M গা এলিয়ে হাতে পাইপ নিয়ে তামাক ভরতে লাগলেন। বন্ডকে একটা কাজের মত কিছু দেওয়া দরকার যাতে তার বিশ্রাম জড়িত থাকবে। সেজন্যেই তিনি তাকে জ্যামাইকা পাঠাতে চাইছেন। দেশলাইয়ের দিকে হাত বাড়িয়ে, বলো?
বন্ড বলল, প্রথমত স্যার, দেখা যাক যে স্ট্র্যাংওয়েজ শেষ কোন কাজে হাত দিয়েছিল। সে কি কোন রিপোর্ট পাঠিয়েছিল বা সেকশন থ্রি তাকে কোন বিষয়ে খোঁজখবর করতে বলেছিল? গত কয়েক মাসে তেমন কোন ঘটনা ঘটেছে কি?
তেমন কিছু নয়। M প্রধান কর্মসচিবকে বললেন, ঠিক কিনা?
ঠিকই বলেছেন স্যার। কেবল ঐ পাখিগুলো নিয়ে বাজে ব্যাপারটা।
অঃ ঐটে। কোন এক চিড়িয়াখানা থেকে নাকি বাজে ঝামেলা এসেছিল। কলোনিয়াল অফিস আবার ব্যাপারটা আমাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন। সপ্তাহ দুয়েক আগে, তাই না?
তাই স্যার। তবে চিড়িয়াখানা নয়। আমেরিকার এক সমিতি, নাম অভোবন সোসাইটি। তাদের কাজ দুষ্প্রাপ্য পাখিরা যাতে অবলুপ্ত হয়ে না যায় তার ব্যবস্থা করা। মনে হয় আমেরিকায় ঐ পাখিওয়ালাদের যথেষ্ঠ ক্ষমতা আছে। তারা নাকি কয়েকটা পাখির বাসার ক্ষতি হবে বলে পশ্চিম উপকূলের এক পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার জায়গা পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছিলেন আমেরিকান সরকারকে।
M নাকে একটা আওয়াজ বার করেন। হুপিং ক্রেন বলে এক হতচ্ছাড়া পাখি। কাগজে পড়েছি।
বন্ড তবু বলল, এ বিষয়ে কিছু জানাতে পারেন স্যার? অভোবন সোসাইটি কি চাইছিল আমাদের কাছে?
M স্ট্র্যাংওয়েজের ফাইলটা প্রধান কর্মসচিবকে দিয়ে, আপনিই বলে দিন, চীফ অফ ষ্টাফ। ওতে সব আছে।
প্রধান কর্মসচিব বন্ডের দিকে তাকিয়ে বলল, রোজেন্ট শুনবিল নামে একরকম পাখি আছে। এখানে তার রঙিন ছবিটা গোলাপী রঙের বকের মত দেখতে। বিশ্রী চ্যাপটা ঠোঁট দিয়ে কাদা খুঁড়ে খাবার বার করে। ফ্লোরিডা ও তার আশেপাশে এদের দেখা যেত। হঠাৎ খবর পাওয়া গেল যে জ্যামাইকা ও কিউবার মাঝামাঝি ক্র্যাব কী নামক একটা দ্বীপে এই পাখিদের একটা বসতি আছে। ওটা ব্রিটিশ এলাকার মধ্যে-জ্যামাইকার অঞ্চল। এর আগে এটা গুয়ানো দ্বীপ ছিল। যখন ঐ পাখিদের সন্ধান পাওয়া গেল, অডোবন সোসাইটির লোকেরা সেখানে গিয়ে দ্বীপের একাংশের লীজ নিয়ে পাখিদের সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেন। সেখানে দু জন ওয়ার্ডেনকে রেখে আসেন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এবং দ্বীপের ওপর দিয়ে যাবে কোন উড়োজাহাজ উড়ে গিয়ে পাখিদের বিরক্ত না করে তার ব্যবস্থাও করেন।
ক্রমশ পাখিদের সংখ্যা বেড়ে ওঠে। ঐ দ্বীপে পাঁচ হাজার শুনবিল আছে। তারপর যুদ্ধ বাধল। গুয়ানোর দাম বেড়ে গেল। এক বুদ্ধিমান দ্বীপটিকে কিনে আবার গুয়ানোর ব্যবসা করার মতলব করলেন। পাঁচ হাজার পাউন্ডে দ্বীপ কেনেন কিন্তু শর্ত রইল যে ঐ পাখিদের কোনরকম বিরক্ত করবেন না। তখন ১৯৪৩ সাল। ভদ্রলোক কিছুদিন আগে পর্যন্তও যথেষ্ট লাভ করছিলেন। হঠাৎ গুয়ানোর দাম কমায় তাঁর ব্যবসায় অবস্থা ভাল যাচ্ছে না।
কে এই ভদ্রলোক।
একজন চীনে, কিংবা সঠিক বলতে গেলে আধা চীনে আধা জার্মান। বিদঘুঁটে নাম ভদ্রলোকের, ডক্টর জুলিয়ান নো।
নো? ইয়েস-এর উল্টো?
