হ্যাঁ, নিশ্চয়ই।
এর প্রথম নামটা
হানিচাইল।
সিস্টার রোজ ভারি খুশি হল। কি সুন্দর নাম। আর আপনাদের নিকটতম আত্মীয়ের নামটা বললেই কাজ শেষ।
বন্ড M-এর আসল নাম জানাল তাদের নিকটতম আত্মীয় হিসাবে। বলল, ইনি তার কাকা আর ঠিকানা হচ্ছে। ম্যানেজিং ডাইরেক্টর, ইউনিভার্সাল এক্সপোর্ট রিজেন্টস পার্ক। লন্ডন।
সিস্টার রোজ লেখা শেষ করে বলল, ব্যস, এই পর্যন্ত। অশেষ ধন্যবাদ, মিঃ ব্রাইস। আশা করি এখানে আপনাদের সময়টা ভালই কাটবে।
ধন্যবাদ, আমারও তাই মনে হয়। বন্ড উঠে দাঁড়াল। হানিচাইলও উঠল।
সিস্টার লিলি বলল, এবার তোমরা আমার সঙ্গে এসে দেখি। তিনি অপর প্রান্তে দরজার হাতলে হাত দিয়ে হঠাৎ থেমে গেলেন। ঐ যাঃ, আবার আমি এদের ঘরের নম্বরটা ভুলে গিয়েছি। সেই ক্রিম রঙের কামরা দুটো, তাই না সিস্টার?
হ্যাঁ, তাই। চৌদ্দ আর পনেরো।
ধন্যবাদ লক্ষ্মীটি। এসো আমার পেছন পেছন। অনেকটা হাঁটতে হবে কিন্তু। ডক্টর প্রায়ই বলেন যে চলমান সিঁড়ি বা ঐরকম কিছুর ব্যবস্থা করবেন, কিন্তু সে আর হয়ে ওঠেনি। ব্যস্ত মানুষের যা হয় আর কি। অন্য অনেক কাজ নিয়ে মাথা ঘামাতে হয় কিনা।
হ্যাঁ, সেই জন্যেই বোধহয়। বন্ড দ্রভাবে বলল।
হানির হাত ধরে বন্ড ভদ্রমহিলার পেছন পেছন চলল একশ গজ লম্বা একটা গলি বেয়ে। মাঝে মাঝে পেছনদিকে তাকিয়ে তিনি নানা মন্তব্য করছিলেন। বন্ডও মাপা ও মার্জিত কথায় তার উত্তর দিচ্ছিল।
বন্ড বুঝতে পারছিল যে এই মহিলা দুজনের মধ্যে কোন কপটতা নেই। মনে হয় দুর্গের সামনের দিক এটা। ঘরে এবং এই গলিতে তাদের পদক্ষেপে এত কম স্পন্দন হচ্ছে যে, মনে হয় লম্বা ঘরটা পেরিয়ে তারা পাহাড়ের ভেতরে ঢুকে পড়েছে। পশ্চিম দিকে চলেছে বোধহয়। যে দিকে দ্বীপটা এক খাড়া পাহাড়ের দেয়ালে শেষ হয়েছে।
দেওয়ালের ওপর পানির ছাপ নেই। ঠাণ্ডা, নির্মল হাওয়া ভেসে আসছে। জায়গাটা তৈরি করতে অনেক টাকা আর কারিগরি বুদ্ধি খরচ হয়েছে। মহিলা দু জনের গায়ের রঙ দেখেই বোঝা যায় তারা সারাক্ষণ পাহাড়ের ভেতরেই থাকেন। সিস্টার লিলির কথা শুনে মনে হয় তারা পাহাড়ের অন্দরমহলের কর্মী। বাইরের সুদক্ষ সৈন্যবাহিনীর সঙ্গে তাদের কোন সম্পর্ক নেই।
পুরো ব্যাপারটা বন্ডের একটা হেঁয়ালি বলে মনে হল, অতি ভয়ংকর এক হেঁয়ালি। সে কেবল এই সুন্দর নাটকটার অভিনয়ে তার ভূমিকাটুকু চালিয়ে যাবে। এ জায়গাটা অন্তত মঞ্চের অপরদিক, অর্থাৎ দ্বীপের অন্য অংশ থেকে ভাল।
গলির শেষ প্রান্তে এসে সিস্টার লিলি দরজায় কলিংবেল বাজালেন। সঙ্গে সঙ্গে দরজাটা খুলে গেল। এক সুন্দরী চীনে মেয়ে হাসিমুখে চৈনিক প্রথায় অভিবাদন জানাল। তার পরনে হাল্কা বেগুনী ও সাদা ফুল আঁকা কিমানো। মেয়েটির ফর্সা ও ফুলের মত সুন্দর মুখটিতে সহৃদয় উষ্ণতা ও অভ্যর্থনা ছাড়া আর কিছু নেই।
