বন্ড বলল, এখন থেকে আপনি নয় তুমি, আর আমাকে বন্ড বলে বলবেন। আমাদের উদ্দেশ্য যখন এক, খুন, রাহাজানি, তাহলে মিষ্টার, এ সবের কি প্রয়োজন? প্রিন্স মাথা নাড়ে, তুমি তো তাহলে আমাকে আসকাই বলবে। তাহলে আসকাই, তুমি আসলে কি চাও। মানে কি পেলে সন্তুষ্ট হবে। খুব সাধারণ জিনিষ। আমি প্রিন্সেসকে কয়েক ঘণ্টার জন্য চাই। জেনারেলের এটাচিকেস কাঁচা হীরেতে ভর্তি আমি সেগুলো চাই। তবে কর্নেল চুন লিকে তুমি খতম করলে সেই হীরের দাম তেমন পাওয়া যাবে না। তাতে আমার ক্ষতি হবে।
তার জন্য ভেবো না বন্ধু, কাঁচা হীরের ভাল বাজার দর আমরা অন্যত্র পেতে পারি। আমাদের হক, ইচ্ছে করলে হীরেগুলো অনেক বেশি দামে বিক্রি করতে পারেন।
প্রিন্স বলে, তাহলে, জেনারেল বুলেঙ্গারকে আমি খুন করব। আমার লন্ডনের লোকেরা যদি মেয়েটিকে আর সেই নোংরা ফিল্ম পায়, তাহলে জেনারেলকে খুন করতে আমার আর দ্বিধা নেই। ব্যাস, এই হল আমার তিনটে দাবি। তুমি রাজি তো বন্ড?
হ্যাঁ, আমি রাজি, কিন্তু জেনারেলকে খুন করার ব্যাপারে আমি নিজেকে জড়াতে চাই না। ম্যাকাও কিংবা হংকং পুলিশ যদি তোমার সন্ধান পায়, আমি কিন্তু তখন তোমাকে চিনব না, তোমাকে দেখিনি এমন ভাব দেখাব।
অবশ্য।
তাহলে ঠিক আছে, হীরেগুলো তোমাকে পাইয়ে দেওয়া। প্রিন্সেস-র সঙ্গে তোমার দেখা করানো, এ দুটো ব্যবস্থা আমি করে দেব। আর প্রিন্সেস যদি আমার সঙ্গে থাকে তাতে তোমার বাড়তি লাভও হতে পারে। অতএব তুমি নিশ্চয়ই চাইবে সে বেঁচে থাকুক।
সত্যি তুমি মহান বন্ড। তাই তো ফাইলে তোমার সম্পর্কে কি নোট লেখা আছে জান? তুমি ভয়ঙ্কর বিপজ্জনক। সাবধান। সেই সঙ্গে আরও আছে, তোমার দাবি যৎসামান্য।
ধন্যবাদ আসকাই। আমি তোষামোেদ চাই না, আমি কাজ চাই। এবার শোন, তুমি প্রিন্সেস–কাকা, পুর্তগীজ ক্যাবিনেটের সদস্য লুইস দ্য গামাকে চেন?
চিনি না আবার প্রিন্স মুখ বিকৃত করে বলল, কিন্তু বন্ড, সে অতি জঘন্য কাহিনী।
জঘন্য কাহিনী শোনাই আমার কাজ। বল আমাকে।
হংকং-এর দক্ষিণ পশ্চিমে ম্যাকাও-এর মিনি কলোনি। ১৫৫৭ সালে পুর্তগালের সবুজ ঘাসের দ্বীপ।
অজস্র সামপানের ভিড়ের মধ্যে এসে দাঁড়াল লঞ্চ। প্রিন্স, প্রিন্সেস, বন্ড ও আরো তিনজন অনুচর চীনে জেলেদের পোশাকে দাঁড়িয়েছিল। বন্ডের জ্যাকেটের নিচে গ্রেনেডের বেল্ট, তার কাছে লুগার ছাড়া একটা স্টীলেটোও ছিল। গলায় ঝুলছে ট্রেঞ্চ লাইফ। প্রিন্স-এর কাছে আছে ট্রেঞ্চ লাইফ আর পঁয়তাল্লিশ ক্যালিবারের অটোমেটিক।
আশ্চর্য। প্রিন্সেস যেন হঠাৎ বদলে গেছে। বন্ড সিগারেট খেতে খেতে প্রিন্স ও প্রিন্সেস এর ওপর নজর রাখছিল। আজ রাতে মেয়েটি কেমন হেসে হেসে কথা বলছিল। ডিকেনসন বলছিল ও আর মদ খেতে চায়নি। এ পরিবর্তন কি তাহলে সমুদ্রের পানি আবহাওয়ার জন্য?
