দরজায় প্রহরী–দেখতে চীনাদের মত, বয়সে তরুণ, সম্ভবতঃ রেড গার্ড। এখন সবাই তার শত্রু। নিঃশব্দে প্রায় তার গা ঘেষে দাঁড়াল কিল মাস্টার। খিমচি কোরিয়ান ডিপ খেয়ে থাকবে প্রহরীটা। তারই গন্ধ নাকে আসছে। স্টিলেটোটা বার করে হাতের ওপর চাপ দিয়ে ফলাটা বার করল সে। প্রহরীর কাঁধে ঝুলছিল একটা গ্রিজগান, পুরনো ইউ, এস এস থ্রী। বন্ড পিছন দিক থেকে হাত বাড়িয়ে প্রহরীর গলাটা চেপে ধরে সামনে টেনে আনল। বন্ডের লোহার মত শক্ত আঙুলের চাপে তার দমবন্ধ হয়ে আসছিল। বন্ড তার কানের কাছে ফিসফিসিয়ে বলল, যদি বাঁচতে চাও তো তোমার বন্ধুর নাম তাড়াতাড়ি বল। মিথ্যে বললে নির্ঘাত মৃত্যু। বন্ড ভাবতে পারেনি ছাদে দু জনেরও বেশি প্রহরী থাকতে পারে।
বন্ড তার গলায় চাপ বাড়িয়ে, সে কি ক্যান্টোনিজ? হ্যাঁ, হ্যাঁ, আমরা সবাই ক্যান্টোনিজ প্রহরী বলল। বন্ডের জানা শেষ। এবার ঘাড় মটকে খতম করল তাকে। তারপর বন্ড তাকে টেনে নিয়ে এল সামনে। প্রহরীর ইউনিফর্মটা ছোট তাকে ঠিক ফিট করবে না। তবে তার টুপিটা ঠিক আছে। অপর প্রহরীটিকে বন্ড দেখতে পেল না। কোথায় গেল? তাকে খতম করতে হবে, ছাদ পরিষ্কার রাখতে হবে, পালাবার সময় যাতে কোন বাধা না পায়।
মাথার ওপর হেরণ পাখিদের উড়তে দেখে বন্ড ভাবল, আজ রাতে ওরা কেউ আর ঘুমাচ্ছে না। রাতে সাদা হেরণ পাখি উড়তে দেখলেই, বুঝতে হবে সেদিন টাইফুন আসবে।
কিন্তু ওয়াং কোথায় গেল। বন্ড চীনা ভাষায় মৃদু চিৎকার করল। ওয়াং তুমি কোথায়? কমরেড ক্যাপ্টেন এখুনি এসে পড়লেন বলে?
ওয়াং এবার বন্ডের সামনে এসে বলল, কে তুমি তোয়া? বন্ডের বলিষ্ঠ হাত ওয়াং-এর গলায় পেচিয়ে ধরে। ওয়াং ও বন্ডের চোখে আঙুলের খোঁচা দিয়ে বুঝিয়ে দেয় যে সে তার পরিচয় পেয়ে গেছে। বন্ডও ঠিক এরকম একজন বলিষ্ঠ প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হতে চাইছিল। শিশু হত্যা তার পছন্দ নয়। প্রহরী তার অণ্ডকোষে আঘাত করতে এলে সে চকিতে সরে যায়। বন্ড উল্টোপাল্টা আঘাত করল প্রহরীর অন্ডকোষে। লোকটা একেবারে নিস্তেজ না হওয়া পর্যন্ত বন্ড থামল না। একটু পরেই প্রহরীর প্রাণহীন দেহটা লুটিয়ে পড়ল।
তারপর বন্ড আগের প্রহরীর গ্রীজগানটা কাঁধে তুলে নিয়ে জেনারেলের ঘরের দিকে এগিয়ে গেল। এরপর নিচে ব্যালকনিটা দেখল বন্ড, কোমর থেকে ম্যানিলা লাইনটা খুলে ঝুলিয়ে দিল, এদিক ওদিক তাকিয়ে নেমে এল। জানালা বন্ধ। ভেতরে শব্দ। প্রোজেক্টার মেশিন চলছে ঘরের মধ্যে। লন্ডনে ব্লেকারের তোলা ব্লু ফিল্ম দেখছে জেনারেল। আস্তে আস্তে দরজা ঠেলে বন্ড সাপের মত বুকে হেঁটে ঢুকে পড়ল ঘরের ভেতর। জেনারেল একমনে…দৃষ্টি তার পর্দার ওপর। ছবির পর্দায় মৃত ব্যক্তির ছবি। মানে ব্লেকার। লন্ডনের ড্রাগন ক্লাবের ডিভানে।
