সে কি M কে জানাবে এই অবস্থা পরিবর্তনের কথা? নাকি গভর্নরের কাছে একটা রিপোর্ট পাঠাবে? কি খবর পাঠাবে? যে ডক্টর নো তাকে বিষাক্ত ফল পাঠিয়েছে। কিন্তু ফলগুলো সত্যিই বিষাক্ত কিনা, এমন কি ওগুলো সত্যিই ডক্টর নো-র কাছ থেকে এসেছে সে সম্বন্ধেও সে নিঃসন্দেহ নয়।
এ রকম একটা সংকেত বার্তা পেলে M-এর মুখের অবস্থা যে কেমন হবে বন্ড তা মনশ্চক্ষে দেখতে পেল। যে তিনি বলছেন, চীফ অফ স্টাফ 007 ক্ষেপে গিয়েছে। বলে কিনা তাকে কে একটা বিষাক্ত কলা খাইয়ে গেছে। ওকে বরং ফেরত আসতে বল?
বন্ড আপন মনে হাসল। না, সে যতক্ষণ না হাতে আরও প্রমাণ পায় ততক্ষণ অপেক্ষা করবে। তবে কোন বিপদ সংকেত পাঠাবার আগেই যদি সে একটা মারাত্মক বিপদে পড়ে যায়, তাহলেই হয়েছে।
বন্ড তার প্ল্যানটা খুঁটিয়ে বিচার করে দেখল। তারপর নিচে নেমে আধখালি ভোজঘরে নৈশভোজ সেরে এল। নটা। বাজার আগেই ঘরে এসে সকালে বেরোবার জন্য মালপত্র ঘুছিয়ে রাখল। টেলিফোনে ব্যবস্থা করল যাতে সকাল সাড়ে পাঁচটায় ডেকে দেওয়া হয় তাকে। এত গরম, বন্ড দরজা-জানলা বন্ধ করল, উপায় নেই। জামাকাপড় খুলে চাদরের তলায় ঢুকে পড়ল। বালিশের তলায় রইল ওয়ালথার PPK. পাঁচ মিনিটের মধ্যে ঘুম এসে গেল।
রাত তিনটেয় বন্ডের ঘুম ভেঙে গেল। সময়টা বুঝল ঘড়িটা দেখে। নিস্তব্ধ ঘর। সে কান খাড়া করে শোনবার চেষ্টা করল। ঘরের বাইরেটাও মৃত্যুর মত নিঃশব্দ। কেন ঘুম ভাঙল তার? বন্ড আস্তে-আস্তে খাট থেকে উঠতে গেল।
থেমে গেল সে। একজন মানুষের পক্ষে যতটা স্থির হওয়া সম্ভব, ঠিক ততটা স্থির হয়ে গেল, তার ডান পায়ের গোড়ালির ওপর কি যেন নড়ছে। সেটা পা বেয়ে উঠতে লাগল। দেখল খুব বড় একটা পোকা। অন্তত পাঁচ ছয় ইঞ্চি লম্বা পায়ের ওপর কয়েক ডজন ছোট-ছোট পায়ের স্পর্শ পেল। জিনিসটা কি?
তার মাথার প্রতিটি চুল খাড়া হয়ে উঠেছে। শব্দটা সে বিশ্লেষণ করে দেখল। কিছুতেই হতে পারে না। কিন্তু হ্যাঁ, সত্যিই তো চুলগুলো খাড়া হয়ে উঠল! বন্ড অনুভব করল ঠাণ্ডা হাওয়া এসে লাগছে তার চাদিতে। তাজ্জব ব্যাপার!
