চুন লি আবার বলল, জেনারেল জান তো না যে ওর হিয়ারিং-এও আমি বাগ করে রেখেছি। তুমি যখন ওর কানে কথা বলছিলে আসলে আমাকেই বলেছিলে।
প্রিন্সেস হাত দিয়ে চোখ ঢাকার চেষ্টা করল। ওর শরীরটা অসম্ভব কাঁপছিল। বন্ড বুঝতে পারল যে প্রিন্সেস এবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলবে।
হঠাৎ ইঁদুরটা আক্রমণ করাতে প্রাণঘাতী আর্তনাদ করে উঠল জেনারেল বুল। নিমেষে জেনারেলের কণ্ঠনালীটা ছিঁড়ে বের করে নিয়েছে ইদরটা। ফিনকি দিয়ে রক্ত ঝরে পড়ছে।
রক্ত দেখে প্রিন্সেস বমি করতে শুরু করল। চুন লি হেসে বলল, আরো ইঁদুর যাচ্ছে।
ডজনখানেক ইঁদুর এবার জেনারেলের শরীরটা টুকরো টুকরো মাংস ছিঁড়ে নিল। সেই ভয়ঙ্কর বীভৎস দৃশ্যটা দেখে ভয়ে প্রিন্সেস এবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলল। দু টো ইঁদুর তখন এক টুকরো মাংস দিয়ে লড়াই শুরু করে দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ধেড়ে ইঁদুরটা ছোট ইঁদুরের গলার ওপর ধারাল দাঁত বসিয়ে খতম করে ফেলল।
সেই বীভৎস দৃশ্য দেখে বন্ড চোখ ফিরিয়ে নিল। আবার চুন লি র কণ্ঠস্বর, কেমন লাগছে মিঃ বন্ড? তোমার ঐ নর্ম সহচরী প্রিন্সেসকে যদি ওইভাবে ইঁদুরের মুখে ফেলে দিই।
না।
আবার সেই তীক্ষ্ণ হায়নার হাসি। আমি বোবার মুখে কথা ফোঁটাতে পারি জান? তোমার দেহের মাংস টুকরো টুকরো করে আমেরিকায় হকের কাছে পাঠিয়ে দেব।
বন্ড বলল, আমাকে তুমি যা খুশি ভাবতে পার। কিন্তু হককে অত বোকা বানানো সহজ নয়। আর তাকে কেটে শত টুকরো করলেও রক্ত বেরোবে না। জেনে রেখো প্রিন্স এখনো মুক্ত, আর এ্যাংগোলার হাওয়া খুব খারাপ। বন্ড বুঝল এবার তার কথায় কাজ হয়েছে।
চুন লি বলল, তুমি আমার দুর্বলতার দিকটা বুঝেছ। দেখ, তুমি আমাকে সহযোগিতা করলে, আমি তোমাকে মুক্তি দিতে পারি।
তোমার সঙ্গে সহযোগিতা? ঘৃণায় থুথু ছিটাল বন্ড।
প্রিন্সেসের কথা ভুলে যেও না। চুন লি বলল।
কে ওর তোয়াক্কা করে একটা ড্রাগ এডিক্ট, ড্রাঙ্ক, সেক্স ভিজানারেট মেয়ের কথা কেনই বা আমি চিন্তা করব?
জ্ঞান ফিরে প্রিন্সেস বন্ডের কথাগুলো শুনে ফুঁপিয়ে উঠল। একজন প্রহরী ভেতরে ঢুকল। খাঁচার দরজাটা খুলে দিয়ে চলে গেল। তার মনে এবার প্রিন্সেসের পালা। খাঁচার ভেতর থেকে একটা বিরাটাকৃতি ইঁদুর উঁকি দিল। প্রিন্সেস আবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলল। ইতিমধ্যে বন্ড মনস্থির করে ফেলেছে। ইঁদুরটা ধীরে ধীরে প্রিন্সেসের সুড়োল বুকের দিকে এগিয়ে আসছে। বন্ড যে একটা মানুষ রয়েছে ইঁদুরটা সে ভয় করে না।
নিমেষের মধ্যে ইঁদুরটার ঘাড় চেপে গলা মুছড়ে ছিঁড়ে দিল। ইঁদুরের মাথাটা মেঝের ওপর পড়ে গেল। বুক চাপা দুঃস্বপ্নের মধ্যে প্রিন্সেস দেখল এক ভয়ঙ্কর দৃশ্য। চুন লি আবার হাসল, ব্রেভো! কিন্তু বন্ড, তুমি এভাবে কটা ইঁদুর মারবে?
