হ্যাঁ জানি।
আমি তাকে ছোরা দিয়ে মারতে চেষ্টা করলাম। কিন্তু তার গায়ে ভীষণ জোর। সমস্ত জোর দিয়ে আমাকে নাকে এমন জোরে ঘুষি মারল যে আমার নাক ভেঙে গেল। আমাকে অজ্ঞান করে বোধহয় আমার উপর কিছু একটা করেছিল। মানে, আমি জানি সে করেছিল। পরদিন আমি যখন তার কীর্তি আর আমার নাকের অবস্থা দেখলাম, আমার আত্মহত্যা করতে ইচ্ছে হল। ভাবলাম আমার বাচ্চা হবে। তা যদি হত, আমি নিশ্চয়ই আত্মহত্যা করতাম। কিন্তু তেমন কিছু হল না। তারপর আমি ডাক্তারবাবুর কাছে গেলাম। তিনি আমার নাকের চিকিৎসা করলেন কিন্তু টাকা নিলেন । অন্য ব্যাপারটা সম্বন্ধে আমি তাকে কিছু বলিনি।
লোকটা আর ফিরে এল না। আমি তার জন্য অপেক্ষা করলাম। কিন্তু পরের বারের আখ কাটা শেষ হবার আগে কিছু করলাম না। আমি মতলব ঠিক করেছিলাম। অপেক্ষা করছিলাম কখন ব্লাক-উইডোে মাকড়সারা আশ্রয় নিতে আসে। শেষে একদিন তারা এল। তাদের সবচেয়ে বড় মেয়ে মাকড়সাটাকে ধরে আমি একটা বাক্সের মধ্যে না খেতে দিয়ে বন্দী করে রাখলাম। মারাত্মক জানোয়ার এই মেয়েগুলো। তারপর আমি একটা অন্ধকার রাত্রির জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। যে রাত্রে চাঁদ উঠবে না, সেই রাত্রে মাকড়সাটা নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে আমি পৌঁছলাম লোকটার বাড়িতে। তার বাগানে ঝোঁপের আড়ালে লুকিয়ে থেকে তাকে শুতে যেতে দেখলাম। তারপর একটা গাছ বেয়ে ব্যালকনিতে উঠে পড়লাম। দাঁড়িয়ে রইলাম যতক্ষণ না তার নাক ডাকার আওয়াজ পাওয়া যায়। তারপর গুঁড়ি মেরে। তার জানালা গলে ভেতরে ঢুকলাম। সে উলঙ্গ হয়ে ঘুমচ্ছিল মশারির ভেতরে। মশারির একটা দিক তুলে আমি বাক্সটা। খুললাম। ঝাঁকিয়ে ঝাঁকিয়ে মাকড়সাটাকে বার করে তার পেটের ওপর ছেড়ে দিলাম। তারপর বাড়ি ফিরে এলাম।
হে সৃষ্টিকর্তা। শ্রদ্ধার সঙ্গে বন্ড বলল, লোকটার কি দশা হল?
আনন্দের সঙ্গে মেয়েটা বলল, তার মরতে এক সপ্তাহ সময় লেগেছিল। ভীষণ যন্ত্রণা পেয়েছিল। তাই হয়, জানো, ডাইনেরা বলে এমন যন্ত্রণা আর হয় না। বন্ড কোন মন্তব্য করল না দেখে মেয়েটি বলল, তুমি নিশ্চয়ই বলতে চাও না যে আমি অন্যায় করেছিলাম, বল?
এ রকম অভ্যেস থাকা ভাল নয়, বন্ড নরম সুরে বলল, কিন্তু এই ঘটনার জন্যে আমি তোমাকে দোষ দিই না। তারপর কি হল?
তারপর আমি আবার একইভাবে থাকতে লাগলাম। পেট ভরাবার জন্য আমাকে খুব পরিশ্রম করতে হত আর সেটা ছাড়া আমার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল টাকা জমানো, যাতে আমার নাক ভাল করতে পারি। সত্যি বলছি, আগে আমার নাক খুবই সুন্দর ছিল। তোমার কি মনে হয় যে ডাক্তাররা এটাকে ঠিক আগের মত করে দিতে পারবে?
