M ডেস্কের একটা বোতাম টিপলেন। প্রধান কর্মসচিবকে ডেকে পাঠাচ্ছি। এ কেসের কিছুটা জানি কিন্তু ও ভদ্রলোক সব খুঁটিনাটি জানেন। ছোট ও বাজে ঘটনা।
প্রধান কর্মসচিব ঘরে ঢুকলেন। পদমর্যাদায় কর্নেল। বয়সে বন্ডের সমান। কিন্তু তার সামনের চুলে অসময়েই পাক। ধরেছে। তার শারীরিক সামর্থ্য ও রসিক মনোবৃত্তিতে বোঝা যায় তার স্নায়ু এখন ভাঙেনি। ইনিই বন্ডের প্রিয়তম বন্ধু।
একটা চেয়ার নিয়ে বসুন চীফ অফ স্টাফ। আমি 007 কে স্ট্র্যাংওয়েজের কেসে লাগিয়েছি। ওখানে নতুন লোককে লাগানোর আগে গোলমাল পরিষ্কার করতে হবে। ইতিমধ্যে 007 ঐ স্টেশনের বড়কর্তা হয়ে কাজ চালাতে পারবে। আপনি কলোনিয়াল অফিস ও গর্ভনরের সঙ্গে কথা বলে নেবেন। আচ্ছা, 007 বোধহয় স্ট্রাংওয়েজকে চিনত, বছর পাঁচেক আগে সেই গুপ্তধনের ব্যাপারে তোমরা কাজ করেছিলে। তার সম্বন্ধে তোমার কি ধারণা?
লোকটি ভাল স্যার। তবে রগচটা। ভেবেছিলাম এতদিনে তাকে অন্য কোথাও দেওয়া হয়েছে। গরমের দেশে পাঁচ বছর বড় বেশি সময়।
আর তার সহকারী, মেরী ঐরাডকে দেখেছ?
না স্যার।
মেয়েটির কাজকর্মের রেকর্ড ভাল। ছবি দেখে সুন্দরী মনে হয়। এটাই বোধহয় গোলমালের কারণ। স্ট্রাংওয়েজের মেয়েদের ওপর ঝোঁক কেমন ছিল?
ঝোঁক থাকতে পারে। কিন্তু কি হয়েছে তাদের, স্যার?
সেটাই খুঁজে বার করতে হবে। তিন সপ্তাহ আগে তারা একই সন্ধ্যায় একসঙ্গে হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। এদিকে স্ট্রাংওয়েজের বাংলো পুড়ে শেষ। রেডিও, সংকেত বই, ফাইল-সব কিছু পুড়ে ছাই। মেয়েটির সবকিছু মানে তার পাসপোর্টটি পর্যন্ত ঘরে পড়েছিল। অজস্র নাম না লেখা পাসপোের্ট ছিল তার কাছে। সেই ছিল ঐ দ্বীপের পাসপোর্ট কট্রোল অফিসার। তারা যে কোন প্লেনে পালাতে পারে–ফ্লোরিডায়, দক্ষিণ আমেরিকায় বা কাছাকাছি কোন দ্বীপে। পুলিশ সব যাত্রী তালিকা পরীক্ষা করে দেখেছে। এখনও পাওয়া যায়নি। হয়ত মেয়েটা চুলের রঙ বদলেছে। ওসব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা তেমন কড়া নয়। তাই না চীফ অফ স্টাফ
ঠিকই বলেছেন স্যার। তবে ঐ সর্বশেষ বেতার যোগাযোগের ঘটনাটা আমি এখনও বুঝে উঠতে পারছি না। বন্ডের দিকে ঘুরে, ব্যাপার হল, সেদিন জ্যামাইকায় রাত সাড়ে ছ টায় ওরা যথারীতি যোগাযোগ স্থাপন করে। রেডিও সিকিউরিটির ধারণা ঐ মেয়েটিই আমাদের পাঠানো WWW. সংকেতে সাড়া দেয় এবং পরক্ষণেই থেকে যায়। আমরা। আবার সংযোগের চেষ্টা করি, কিন্তু না। তারপর নীল ডাকে, লাল ডাকেও তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি। ঐ পর্যন্তই।
