বন্ড খুব নিবিষ্টভাবে তাকিয়ে বলল, তুমি এত নিশ্চিত হলে কি করে?
ঐ চীনে ম্যানটা একা থাকতে ভালবাসে–কেউ তাকে বিরক্ত করুক তা সে চায় না। ও জায়গায় যাতে কেউ না যেতে চায় সেজন্য আমার বন্ধুদের খুন করেছে। লোকটার দারুণ ক্ষমতা, ওখানে যে যাবে ও তাকেই মারবে।
কেন?
ঠিক কারণটা জানি না ক্যাপ্টেন। দুনিয়ার হরেক রকম লোক হরেক রকম জিনিস চায়–আর যে তার জন্য বেশি চেষ্টা করে সে তা পায়।
বন্ড একটা আলো দেখে চট করে মাথা ঘোরাল। সেই চীনে মেয়েটি এখন খুব আঁটসাঁট পোশাক পরেছে। একটা কালো সাটিনের পোশাক। তার হাতে একটা লাইকা ক্যামেরা।
বন্ড বলল, মেয়েটাকে ধর।
দু পা এগিয়ে কোয়ারেল তার সামনাসামনি হয়ে হাত বাড়িয়ে দিল। মেয়েটি হেসে লাইকা থেকে হাত সারিয়ে কোয়ারেলের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করল। সঙ্গে সঙ্গে কোয়ারেল ঐ অবস্থাতেই ঘুরে মেয়েটির পেছন দিকে চলে গেল ব্যালে নাচের ভঙ্গিতে। এখন মেয়েটির হাত তার পেছনে, নিতান্তই বেকায়দায়।
মেয়েটি বলল, ওরকম কোরো না, আমার লাগছে।
কোয়ারেল বলল, আমার হুজুরের ইচ্ছে তুমি আমাদের সঙ্গে কিছু পান কর।
বন্ড সেই সুন্দর, রাগে আগুন মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বলল, এখানে তুমি কি করছ? আবার আমার ছবি তুলছ কেন?
আমি রাত্রিতে যে সব জায়গা সরগরম হয়, সে সব জায়গার ছবি তুলছি। তোমার প্রথম ছবিটা তুলেছিলাম সেটা ওঠেনি। তোমার ঐ লোকটিকে এখান থেকে যেতে বল।
তুমি গ্রীনার-এ কাজ কর? নাম কি তোমার?
বলব না।
বন্ড কোয়ারেলের দিকে তাকিয়ে ভুরু কোঁচকালো।
কোয়ারেলের চোখ ছোট হয়ে এল। মেয়েটার পেছনে তার হাতটাকে সে আস্তে ঘোরাল। একটা ঈল মাছের মত মেয়েটা ছটফট করতে লাগল। কোয়ারেল তবু পেঁচিয়েই চলে। হঠাৎ মেয়েটি জোরে হাঁফাতে হাঁফাতে বলল, উঃ বলছি। অ্যানাবেল চুং।
বন্ড কোয়ারেলকে বলল, অক্টোপাস ভায়াকে একবার খবর দাও।
কোয়ারেল একটা কাঁটা তুলে নিয়ে একটা গ্লাসের গায়ে ঠং করে আওয়াজ করতে বড় নিগ্রোটা এল।
বন্ড তার দিকে তাকিয়ে বলল, মেয়েটিকে এর আগে কখনো দেখেছেন নাকি?
হ্যাঁ, দেখেছি। ও মাঝে মাঝে এদিকে আসে। মেয়েটি কি বিরক্ত করছে নাকি? ওকে কি চলে যেতে বলব?
না, আমরা ওকে পছন্দ করেছি। ও আমার একটা ছবি তুলতে চায়, কিন্তু মেয়েটি কেমন ছবি তোলে জানি না। ওকে টাকা দেবার আগে জানা দরকার অ্যানাবেল চুং গ্রীনার এ কাজ করে কিনা। একটিবার টেলিফোন করুন না, যদিও সত্যিই কাজ করে তাহলে হয়ত ভালই ছবি তোলে।
লোকটা বলল, নিশ্চয়ই কর্তা। বলে চলে গেল।
বন্ড মেয়েটিকে বলল, তুমি ঐ লোকটিকে কেন বললে না তোমাকে রক্ষা করতে? বন্ড আবার বলল, তোমাকে এরকম চাপ দেবার জন্যে দুঃখিত। কিন্তু লন্ডনের এক্সপোর্ট বলে দিয়েছে কিংসটন বহু চোর জোচ্চোরের আড়া। তুমি ওসবের কিছু না জান, কিন্তু তুমি আমার ছবি নিতে চাও কেন?
