এখন বন্ড নিশ্চিত স্ট্র্যাংওয়েজ আর মেয়েটিকে খুনই করা হয়েছে। কেউ তাদের কার্যকলাপ সম্বন্ধে আর বেশি কিছু জানতে না পারে সেজন্যেই তাদের খুন করে তাদের ঐ বিষয়ের সমস্ত লেখা নষ্ট করে দিয়েছে। ঐ একই লোক হয় জানত, নয়ত সন্দেহ করেছিল যে গুপ্তচর বিভাগ এ ব্যাপারে খোঁজ খবর করবে। সে জানতে পেরেছে বন্ডকে এই কাজের ভার দেওয়া হয়েছে। তাই বন্ডের ছবি আর হোটেলের নাম জানা তাদের প্রয়োজন আছে।
বন্ড ভাবল এই চুং মেয়েটিকে যা করা হয়েছে তা শুনলে সে কি ভাববে? সে ধরে নেবে বন্ড কোন এক ব্যাপারে লিপ্ত আছে। হতে পারে খুন হবার আগে স্ত্রাংওয়েজ লন্ডনে একটি প্রাথমিক রিপোর্ট পাঠিয়েছিল কিংবা সে হয়ত বন্ড এবং কোয়ারেলের জীবন শেষ করবে।
বন্ড পাঁচ বছর পর প্রথম রয়্যাল ব্র্যান্ড সিগারেট ধরাল। ধোয়া ছাড়তে ছাড়তে বন্ড শক্রর কথা ভাবতে লাগল। কিন্তু শত্রুটা কে?
মাত্র একজনই হতে পারে। কিন্তু তেমন কিছু এখন তার বিরুদ্ধে পাওয়া যায়নি। ডক্টর জুলিয়ান নো, সেই জার্মান চাইনিজ, যিনি ক্র্যাব-কীর মালিক, যিনি গুয়ানো বেচে লাল হয়েছেন। এর বিরুদ্ধে কোন কিছুই পাওয়া যায় না। রেজিয়েণ্ট শুনবিলের ব্যাপার। আর অভোবন সোসাইটির সঙ্গে গোলমালে কিছু ভাবা যায়নি–M যাকে বলেছিলেন, কতকগুলো লালমুখো বক নিয়ে বুড়িদের হৈ-চৈ। ঐ বকের ব্যাপারে চারজন মারা পড়েছে। আর তার চেয়েও বড় কথা হল, কোয়ারেল ডক্টর নো এবং ঐ দ্বীপকে দারুণ ভয় পায়। ব্যাপারটা বড়ই অদ্ভুত। সে সহজে কোন ব্যাপারে ঘাবড়ায় না। আর তাছাড়া ডক্টর নো র এই গোপনীয়তার ব্যাপারে এত পাগলামিই-বা কেন? গুয়ানো হচ্ছে পাখির মল। কার ঐ নোংরার প্রয়োজন? কতই বা তার দাম? বন্ডের সঙ্গে গভর্নর-এর দশটায় দেখা করার কথা। ওখানে। হাজিরা দিয়ে কলোনিয়াল সেক্রেটারিকে পাকড়াও করে এ ব্যাপারে যতখানি সম্ভব জানতে হবে।
দরজায় দু বার টোকা পড়ল। বন্ড উঠে গিয়ে দরজা খুলে দিল। কোয়ারেল এসেছে–তার বা গালে জলদস্যুদের কায়দায় প্লাস্টার করা। গুডমর্নিং ক্যাপটেন, আপনি বলেছিলেন সাড়ে-আটটায়…
হ্যাঁ, বেশ ভাল হয়েছে। আজ আমাদের অনেক কাজ। সকালের খাওয়া-দাওয়া ঠিকমত হয়েছে?
হ্যাঁ, বেশ খাসা খেয়েছি–লবাণাক্ত মাছের সঙ্গে রাম।
সর্বনাশ সকালেই রাম?
বড় আরাম দেয়।
বন্ড বলল, এখন আমি দিনের বেশির ভাগ সময়ই রাজবাড়িতে কাটাব। জ্যামাইকা ইনস্টিটিউটে কিছু সময় থাকতে পারি। কাল সকালের আগে তোমার সঙ্গে আমার দেখা হচ্ছে না। কিন্তু শহরে তোমার কিছু কাজ করবার আছে। আপত্তি নেই তো?
