ওয়ার্ডেনদের কুটির দেখতে চাইলে তাকে নিয়ে গিয়ে ধ্বংসাবশেষ দেখানো হয়। ডক্টর নো-র মতে গরম ও নির্জনতার জন্য তোক দু জন ক্ষেপে গিয়েছিল। অথবা একজন ক্ষেপে অন্যজনকে কুটিরে বন্ধ করে আগুন লাগিয়ে দেয়। গত দশবছর ধরে যে ভয়ংকর পাণ্ডববর্জিত জলাভূমিতে তাদের বাস করতে হয়েছে এটা খুবই কষ্টকর ব্যাপার। তাঁকে সসম্মানে জাহাজে পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয় এবং তিনি বিদায় নেন।
প্রধান কর্মসচিব দু হাত প্রসারিত করে বললেন, এই পর্যন্তই জানা গেছে। তবে ক্যাপ্টেন জানান যে তিনি মাত্র কয়েকটা রোজেন্ট শুনবিল দেখতে পেয়েছেন। তাঁর রিপোর্ট পেয়ে তাঁদের ঐ হতচ্ছাড়া পাখিগুলোর উধাও হয়ে যাওয়াটাই অভোবন সোসাইটিকে সবচেয়ে বেশি ক্ষেপিয়ে তোলে। তখন থেকে তারা আমাদের খুঁচিয়ে চলেছেন। এই বিষয়ে পুরোদস্তর একটা অনুসন্ধান করবার জন্য। এইভাবেই এই বাজে ব্যাপারটা শেষ পর্যন্ত স্ট্রাংওয়েজের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়।
M ব্যাজার মুখে বন্ডের দিকে তাকালেন বুঝলে তো 007, আমি কি বলতে চাইছিলাম? এসব ঐ বুড়িদের সমিতির আজগুবি কল্পনাবিলাস ছাড়া কিছু নয়। লোকেরা নানারকম জিনিষ সংরক্ষণ করতে চায়-গির্জা, পুরনো বাড়ি, ক্ষয়ে আসা ছবি, পাখি ইত্যাদি। আর এসব নিয়ে হৈ-চৈও বড় কম হয় না। মুশকিল হচ্ছে, যে লোকগুলোর মাথায় এই সংরক্ষণের ব্যাপারটা এমন ঢুকে যায়, যে রাজনৈতিক মহল পর্যন্ত তারা ছোটাছুটি শুরু করে। আর টাকার অভাব তাদের কখনও হয় না। জানি না কোত্থেকে পায় এত টাকা। আর সব বুড়িদের কাছ থেকেই বোধহয়। আর তারপর এমন এক সময় আসে, যখন এদের চেঁচামেচি বন্ধ করা সত্যিই দরকার হয়ে পড়। ঠিক এই কেসটার মত। কাজটা সোজা আমার ওপর এনে ফেলা হয়েছে, তার কারণ এটা ব্রিটিশ এলাকা। আবার একই সঙ্গে ওটা একজনের নিজস্ব সম্পত্তি। সোজাসুজি নাক গলাতে কেউ চাইছে না। তাহলে আমি করবটা কি? ঐ দ্বীপের একটা সাবমেরিন পাঠাব? কি জন্য? একদল লাল বকের কি হয়েছে তা জানবার জন্য? M নাসিকাধ্বনি করলেন, যাইহোক, তুমি স্ট্রাংওয়েজের শেষ কাজটার কথা জানতে চাইছিলে। সব জানতে পেয়েছে। কড়াগলায় বললেন, কোন প্রশ্ন আছে? আমার হাতে এখন অনেক কাজ।
বন্ড হেসে ফেলল, সামলাতে পারল না। M-এর হঠাৎ-হঠাৎ রেগে যাওয়াটা ভারি মজার। আর তিনি সবচেয়ে চটে যান, যখন চোখের সামনে গুপ্তচর বিভাগের সময়, শক্তি ও অর্থ খামোখা নষ্ট হতে বসে। উঠে দাঁড়িয়ে মৃদুগলায় বলল, ফাইলটা নিতে পারি, স্যার? মনে হচ্ছে ঐ পাখিদের জন্য চারজন লোক মারা গেছে। মারা গেছে হয়ত আরো দু জন ট্র্যাংওয়েজ ও ট্ৰব্লাড। হয়ত কথাটা খুব হাস্যকর শোনাচ্ছে, কিন্তু এছাড়া আর কোন এগোবার রাস্তা নেই।