কয়েক মিনিটের মধ্যে আরো অনেক দুর এল। বন্ড ওদের এক এক করে নিহত করল অতিকায় ইঁদুর বেশ কয়েকটি। প্রিন্সেস যে থামটার সঙ্গে বাঁধা ছিল, সেই থামটার কাছাকাছি দরজা খোলার শব্দ হল। চারজন চীনা প্রহরীকে সঙ্গে নিয়ে প্রচণ্ড রাগে এগিয়ে এল চুন লি।
মুখোমুখি চুন লি আর বন্ড দাঁড়িয়ে। হঠাৎ চুন লি এক প্রচণ্ড মুষ্ঠাঘাত করল বন্ডের ওপর। বন্ডও প্রস্তুত ছিল। সেই মুহূর্তে চেনটা টেনে খুলে প্রচণ্ড জোরে আঘাত করল চুন লি-কে। চেনটা চুন লি র গলায় জড়িয়ে ধরে টান দিতে লাগল সে পাশ থেকে। তারপর অতর্কিতে এক হাতে চুন লি র আলস্টার থেকে অটোমেটিকটা তুলে নিয়ে বিভ্রান্ত প্রহরীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ল। দুজন প্রহরী আঘাত পেয়ে ছুটে পালাল। যাওয়ার সময় দরজাটা বন্ধ করে দিয়ে গেল। বন্ড অন্য বাঁধা হাতটা প্রচন্ড শক্তিতে টান দিল। কিন্তু নড়াতে পারল না। বন্ড প্রিন্সেসের দিকে তাকিয়ে মৃত প্রহরীদ্বয়ের টমিগান দুটো দেখিয়ে দিয়ে বলল, এটা এদিকে ঠেলে দাও।
প্রথমেই টি, ভি, ক্যামেরার দিকে তাক করে গুলি চালাল বন্ড। তারপর চেনটা টেনে ধরে থামের ওপর দিকে গুলি ছুঁড়ল, মুহূর্তের মধ্যে রিং রোল্ট খুলে গেল। বন্ড এবার ছুটল প্রিন্সেসের দিকে। সঙ্গে সঙ্গে দরজা খোলার শব্দ। মনে হল, মেঝের ওপর কেউ কিছু ছুঁড়ে দিল। বন্ড মুহূর্তের মধ্যে তার বিশাল নগ্ন শরীরটা দিয়ে আড়াল করে দিল প্রিন্সেসের দেহ। চুন লি খতম হয়ে গেছে। ওরা টের পেয়েছে, তাই গ্রেনেড ছুঁড়ছে শেষ কামড় দেবার জন্য।
থামের আড়াল থেকে বন্ড গুলি চালাল। সঙ্গে সঙ্গে একটা লোকের কাতরানির শব্দ ভেসে এল। বন্ড টমিগানটা একনাগাড়ে চালিয়ে গেল।
প্রিন্সেস বন্ডের নিচ থেকে বলল, লাগছে। তুমি বেশ ভারি।
দুঃখিত বন্ড জবাব দিল, এই থামটা ছাড়া আপাততঃ গা ঢাকা দেওয়ার জায়গা দেখছি না কোথাও।
এখন কি হবে?
বন্ড তাকাল প্রিন্সেসের দিকে। বন্ড বলল, গুলি গোলার আওয়াজ শুনে পুলিশ আসতে পারে কাজেই আমাদের পালাতে হবে এখান থেকে।
পুর্তগীজ পুলিশ? ওরা তো আমাকে ছাড়বে না। ওদের হাতে আমাকে দিয়ো না বরং তুমি আমাকে খুন কর। বন্ড বলল, তুমি চিন্তা করো না, প্রয়োজন হলে আমি তাই করব। চল, এবার আমরা পালাবার চেষ্টা করি।
হঠাৎ দেখা গেল আসকারি টর্চ হাতে এগিয়ে এল। অপর হাতে রাইফেল, পিঠে গ্রেনেড ব্যাগ। প্রিন্স ম্লান হেসে বলল, দুঃখিত দেরি হয়ে গেল। হাজতে কয়েকজন সৎ লোক আমাকে সাহায্য না করলে তোমাদের দেখা পেতাম না। প্রিন্স এবার জয়ের হাসিতে প্রিন্সেসের দিকে তাকাল, বন্ডকে বলল, তা তোমরা কি ঠিক করলে? আদম আর ইভ