না, ক্যাপ্টেন, আপনি যা বলবেন।
প্রথম কথা হল, আমাদের ঐ গাড়িটাকে আর ব্যবহার করতে চাই না, ওটা চেনা গাড়ি। এটাকে বাতিল করে অন্য একটা গাড়ি ভাড়া করতে হবে। সেলুন গাড়ি চাই–একমাসের জন্য। ঠিক আছে। তারপর ঐ পানির ধারে খুঁজে দেখ আমাদের দু জনের মত চেহারার কাছাকাছি কোন লোক পাওয়া যায় কিনা। তাদের একজনের গাড়ি চালাতে জানা চাই। ওদের জন্যে আমাদের মত পোশাকও কিনে দিও আর টুপিটা ও আমাদের মত হবে। তার একটা গাড়ি মন্টেগোতে নিয়ে যাবে সকালে-স্প্যানিশ টাউনের ভেতর দিয়ে, অকো রিয়স রোড দিয়ে। সেখানে লেভির গেরাজের গাড়ি রাখতে হবে। লেভিকে বলে দিও যে একটা গাড়ি সেখানে যাবে। ঠিক আছে?
কোয়ারেল হেসে বলল, কাউকে ফলো করতে চান নাকি?
হ্যাঁ। তারা এজন্য প্রত্যেকে দশ পাউন্ড করে পাবে। তাদের বল যে আমি একজন বড়লোক আমেরিকান আর আমি আমার গাড়ি মন্টেগোতে নিয়ে যেতে চাই খুব দ্র চেহারার দু জন লোককে দিয়ে। তাদের এমনভাবে বুঝবে যেন আমার মাথাটা একটু খারাপ। তারা যেন সকাল ছ টায় এসে উপস্থিত হয়। তুমিও আসবে, অন্য গাড়িতে। এসে ওদের ভাল মত দেখে শুনে ঠিকঠাক করে পাঠিয়ে দেবে-ঠিক আছে?
ঠিক আছে ক্যাপ্টেন।
আচ্ছা, আমরা আগে যে বাড়িতে ছিলাম নর্থ শোর এ সেবার, মর্গ্যান হারবারে, বো ডেজার্ট যার নাম, ওটা কি ভাড়া পাওয়া যেতে পারে?
জানি না ক্যাপ্টেন। জায়গাটা টুরিস্টদের যাতায়াতের পথের বাইরে, তাই ভাড়াটা বেশিই নেয়।
তা নিক। তুমি গ্ৰেহ্যাম অ্যাসোসিয়েটস্ এর কাছে গিয়ে জায়গাটা মাসখানেকের জন্য ভাড়া নেবার চেষ্টা কর। ওটা না পেলে ওর কাছাকাছি একটা বাংলো বাড়ি চাই। খরচের কথা ভেব না। ভাড়া দিও, চাবি নিয়ে নিও এবং আমি ধনী আমেরিকান নাম মিস্টার জেমস্। আরো কিছু জানতে চাইলে তা টেলিফোনে বলতে পারি। বন্ড পকেট থেকে একতাড়া নোট বার করে কোয়ারেলকে দিয়ে বলল, এতে দুশো পাউন্ড আছে। যদি আরো লাগে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করো।
ধন্যবাদ ক্যাপ্টেন। কোয়ারেল অতগুলো টাকা নিয়ে তার নীল শার্টের ভেতরের পকেটে রাখল এবং সব বোতাম আটকে দিল, আর কিছু বলবেন হুজুর?
না আর কিছু নয়, তবে দেখ কেউ যেন তোমাকে অনুসরণ না করে। গাড়িটা অন্য জায়গায় রেখে হেঁটে এসব জায়গায় যাবে। কাছাকাছি চীনেদের কাউকে দেখতে পেলে তাদের ভাল করে লক্ষ্য করবে। কাল সকালে সোয়া ছটায় তুমি আমার কাছে আসছ, আর আমরা নর্থ কোস্ট-এ যাচ্ছি। ওখানে কিছুদিন আমাদের ডেরা বাঁধতে হবে।
ঠিক আছে ক্যাপ্টেন। বলে চলে গেল।
আধঘণ্টা পর বন্ড একটা ট্যাক্সি নিয়ে রাজবাড়ির দিকে চলল। ঠাণ্ডা ঘরে যে গভর্নরের খাতা থাকে তাতে সে সই করল না। তারপর গভর্নরের দেহরক্ষী এসে তাকে নিয়ে চলল গভর্নরের কাজ করবার ঘরে। দোতলায়।
