ফুর্তি করতে।
আশা করি আপনার সময় ভাল কাটবে, স্যার। নিগ্রো ইমিগ্রেসন অফিসার বন্ডের পাসপোর্ট ফেরত দিল।
ধন্যবাদ।
কাস্টমস্ ঘরের বাইরে এসে বন্ড দেখল বাদামী চামড়ার লোকটি দাঁড়িয়ে আছে। পাঁচ বছর আগে বন্ড তাকে যে পোশাকে দেখেছিল সম্ভবত সেই পোশাকই সে পরে আছে।
কোয়ারেল।
কেম্যান দ্বীপের লোকটি চওড়া হাসি হেসে তাকে প্রাচীন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ভঙ্গিতে সেলাম দিয়ে আনন্দ সুরে জিজ্ঞাসা করল কেমন আছেন, ক্যাপ্টেন?
বন্ড বলল, খুব ভাল আছি। একটু দাঁড়াও। আমার মালপত্র বাইরে, আসুক।
নিশ্চয়ই হুজুর।
উপকূলবাসী অধিকাংশ লোকের মত কাস্টমস্ অফিসার কোয়ারেলকে চিনতেন। তিনি বন্ডের ব্যাগ না খুলেই তাতে চকের দাগ দিয়ে ছেড়ে দিলেন। বন্ড বেড়ার বাইরে এসে কোয়ারেলকে দেখে স্নেহের সুরে বলল, তুমি বদলাওনি কোয়ারেল। তোমার কচ্ছপ শিকার কেমন চলছে?
মন্দ নয় হুজুর, আবার তেমন ভালও নয়। বন্ডের দিকে সন্দিগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে, আপনার কি অসুখ করেছিল?
সত্যে বলতে কি, অসুখই হয়েছিল আমার। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ তো আমি ভালই আছি। ওকথা বললে কেন?
কিছু মনে করবেন না হুজুর। আপনার মুখে কয়েকটা যন্ত্রণার রেখা দেখতে পাচ্ছি। আগে এগুলো ছিল না।
যাকগে, সে কথা। তবে তোমার সঙ্গে শরীরচর্চা করা দরকার। আমার যতটা সুস্থ থাকা উচিত, ততটা সুস্থ আমি নই।
নিশ্চয়ই হুজুর।
তারা বহির্দ্বারের কাছাকাছি আসতেই একটা প্রেস ক্যামেরার ফ্ল্যাশগানের তীব্র শব্দ ও আলোর ঝলকানি। জ্যামাইকান পোশাক পরা একটি মেয়ে (চীনে) তার স্পীডগ্রাফিক ক্যামেরা নামাচ্ছে। তাদের সামনে এসে বলল, ধন্যবাদ, ভদ্রমহোদয়গণ। আমি দৈনিক গ্রীনার থেকে আসছি। একটা তালিকা দেখে সে বলল, আপনি মিঃ বন্ড, তাই না? তা আপনি আমাদের দ্বীপে কতদিন থাকবেন, মিঃ বন্ড?
প্রথম পদক্ষেপেই একটা বাজে ব্যাপার। তাই বন্ড বলল, অল্পদিন থাকব। আর আমার মনে হয় প্লেনের ভেতর আমার চেয়ে অনেক উঁচুদরের লোক তুমি খুঁজে পাবে।
না মিঃ বন্ড, সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত। আপনাকে খুব সম্ভ্রান্ত লোক বলে মনে হচ্ছে। কোন হোটেলে উঠছেন আপনি?
মার্টন ব্যাংক? বলে বন্ড সামনে এগোল।
ধন্যবাদ, মিঃ বন্ড, আশা করি এখানে আনন্দেই…
তারা বাইরে এসে বন্ড কোয়ারেলকে বলল, এর আগে মেয়েটিকে কি এয়ারপোর্টে দেখেছ?
মনে হয় না দেখেছি কখন, তবে ঐ গ্রীনার কাগজওয়ালাদের অনেক মেয়ে আছে যারা ফটো তোলে।
বন্ড কেমন যেন অজানা কারণেই চিন্তিত হল। তার ছবি খবরের কাগজে কোন প্রয়োজন নেই।
তারা গাড়ির কাছে গেল। গাড়িটা কালো রঙের সানবীম অ্যালপাইন। বন্ড গাড়ির নম্বরটা দেখে বুঝল গাড়িটা ট্র্যাংওয়েজের। ব্যাপার কি? কোয়ারেলকে সে বলল, এটা কোত্থেকে জোটালে?