সমুদ্রের ঢেউ বাড়ছে। সেই সঙ্গে প্রিন্স-এর হাসি ঠাট্টা বাড়ছে। প্রিন্সেসও হাসিতে যোগ দিল। বন্ড ওদের দিকে এগিয়ে গেল। আম্বির কাজে খুবই সন্তুষ্ট সে। মিলন সঠিক পথেই এগুচ্ছে, আর এইভাবে চলতে থাকলে কিল মাস্টার ভাবে, তাহলে সে ঠিক তার লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে। কারণ কর্নেল চুন লি ভয়ঙ্কর আত্মবিশ্বাসী, এই জন্যই তার পতন।
আধঘণ্টা পরে ওদের দেখা পেল জেনা পয়েন্টের কাছাকাছি সবুজ একটা টিলার কাছে। ওরা অপেক্ষা করতে লাগল। একজন ঠ্যাঙ্গার ছেলে ছইয়ের মধ্যে থেকে বুকে হেঁটে বন্ডের কাছাকাছি আসতেই সে জিজ্ঞেস করল। কি ব্যাপার তুমি এখানে?
লোকটা ফিসফিসিয়ে বলল, আমরা পেনা পয়েন্টের খুব কাছাকাছি এসে গেছি। এখান থেকে আর মাত্র এক মাইল–আর এগুনো উচিত হবে না। চীনা গার্ডরা টহল দিচ্ছে,
মনে হয় জেলেরা ভয় পাচ্ছে, বন্ড ভাবল। এরা দারুণ বিশ্বাসী। বন্ড ভাবল, ব্রিটিশদের গোলামী করে এরা চীনা রেড গার্ডদের ভয় পাচ্ছে। আসকারি বলছিল, চীনারা এই শহরটা প্রায় দখল করে ফেলেছে, শুধু নামটাই বদলায়নি এখনো পর্যন্ত।
ওদের মনোভাব বুঝে বন্ড নির্দেশ দিল নৌকা থামাতে। বাকিপথটুকু ওরা সাঁতার কেটে যাবে। তোমরা সব তৈরি হয়ে নাও। প্রিন্স, তোমাদের কি করতে হবে মনে আছে তো? কিছু বলার থাকলে জোরে নয়, ফিসফিসিয়ে বলতে হবে। ও, কে, প্রিন্স তোমার কিছু বলার আছে।
হ্যাঁ, আমার কাছে তুমি এখন শিশু।তুমি কি জান না এক সময় আমি ব্রিটিশ কম্যান্ডোতে কাজ করতাম?
কবে ঘি খেয়েছ তার গন্ধ এখন শুঁকে লাভ নেই খোকন। বর্তমান পরিস্থিতির কথা ভেবে ঝাঁপিয়ে পড়।
বন্ড এবার ছই-এর মই বেয়ে নিচে নামতে শুরু করল। পিছনে প্রিন্স ও প্রিন্সেস। প্রিন্সেস হাসছিল শব্দ করে। মনে মনে খিস্তি করে বন্ড আবার মেয়েটিকে পেছন ফিরে নিচে নামতে সাহায্য করল।
বন্ড ভাবল এবার নাটকের শেষ দৃশ্য শুরু হবে কে হারে, কে জেতে। তবে সে এটুকু জানে, এখন আর পিছু হটার উপায় নেই।
এক ঘণ্টা পরে সেই পেনা পয়েন্টের সবুজ তৃণাচ্ছাদিত কালো পাহাড়ের পিছনে তিনজন এসে দাঁড়াল। তাদের পরণে ছিল পানি নিরোধক পোশাক। মেয়েটি প্রায় নগ্ন। এক চিলতে ব্রা আর প্যান্টি ছাড়া আর কিছুই নেই। মেয়েটি বিড় বিড় করে বকে যাচ্ছিল। আস্কারিকে কনুই-এর গুতো মেরে ফিসফিসিয়ে বলল বন্ড, ওকে থামতে বল, তা না হলে ওরা কাছেই আছে, শুনতে পাবে।
