বন্ড তার দিকে তাকিয়ে হাসল। এই ভদ্রলোককেই তার চাই। বন্ড বলল, কথাটা হল এই যে আমি ট্র্যাংওয়েজ এর ব্যাপারে এখানে এসেছি। আপনি কেমন করে আমার অন্য কেসটা সম্পর্কে জানতে পারলেন? আপনি বললেন আপনি ফাইলটা হঠাৎ দেখেছেন। সব ব্যাপারটা বলবেন? কেউ কি ফাইলটা চেয়েছিল? আমার এ ব্যাপারে কৌতূহল হচ্ছে, এই পর্যন্ত।
সেক্রেটারি বললেন, ও এই ব্যাপার! বন্ড হেসে আবার বলল, নানারকম লোকই দেখছি এ শহরে আমার সম্পর্কে জানতে চায়। আপনি ক্র্যাব-কী সম্বন্ধে যা জানেন আর ঐ চীনে লোকটির সম্পর্কেও যার নাম ডক্টর নো, এছাড়া। গুয়ানোর সম্পর্কে আপনি যা জানেন, যদি কিছু খবর পাই তাতে আমার সাহায্য হবে।
প্লেডেল স্মিথ বললেন, আমি গুয়ানোর ব্যাপারে অনেকটাই জানি। কলোনিয়াল অফিসে যোগ দেবার আগেই আমার এ বিষয়ে আগ্রহ ছিল। প্রথম আমি ব্যাপারটা জানি পেরুতে। ঐ সব ব্যবসা যারা করে তাদের সঙ্গে আমার নানারকম-সম্পর্ক ছিল। কোম্পানীটির নাম হল কম্পানিয়া আমিনিস্ত্রাদরা দেল গুয়ানো। ভারি চমৎকার লোক ওরা। এবার পাইপটা বেশ ধরেছে। এর পরের ঘটনা বলা খুবই সোজা। ফাইলেই সব আছে। তিনি ঘণ্টা বাজাতেই বন্ডের পেছনের দরজা খুলে গেল। মিশ তারো, ক্র্যাব-কী সম্পর্কে যে সব ফাইল আছে নিয়ে এসো। ঐ জায়গাটা বিক্রি সম্পর্কে একটা ফাইল আছে আর একটা আছে গত বড়দিনের আগে ঐ দ্বীপ থেকে একজন ওয়ার্ডেন আসবার পর যে ফাইলটা খোলা হয়েছিল। মিস লংফেলল জানে সে সব কোথায় আছে।
আচ্ছা তারপর দরজা বন্ধ করার শব্দ হল।
প্লেডেল স্মিথ বললেন, হ্যাঁ যা বলছিলাম। গুয়ানোর ব্যাপারটা…। বন্ড বিরক্ত হবার জন্য প্রস্তুত হল। আপনি তো জানেন গুয়ানো হল পাখির নোংরা। দু রকম পাখি থেকে পাওয়া যায়, মাস্কও বুবি, আর এক হল গুয়ানে। ক্র্যাব কীতে কেবল গুয়ানে পাখিরই বসবাস। এদের অন্য নাম হচ্ছে গ্রীন করমোর্যান্ড। গুয়ানে পাখি আসলে একটা যন্ত্র এই যন্ত্র মাছ থেকে তৈরি করে গুয়ানো। এই পাখি বেশির ভাগ খায় আনচোভি মাছ। এরা যে কত মাছ খায় তার জানবার জন্য এদের পেট কেটে দেখা গেছে এক-একটার পেটে সত্তরটা পর্যন্ত আনচোভি মাছ। পেরুর লোকেরা বছরে খায় চার হাজার টন মাছ, আর পেরুর পাখিরা খায় পাঁচ লক্ষ টন।
বন্ড তার ঠোঁট বাঁকাল, সে যে এ ব্যাপারে দারুণ আগ্রহান্বিত সেটা দেখানোই তার উদ্দেশ্য। সত্যি?
কলোনিয়াল সেক্রেটারি বললেন, প্রতিদিন এই সব পাখিরা এক একটিতে প্রায় এক মলদ্যপি মাছ খায় আর প্রত্যেকে এক আউন্স করে গুয়ানো তৈরি করে।
বন্ড বাধা দিয়ে বলল, তারা সমুদ্রে করে না কেন?