তুমি যেমনটি চাইবে ঠিক তেমনটি করে দেবে। তুমি কি করে পয়সা রোজগার করতে?
ঐ বিশ্বকোষ থেকে আমি জানতে পেরেছিলাম যে লোকে ঝিনুক জমায় আর দুর্লভ জাতের ঝিনুক ভাল দামে বিক্রি হয়। স্থানীয় একজন শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানলাম যে ঝিনুক-সগ্রাহকদের নটিলাস নামক একটা নিজস্ব পত্রিকা আছে। পত্রিকার গ্রাহিকা হবার মত টায় টায় টাকা আমার কাছে ছিল। পত্রিকার বিজ্ঞাপনে লোকে যে সব ঝিনুক চায়, আমি সেগুলোর খোঁজ করলাম।
তারপর আমি মায়ামির এক ঝিনুক বিক্রেতাকে চিঠি লিখি আর সে আমার কাছে ঝিনুক কিনতে শুরু করে। প্রথম দিকে অবশ্য আমি ভুল করেছিলাম। যেমন, ভেবেছিলাম যে লোকেরা সুন্দর ঝিনুকই পছন্দ করে। কিন্তু তা নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা সবচেয়ে বিশ্রী ঝিনুকগুলো খোঁজে। তারপর দুর্লভ জাতের ঝিনুক পেলে আমি সেগুলোকে ঘষে মেঝে পরিষ্কার করতাম, যাতে তাদের ভাল দেখায়। সেটাও ভুল। সগ্রাহকরা ভেতরের প্রাণীটাসুদ্ধ যে অবস্থায় সমুদ্র থেকে তোলা হয় সেরকমই ঝিনুক চায়। সুতরাং ডাক্তারবাবুর কাছ থেকে কিছুটা ফর্মালিন জোগাড় করে আমি প্রতিটি জ্যান্ত ঝিনুকে একটু করে ঢেলে দিতে লাগলাম, যাতে বোটকা গন্ধটা বন্ধ হয়। আর তারপর মায়ামি পাঠিয়ে দিতাম, লোকটার কাছে। বছর খানেক আগে আমার পুরো ব্যাপারটা রপ্ত হয়ে আসে আর এরমধ্যে আমি পনের পাউন্ড জমিয়ে ফেলেছি। আমি বুঝেছি ওরা কি জিনিস চায়। ভাগ্য ভাল হলে আমি বছরে পঞ্চাশ পাউন্ড পর্যন্ত জমাতে পারি। তাহলে দশ বছরের মধ্যে আমি আমেরিকায় গিয়ে নাকের অস্ত্রোপচারটা করিয়ে নিতে পারতাম।
আর তারপর, মেয়েটা উচ্ছ্বসিত হাসি হেসে বলল, হঠাৎ আমার ভাগ্য খুলে গেল। আমি একদিন ক্র্যাব-কীতে এলাম। অবশ্য এর আগেও এসেছিলাম এখানে। তবে এট ছিল বড়দিনের ঠিক আগে। এই বেগুনে ঝিনুকগুলো খুঁজে পেলাম। এদের দেখে আমার তেমন কিছু মনে হয়নি। তবু দু-একটা পাঠিয়ে দিলাম মায়ামিতে। সঙ্গে সঙ্গে চিঠি এলো যে আমি যতগুলো পাঠাতে পারব সবকটা সে কিনে নেবে আর এক একটার দাম দেবে পাঁচ ডলার করে। সে আরো বলল যে, এই ঝিনুকের আড্ডার হদিশ যেন কেউ না পায়, নইলে, যাকে বলে, বাজার নষ্ট হয়ে যাবে আর দামও পড়ে যাবে।
আমার মনে হল নিজস্ব একটা সোনার খনি পেয়ে গেছি। এখন পাঁচ বছরের মধ্যেই আমি পুরো টাকা জমিয়ে। ফেলতে পারব। তাই আমি তোমাকে সমুদ্রতীরে দেখে সন্দিগ্ধ হয়েছিলাম, ভেবেছিলাম তুমি আমার ঝিনুক চুরি করতে। এসেছ।
তুমিও আমাকে চমকে দিয়েছিলে। আমি ভেবেছিলাম তুমি ডক্টর নো-র নর্ম সহচরী।