নিয়ে যাও, নিয়ে যাও, অধীরভাবে বললেন M, তাড়াতাড়ি ছুটিটা শেষ করে নাও। তুমি হয়ত লক্ষ্য করনি, পৃথিবীর বাকি অংশটাকে অনেক ঝামেলা বেধে আছে।
বন্ড হাত বাড়িয়ে ফাইলটা তুলে নিল। তার বেরেটা পিস্তল ও খাপের দিকে হাত বাড়াল। না, তীক্ষ্ণকণ্ঠে বলে উঠলেন M, ওটা এখানেই থাক। আর মনে রেখ, পরের বার যখন তোমার সঙ্গে দেখা হবে, তখন দেখতে চাই যে নতুন দুটো অস্ত্রই তোমার রপ্ত হয়ে গেছে।
বন্ড M-এর দিকে তাকাল লোকটির ওপর তার ঘৃণা হল। এবং এও বুঝল M কেন তার সঙ্গে এত শক্ত ও নিচ ব্যবহার করলেন। গতবার সে মরতে মরতে বেঁচেছে, এর ওপর আবার সে এই জঘন্য আবহাওয়া থেকে বেড়াতে চলেছে। একদিক দিয়ে বন্ডকে ছোট করবার জন্যেই তাকে এই সহজ কাজে পাঠালেন।
বন্ড রেগে বলল, চেষ্টা করব স্যার। সে চলে গেল।
.
অভ্যর্থনা
আটষট্টি টন ওজনের বিশাল সুপার কনস্টেলেশন বিমান উড়ে চলেছে সবুজ ও খয়েরী ছককাটা কিউবার ওপর দিয়ে। এবার আস্তে আস্তে নিচে নামছে, জ্যামাইকা আর মাত্র একশ মাইল দূরে।
বন্ড দেখতে পেল সবুজ রঙের কচ্ছপের পিঠের মত বিরাট দ্বীপটা দিগন্তে ক্রমশ রূপ নিল। নিচে সমুদ্রের পানি। কিউবা ডীপ অঞ্চলের ঘন নীল রঙ থেকে আকাশী, তারপর সাদা হয়ে এল। অস্তগামী সূর্য আঁকাবাঁকা নদীগুলোর পানিতে অজস্র সোনালি রং ছড়িয়ে দিল। রেড ইন্ডিয়ানরা এই দ্বীপের নাম দিয়েছিল সাইমাকা –অর্থাৎ পাহাড়-নদীর দ্বীপ। জ্যামাইকা পৃথিবীর উর্বরতম দ্বীপের মধ্যে অন্যতম।
পর্বতের অপরদিক গাঢ় বেগুনী ছায়ায় ঢেকে গেছে। পোর্ট রয়্যাল লাইটহাউসের দপদপে আলোর রেশ লেগে আছে। কিন্তু এখনও ম্লান। আস্তে আস্তে বিশাল বিমানটি ফিরে এল জমির দিকে। তারপর প্লেন চলে এল ব্লু-মাউন্টেনস এর চুড়োর নিচে। নেমে এল উত্তর দক্ষিণে প্রসারিত একমাত্র রানওয়েটার দিকে। এক ঝলকের জন্য একটি রাস্তা দেখা গেল ও এক ঝক টেলিফোনের তার। পরপর দুটো নরম ঝাঁকুনি দিয়ে প্লেন সঠিক জায়গায় নেমে এল। প্রপেলার এভাবে সগর্জনে উল্টোদিকে ঘুরতে শুরু করল, প্লেনটা ধীরগতিতে এয়ারপোর্টের সাদা নিচু বাড়িতে এগিয়ে গেল।
প্লেন থেকে নেমে স্বাস্থ্য ও ইমিগ্রেশন দপ্তরের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে গরম দেশের উষ্ণ হাওয়া বন্ড বুঝতে পারল।
বন্ডের পাসপোর্টে লেখা ছিল সে একজন, আমদানি রপ্তানি ব্যবসায়ী।
কোন কোম্পানির, স্যার?
ইউনিভার্সাল এক্সপোর্ট।
এখানে ব্যবসা না ফুর্তি করতে এসেছেন?
