অনেক অনেক ধন্যবাদ।
কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর তুমি কি করবে? তোমার নিশ্চয়ই ঐ মাটির তলার ঘরে সারাজীবন কাটানোর ইচ্ছে নেই।
ভাবছি রূপোপজীবিনী হব। খুব সহজভাবে বলল মেয়েটা। নার্স বা সেক্রেটারি হবার ইচ্ছে নেই।
বটে! সেকি জিনিস? বন্ড ভাবল মেয়েটা নির্ঘাৎ কোথাও থেকে কথাটা শুনেছে, যদিও মানে জানা নেই।
ঐ যে, যে মেয়েগুলোর সুন্দর সুন্দর বাড়ি আর জামাকাপড় থাকে। তুমি খুব জানো আমি কি বলতে চাই। পুরুষেরা তাদের ফোন করে, তাদের বাড়ি আসে। এক সঙ্গে শোয়, আর তার জন্য টাকা পায়। নিউইয়র্কে এক একবারের জন্য। তারা একশ ডলার পায়। ভাবছি, ওখানেই কাজ শুরু করব। অবশ্য, প্রথমদিকে আমার অতটাকা নিলে চলবে না। যতদিন না আমি ভালভাবে কাজটা শিখি। অশিক্ষিত রূপোপজীবিনীদের তুমি কত করে দাও?
বন্ড বলল, ঠিক মনে পড়ছে না। অনেকদিনের কথা।
মেয়েটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, ঠিকই তো। তুমি বোধহয় কিছু না দিয়েই যত চাও তত মেয়ে পেতে পার। কুৎসিত লোকেদেরই কেবল টাকা দিয়ে প্রেম করতে হয়। বড় শহরের সব চাকরিই নিশ্চয় সাংঘাতিক। তবে এই কাজে টাকা বেশি পাওয়া যায়। তারপর আমি জ্যামাইকায় ফিরে বো ডেজার্ট কিনে নেব। তখন আমার অনেক টাকা হবে, তাই ভাল একজন মানুষকে বিয়ে করা শক্ত হবে না। আমাদের ছেলেমেয়ে হবে। এখন এই ভেনাস ঝিনুকগুলি খুঁজে পাওয়াতে হিসেব করে দেখেছি যে আমার বয়স তিরিশে পৌঁছবার আগেই আমি জ্যামাইকায় ফিরতে পারব। খুব ভাল হবে, তাই না?
তোমার মতলবের শেষ দিকটা ভালই লাগছে। কিন্তু প্রথমদিকটায় আমার সন্দেহ আছে। যাই হোক, রূপোপজীবিনীদের বিষয়ে এত কিছু কি করে জানলে? বিশ্বকোষ থেকে?
কক্ষনো না। বাজে বোকো না। দু-বছর আগে নিউইয়র্কে বড় একটা মামলা হয়েছিল। য়েলকে নামে এক লম্পট ছিল। সে একদল মেয়ে মানুষ পুষতো। ঐ মামলাটা গ্রীনার কাগজে বেরিয়েছিল। তাছাড়া কিংসটনেও ওরকম মেয়ে হাজার-হাজার আছে। উঁচুদরের নয়। তারা পাঁচ শিলিং করে পায় আর ঝোঁপঝাড়ের আড়াল ছাড়া তাদের ব্যবসা চালাবার কোন উপায় নেই। ধাই-মা আমাকে তাদের কথা বলেছিল। বলেছিল আমি যেন কখনো ওদের মত না হই, হলে কোনদিন সুখী হতে পারব না। পাঁচটা শিলিং এর জন্য অবশ্য আমি কখনো ও কাজ করব না। তবে একশো ডলার পেলে…
বন্ড বলল, সে টাকার সবটা তুমি রাখতে পারবে না। খদ্দের যোগাবার জন্য তোমাকে একজন ম্যানেজার রাখতে হবে। পুলিশকে ঘুষ দিতে হবে। আর কোন গোলমাল হলেই সোজা জেল। শোন। পোকামাকড় বা জানোয়ারের সম্বন্ধে তোমার এত কিছু জানা আছে যে, তাদের দেখাশুনা করবার চমৎকার একটা চাকুরী তুমি পেতে পার যে কোন আমেরিকান চিড়িয়াখানায় বা জ্যামাইকা ইনস্টিটিউটে। এ কাজ তোমার অনেক বেশি ভাল লাগবে। ভাল বর জুটিয়ে নেওয়া শক্ত হবে না। রূপোপজীবিনী হবার কথা তুমি আর একদম ভাববে না। অতি সুন্দর তোমার শরীর। যাকে তুমি ভালবাসবে, তাকে কেবল উপহার দেবে এটাকে।
