হা, মাথা নাড়ল জেনারেল।
তাহলে শোন, তুমি যেগুলোকে আসল হীরে ভেবে সযত্নে আগলে রেখেছ, ওগুলো স্রেফ নকল কাঁচের টুকরো। তুমি হীরে চেন না, আসকারি চেনে। তোমার অ্যাটাচি হাত বদল হয়ে গেছে। এখন এই নকল হীরে দেখলে চুন লি কি করবে? কথাটা শুনে জেনারেল আঁতকে উঠল, আঁ, এ তুমি কি বলছ, বন্ড?
ঠিকই বলছি। তাহলে চুন লি-কে আমার হাতে তুলে না দিলে তোমার কি হাল হবে, ভাবতে পার? তার চেয়ে
তুমি আমাকে মদত দাও জেনারেল, আমি তোমার সঙ্গে থাকব।
জেনারেল হতাশ ভঙ্গিতে জানাল, এখন মনে হচ্ছে, এছাড়া আমার আর কোন পথ নেই। বল, এখন আমাকে কি করতে হবে?
চুন লি-কে আমার হাতে তুলে দিতে হবে।
বেশ, তাই হবে।
আর তখনই অন্ধকারে বন্ডের মাথায় যেন বাড়িটা ভেঙে পড়ল।
.
০৮.
আস্তে আস্তে জ্ঞান ফিরে এল বন্ডের একসময়। জ্ঞান হারাবার আগে কয়েকটা মুহূর্ত মনে পড়ল। জেনারেলকে সে বলেছিল, এক ঘণ্টা পরে আলটিমেট হ্যাপিনেস হলে কর্নেল চুন লি-কে সঙ্গে নিয়ে হাজির হবার জন্য। সেখানেই সে চুন লি-কে খতম করতে চায়, ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়েছিল জেনারেলের কাছে। আর সে রাজি হয়েছিল বন্ডের প্রস্তাবে। সে মানিলা ধরে নিচে নেমে এসেছিল। এখন তার মনে হচ্ছে, চুন লি র কাছে সে শিশুমাত্র। চুন লি র হাতে সে এখন বন্দী।
বন্ড! ব…ড…
আওয়াজ শুনে এদিক ওদিক তাকাতে গিয়ে প্রিন্সেসকে দেখতে পেল সে। প্রিন্সেসও তার মত বন্দিনী। বন্ডের মতই সে উলঙ্গ। একটা থামের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে ওকেও। দুঃস্বপ্নের মতই মনে হল তার, প্রিন্সেসের ভয়ানক সাদা, দীর্ঘাঙ্গী চেহারাটা যেন ভয়ঙ্কর কোন ভয়ে জমাট হিম হয়ে গেছে।
ওর আয়ত সবুজ চোখে মৃত্যুর ছায়া। বন্ড তাকিয়ে আছে দেখে প্রিন্সেস হাত দিয়ে নিদারুণ লজ্জায় বুক ঢাকতে চাইল।
প্রিন্সেস নরম গলায় বলল, তোমার কি কিছুই মনে পড়ছে না বন্ড।
একটু একটু মনে পড়ছে। আমি—
হঠাৎ বন্ড চুপ করল, প্রিন্সেস ইশারায় তাকে জানিয়ে দিল, এখানে লুকানো মাইক্রোফোন আছে।
মাথার ওপর জমাট অন্ধকার। হঠাৎ একটা লাউডস্পিকারের আওয়াজ। হায়নার মত হিংস্র এক হাসি শোনা গেল।
আমি চুন লি কথা বলছি মিঃ বন্ড! অবশ্যই-এই জায়গাটা পৃথিবীরই অন্তর্গত। আর পৃথিবীটা যখন গোল, আমাদের দেখা তো হবারই কথা, কি বল? ওখানে একটা ক্লোজ সার্কিট টেলিভিশনও আছে। আমি তোমাদের লোমকূপ পর্যন্ত দেখতে পাচ্ছি এখান থেকে।
বন্ড মাথাটা নিচু করল, যাতে টেলিভিশনে ওর মুখের অভিব্যক্তি ধরা না পড়ে। চুন লি জিজ্ঞেস করল, কেমন লাগছে ওখানে বন্ড
শুয়োরের বাচ্চা!