আমাকে এ-ডি-সি ((ADC-রাজ্যপালের পার্শ্বচর) সাহেব নিতে বললেন। কেন, গাড়িটা বুঝি আপনার পছন্দ হচ্ছে।?
না, সে কিছু না। ঠিক আছে। চল এখন?
বন্ড পেছনের সীটে গিয়ে বসল। তার আগেই ভাবা উচিত ছিল যে এই গাড়িটাই তার দিকে স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দেবে যে সে জ্যামাইকাতে এসেছে কেন, কি সে করতে চায়।
দুধারে ফনীমনসা গাছের সারি–দূরে কিংসটনের আলো দেখা যাচ্ছে। অন্য কিছু ব্যাপার না থাকলে বন্ড এই সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য ভাল করে উপভোগ করতে পারত। বন্ড ভাবছিল তার এখন কি করা উচিত আর কি কি তার করা উচিত ছিল না।
সে যা করেছিল তা হল এই যে, সে গভর্নরকে কলোনিয়াল অফিসের মাধ্যমে একটা সাংকেতিক বার্তা পাঠিয়েছিল। এতে সে বলেছিল যে এ-ডি-সি যেন কোয়ারেলকে কেম্যান দ্বীপের থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য আনিয়ে নেয় এবং সপ্তাহে দশ পাউন্ড বেতন দেয়। কোয়ারেলের সঙ্গে আগে জ্যামাইকায় কাজ করেছিল, লোকটি কাজকর্মে তুলনাহীন। কেম্যান দ্বীপের সব কিছুই তার জানা। কালো লোকেদের জীবনের নিচের তলায় এর অবাধ প্রবেশ। বন্ড জানত স্ত্রাংওয়েজের ব্যাপারে এগুতে হলে তার সাহায্যের বিশেষ প্রয়োজন।
বন্ড চেয়েছিল ব্লু-হিল হোটেলের একটা ছোট ঘর নিজের জন্য। আর একটা গাড়ি সেটা কোয়ারেল যেন চালিয়ে এয়ারপোর্টে নিয়ে যায়। এসবের অনেক কিছুই তার করা উচিত হয়নি। তাহলে সে অন্য গাড়ি নেবার কথা ভাবতে পারত।
এখন তার এখানে আসাটা আর গোপন রইল না। গ্রীনার –এ যদি তার আসার কথাটা চাপা হত এর চাইতে খারাপ কিছুই হত না। কোন একটা অনুসন্ধানের ব্যাপারে প্রথম ভুলটাই শেষ পর্যন্ত মারাত্মক হয়ে দাঁড়ায়। আর শত্রুরা সেই ভুলের সুযোগ নেয়। কিন্তু এখানে শত্রু কোথায়? সে কি বেশি সাবধান হচ্ছে না?
হঠাৎ কি ভেবে সে সীটের ওপর ঘুরে বসল। একশ গজ দূরে একটা গাড়ির আলো। বন্ড ঘুরে বলল, কোয়ারেল, প্যালিসাডোগ-এর শেষে, যেখানে বা দিকে রাস্তাটা ভাগ হয়ে গেছে কিংসটনের দিকে, আর ডান দিকে গেছে মরান্ট এর দিকে, তুমি সেখানে গিয়ে আর সেখানেই চট করে মরান্টের দিকে গাড়ি মোড় নিয়ে থামাবে আর আলো নিবিয়ে অপেক্ষা করবে। ঠিক আছে? এবারে দারুণ জোরে গাড়ি চালাও।
কোয়ারেল খুশির সুরে বলল, ঠিক আছে ক্যাপ্টেন।
পাঁচশো গজ গেলেই মোড় এসে যাবে। বন্ড পেছনে তাকাল, গাড়িটার কোন পাত্তা নেই। এবারে সাইনপোস্ট এসে গেল। কোয়ারেল ঐ দ্রুত চলার মধ্যেই গাড়িটা ঘুরিয়ে নিল। রাস্তার পাশে এসে গাড়িটা থামিয়ে আলো নিবিয়ে দিল। বন্ড একটু অপেক্ষা করার পরই শোনা গেল সেই বড় গাড়িটার দ্রুতগতির গর্জন। আলো এসে ঝলকানি দিল, তাদের। খুঁজছে আলোটা। তারপর চলে গেল কিংসটনের দিকে। বন্ড ওরই মধ্যে দেখে নিল গাড়িটা আমেরিকার বড় ট্যাকসির মত। গাড়িতে ড্রাইভার ছাড়া অন্য কেউ ছিল না। তারপরেই আর দেখা গেল না গাড়িটাকে।