হ্যাঁ।
তার সম্বন্ধে কি জানা যায়?
কিছুই না। তিনি গোপনীয়তা পছন্দ করেন। জ্যামাইকান সরকারের থেকে দ্বীপটা কেনার পর তাঁকে আর দেখা যায়নি। বহির্জগতের সঙ্গে ঐ দ্বীপের কোন যোগাযোগ তিনি রাখতে চান না, যাতে কোন লোক ওয়ানে পাখিদের বিরক্ত না করেন। এতে আমাদের আপত্তি করার কিছুই নেই।
তা, সবই ঠিকঠাক চলছিল। হঠাৎ গত বড়দিনের আগে অডোেবন সোসাইটির ওয়ার্ডেনদের একজন, বারবাডোজ দ্বীপের শক্তপোক্ত মানুষ, নৌকায় চেপে জ্যামাইকার উত্তর উপকূলে এসে পৌঁছায়। তখন তার শেষ অবস্থা। মরবার আগে সে অদ্ভুত এক গল্প করে। এক আগুনমুখো ড্রাগন নাকি তাদের কুটির আক্রমণ করে। ড্রাগন তার সঙ্গীকে পুড়িয়ে মারে এবং কুটির জ্বালিয়ে দেয়। তারপর গর্জন করতে করতে শুনবিল পাখিদের বাসাগুলোর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঝলকে ঝলকে আগুন ছড়িয়ে পাখিদেরকে কোথায় ভাগিয়ে দিল সৃষ্টিকর্তাই জানেন। সে নিজেও খুব পুড়ে গিয়েছিল। কিন্তু কোনমতে পালিয়ে সারারাত একটা নৌকা চালিয়ে জ্যামাইকায় পৌঁছোয়।
ব্যস ঐ পর্যন্ত। অভোবন সোসাইটিকে অবশ্য নিয়মমাফিক রিপোর্ট পাঠানো হয়েছিল। তাদের দুই বড় কর্তা মায়ামি থেকে বীচক্র্যাফট বিমানে চড়ে পরিদর্শনে আসেন। দ্বীপে একটা বিমান অবতরণ ক্ষেত্র আছে। কারণ চীনে ভদ্রলোকের মালপত্র আনবার জন্য এক গ্রুম্যান অ্যামফিবিয়ান বিমান আছে।
M তেতো গলায় বললেন, এইসব লোকেদের দেখছি পাখিদের পেছনে ওড়াবার মত যথেষ্ট টাকা আছে।
বন্ড এবং প্রধান কর্মসচিব পরস্পরের দিকে তাকিয়ে হাসল। গত কয়েক বছর ধরে ক্যারিবিয়ান স্টেশনের জন্য একটি অস্টার বিমান কেনবার কথা অর্থদপ্তরের ডিপার্টমেন্টকে বলে আসছেন।
প্রধান কর্মসচিব বললেন, বীচক্র্যাট বিমানটি মাটিতে নামবার সময় ভেঙে পড়ে এবং আরোহী দু জন মারা যান। এতে ঐ পাখিওয়ালারা আরো ক্ষেপে যান। তারা আমেরিকার ট্রেনিং স্কোয়াড্রন থেকে একটা কর্ভেট পাঠায় ডক্টর নো র সঙ্গে কথা বলে আসবার জন্য। এর থেকে বোঝা যায় ঐ সমিতির ক্ষমতা কি বিরাট। কর্ভেটের ক্যাপ্টেনকে ডক্টর নো খুব ভদ্রতার সঙ্গে অভ্যর্থনা জানান। কিন্তু গুয়ানো কারখানার ধারে কাছে তাকে যেতে দেওয়া হয়নি। তাকে নিয়ে প্লেনটার ধ্বংসাবশেষ দেখানো হয়। প্লেনটা চুরমার হয়ে গিয়েছিল তবে সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়েনি। আরোহী দু জনের মৃতদেহ সুদৃশ্য কফিনে পুরে সসম্মানে প্রত্যর্পণ করা হয়। ক্রাপ্টেন ডক্টর নো-র ভদ্রতায় খুবই মুগ্ধ হয়েছিলেন।
