বন্ড কোট খুলে শ্যাময় চামড়ার খাপ ও বেল্ট বার করল। খাপের মুখটা একবার দেখলেন বুথরয়েড, বোধহয় সেখানে কিছু চিহ্ন আছে কিনা দেখলেন। M-এর দিকে তাকিয়ে বললেন, আমার মনে হয় এর চেয়ে ভাল জিনিস আমাদের হাতে আছে, স্যার।
বন্ড বসে M-এর দিকে তাকাল, তা আর্মারার আপনি কোন্ অস্ত্র ব্যবহার করতে বলেন?
এবার মেজর বুথয়েডের গলায় বিশেষজ্ঞের মেজাজ, সত্যি বলতে কি স্যার সম্প্রতি আমি প্রতিটি পিস্তল ও রিভলভার পরীক্ষা করার কাজে ব্যস্ত আছি। পঁচিশ গজ দূরের লক্ষ্যবস্তুর দিকে প্রত্যেকটাতে পাঁচ হাজার পাউন্ড গুলি ছুঁড়ে দেখছি। আমার ভাল লেগেছে ৭.৬৫ মিলিমিটার ক্যালিবারের ওয়ালথার পি.পি.কে. পিস্তল। ফলাফলের দিক দিয়ে অবশ্য জাপানী এম-১৪, রাশিয়ান টোকারেভ ও সয়ার এম-৩৮ এই পিস্তলের চেয়ে ভাল করেছে। হাতলটা লম্বা। হওয়ায় 007-এর ধরতে সুবিধে হবে। খুবই জোরদার পিস্তল। অবশ্য বেরেটা ছিল ০.২৫ ক্যালিবারের, যেখানে এর প্রায় ০.৩২, তবু এর চেয়ে হালকা কিছু ব্যবহার করা উচিত নয়। ওয়ালথারের গুলি পৃথিবীর সব জায়গায় পাওয়া যায়। কিন্তু জাপানী আর রাশিয়ান পিস্তলের গুলির এ সুবিধে নেই।
M বণ্ডকে বললেন, কিছু বলবার আছে?
ও পিস্তলটা ভালই স্যার। তবে বেরেটার চেয়ে আকারে বড়। আমি কি করে ওটাকে পরব? আর্মারার কি বলেন?
বার্নস্ মার্টিন ট্রিপল্ড হলস্টার। প্যান্টের বেল্টের নিচে বাঁ দিকে পরলে সবচেয়ে ভাল। খাপটা শক্ত চামড়ার তৈরি। ভেতরে একটা স্প্রিং-এর সাহায্যে পিস্তল ধরে রাখে। এটার থেকে তাড়াতাড়ি পিস্তল বার করা যাবে। এক সেকেন্ডের পাঁচভাগের তিনভাগ সময়ে কুড়ি ফুট দূরের মানুষকে গুলি করা চলে।
তবে তাই হোক। আর এর চেয়ে বড় কোন অস্ত্র নেওয়া দরকার?
সেক্ষেত্রে একটাই অস্ত্র আছে, স্যার, স্মিথ অ্যান্ড ওয়েসন সেন্টিনিয়্যাল এয়ারওয়েট। এটা রিভলভার ০.৩৮ ক্যালিবারের। সাড়ে ছ ইঞ্চি লম্বা আর ওজন মাত্র তের আউন্স। পাঁচটার বেশি গুলি ভরা যায় না। তবে পাঁচটা গুলি একজনকে মারবার পক্ষে যথেষ্ট। এতে ০.৩৮ স্মিথ অ্যান্ড ওয়েসন স্পেশান কাট্রিজ ভরা যায়–আশ্চর্য নির্ভুল গতি এই গুলির।
ঠিক আছে, ঠিক আছে। M চটে বললেন, আমরা বুঝেছি, তাহলে ওয়ালথার আর স্মিথ অ্যান্ড ওয়েসন ঠিক হল। 007-কে একটা করে পাঠিয়ে দেবেন। আর ও-দুটো চালিয়ে অভ্যেস করবার ব্যবস্থাও করে দেবেন। আজ থেকেই। এক সপ্তাহের মধ্যে হাত পাকিয়ে ফেলা দরকার। ঠিক আছে? অনেক ধন্যবাদ, আর্মারার, আর আটকে রাখব না।