আবার সেই ভয়ঙ্কর হাসি।
জীবন বড় হতাশাপূর্ণ কার্টার, তাই না? তোমাকে বন্দী করতে আমার একটু অসুবিধে হয়নি। বরং এ্যাক্সের প্রধান এজেন্টকে এতো সহজে ধরতে পারব, ভাবতেই পারিনি। এখন মনে হচ্ছে, তুমি একটা কাগুঁজে বাঘ ছাড়া আর কিছু নও! চমৎকার ইংরেজী উচ্চারণ চুন লি র। অথচ সে কখনো পাশ্চাত্যে থাকেনি, এমন কি আমেরিকান ইংরেজিও জানে না সে।
বন্ড হ্যাঁ, না কিংবা তার কোন প্রতিবাদ করল না। চুন লি বলল, তা আমার বন্ধু ডেভিডহকের কি খবর মিঃ কার্টারঃ বন্ড বিস্মিতভাবে তাকিয়ে আছে দেখে চুন লি বলল, এটা নিশ্চয়ই জান, আমার দরকার হককে। হককে ধরবার জন্যই আমি তোমাকে ফাঁদে ফেলেছি।
কর্নেল তুমি তোমার অধিকারের বাইরে চলে যাচ্ছ, বন্ড গর্জে উঠল, হকের কেশাগ্রও তুমি স্পর্শ করতে পারবে না, সে আমি আগেই তোমাকে বলে রাখছি, বুঝলে?
পাব কি পাব না সে তো পরের কথা, মাইক্রোফোনে চুন লি র দৃঢ় স্বর ভেসে উঠল আবার, আমি আমার দেশের স্বার্থে কাজ করছি তাই কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত থামছি না।
মাইক্রোফোন স্তব্ধ হল কিছুক্ষণের জন্য। তারপর ওপর থেকে একটুও করে সাদা আলো নিচে পড়ল, হঠাৎ আলোটা সরে গেল অন্যদিকে। প্রিন্সেস ও বন্ড সেদিকে তাকাল। জাল দিয়ে ঘেরা একটা খাঁচা, একটা গোটা মানুষ তাতে ধরতে পারে। খাঁচাটা দেখামাত্রই ওরা বিস্মিতভাবে এ ওর দিকে তাকাল।
বন্ড বলল, তুমি এখানে কি করে এলে?
তোমার কথামত অপেক্ষা করে আমরা বেরিয়ে পড়ি আন্টিমেট হ্যাপিনের সরাইখানার দিকে। আসকারির পরণে ঐ প্রহরীর পোশাক ছিল। রাস্তায় এক প্যাট্রন পুলিশের গাড়ি থেমে পড়ে, ওরা আসকারির পাশ দেখতে চায়, ওরা। সেটা না পেয়ে ওকে গ্রেফতার করে। আমি একা–আবার মাইক্রোফোনে, এই যে তোমাদের এক সঙ্গী হাজির হচ্ছে তোমাদের সামনে।
চারজন চীনাম্যান একজনকে হিড়হিড় করে টেনে এনে ঢুকিয়ে দিল সেই খাঁচায়। প্রিন্সেস একবার আর্তনাদ করেই থেমে গেল।
জেনারেলের উলঙ্গ চেহারাটা সেই মুহূর্তে ভীষণ অশ্লীল ও ন্যাক্কারজনক মনে হল। টাকভর্তি মাথা, রোগাটে বুকের ওপর অজস্র চুল, ঠিক যেন পালক ছেঁড়া মুরগী। জেনারেলের দড়ি পাকানো নগ্ন চেহারাটা দেখে বন্ডের গা গুলিয়ে উঠল।
জেনারেল বলল, এবার দেখ, ভয় কাকে বলে?
প্রিন্সেস চিৎকার করে উঠল আবার। মাইক্রোফোনে আবার চুন লি র কণ্ঠস্বর, দেখ বন্ড, তুমি আর তোমার বস হক–এর আগে নির্বিচারে আমাদের লোকদের খুন জখম করেছ। এবার আমাদের বদলা নেবার পালা।
বন্ড তাকিয়েছিল ইঁদুরটার দিকে ভয়ার্ত চোখে। চুন লি হেসে উঠল, ইঁদুরের কি রকম সাইজ দেখছ বন্ড? আমরা একটা দ্বীপে এ্যাটমিক পরীক্ষা চালাই, এর ফলে সেখানকার সব জীবজন্তু মারা গেলেও ইঁদুর স্বাভাবিকভাবে বেঁচে যায়। রেডিও অ্যাকটিভ এ্যাটমসফিয়ারের জন্য ইঁদুরগুলো এত বিরাট হয়। আশ্চর্য।
