে কি করতে হয় আমি একদম জানি না। আমাকে বলে দেবে।
বন্ড বলল, খুব সোজা ব্যাপার। আমি তোমার জন্য সব ঠিক করে দিচ্ছি। তুমি গোসল করতে করতে আমি খাবার খেয়ে নেব। তোমারটা ঢেকে রাখব না হয়। বন্ড একটা কাপড়ের আলমারি খুলল। আধ ডজন কিমানো কয়েকটা সিল্কের আর অন্যগুলো সুতির। একটা সুতির পোশাক সামনে থেকে বের করে বলল, জামা-কাপড় ছেড়ে এটা পরে ফেল। আমি গোসলের পানি তৈরি করছি। শোবার সময় আর নৈশভোজের সময় কি পরবে, তা তুমি পরে ঠিক কোর।
হানি বলল, আচ্ছা, জেমস। এবার তুমি একটু দেখিয়ে দাও যে কেমন করে…। বন্ড বলল, ঠিক আছে হানি। বলেই সে বাথরুমের ভেতর ঢুকে বাথটবের কলগুলো খুলে দিল।
বাথরুমের ভেতর সবকিছুই রয়েছে–পুরুষদের জন্যে ফ্লোরিস লাইম বাথ এসেন্স আর মেয়েদের জন্য গেবলাইম বাথকিউব। বন্ড একটা বাথকিউব গুঁড়িয়ে মিশিয়ে দিল পানির সঙ্গে। সঙ্গে সঙ্গে তীব্র ফুলের গন্ধে চারদিক ভরে গেল। ওয়াশ বেসিনের ওপর একটা আয়না, আর তার পেছনে ছোট একটা ওষুধের তাক। তার মধ্যে টুথপেস্ট, টুথব্রাশ, টুথপিক, অ্যাসপিরিন, মিল্ক অব ম্যাগনেশিয়া ইত্যাদি সাজানো। ইলেকট্রিক শেভার। আফটার শেভ লোশন এবং এক জোড়া চুলের ব্রাশ ও চিরুনি আছে। প্রতিটি জিনিস নতুন ও অব্যবহৃত।
বন্ড আয়নার দিকে তাকিয়ে নিজের ধূসর, পথভ্রষ্টের মত চোখ দুটো দেখে গম্ভীর হাসি হাসল। যে ওষুধ তাদের খাওয়ানো হবে, তা বাইরেটা সত্যিই সবার সেরা চিনি দিয়ে মোড়া। সুতরাং ভেতরের জিনিসটা সবচেয়ে বেশি তিক্ত হবে আন্দাজ করা যায়।
বাথটবের কাছে গিয়ে সে পানি পরখ করল। মেয়েটা বোধহয় জীবনে গরম পানিতে গোসল করেনি। সামনে ঝুঁকে পড়তেই হঠাৎ দুটো হাত পেছন থেকে তার গলা জড়িয়ে ধরল। বন্ড উঠে দাঁড়াল। সাদা মার্বেল পাথরের বাথরুমে ঝলমল করে উঠল মেয়েটির সোনালি দেহ। জোরে এলোমেলোভাবে বন্ডের ঠোঁটে চুমু খেল। বন্ড তাকে জড়িয়ে ধরল। হানি দমবন্ধ গলায় বলল, চীনে পোশাকটা বড় বিঘুঁটে লাগল। যাকগে, তুমি তো বলেই দিয়েছ ঐ মেয়েটাকে যে আমাদের বিয়ে হয়ে গেছে।
বন্ডের হাত মেয়েটার বা-দিকের স্তনের ওপর। মেয়েটার সর্বাঙ্গ বন্ডের ওপর ঘনিষ্ঠ হয়ে এসেছে। কেন নয়? নয় কেন? বোকার মত কাজ কোর না। তোমরা দুজনেই মারাত্মক বিপদের মধ্যে রয়েছ। সুতরাং তোমাকে সর্বক্ষণ বরফের মত ঠাণ্ডা থাকতে হবে। দুর্বল হয়ো না।
বন্ড মেয়েটার বুকের ওপর থেকে হাত সরিয়ে নিয়ে তার গলা বেষ্টন করল। মুখে মুখ ঘষে ঠোঁটের ওপর ঠোঁট নিয়ে চুমু খেল।
বন্ড দু পা পিছিয়ে দাঁড়াল। এক মুহূর্তের জন্য তারা পরস্পরের দিকে তাকাল, দুজনেই চোখেই তখন কামনার আগুন জ্বলছে। বন্ড অসংলগ্ন ভঙ্গিতে বলল, হানি, চপট বাথটবে ঢোক, নইলে তোমাকে ধরে পেটাব।
মেয়েটা হেসে বাথটবে শুয়ে পড়ল। বন্ডের দিকে তাকিয়ে, আমাকে সাবান মাখিয়ে দেবে না? আমি জানি না কি করে কি করতে হয়। দেখিয়ে দাও আমাকে।
বন্ড মরিয়া হয়ে বলল, চুপ কর হানি। আর ইয়ার্কি মারা বন্ধ কর। সাবান হাতে নিয়ে ফেনা করে গায়ে ঘষ–খুব মাখতে পারবে। নিকুচি করেছে। এই কি প্রেম করবার সময়? আমি খেতে যাচ্ছি। তাহল ঘুরিয়ে দরজা খুলল বন্ড। মেয়েটা নরম গলায় ডাকল, জেমস বন্ড ফিরে দেখল মেয়েটা জিভ ভেংচে আছে। বন্ড হেসে দরজা বন্ধ করল।