ধন্যবাদ, স্যার। মেজর বুথরয়েড তারপর দৃঢ় পদে বেরিয়ে গেলেন। কোন সাড়াশব্দ নেই। জানালার ওপর শিলাবৃষ্টি আঘাত করে চলেছে। M চেয়ার ঘুরিয়ে ধুয়ে যাওয়া জানলার কাঁচের দিকে তাকিয়ে রইলেন। বন্ড চট করে হাতঘড়ি দেখে নিল। দশটা বাজছে।
তার চোখ পড়ল ডেস্কে রাখা পিস্তল ও খাপটার ওপর। মনে পড়ল পনের বছর কাটিয়েছে বিশ্রী লোহার টুকরোটার। সঙ্গে। মনে পড়ল একটিমাত্র বুলেট তার প্রাণ বাঁচিয়েছে, ও চেহারা দেখিয়েই কাজ হয়েছে, সেই সব দিনের কথা? মনে পড়ল। তখন নরহত্যার জন্য বেরেটা-পিস্তলটা পরিষ্কার করত, তেল মাখাত, একটা একটা করে বুলেট ভরতো, তারপর দেখে নিত সব ঠিক আছে কিনা। পৃথিবীর নানান জায়গায় ও হোটেলে। শেষবারের মত দেখে নিয়ে কোটের নিচে খাপে পুরতো। আয়নার সামনে দেখত দেখা যাচ্ছি কিনা। তারপর বেরিয়ে পড়ত একজনের সঙ্গে দেখা করতে…সেই একজন, যাকে হত্যা করতে হবে। সে সাক্ষাতের ফল হয় জীবন, নয় মৃত্যু। এই অস্ত্র তার কতবার প্রাণরক্ষা করেছে? কত মানুষকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছে।
M তার দিকে ফিরলেন। আমি দুঃখিত, জেমস্, বললেন তিনি, কিন্তু দুঃখিত হবার লক্ষণ দেখা গেল না। আমি জানি লোহার টুকরাটাকে তুমি কত ভালবাস। কিন্তু ওটাকে বিদায় করতেই হবে। কোন অস্ত্র ব্যর্থ হলে আর সুযোগ দিতে নেই। মানুষের ক্ষেত্রে ঐ কথাই খাটে। ডাব-জিরো। বিভাগের অনর্থক ঝুঁকি দিতে চাই না। প্রত্যেকের কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ হাতিয়ার থাকা চাই। বুঝতে পেরেছ? তোমার কাজে পিস্তলের প্রয়োজন বেশি।
বন্ড শুকনো হাসি হাসল, জানি, স্যার। ঠিক আছে তাহলে। আর কথা নয়। তোমার জন্যে খবর আছে। জামাইকার একটা ব্যাপার ঘটেছে। কর্মচারিদের গোলমাল। সেই রকম মনে হচ্ছে। এই বিষয়ে রিপোর্ট পেশ করতে হবে। ওখানে পূর্বের শরীরের উপকার ও অস্ত্রগুলো কচ্ছপ-টচ্ছপের ওপর চালিয়ে দেখতে পারবে। তোমার ছুটির দরকার। নেবে নাকি কাজটা?
বন্ড ভাবল, গত কাজে আমার ব্যর্থতার জন্যই আমাকে এখন কাজ দিচ্ছেন। ভাবছেন বিশ্বাসের মর্যাদা রাখিনি। পরখ করে দেখতে চান। মন্দ কি!
সে বলল, কাজটা সহজ মনে হচ্ছে, স্যার। সম্প্রতি জীবনটা একঘেয়ে হয়ে পড়েছে। এ কাজের যদি প্রয়োজন থাকে…মানে আপনি যদি বলেন, স্যার…।
হ্যাঁ, M বললেন, আমি সেই রকমই বলছি।
.
ছুটির দিনের কাজ
মেঘে মেঘে অন্ধকার ঘনিয়ে এল। M হাত বাড়িয়ে ডেস্কের ওপর সবুজ ঘেরাটোপ লাগান বাতি জ্বাললেন। ঘরের মাঝখানটা দেখল উষ্ণ হলুদ রঙের পুকুরের মত আর ডেস্কের চামড়া রক্তশিখায় জ্বলে উঠল।
M মোটা ফাইলটা কাছে টানলেন। বন্ড এই প্রথম সেটাকে লক্ষ্য করল। সে উল্টানো অক্ষরগুলো পড়ল। ট্র্যাংওয়েজ আবার কি করল? ট্রব্ল্যাড-ই বা কে?