আমি তো আগেই বলেছি আমার চাকরিই ঐ।
অক্টোপাস ভায়া এসে বলল, না, মিথ্যে নয়-অ্যানাবেল চুং ওদেরই একজন। ফ্রীল্যান্সে কাজ করে থাকে, বলল ও খুব ভাল ছবি তোলে। ওর সঙ্গে তোমার জমবে। অক্টোপাস ভায়ার কোন কথা বিশ্বাস হল না, হু, ছবি তোলে না ছাই। বিছানাতেই তোমাকে বেশি মানায়।
বন্ড বলল, ধন্যবাদ। নিগ্রোটি চলে গেল। বন্ড মেয়েটিকে বলল, ফ্রি ল্যান্স, হু! কিন্তু তাতে তো বোঝা গেল না। আমার ছবি কে চায়? বল এবারে ঠিক কথা।
না। মেয়েটি বিরক্তির স্বরে বলল।
বেশ তো। কোয়ারেল, চালাও তোমার ওষুধ।
কোয়ারেলের ডান দিকের কাঁধ আস্তে আস্তে নামাতে লাগল তাতে মেয়েটির হাতে আরো চাপ পড়তে লাগল। মেয়েটি হঠাৎ কোয়ারেলের চোখে থুথু ফেলল। কিন্তু কোয়ারেল আরো জোরে হাতটা মোচড়াতে লাগল। মেয়েটি চীনে ভাষায় কি সব বলে টেবিলের তলায় পা দিয়ে লাথি মারতে লাগল।
বন্ড বলল, বল না, তোমার কোন ভয় নেই। তারপর তোমার সঙ্গে ভাব করে আমরা একসঙ্গে শরবত-টরবত খাব না হয়। বন্ডের দুর্ভাবনা হচ্ছিল। মেয়েটির হাত প্রায় ভাঙার কাছাকাছি। এই! হঠাৎ মেয়েটির বা হাত উঠে গেল কোয়ারেলের মুখের ওপর। বন্ড এত তাড়াতাড়ি থামাতে পারল না। কি রকম একটা আলো দেখা গেল আর প্রচন্ড এক বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা গেল। বন্ড তার হাত টেনে নামাল। কোয়ারেলের গাল থেকে রক্ত ঝরছে। টেবিলের ওপর গ্লাস আর ধাতুর ধাক্কা লাগার আওয়াজ–মেয়েটি ফ্ল্যাশ বাল্বটি কোয়ারেলের মুখে ফাটিয়েছে। কোয়ারেল রক্ত দেখে আনন্দিত স্বরে বলল, চমৎকার। এ মেয়েটির কাছ থেকে এভাবে কিছু খবর পাওয়া যাবে না–দারুণ শক্ত মেয়ে। ওর হাত কি ভেঙে দেব?
কি সর্বনাশ, না! একে যেতে দাও। বন্ড মেয়েটির হাত ছেড়ে দিল। বন্ড বুঝতে পারল ঐ দলের পেছনে যিনিই থাকুন না কেন তিনি তার দলকে বেশ কঠিন শাসনে রাখেন।
মেয়েটি চট করে উঠে দাঁড়াল। তারপর টেবিল থেকে পিছিয়ে গেল খানিক, প্রচণ্ডাগের সঙ্গে ফিসফিসিয়ে বলল, সে তোদের শেষ করবে–খচ্চরের দল। তারপর সে ক্যামেরা দোলাতে দোলাতে অদৃশ্য হয়ে গেল।
.
ঘটনা ও তথ্য
পরের দিন বন্ড যখন বারান্দায় বসে খুব ভালভাবে ব্রেকফাস্ট খাচ্ছিল আর দেখছিল পাঁচ মাইল দূরের কিংসটনকে, তখনো তার মাথায় ঘুরছে কথাগুলো, সে তোদের শেষ করবে–খচ্চরের দল। …সে তোদের…