বইয়ে অবশ্য ও কথা বলে, কিন্তু মুশকিল হচ্ছে যে, বো ডেজার্ট ভালবাসবার মত কেউ নেই। তোমার আগে কোন ইংরেজের সঙ্গে আমার আলাপ হয়নি। তোমাকে আমার ভাল লেগেছে তাই তোমাকে এসব কথা বলতে আপত্তি নেই। আমার মনে হয় জ্যামাইকার বাইরে পালাতে পারলে ভাল লাগবার মত অনেককেই খুঁজে পাব।
নিশ্চয়ই পাবে। আর তুমি যে চমৎকার মেয়ে তোমাকে প্রথম দেখেই আমি বুঝেছিলাম।
অর্থাৎ আমার পেছনটা দেখে।
বন্ড হাসল, তা পেছন দিকটাও চমৎকার, সামনের দিকটাও চমৎকার। এবার ঘুমাও দেখি, হানি। জ্যামাইকায় ফিরে অনেক গল্প করা যাবে।
সত্যি? ঘুম জড়ানো গলায়, কথা দিচ্ছ
দিচ্ছি।
বন্ড ঘুম থলিটার মধ্যে মেয়েটার নড়াচড়ার শব্দ শুনতে পেল। বাচ্চারা ঘুমিয়ে পড়বার আগে যেমন বড়সড় নিঃশ্বাস ফেলে, সেরকম আওয়াজ মেয়েটার দিকে হল।
চারদিক নিস্তব্ধ। ঠাণ্ডা পড়ছে। বন্ড ভাঁজ করা হাঁটুদুটোর ওপর মাথা রাখল। সারা দিনের স্মৃতি এবং তার জীবনে নবাগত এই অসাধারণ মেয়ে টার্জানটির চিন্তায় তার মন আচ্ছন্ন হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে যেন একটা সুন্দর প্রাণী তার পোষ মেনেছে। মেয়েটার সব সমস্যার সমাধান করবার আগে এ বাঁধন খোলা যাবে না। বন্ড তা জানত। অবশ্য অধিকাংশ সমাধানই হবে–অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করে দেবে। এমন কি বন্ধুদের সাহায্যে মেয়েটার জন্য একটা ভাল চাকরি আর ভাল বাড়ি জোগাড় করা যাবে। বন্ডের টাকা আছে। মেয়েটাকে ভাল পোশাক পরিচ্ছদ কিনে দেবে, চুলগুলো ঠিক করিয়ে দেবে যাতে তার নতুন জীবন ভালভাবে শুরু হয়।
কিন্তু অন্যদিকটা? সে যে মেয়েটির প্রতি তীব্র দৈহিক কামনা অনুভব করছে তার কি হবে? একটি অবোধ শিশুর সঙ্গে তো সহবাস করা যায় না। কিন্তু সত্যিই কি মেয়েটা অপরিণত। মেয়েটার কিছুই শিশুসুলভ নয়। মেয়েটা পরিণত, বুদ্ধিদীপ্ত এবং বন্ডের দেখা কুড়ি বছরের মেয়ের চেয়ে বেশি আত্মনির্ভর।
শার্টের হাতায় টান পড়তে বন্ডের চিন্তা কেটে গেল। মৃদু কণ্ঠস্বর, তুমি ঘুমোচ্ছ না কেন? ঠাণ্ডা লাগছে?
আরে না, আমি ঠিক আছি।
ঘুম থলির ভেতরটা কিন্তু বেশ গরম। তুমি আসবে এর মধ্যে? অনেক জায়গা আছে।
না হানি ধন্যবাদ। আমি আরামেই আছি।
প্রায় চাপা গলায় মেয়েটা বলল, তুমি যদি ভেবে থাক…মানে–আমার সঙ্গে কিছু করতে হবে না তোমার। আমি পিঠোপিঠি শুতে পারি।