গায়ের উপরের প্রাণীটা এবার নড়ল। বন্ড বুঝল সে ভীষণ ভয় পেয়েছে, আতঙ্কিত হয়েছে, তার অনুভূতি মস্তিষ্ককে জানান-দেবার আগেই তার শরীরকে জানিয়ে দিয়েছে যে বহু পদবিশিষ্ট প্রাণী চলাফেরা করছে।
বন্ড স্থির হয়ে রইল। সে একবার জাদুঘরে স্পিরিটের বোতলে, গ্রীষ্মপ্রধান দেশের বিছে দেখেছিল। চ্যাপটা, হালকা বাদামি রঙের আর পাঁচ-ছ ইঞ্চি লম্বা-এটার মত লম্বা হবে। ভোতা মাথাটার দু দিকে বাঁকা, বিষাক্ত নখর। বোতলে লেখা ছিল যে এর বিষ ধমনীতে প্রবেশ করলে মৃত্যু অনিবার্য।
সে কি সহ্য করতে পারবে? যদি ওখানে একটা কামড় বসায়।
প্রাণীটা আবার চলতে শুরু করল। এবার চুলের অরণ্যে ঢুকছে, চুল সরিয়ে রাস্তা করে নিচ্ছে। জায়গাটা কি ওর পছন্দ হয়ে যাবে? ঘুমিয়ে পড়বে, না তো? কেমন করে ঘুমোয় এরা কুকড়ে না হাত-পা ছড়িয়ে? এবার এসে পড়েছে মাথায়। বালিশে নেমে পড়বে না, এই উষ্ণ অরণ্যেই থেকে যেতে চাইবে? পোকাটা থেমে পড়ল। বেয়রা! বেরিয়ে যা! বন্ডের প্রতিটি স্নায়ু পোকাটার প্রতি চিৎকার করে উঠল।
পোকাটা নড়ল, আস্তে তার চুল-পার হয়ে বালিশে নেমে পড়ল।
বন্ড এক সেকেন্ড অপেক্ষা করল। তারপর বিছানার চাদরে অসংখ্য পায়ের আঁচড়ানোর শব্দ পেল।
সমস্ত ঘর কাঁপিয়ে বন্ড বিছানা থেকে মেঝেতে ছিটকে পড়ল। পরক্ষণেই উঠে দাঁড়াল। দরজার কাছে গিয়ে আলোটা জ্বালাল। হাত পা অসম্ভব কাঁপছে। টলতে টলতে গিয়ে দাঁড়াল বিছানার পাশে। একটা বিশাল কাঁকড়া বিছে…ড়ি মেরে চলেছে বালিশের ধার বেয়ে।
বন্ড একটু অপেক্ষা করল, যতক্ষণ না তার মাথা ঠাণ্ডা হয়। তারপর আস্তে করে বালিশটা তুলে নিল। ঘরের মাঝখানে নিয়ে ফেলল সেটাকে। বিছেটা বালিশের তলা থেকে বেরিয়ে এসে চটপট কার্পেট বেয়ে পা চালাল। এখন যেন বন্ডের তেমন উৎসাহ নেই। সে চারদিকে চেয়ে দেখল, কি দিয়ে মারা যায় এটাকে। ধীরে-সুস্থে একপাটি জুতা হাতে নিয়ে ফিরে এল। বিপদ কেটে গেছে। সে ভাবছে বিছে-টা বিছানায় এল কি করে। জুতার পাটিটা সজোরে নামিয়ে আনল পোকাটার ওপর। বিছের শক্ত পা ফেটে যাওয়ার আওয়াজ পেল সে।
বন্ড জুতাটাকে তুলে নিল।
বিছে-টা যন্ত্রণায় ছটফট করছে-পাঁচ ইঞ্চি লম্বা ধূসর বাদামী চকচকে এক মৃত্যুদূত। বন্ড আবার আঘাত করল। এবার পোকটা ফেটে গিয়ে এক গাদা হলুদে রস বেরোল।
বন্ড জুতাটাকে ফেলে দিয়ে এক ছুটে বাথরুমে গিয়ে ঢুকল। তার ভয়ানক বমি পাচ্ছে।
.
নৈশ অভিযান
ভাল কথা, কোয়ারেল– ব্রাউন বহুবার লেখা একটা বাসকে পাশ কাটাতে কাটাতে বন্ড জিজ্ঞেস করল, বিছেদের সম্বন্ধে তোমার কতদূর জানা আছে?
বিছে, ক্যাপ্টেন কোয়ারেল আড়চোখে পাশের দিকে তাকিয়ে প্রশ্নটার তাৎপর্য আন্দাজ করতে চেষ্টা করল। কিন্তু বন্ডের মুখের ভাব সাধারণ। তা জ্যামাইকাতে কিছু খারাপ জাতের বিছে আছে। তিন থেকে পাঁচ ইঞ্চি লম্বা। মানুষ খতম করতে পারে। কিংসটনের সব পুরনো বাড়িতে ওদের আস্তানা। ওরা পচা কাঠ আর ছাতা ধরা জায়গা খুব ভালবাসে। ওরা নিশাচর। কেন, ক্যাপ্টেন আপনি একটাকে দেখেছেন নাকি?