পরের দিন সেকশন থ্রি ওয়াশিংটন থেকে ২৫৮ কে ওখানে পাঠাবার ব্যবস্থা করে। ততক্ষণে পুলিশ এসে গেছে, আর রাজ্যপাল মশাই এই ঘটনা সমস্ত চেপে দেওয়ার জন্যে উঠে পড়ে লেগেছেন। তার কাছে ব্যাপারটা পানির মত পরিষ্কার। ফ্রাংওয়েজ এর আগেও নারীঘটিত ব্যাপারে পড়েছেন। ও জায়গাটা সত্যি বড় বাজে। কেচ্ছা আর ছোরার লড়াই ছাড়া আর কোন কিছু তাদের মাথায় ঢোকে না। ২৫৮ এক সপ্তাহ সেখানে থেকেও ছিটে-ফোঁটা বিরুদ্ধ প্রমাণ জোগাড় করতে পারল না। সে সেই মত রিপোর্ট পাঠায় ও আমরা ওয়াশিংটনে ফেরত পাঠাই তাকে। তারপর থেকে পুলিশ খোঁজাখুঁজি করছে কিন্তু কিছু করতে পারছে না।
প্রধান কর্মসচিব একটু থেমে ক্ষমাপ্রার্থনার ভঙ্গিতে M-এর দিকে তাকিয়ে, আমি জানি স্যার, যে আপনিও রাজ্যপালের সঙ্গে একমত। দুই প্রেমিকের পলায়ন পর্বের সঙ্গে এই ঘটনার কোন মিল নেই। আর ক্লাবে স্ট্রাংওয়েজের বন্ধুরা বলছেন যে তিনি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিলেন। বেতার যোগাযোগের সময় হতেই তিনি প্রতিদিনের মত খেলা রেখে উঠে যান। ছ টা পনেরোর সময় ক্লাব থেকে বেরিয়ে যান। তারপর আর তাকে দেখা যায়নি। তাঁর গাড়ি পর্যন্ত ক্লাবের সামনে পড়ে আছে। এখন, সত্যিই যদি তিনি মেয়েটিকে নিয়ে পালান, তাহলে ব্রিজ খেলার সঙ্গীদের হাঁ করে বসিয়ে রাখবেন কেন? সকালে অথবা বেতারের রিপোর্ট পাঠিয়ে দিয়ে, বা সব গুছিয়ে গভীর রাত্রে পালাতে পারতেন। কিছুই বুঝতে পারছি না।
M মোটা গলায় বললেন, ইয়েতে, মানে প্রেমে পড়লে লোকেরা গাধার মত কাজ করে। এছাড়া আর কি হতে পারে? কোন গণ্ডগোলের চিহ্নমাত্র নেই। খুব শান্তশিষ্ট জায়গা। প্রতিমাসে খুচরো ঘটনার বেশি কিছুই হয় না–এই ধরো এক দুটো কম্যুনিস্ট কিউবা থেকে পালিয়ে এসে দ্বীপে ঢুকতে চেষ্টা করছে, কিংবা ইংরেজ গুণ্ডারা গা ঢাকা দেবার চেষ্টা করছে। 007 ওখান থেকে আসবার পর স্ট্র্যাংওয়েজের হাতে বড় কোন কাজ এসেছে বলে মনে হয় না। যা শুনলে, তা থেকে কি মনে হয় তোমার, 007?
বন্ড বলল, স্ট্র্যাংওয়েজের ওভাবে পালানোর কোন কারণ দেখছি না স্যার। হয়তো মেয়েটার সঙ্গে একটু বেশি ঘনিষ্ট হয়েছিল কিন্তু সে কখনই এটা বেঈমানী করবে না। বড়জোর সে আর সেই মেয়েটি পদত্যাগ পত্র পেশ করত কিন্তু এভাবে আমাদের ঝুলিয়ে রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস হচ্ছে না। আর মেয়েটির সম্বন্ধে যা শুনলাম তাতে মনে হয় আমাদের নৌবাহিনীর প্রধান অফিসারদের মাথা সহজে বিগড়োয় না।
ধন্যবাদ, 007, এসব কথা আমার মাথাতেই এসেছে। ঘটনাটার দ্বিতীয় কোন কারণ তোমার মাথায় আসছে কি?