সোফার একটু পিছনে এসে থামল বন্ড।
সাদা পর্দায় এবার প্রিন্সেস-এর ছবি দেখা দিল। একজোড়া সবুজ চোখ, প্রবাল দ্বীপ স্তন। এটাই ব্লেকারের তোলা ছবি।
বন্ড বুঝল জেনারেল কেন, যে কোন ব্যক্তি এ ছবি দেখে উত্তেজিত হবে। ব্লেকার কিভাবে মেয়েটিকে ব্যবহার করেছে এ তারই দলিলপত্র। পুর্তগীজ সরকার এই জন্যই এই দৃশ্যের ছবিটা পেতে চেয়েছিল, আর কেনই বা সেটা নষ্ট করতে চেয়েছিল। তারা চায় না তাদের রাজরক্তের অধিকারিণীর এমন অন্যায় খেলার দৃশ্য অন্য কোন দেশের দর্শকরা দেখুক।
হঠাৎ জেনারেলের হাসিতে ঘরটা মুখরিত হল। একান্ত সুখতৃপ্তির হাসি হাসছে এই ভেবে যে এ ধরনের ব্লু ফিল্ম দেখলে সে তার হারানো পুরুষত্ব ফিরে পাবে। দু দুটি বিশ্বযুদ্ধের নায়ক, ধূর্ত বৃদ্ধ ফৌজি মস্তিষ্ক, এই সিংহ বিক্রম প্রতাপের লোকটি বসে আছে অন্ধকারে।
বন্ড এবার তৎপর হল, তার অত্যন্ত ঠাণ্ডা লুগারের নল জেনারেলের মাথার ওপর ঠেকিয়ে ধরল, একটুও নড়বার চেষ্টা কর না। চুপি চুপি কথা বল। ভয় নেই আমি তোমাকে মারব না। ছবি দেখতে দেখতে উত্তর দাও। ইজ দিস প্লেস, বাজও, মানে মাইক ফিট করা আছে?
উই…ই…।
ইংরেজিতে বল, চুন লি কোথায়?
জানি না। তবে তোমার নাম যদি বন্ড কার্টার হয়, সে এখানে তোমার আসার অপেক্ষায় আছে।
হ্যাঁ, আমি সেই বন্ড
জেনারেল একটু নড়ে উঠতেই, বন্ড খোঁচা দিল, নড়ো না! বল, এখন চুন লি-কে কোথায় পাব?
আগে প্রিন্সেসকে দাও। আমরা আগে চাই প্রিন্সেসকে, তারপর—
প্রিন্সেস এখন ম্যাকাওতে আছে। ও তোমার কাছে আসবে। যদি চুন লি-কে আমার হাতে তুলে দাও।
আগে প্রিন্সেসকে দেখাও। ওকে দেখলে তবে আমি চুন লি-কে তোমার হাতে তুলে দেব। চুন লি আমাকে বিশ্বাস করে, তাই এ সহজ কাজ।
কিন্তু আমি তা মনে করি না। চুন লি সাংঘাতিক শয়তান। চুন লি-কে তুমি ঠিক কবুল করতে পারবে না। চুন লি তোমাকে দিয়ে কাজ করিয়ে নিচ্ছে। ডোন্ট মুভ!
প্রোজেক্টার বন্ধ হয়ে গেল। নিরস্ত্র অন্ধকারের মধ্যে ফিসফিসিয়ে বলল বন্ড, জেনারেল তুমি সবাইকে বোকা বানাতে চাইছ না? তুমি আসকারিকে খুন করার চেষ্টা করেছিলে?
চেষ্টা? সে কি, ওরা মারা যায়নি?
না, আসকারিও ম্যাকাওতে আছে। চুন লি তোমাকে বলেছে, আসকারি মৃত। তাই না?
হ্যাঁ।
তাহলে বোঝ ব্যাপারটা কি? আর এই শয়তানটাকে তুমি বিশ্বাস কর! শোন জেনারেল, তোমার কাছে একটা অ্যাটাচি ভর্তি হীরে আছে?
