পরের দিন। প্রিন্স ফোন করল বন্ডকে রুমানদারিন হোটেলে।
প্রিন্সেসকে বিয়ে করছি দু-চার দিনের মধ্যে। আমাদের বিদ্রোহের ব্যাপারে ও এখন মাথা ঘামাচ্ছে। ও এখন আমার সাথী হতে চায়। সুখ দুঃখের সব কিছুর।
এ তো খুব ভাল কথা, বন্ড শুভেচ্ছা জানাল, তোমাদের জন্য আমার সবরকম শুভেচ্ছা রইল।
গুড বাই বন্ড
এরপরেই প্রিন্সেসের ফোন এল।
আমার জন্য তুমি যা করেছ বন্ড, তার জন্য অজস্র ধন্যবাদ…ভি ন্যাডা…।
ওদিকে, লুই দ্য গামা, প্রিন্সেসের কাকা, পুর্তগীজ সরকারের মাতব্বরের পদ আলো করে বসেছিল তখন। কাকা প্রিন্সেসের টাকাকড়িই নিজের আয়ত্বে পেল না, প্রিন্সেসের দেহটাও।
লুই দ্য গামা মাঝে মাঝে ভয় পেত, বাইরের কেউ যদি ওদের গোপন সম্পর্কের কথা টের পায়। তাহলে ওর সব, যা কিছু প্রতিপত্তি, তা নিমেষে ধুলিস্যাৎ হয়ে যাবে।
প্রিন্সেস একদিন গোপনে পালিয়ে গেল সুইজারল্যান্ডে। পাছে ভাইঝির মুখ দিয়ে কিছু ফাঁস হয়ে যায়, তাই ওর কাকা ওকে চালান করে দিল স্যানাটোরিয়ামে। কিন্তু সেখানে সোডিয়াম পেন্টাথলের প্রভাবে প্রিন্সেস সব কিছু বলে ফেলল নার্সকে। সেই নার্সটি ওর কাকাকে ব্ল্যাকমেল করতে শুরু করল।
অবশেষে প্রিন্সেস পালিয়ে গেল স্যানাটোরিয়াম থেকে। একদেশ থেকে আর এক দেশে চলল ওর বিচরণ। সেই। সঙ্গে সমানে চলল ড্রাগ ট্যাবলেট, সেক্স–এসবই হল ওর সঙ্গী তখন।
পুর্তগীজ ইনটেলিজেন্স মারফত লুই গামা একদিন জানল ব্লেকারের বু ফিল্মের কথা। লুই ভাবল। কোনরকমে যদি প্রিন্সেসকে ধরা যায় তাহলে ওকে পাগল বলে সারাজীবন পাগলাগারদে রাখা যাবে, আর কেউ জানবে না কাকা ভাইঝির গোপন সম্পর্কের কথা।
আসকারি গুপ্তচরের মারফতে খবর পেয়ে ভাবল পুর্তগীজ সরকারের বিরুদ্ধে এই অস্ত্রটি দারুণ কাজ করবে।
দু ঘণ্টা পরে হকের ফোন পেয়ে বন্ডের সম্বিৎ ফিরল। ধন্যবাদ বন্ড, আমরা সবাই তোমার দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছি। তা কবে আসছ?