সিস্টার লিলি বললেন, এই যে এরা শেষ পর্যন্ত এসে পড়েছেন, মেঃ মিঃ ও মিসেস ব্রাইস। বুঝতেই পারছি এরা। একেবারে হতক্লান্ত। সুতরাং এদের সোজা ঘরে পাঠিয়ে দিতে হবে অল্প কিছু প্রাতঃরাশ ও ঘুমের জন্য। বন্ডের দিকে ঘুরে, এর নাম মে। খুব লক্ষ্মী মেয়ে। এ তোমাদের দেখাশোনা করবে। কোন কিছু দরকার হলেই মে-কে ডেকো। আমাদের সব রোগীই এই মেয়েটিকে পছন্দ করেন।
রোগী বন্ড ভাবল। ভদ্রমহিলা দ্বিতীয়বার বললেন একথাটা। সে মে-র দিকে তাকিয়ে হেসে বলল, ধন্যবাদ। হ্যাঁ, আমার দুজনেই আপাতত নিজের ঘরে ঢুকতে চাই।
মে বলল, আশা করি এক্ষুনি আপনারা আরাম পাবেন, মিঃ ব্রাইস। আপনাদের আসার খবর পাওয়ামাত্র আমি প্রাতঃরাশ তৈরি করতে বলেছিলাম। আসুন… মেয়েটি ডান দিকের করিডোর বেয়ে চলল। তার পেছনে বন্ড ও হানিচাইল, আর সিস্টার লিলি।
করিডোরের দু পাশে পরপর নম্বর লেখা রয়েছে। এ জায়গাটার রং খুব হালকা গোলাপী। কার্পেটের রং ধূসর। গলির শেষ প্রান্তে পাশাপাশি দুটো ঘর ১৪ ও ১৫ নম্বর। মে ১৪ নম্বরের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকল। অন্যরা তাকে অনুসরণ করল।
একটা সর্বাধুনিক জোড়া বেডরুম, সর্বাধুনিক মায়ামি স্টাইলে তৈরি। গাঢ় সবুজ দেওয়াল, পালিশ করা মেহগনি রঙের মেঝে, আর চমৎকার বাঁশের আসবাবপত্র। ঘর সংলগ্ন দুটো দরজা দিয়ে দেখা যাচ্ছে পাশের একটি পুরুষালি ড্রেসিংরুম আর একটি অতি বিলাসবহুল বাথরুম।
মনে হল যেন তাদের ফ্লোরিডার এক নতুন হোটেলে আনা হয়েছে–তবে দুটো ব্যতিক্রম বন্ডের চোখে পড়ল। ঘরে একটাও জানালা নেই, আর দরজাগুলোর ভেতরদিকে কোন হাতল নেই…বেরোনো অসম্ভব।
মে আশান্বিত চোখে তাদের দিকে তাকাল।
বন্ড হানিফাইলের দিকে ঘুরে হেসে বলল, বেশ আরামের জায়গা বলেই মনে হচ্ছে। কি বল, প্রিয়ে?
মেয়েটা বন্ডের দিকে না তাকিয়েই মাথা নাড়ল।
দরজায় মৃদু টোকা দিয়ে আরেকটি মেয়ে ঘরে ঢুকল তার হাতে খাবারের ট্রে। সেটাকে টেবিলের মাঝখানে রেখে দুটো চেয়ার টেনে আনল। ট্রে-র ধবধবে সাদা ঢাকাটা তুলে নিয়ে ধীরপদে সে বেরিয়ে গেল। বেকন আর কফির চমৎকার গন্ধে ঘর ভরে গেল।
মে এবং সিস্টার লিলি দরজার দিকে ফিরে চললেন। দ্বিতীয়জন দরজায় পৌঁছে থামলেন। বললেন, এবার তোমরা আরাম কর, যদি কিছু দরকার হয় ঘণ্টি বাজিও। খাটের পাশেই কলিং বেল আছে। আর ভাল কথা আলমারিতে অনেক পরিষ্কার কাপড় আছে। অবশ্য চীনে পোশাক। তবে মাপ ঠিক আছে আশা করি। আমাদের দর্জিরা সবে গতকাল রাত্রে তোমাদের মাপ পেয়েছে। ডক্টর স্পষ্ট আদেশ দিয়েছেন যে তোমাদের যেন বিরক্ত না করা হয়। আজ রাত্রে যদি তোমার ওর সঙ্গে নৈশভোজ খেতে পার, তাহলে উনি খুশি হবেন। তিনি চান যে তোমরা সারাটা দিন জিরিয়ে, জায়গাটার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে নাও। আমি কি করে জানাব, যে তোমরা…