তা তো জানি না। যে কোন কারণেই হোক না কেন, তারা মাটিতে করে এবং বাইবেলের জন্মের আগে থেকে করে আসছে। তার মানে হল পাখির নোংরার এক বিরাট বিশাল পাহাড়। কোটি কোটি টন-পেসকার বা অন্য গুয়ানেরাতে জমে ছিল। তারপর ১৮৫০ সালে কে যেন আবিষ্কার করল যে পৃথিবীর মধ্যে এই হল গিয়ে সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক সার। তারপর এল জাহাজ। জাহাজে করে তুলে নিতে লাগল-কুড়ি বছরেরও বেশি সময় ধরে। পেরুতে এই সময়টাকে বলে হুল্লোড়ের সময়। ঝগড়া-ঝাটি, মারামারি আরো কত কি। বহু লোক ঐ করে বড়লোক হয়ে গেল।
বন্ড জিজ্ঞেস করল, তার সঙ্গে ক্র্যাব-কীর সম্পর্কটা কি?
উত্তরের দিকে ঐটেই একমাত্র গুয়ানোর। এটাতেও কাজ চলেছিল। কিন্তু এই নোংরার মধ্যে নাইট্রেটের ভাগ কম ছিল। হামবোল্ড স্রোতের কাছে পানি যত ভাল, এখানকার পানি ততটা নয়। ফলে মাছেদের শরীরে কেমিক্যাল এর ভাগ কম। ফলে গুয়ানোও খুব ভাল না এখানকার। কিন্তু পরে ক্র্যাব-কী এবং অন্যান্য খারাপ গুয়ানোর গাদাগুলি প্রত্যেকটি আর চালানো হয়নি–জার্মানরা নকল সার তৈরি করবার পর থেকেই।
ইতিমধ্যে পেরু বুঝতে পেরেছে যে তাদের ঐ গুয়ানোরা যত তাড়াতাড়ি ফুরিয়েছে তাতে তাদের বিরাট ক্ষতি হয়েছে। তাই ওগুলো রক্ষা করবার জন্য নানারকম নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা শুরু করে। তারপর আস্তে আস্তে আবার গুয়ানোরার স্তূপ গড়ে ওঠে। তখন দেখা গেল জার্মানরা যে সার বানিয়েছিল মা মাটিতে খারাপ করে দেয়। আর এখানেই গুয়ানোর শ্রেষ্ঠত্ব, আবার গুয়ানোর দাম বেড়ে ওঠে এবং আবার ব্যবসা দাঁড়িয়ে যায়। ফলে ক্র্যাব-কীর গুয়ানোর ওপর আবার নজর পড়ে।
আচ্ছা।
প্লেডেল স্মিথ বললেন, হ্যাঁ, তারপর তার পকেটের ওপর হাত দিয়ে দেখে নিলেন দেশলাই ঠিক আছে কি না। ডেস্কের ওপর থেকে দেশলাইটা তুলে কানের কাছে বাজালেন এবং আবার শুরু করলেন পাইপে তামাক ভরা। বললেন, যুদ্ধের আগে এই দারুণ চালাক শয়তান চীনেটা ঠিক বুঝেছিল ক্র্যাব-কীতে যে গুয়ানো পাওয়া যায় তার একদিন দাম হবে। এখন প্রতি টনের দাম এদিকে পঞ্চাশ ডলার করে। ও আমাদের কাছে ঐ দ্বীপটা কিনে নেয় দশ হাজার পাউন্ড দিয়ে। তারপর থেকে কাজ চলছে। আর এর মধ্যে প্রচুর লাভ করেছে মনে হয়। ও জাহাজে করে ইউরোপে মাল পাঠায়।
কুলিদের বোধহয় খাঁটিয়ে মারে। আর কুলিদের কত কম বেতন দিলে অত লাভ করা সম্ভব তা সৃষ্টিকর্তাই জানেন। গত বছরে আন্তর্বেপ-এ গুয়ানো বেচেছিল প্রতি টন আটত্রিশ থেকে চল্লিশ ডলারে। কুলিদের জোর করিয়ে খাঁটিয়ে নেয় এবং কেউ কখনো ঐ দ্বীপ থেকে কোথাও যায় না, যেন ওটা একটা দুর্গ। আমি সব অদ্ভুত গুজব শুনেছি, ওটা তার দ্বীপ–তার ওখানে যা খুশি তাই করবার অধিকার আছে।