হঠাৎ জানলার দিকে দেখল বন্ড, সার্সির ওপারে ধূসর বৃষ্টি। টাইফুন আসছে স্যার। সম্ভবতঃ দুতিন চলবে এই টাইফুনের দাপট। তারপরেই আমি ফিরছি। গুডবাই স্যার।
কিন্তু বন্ড। অপেক্ষা কর, আমি—
আমাকে ফোন করবেন না। বলল বন্ড।
বরং আমি আপনাকে ফোন করব।
তারপর সে বুথের দিকে ফিরে গেল, সেখানে ইন্ডিয়ানার ফোর্ট ওয়েনের মিস বেনিটা ডান্ডসন অপেক্ষা করছিল বন্ডের জন্য।
ডক্টর নো (পার্ট ১)
ডক্টর নো
পরিষ্কার শুনতে পাচ্ছি
ঠিক ছ টার সময় শেষ হলুদ রঙের রশ্মি ছড়িয়ে সূর্য ডুব দিল রু মাউন্টেনের পেছনে। বেগুনী রঙের ছায়ার বন্যা নেমে এল রিচমন্ড রোডের ওপর। আর সুন্দর বাগানগুলোর মধ্যে শুরু হল ঝি ঝি পোকার গুঞ্জন ও ব্যাঙের ডাক।
নেপথ্যে এই পোকা-মাকড়ের শব্দ ছাড়া রাস্তাটা একেবারে নিঃশব্দ। এ পাড়ার বড় বড় সব নিঃসঙ্গ বাড়ির মালিকরা পাঁচটার মধ্যেই ঘরে ফিরে এসেছেন। এদের মধ্যে ব্যাংকের ম্যানেজার, কোম্পানীর বড়কর্তা, অথবা উচ্চপদস্থ সরকারী। কর্মচারী। এখন হয়ত তারা স্ত্রীর সঙ্গে গল্পগুজব করছেন, গা ধুচ্ছেন বা পোশাক বদলাচ্ছেন। আর আধঘণ্টার মধ্যেই রাস্তাটা পানীয় অভিলাষীদের ভীড়ে জমজমাট হয়ে উঠবে। কিন্তু আপাতত এই আধমাইল লম্বা বড়-লোকদের রাস্তা। (কিংসটনের ব্যবসায়ী মহলের ভাষায়) একেবারে ফাঁকা, যেন এক খালি রঙ্গমঞ্চ, যেখানে এখুনি অভিনয় শুরু হবে। চারিদিকে জুই ফুলের সুগন্ধ।
রিচমন্ড রোড জ্যামাইকার সর্বশ্রেষ্ঠ রাজপথ। সবচেয়ে উঁচুদরের পাড়া এইটি। এখানকার উচ্চবিত্তেরা সবাই পুরনো ধাচের বাড়িতে বাস করেন। প্রতিটি বাড়ি ঘিরে দু-এক একর জমি, হোপ-এর বোটানিক্যাল গার্ডেন থেকে আনা। সর্বশ্রেষ্ঠ গাছ ও ফুলে সাজানো। কিংসটনের যে অংশটাতে তার অধিবাসীদের সবাইকে যেতে হয় জীবিকা অর্জনের জন্য, তা নোংরা পরিবেশ থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। এই রাস্তার শেষে শুরু হয়েছে, রাজবাড়ির সীমানা। এ বাড়িতে থাকেন জ্যামাইকা দ্বীপের রাজ্যপাল ও প্রধান সেনাপতি।
মোড়ের পূর্ব কোণে দাঁড়িয়ে ১ নম্বর রিচমন্ড রোডের বাড়ি। একটা বড় দোতলা বাড়ি। রাস্তা থেকে নুড়ি বিছানো পথ চলে গেছে থামওয়ালা প্রবেশ দ্বার পর্যন্ত। এই প্রাসাদটি কিংসটনের সামাজিক জীবনের প্রাণকেন্দ্র-কুইনস ক্লাব। গত পঞ্চাশ বছর ধরে এই ক্লাবের সদস্যপদের জন্য অজস্র দরখাস্ত অগ্রাহ্য হয়ে চলেছে।
এ রকম উদ্ধত প্রাসাদ বোধহয় আধুনিক জ্যামাইকায় আর বেশিদিন থাকবে না। কিন্তু এই গ্রীষ্মপ্রধান দ্বীপে এ ধরনের একটা জায়গা বেশ উপযোগী। ক্লাবটি দক্ষহাতে পরিচালিত হয়, কর্মচারিরা কাজের; আর এখানকার খাদ্যও মদ সমগ্র ক্যারিবিয়ান দ্বীপে অদ্বিতীয়।
দিনের এই সময়ে বছরের অধিকাংশ সন্ধ্যার মত ক্লাবের সামনে সেই চারটি গাড়ি দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই গাড়িতে চারজন ব্রিজ খেলোয়াড় ঠিক চারটার সময় মিলিত হন এবং মধ্যরাত্রি পর্যন্ত উঁচু বাজীর খেলা খেলে যান। বাকের মাথায় পরপর দাঁড়িয়ে আছে ক্যারিবিয়ান প্রতিরক্ষা বিভাগের একজন ব্রিগেডিয়ারের গাড়ি; কিংসটনের একজন বড় ফৌজদারী উকিলের, কিংসটনের বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্কের অধ্যাপকের, আর সবশেষে শানবীম অ্যালপাইন গাড়িটির। মালিক ব্রিটিশ সৈন্যবাহিনীর অবসর প্রাপ্ত কম্যান্ডার জন স্ট্রাংওয়েজের; যিনি স্থানীয় আঞ্চলিক কনট্রোল অফিসার অথবা যিনি ব্রিটিশ গুপ্তচর বিভাগের স্থানীয় প্রতিনিধি।
